ঢাকা ০৮:২৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ভোলায় সাপের কামড়ে কৃষকের মর্মান্তিক মৃত্যু ঢাকা রেসিডেনসিয়াল মডেল কলেজ পরিদর্শনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান অনির্দিষ্টকালের জন্য রিয়াদগামী সব ফ্লাইট স্থগিত করল বিমান প্রধান তথ্য কমিশনার হলেন জাবি অধ্যাপক নাহরিন ইসলাম খান হামের প্রাদুর্ভাবে বিপর্যস্ত বাংলাদেশ, বিশ্ববাসীর জন্য সতর্কবার্তা মাদকের আস্তানায় অস্ত্র হাতে অভিযান চালালেন প্রতিমন্ত্রী ইশরাক ঢাকার ২৫৭ পূজামণ্ডপে ২৪ ঘণ্টা পুলিশি নিরাপত্তা নিশ্চিত করল ডিএমপি কালিয়াকৈরে ইবনে সিনা ফার্মাসিউটিক্যালসের কারখানায় আগুন, নিয়ন্ত্রণে ৪ ইউনিট কুড়িগ্রামে ট্রাকের ধাক্কায় অটোরিকশার ৫ যাত্রী নিহত পাকিস্তানের বেলুচিস্তানে ৫ দশমিক ৬ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প

হামের প্রাদুর্ভাবে বিপর্যস্ত বাংলাদেশ, বিশ্ববাসীর জন্য সতর্কবার্তা

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ০৭:২৯:৪৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬ ১০ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

এক সময় হামের মতো সংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণে সফলতার নজির গড়েছিল বাংলাদেশ। ভ্যাকসিন প্রয়োগের মাধ্যমে দীর্ঘ সময় রোগটিকে নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হয়েছিল। তবে ২০২৫ সালে রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ও অস্থিরতার জেরে সেই সফলতায় বড় ধরনের ছন্দপতন ঘটে। টিকাদানের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে ব্যর্থতা, মাঠপর্যায়ে প্রচারের ঘাটতি এবং দুর্বল তথ্য ব্যবস্থাপনার কারণে বর্তমানে দেশটি ইতিহাসের অন্যতম ভয়াবহ হামের প্রাদুর্ভাবের বিরুদ্ধে লড়াই করছে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ১৫ই মার্চ থেকে ৯ই অক্টোবর পর্যন্ত বাংলাদেশে ২ লাখ ২ হাজার সন্দেহভাজন হামের রোগী শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে ২২ হাজার রোগীর সংক্রমণ নিশ্চিত করা হয়েছে। এ বছর বিশ্বে সন্দেহভাজন হামের রোগীর সংখ্যায় এটিই সর্বোচ্চ। এই অতি সংক্রামক ব্যাধিতে এখন পর্যন্ত ১ হাজার ১৪৭ জনের মৃত্যু হয়েছে, যার ৯৪ শতাংশই পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশু।

বিশেষজ্ঞদের মতে, মহামারির ঝুঁকি এড়াতে যেকোনো দেশে অন্তত ৯৫ শতাংশ টিকাদান কভারেজ প্রয়োজন। ডব্লিউএইচও এবং ইউনিসেফের যৌথ প্রতিবেদনে দেখা যায়, ২০২৫ সালে বাংলাদেশে প্রথম ডোজের কভারেজ ৯০ শতাংশে এবং দ্বিতীয় ডোজের কভারেজ ৮৬ শতাংশে নেমে এসেছে। স্বাস্থ্যকর্মীদের কর্মবিরতি, টিকা আমদানিতে বিলম্ব এবং প্রত্যন্ত অঞ্চলে তদারকির অভাবে টিকাদান কর্মসূচিতে বড় ধরনের শূন্যতা তৈরি হয়েছে। নিউইয়র্ক বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্লোবাল পাবলিক হেলথ স্কুলের অধ্যাপক এবং ডব্লিউএইচওর টিকা উপদেষ্টা মার্ক জিৎ একে বিশ্বের জন্য চরম সতর্কবার্তা হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি জানান, মহামারি মোকাবিলার চেয়ে নিয়মিত টিকাদানের মাধ্যমে রোগ প্রতিরোধ করা অনেক বেশি সহজ ও সাশ্রয়ী।

রয়টার্সের অনুসন্ধানে সরকারের জরুরি টিকাদান কার্যক্রমে ত্রুটি উঠে এসেছে। এপ্রিলে প্রায় ২ কোটি শিশুকে টিকা দেওয়ার দাবি করা হলেও জুনের স্বাস্থ্য কার্যক্রমে দেখা যায়, একই বয়সী আরও ৪০ লাখ শিশু তালিকার বাইরে ছিল। এছাড়া প্রস্তুতির যাচাই প্রক্রিয়া সংক্ষিপ্ত করায় টিকাদান ক্যাম্পেইনের আগেও আক্রান্ত শিশুদের মধ্যে ৮২ শতাংশ ছিল টিকাহীন, যা ক্যাম্পেইনের পরেও ৮৫ শতাংশে অপরিবর্তিত থাকে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের স্বাস্থ্য বিষয়ক বিশেষ সহকারী জিয়াউদ্দিন হায়দার সেপ্টেম্বরে জানিয়েছেন, সরকার প্রাদুর্ভাব নিয়ন্ত্রণে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালাচ্ছে, তবে কিছু শিশু অভিভাবকদের অনীহা বা অসুস্থতার কারণে বাদ পড়তে পারে।

সিলেট বিভাগ হামের প্রাদুর্ভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যেখানে সরকারি হিসাবেই ১৮০ শিশুর প্রাণহানি ঘটেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, স্বাস্থ্যকর্মীরা সময়মতো টিকা দিতে আসেনি এবং শিশুর মৃত্যুর পরই কেবল স্বাস্থ্য বিভাগের লোকজন সক্রিয় হয়েছে। সেপ্টেম্বর মাসে গড়ে প্রতিদিন ১ হাজার ১৯৮ জন নতুন রোগী শনাক্ত হয়েছে। ডেঙ্গুর প্রকোপের কারণে হাসপাতালগুলোতে শয্যা সংকটও তীব্র আকার ধারণ করেছে, বিশেষ করে সিলেটের ১০০ শয্যাবিশিষ্ট শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে ধারণক্ষমতার অতিরিক্ত রোগী ভর্তি রয়েছে। বিশেষজ্ঞরা এখন পাঁচ বছরের বেশি বয়সী শিশুদেরও টিকার আওতায় আনার পরামর্শ দিচ্ছেন, কারণ মোট আক্রান্তের এক-তৃতীয়াংশই এই বয়সী। চিকিৎসকরা কেন ছয় মাসের কম বয়সী শিশুদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দ্রুত কমে যাচ্ছে, তা নিয়ে গবেষণা করছেন।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Manab Zamin

নিউজটি শেয়ার করুন

হামের প্রাদুর্ভাবে বিপর্যস্ত বাংলাদেশ, বিশ্ববাসীর জন্য সতর্কবার্তা

আপডেট সময় : ০৭:২৯:৪৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬

এক সময় হামের মতো সংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণে সফলতার নজির গড়েছিল বাংলাদেশ। ভ্যাকসিন প্রয়োগের মাধ্যমে দীর্ঘ সময় রোগটিকে নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হয়েছিল। তবে ২০২৫ সালে রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ও অস্থিরতার জেরে সেই সফলতায় বড় ধরনের ছন্দপতন ঘটে। টিকাদানের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে ব্যর্থতা, মাঠপর্যায়ে প্রচারের ঘাটতি এবং দুর্বল তথ্য ব্যবস্থাপনার কারণে বর্তমানে দেশটি ইতিহাসের অন্যতম ভয়াবহ হামের প্রাদুর্ভাবের বিরুদ্ধে লড়াই করছে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ১৫ই মার্চ থেকে ৯ই অক্টোবর পর্যন্ত বাংলাদেশে ২ লাখ ২ হাজার সন্দেহভাজন হামের রোগী শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে ২২ হাজার রোগীর সংক্রমণ নিশ্চিত করা হয়েছে। এ বছর বিশ্বে সন্দেহভাজন হামের রোগীর সংখ্যায় এটিই সর্বোচ্চ। এই অতি সংক্রামক ব্যাধিতে এখন পর্যন্ত ১ হাজার ১৪৭ জনের মৃত্যু হয়েছে, যার ৯৪ শতাংশই পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশু।

বিশেষজ্ঞদের মতে, মহামারির ঝুঁকি এড়াতে যেকোনো দেশে অন্তত ৯৫ শতাংশ টিকাদান কভারেজ প্রয়োজন। ডব্লিউএইচও এবং ইউনিসেফের যৌথ প্রতিবেদনে দেখা যায়, ২০২৫ সালে বাংলাদেশে প্রথম ডোজের কভারেজ ৯০ শতাংশে এবং দ্বিতীয় ডোজের কভারেজ ৮৬ শতাংশে নেমে এসেছে। স্বাস্থ্যকর্মীদের কর্মবিরতি, টিকা আমদানিতে বিলম্ব এবং প্রত্যন্ত অঞ্চলে তদারকির অভাবে টিকাদান কর্মসূচিতে বড় ধরনের শূন্যতা তৈরি হয়েছে। নিউইয়র্ক বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্লোবাল পাবলিক হেলথ স্কুলের অধ্যাপক এবং ডব্লিউএইচওর টিকা উপদেষ্টা মার্ক জিৎ একে বিশ্বের জন্য চরম সতর্কবার্তা হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি জানান, মহামারি মোকাবিলার চেয়ে নিয়মিত টিকাদানের মাধ্যমে রোগ প্রতিরোধ করা অনেক বেশি সহজ ও সাশ্রয়ী।

রয়টার্সের অনুসন্ধানে সরকারের জরুরি টিকাদান কার্যক্রমে ত্রুটি উঠে এসেছে। এপ্রিলে প্রায় ২ কোটি শিশুকে টিকা দেওয়ার দাবি করা হলেও জুনের স্বাস্থ্য কার্যক্রমে দেখা যায়, একই বয়সী আরও ৪০ লাখ শিশু তালিকার বাইরে ছিল। এছাড়া প্রস্তুতির যাচাই প্রক্রিয়া সংক্ষিপ্ত করায় টিকাদান ক্যাম্পেইনের আগেও আক্রান্ত শিশুদের মধ্যে ৮২ শতাংশ ছিল টিকাহীন, যা ক্যাম্পেইনের পরেও ৮৫ শতাংশে অপরিবর্তিত থাকে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের স্বাস্থ্য বিষয়ক বিশেষ সহকারী জিয়াউদ্দিন হায়দার সেপ্টেম্বরে জানিয়েছেন, সরকার প্রাদুর্ভাব নিয়ন্ত্রণে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালাচ্ছে, তবে কিছু শিশু অভিভাবকদের অনীহা বা অসুস্থতার কারণে বাদ পড়তে পারে।

সিলেট বিভাগ হামের প্রাদুর্ভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যেখানে সরকারি হিসাবেই ১৮০ শিশুর প্রাণহানি ঘটেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, স্বাস্থ্যকর্মীরা সময়মতো টিকা দিতে আসেনি এবং শিশুর মৃত্যুর পরই কেবল স্বাস্থ্য বিভাগের লোকজন সক্রিয় হয়েছে। সেপ্টেম্বর মাসে গড়ে প্রতিদিন ১ হাজার ১৯৮ জন নতুন রোগী শনাক্ত হয়েছে। ডেঙ্গুর প্রকোপের কারণে হাসপাতালগুলোতে শয্যা সংকটও তীব্র আকার ধারণ করেছে, বিশেষ করে সিলেটের ১০০ শয্যাবিশিষ্ট শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে ধারণক্ষমতার অতিরিক্ত রোগী ভর্তি রয়েছে। বিশেষজ্ঞরা এখন পাঁচ বছরের বেশি বয়সী শিশুদেরও টিকার আওতায় আনার পরামর্শ দিচ্ছেন, কারণ মোট আক্রান্তের এক-তৃতীয়াংশই এই বয়সী। চিকিৎসকরা কেন ছয় মাসের কম বয়সী শিশুদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দ্রুত কমে যাচ্ছে, তা নিয়ে গবেষণা করছেন।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Manab Zamin