ঢাকা ০৬:৪৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬, ১ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
গ্লোবাল হাঙ্গার ইনডেক্স: ক্ষুধা কমানোর গতি কমে বাংলাদেশ ৮৪তম বন্দর লিজের আগে জনগণের মতামত নেওয়ার দাবি সাইফুল হকের পরিবেশ রক্ষায় কর্মকর্তাদের বাড়তি দায়িত্ব নেওয়ার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর ওয়েস্ট ইন্ডিজের বাংলাদেশ সফরসূচিতে প্রস্তুতি ম্যাচের সময় কমল প্রশ্নপত্র ফাঁস রুখতে সচিবালয়ে রাত কাটাচ্ছেন প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক সালমানের প্র্যাঙ্কে শুটিং সেটে কেঁদে ফেলেছিলেন কারিশমা কাপুর সাজেকের পর্যটনকেন্দ্র খুলে দেওয়ার নির্দেশ, বাধা নেই ভ্রমণে সারাদেশে পূজা উদযাপনে সর্বাত্মক সহযোগিতা করবে এনসিপি: নাহিদ ইসলাম কুমিল্লা সীমান্তে বিএসএফের হাতে আটক দুই পুলিশ সদস্য ইয়েমেনের আল-মাশিক প্রাসাদে হুথিদের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা: নিহত ২

মাদারগঞ্জে শসার বাম্পার ফলন, ২ হাজার টন উৎপাদনের সম্ভাবনা

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ১২:২১:৪৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬ ৬ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

জামালপুর জেলার মাদারগঞ্জে অনুকূল আবহাওয়ার কারণে চলতি মৌসুমে শসার বাম্পার ফলন হয়েছে। এতে কৃষকদের মুখে হাসি ফুটেছে, কারণ বাজারে তারা শসার সন্তোষজনক দাম পাচ্ছেন। কম খরচ ও স্বল্প সময়ে অধিক লাভজনক হওয়ায় এলাকার কৃষকেরা এখন শসা চাষে আগ্রহী হয়ে উঠছেন।

মাদারগঞ্জ উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে প্রায় ৬০ হেক্টর জমিতে আগাম শসার আবাদ হয়েছে। এসব জমি থেকে প্রায় দুই হাজার মেট্রিক টন শসা উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবার ফলনও বেশ ভালো হয়েছে। মাদারগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় উৎপাদিত শসা স্থানীয় বাজারের চাহিদা পূরণ করে ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, গাজীপুরসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করা হচ্ছে।

মাদারগঞ্জের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, কৃষকরা মাঠের পর মাঠজুড়ে শসার চাষ করেছেন। মাচায় হলুদ-সাদা ফুল ফুটেছে এবং থরে থরে শসা ঝুলছে। কৃষকরা কেউ জমিতে সেচ দিচ্ছেন, কেউ গাছের পরিচর্যায় ব্যস্ত, আবার কেউ ক্ষেত থেকে শসা তুলে বস্তায় ভরছেন। শসা ভর্তি বস্তা অটোরিকশায় করে বাজারে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। এবার কৃষকেরা গ্রিন বিউটি, জাদু, জিনিয়া ও ময়নামতিসহ বিভিন্ন উন্নত জাতের শসা আবাদ করেছেন।

কৃষকদের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে পাইকারি বাজারে প্রতি কেজি শসা ৩০ থেকে ৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। খুচরা বাজারে এর দাম ৫০ থেকে ৬০ টাকা। শসা চাষে তুলনামূলক কম খরচ এবং লাভের সম্ভাবনা বেশি থাকায় এবার আগাম শসা চাষে কৃষকদের আগ্রহ বেড়েছে।

ফুলজোড় এলাকার কৃষক সাইদুর রহমান জানান, শসার বীজ রোপণের মাত্র ৩০ থেকে ৩৫ দিনের মধ্যেই গাছে ফল ধরতে শুরু করে। তিনি বলেন, “এবার শসার ফলন ভালো হয়েছে এবং বাজারে দামও ভালো পাওয়া যাচ্ছে। ফলন ও দাম এভাবে অব্যাহত থাকলে শসা চাষ করে লাভবান হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।”

নাংলা এলাকার কৃষক তৈয়ব আলী বলেন, “প্রতি বিঘা জমিতে শসা চাষে খরচ হয় ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকা। ভালো ফলন হলে প্রতি বিঘার শসা প্রায় ৩০ থেকে ৪০ হাজার টাকায় বিক্রি করা যায়। তবে শ্রমিকের মজুরি, সেচ, সার ও বাজারজাতকরণের খরচের ওপর প্রকৃত লাভের পরিমাণ নির্ভর করে। এবার দাম ভালো থাকায় আমরা খুশি। আগামীতে আরও জমিতে শসা চাষ করার ইচ্ছা আছে।”

মাদারগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. হাবিবুর রহমান জানান, চাষিরা আধুনিক মালচিং পদ্ধতিতে শসার আবাদ করছেন। তিনি বলেন, “এবার প্রায় দুই হাজার মেট্রিক টন শসা উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে। এখানকার মাটি ও জমি শসা চাষের জন্য উপযোগী। ফলে প্রতিবছরই শসার আবাদ বাড়ছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবার ফলনও ভালো হয়েছে।”

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Bangladesh

নিউজটি শেয়ার করুন

মাদারগঞ্জে শসার বাম্পার ফলন, ২ হাজার টন উৎপাদনের সম্ভাবনা

আপডেট সময় : ১২:২১:৪৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬

জামালপুর জেলার মাদারগঞ্জে অনুকূল আবহাওয়ার কারণে চলতি মৌসুমে শসার বাম্পার ফলন হয়েছে। এতে কৃষকদের মুখে হাসি ফুটেছে, কারণ বাজারে তারা শসার সন্তোষজনক দাম পাচ্ছেন। কম খরচ ও স্বল্প সময়ে অধিক লাভজনক হওয়ায় এলাকার কৃষকেরা এখন শসা চাষে আগ্রহী হয়ে উঠছেন।

মাদারগঞ্জ উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে প্রায় ৬০ হেক্টর জমিতে আগাম শসার আবাদ হয়েছে। এসব জমি থেকে প্রায় দুই হাজার মেট্রিক টন শসা উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবার ফলনও বেশ ভালো হয়েছে। মাদারগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় উৎপাদিত শসা স্থানীয় বাজারের চাহিদা পূরণ করে ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, গাজীপুরসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করা হচ্ছে।

মাদারগঞ্জের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, কৃষকরা মাঠের পর মাঠজুড়ে শসার চাষ করেছেন। মাচায় হলুদ-সাদা ফুল ফুটেছে এবং থরে থরে শসা ঝুলছে। কৃষকরা কেউ জমিতে সেচ দিচ্ছেন, কেউ গাছের পরিচর্যায় ব্যস্ত, আবার কেউ ক্ষেত থেকে শসা তুলে বস্তায় ভরছেন। শসা ভর্তি বস্তা অটোরিকশায় করে বাজারে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। এবার কৃষকেরা গ্রিন বিউটি, জাদু, জিনিয়া ও ময়নামতিসহ বিভিন্ন উন্নত জাতের শসা আবাদ করেছেন।

কৃষকদের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে পাইকারি বাজারে প্রতি কেজি শসা ৩০ থেকে ৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। খুচরা বাজারে এর দাম ৫০ থেকে ৬০ টাকা। শসা চাষে তুলনামূলক কম খরচ এবং লাভের সম্ভাবনা বেশি থাকায় এবার আগাম শসা চাষে কৃষকদের আগ্রহ বেড়েছে।

ফুলজোড় এলাকার কৃষক সাইদুর রহমান জানান, শসার বীজ রোপণের মাত্র ৩০ থেকে ৩৫ দিনের মধ্যেই গাছে ফল ধরতে শুরু করে। তিনি বলেন, “এবার শসার ফলন ভালো হয়েছে এবং বাজারে দামও ভালো পাওয়া যাচ্ছে। ফলন ও দাম এভাবে অব্যাহত থাকলে শসা চাষ করে লাভবান হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।”

নাংলা এলাকার কৃষক তৈয়ব আলী বলেন, “প্রতি বিঘা জমিতে শসা চাষে খরচ হয় ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকা। ভালো ফলন হলে প্রতি বিঘার শসা প্রায় ৩০ থেকে ৪০ হাজার টাকায় বিক্রি করা যায়। তবে শ্রমিকের মজুরি, সেচ, সার ও বাজারজাতকরণের খরচের ওপর প্রকৃত লাভের পরিমাণ নির্ভর করে। এবার দাম ভালো থাকায় আমরা খুশি। আগামীতে আরও জমিতে শসা চাষ করার ইচ্ছা আছে।”

মাদারগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. হাবিবুর রহমান জানান, চাষিরা আধুনিক মালচিং পদ্ধতিতে শসার আবাদ করছেন। তিনি বলেন, “এবার প্রায় দুই হাজার মেট্রিক টন শসা উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে। এখানকার মাটি ও জমি শসা চাষের জন্য উপযোগী। ফলে প্রতিবছরই শসার আবাদ বাড়ছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবার ফলনও ভালো হয়েছে।”

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Bangladesh