পেটে জীবন্ত বাইম মাছ: বাংলাদেশির বিরল অস্ত্রোপচারের ঘটনা
- আপডেট সময় : ০৫:৪৮:১৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩ অক্টোবর ২০২৬ ৪ বার পড়া হয়েছে

মানুষের শরীরে জীবন্ত প্রাণী প্রবেশ করার ঘটনা অত্যন্ত বিরল এবং একই সঙ্গে বিপজ্জনক হতে পারে। ২০২৪ সালে বাংলাদেশের এক ৫৫ বছর বয়সী জেলে মারাত্মক সংক্রমণ ও তীব্র পেটে ব্যথা নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হলে চিকিৎসা মহলে এক চাঞ্চল্যকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। ইন্টারন্যাশনাল জার্নাল অব সার্জারি কেস রিপোর্টসে প্রকাশিত সাম্প্রতিক এক গবেষণাপত্রে এই বিরল ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ উঠে এসেছে।
জানা গেছে, মাছ ধরার সময় ওই ব্যক্তির পায়ুপথ দিয়ে একটি জীবন্ত বাইম মাছ শরীরের ভেতরে ঢুকে পড়ে। অস্বস্তি ও লজ্জার কারণে তিনি বিষয়টি শুরুতে গোপন রাখেন এবং আশা করেছিলেন মাছটি নিজে থেকেই বেরিয়ে আসবে। তবে পরিস্থিতির অবনতি হলে তিনি চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন। বাংলাদেশ ও নেপালের চিকিৎসকদের নিয়ে গঠিত একটি মেডিক্যাল টিম দ্রুত পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে রোগীর অন্ত্রের প্রাচীর ছিদ্র হয়ে যাওয়ার এবং পেটে মারাত্মক সংক্রমণের প্রমাণ পান।
চিকিৎসকরা জরুরি অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে রোগীর কোলন থেকে প্রায় ২৬ ইঞ্চি লম্বা একটি জীবন্ত বাইম মাছ সফলভাবে বের করে আনেন। গবেষণায় যুক্ত ছিলেন বাংলাদেশের চিকিৎসক মবিন ইবনে মকবুল, সৌমিক রায়, অমর্ত্য নারায়ণ রায়, মোস্তফা নওয়াজ এবং নেপালের বিজ্ঞানী অমৃতা শ্রেষ্ঠা। চিকিৎসকদের কেস রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে, অন্ত্রের দেয়াল ছিদ্র করে এমন ঘটনার নজির খুবই বিরল। এর আগে ২০০৪ সালে হংকংয়ে কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে এক ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে মলদ্বারে বাইম মাছ প্রবেশ করানোর ফলে অনুরূপ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছিল।
বর্তমান এই ঘটনায় রোগীর সিগময়েড কোলনে প্রায় ৫ সেন্টিমিটার বা ২ ইঞ্চি আয়তনের একটি ফুটো তৈরি হয়েছিল, যা জীবননাশক পেরিটোনাইটিস সংক্রমণের ঝুঁকি তৈরি করেছিল। সফল অস্ত্রোপচার ও কোলস্টমি সম্পন্ন করার পর রোগীর অবস্থার দ্রুত উন্নতি ঘটে এবং চার দিন পর তাকে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়। চিকিৎসকরা পরামর্শ দিয়েছেন যে, তীব্র পেটে ব্যথা নিয়ে আসা রোগীদের ক্ষেত্রে এ ধরনের অস্বাভাবিক কারণগুলোও বিবেচনায় রাখা উচিত। অনেক সময় রোগীরা লজ্জার কারণে সত্য লুকাতে পারেন, যা সময়মতো প্রকাশ পেলে জীবন বাঁচানো সম্ভব হয়। সঠিক সময়ে রোগনির্ণয় ও দ্রুত অস্ত্রোপচার না হলে রোগীর মৃত্যুর ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যেতে পারত।





























