ঢাকা ০৮:০২ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ভোলায় সাপের কামড়ে কৃষকের মর্মান্তিক মৃত্যু ঢাকা রেসিডেনসিয়াল মডেল কলেজ পরিদর্শনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান অনির্দিষ্টকালের জন্য রিয়াদগামী সব ফ্লাইট স্থগিত করল বিমান প্রধান তথ্য কমিশনার হলেন জাবি অধ্যাপক নাহরিন ইসলাম খান হামের প্রাদুর্ভাবে বিপর্যস্ত বাংলাদেশ, বিশ্ববাসীর জন্য সতর্কবার্তা মাদকের আস্তানায় অস্ত্র হাতে অভিযান চালালেন প্রতিমন্ত্রী ইশরাক ঢাকার ২৫৭ পূজামণ্ডপে ২৪ ঘণ্টা পুলিশি নিরাপত্তা নিশ্চিত করল ডিএমপি কালিয়াকৈরে ইবনে সিনা ফার্মাসিউটিক্যালসের কারখানায় আগুন, নিয়ন্ত্রণে ৪ ইউনিট কুড়িগ্রামে ট্রাকের ধাক্কায় অটোরিকশার ৫ যাত্রী নিহত পাকিস্তানের বেলুচিস্তানে ৫ দশমিক ৬ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প

প্রশ্নপত্র ফাঁস রুখতে সচিবালয়ে রাত কাটাচ্ছেন প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ০৪:৪৮:১৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬ ১৮ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের সহকারী উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা পদের নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস ঠেকাতে ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়েছেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক। শুক্রবার অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই পরীক্ষার প্রশ্নপত্র তৈরি থেকে শুরু করে প্রতিটি পরীক্ষাকেন্দ্রে পাঠানোর আগপর্যন্ত তিনি সচিবালয়েই অবস্থান করছেন। রাতে ঘুমানো বা বিশ্রামের প্রয়োজন হলে নিজের দপ্তরেই থাকবেন বলে জানা গেছে। গত বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১২টায় প্রতিবেদন লেখার সময়ও সচিবালয়ে প্রশ্নপত্র তৈরির কাজ চলছিল।

মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের ১১তম গ্রেডের ২৪২টি পদের বিপরীতে এবার প্রায় ৩ লাখ ১৯ হাজার চাকরিপ্রার্থী আবেদন করেছেন। শুক্রবার বেলা তিনটা থেকে বিকেল চারটা পর্যন্ত রাজধানীর বৃহত্তর মিরপুর এলাকার শতাধিক কেন্দ্রে এই পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। এর আগে গত ১০ অক্টোবর সকাল ১১টায় পরীক্ষা শুরুর আগেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রশ্নপত্র ছড়িয়ে পড়ে। পরে মূল প্রশ্নপত্রের সঙ্গে তা মিলে গেলে শেষ মুহূর্তে পরীক্ষা স্থগিত করা হয়। ততক্ষণে দেশের দূরদূরান্ত থেকে আসা হাজারো প্রার্থী কেন্দ্রে পৌঁছে গিয়েছিলেন। পরীক্ষা স্থগিতের এমন সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ হয়ে প্রার্থীরা রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে সড়ক অবরোধ ও বিক্ষোভ শুরু করেন। পরবর্তীতে শুক্রবারের এই নতুন তারিখ নির্ধারণ করা হয়।

পরবর্তী সময়ে প্রশ্নপত্র ফাঁস রোধে নেওয়া পদক্ষেপে বেশ কিছু পরিবর্তন আনা হয়েছে। এবার প্রশ্নপত্র তৈরি ও ছাপানোর স্থান পরিবর্তন করা হয়েছে। একই সঙ্গে সুষ্ঠুভাবে পরীক্ষা সম্পন্ন করার লক্ষ্যে ১৯ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। পরীক্ষা শুরুর ঠিক এক ঘণ্টা আগে কঠোর পুলিশি পাহারায় প্রতিটি কেন্দ্রে প্রশ্নপত্র পৌঁছে দেওয়া হবে। প্রশ্নপত্র প্রণয়ন ও ছাপানোর পুরো প্রক্রিয়া তদারক করতে ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সচিব, অতিরিক্ত সচিব, যুগ্ম সচিব, যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের মহাপরিচালকসহ নিয়োগ সংশ্লিষ্ট সকল ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বৃহস্পতিবার রাতে সচিবালয়ে অবস্থান করছিলেন। প্রতিমন্ত্রীর ঘনিষ্ঠ এক কর্মকর্তা জানান, প্রশ্নপত্র যাতে কোনোভাবেই ফাঁস না হতে পারে, সে জন্যই কেন্দ্রে পাঠানোর আগপর্যন্ত সেখানে থাকবেন আমিনুল হক।

এদিকে গত ১০ অক্টোবরের প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনা তদন্তে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. মাহফুজুল আলম খানকে প্রধান করে পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। প্রাথমিক অবস্থায় তিন কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হলেও পরে সময় বাড়ানো হয়। গত বুধবার সচিবালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক জানান, তদন্ত কমিটিকে আগামী রোববার পর্যন্ত সময় দেওয়া হয়েছে। প্রশ্নপত্র তৈরি, ছাপানো ও ফটোকপির কাজে জড়িতদের ভূমিকা খতিয়ে দেখার পাশাপাশি সিআইডির ফরেনসিক দলও আলামত সংগ্রহ করেছে। ওই সংবাদ সম্মেলনে পরীক্ষার্থীদের ভোগান্তির জন্য দুঃখ প্রকাশ করে প্রতিমন্ত্রী প্রতিশ্রুতি দেন যে, মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা বা বাইরের যিনিই জড়িত থাকুন না কেন, প্রমাণ পাওয়া গেলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

অন্যদিকের এক অভিযানে প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে ছয়জনকে গ্রেপ্তার করেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)। গত বৃহস্পতিবার রাতে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন এসআরবি-৩-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল ফায়েজুল আরেফীন। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ প্রবেশপত্র, স্ট্যাম্প ও ব্যাংক চেক জব্দ করা হয়েছে। শুক্রবার রাজধানীর কারওয়ান বাজারে এসআরবির মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলন করে এই বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশের কথা রয়েছে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Prothom Alo

নিউজটি শেয়ার করুন

প্রশ্নপত্র ফাঁস রুখতে সচিবালয়ে রাত কাটাচ্ছেন প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক

আপডেট সময় : ০৪:৪৮:১৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬

যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের সহকারী উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা পদের নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস ঠেকাতে ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়েছেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক। শুক্রবার অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই পরীক্ষার প্রশ্নপত্র তৈরি থেকে শুরু করে প্রতিটি পরীক্ষাকেন্দ্রে পাঠানোর আগপর্যন্ত তিনি সচিবালয়েই অবস্থান করছেন। রাতে ঘুমানো বা বিশ্রামের প্রয়োজন হলে নিজের দপ্তরেই থাকবেন বলে জানা গেছে। গত বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১২টায় প্রতিবেদন লেখার সময়ও সচিবালয়ে প্রশ্নপত্র তৈরির কাজ চলছিল।

মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের ১১তম গ্রেডের ২৪২টি পদের বিপরীতে এবার প্রায় ৩ লাখ ১৯ হাজার চাকরিপ্রার্থী আবেদন করেছেন। শুক্রবার বেলা তিনটা থেকে বিকেল চারটা পর্যন্ত রাজধানীর বৃহত্তর মিরপুর এলাকার শতাধিক কেন্দ্রে এই পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। এর আগে গত ১০ অক্টোবর সকাল ১১টায় পরীক্ষা শুরুর আগেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রশ্নপত্র ছড়িয়ে পড়ে। পরে মূল প্রশ্নপত্রের সঙ্গে তা মিলে গেলে শেষ মুহূর্তে পরীক্ষা স্থগিত করা হয়। ততক্ষণে দেশের দূরদূরান্ত থেকে আসা হাজারো প্রার্থী কেন্দ্রে পৌঁছে গিয়েছিলেন। পরীক্ষা স্থগিতের এমন সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ হয়ে প্রার্থীরা রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে সড়ক অবরোধ ও বিক্ষোভ শুরু করেন। পরবর্তীতে শুক্রবারের এই নতুন তারিখ নির্ধারণ করা হয়।

পরবর্তী সময়ে প্রশ্নপত্র ফাঁস রোধে নেওয়া পদক্ষেপে বেশ কিছু পরিবর্তন আনা হয়েছে। এবার প্রশ্নপত্র তৈরি ও ছাপানোর স্থান পরিবর্তন করা হয়েছে। একই সঙ্গে সুষ্ঠুভাবে পরীক্ষা সম্পন্ন করার লক্ষ্যে ১৯ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। পরীক্ষা শুরুর ঠিক এক ঘণ্টা আগে কঠোর পুলিশি পাহারায় প্রতিটি কেন্দ্রে প্রশ্নপত্র পৌঁছে দেওয়া হবে। প্রশ্নপত্র প্রণয়ন ও ছাপানোর পুরো প্রক্রিয়া তদারক করতে ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সচিব, অতিরিক্ত সচিব, যুগ্ম সচিব, যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের মহাপরিচালকসহ নিয়োগ সংশ্লিষ্ট সকল ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বৃহস্পতিবার রাতে সচিবালয়ে অবস্থান করছিলেন। প্রতিমন্ত্রীর ঘনিষ্ঠ এক কর্মকর্তা জানান, প্রশ্নপত্র যাতে কোনোভাবেই ফাঁস না হতে পারে, সে জন্যই কেন্দ্রে পাঠানোর আগপর্যন্ত সেখানে থাকবেন আমিনুল হক।

এদিকে গত ১০ অক্টোবরের প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনা তদন্তে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. মাহফুজুল আলম খানকে প্রধান করে পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। প্রাথমিক অবস্থায় তিন কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হলেও পরে সময় বাড়ানো হয়। গত বুধবার সচিবালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক জানান, তদন্ত কমিটিকে আগামী রোববার পর্যন্ত সময় দেওয়া হয়েছে। প্রশ্নপত্র তৈরি, ছাপানো ও ফটোকপির কাজে জড়িতদের ভূমিকা খতিয়ে দেখার পাশাপাশি সিআইডির ফরেনসিক দলও আলামত সংগ্রহ করেছে। ওই সংবাদ সম্মেলনে পরীক্ষার্থীদের ভোগান্তির জন্য দুঃখ প্রকাশ করে প্রতিমন্ত্রী প্রতিশ্রুতি দেন যে, মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা বা বাইরের যিনিই জড়িত থাকুন না কেন, প্রমাণ পাওয়া গেলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

অন্যদিকের এক অভিযানে প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে ছয়জনকে গ্রেপ্তার করেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)। গত বৃহস্পতিবার রাতে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন এসআরবি-৩-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল ফায়েজুল আরেফীন। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ প্রবেশপত্র, স্ট্যাম্প ও ব্যাংক চেক জব্দ করা হয়েছে। শুক্রবার রাজধানীর কারওয়ান বাজারে এসআরবির মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলন করে এই বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশের কথা রয়েছে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Prothom Alo