ডারউইনে জয়ের পর সতীর্থদের আবেগঘন বার্তা দিলেন মুশফিক
- আপডেট সময় : ০৫:০৮:২৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৯ অগাস্ট ২০২৬ ১ বার পড়া হয়েছে

অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে তাদেরই বিপক্ষে টেস্ট ম্যাচ জেতা যেকোনো দলের জন্যই দারুণ এক অর্জন। বাংলাদেশের জন্য ডারউইনের এই জয়টি ছিল আরও বেশি বিশেষ। দীর্ঘ ২১ বছরের ক্যারিয়ারে ১০০টিরও বেশি টেস্ট খেললেও অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে এর আগে কখনো লাল বলের ক্রিকেটে খেলা হয়নি মুশফিকুর রহিমের। এবার প্রথমবার খেলতে নেমেই ঐতিহাসিক জয়ের স্বাদ পেলেন তিনি। ম্যাচ শেষে ড্রেসিংরুমে সতীর্থদের উদ্দেশ্যে এক আবেগঘন বক্তব্য দেন এই অভিজ্ঞ ক্রিকেটার, যার ভিডিও সম্প্রতি নিজেদের ফেসবুক পেজে প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)।
সতীর্থদের উদ্দেশ্যে মুশফিক বলেন, এই লাল বলের দলটির কাছ থেকে যদি তিনি কিছু নিয়ে যেতে পারেন, তবে তা হবে কিছু দারুণ স্মৃতি। দলের এই অর্জনে তিনি অত্যন্ত গর্বিত। গত ৩ থেকে ৫ বছরে দলের মধ্যে সবচেয়ে বড় যে ইতিবাচক পরিবর্তন তিনি লক্ষ্য করেছেন, তা হলো সবার নিজে নিজে উন্নতি করার মানসিকতা। মুশফিকের মতে, ব্যক্তিগতভাবে খেলোয়াড়েরা যখন নিজেদের খেলা মাত্র ২ শতাংশও বাড়িয়ে নেন, তখন দল হিসেবে তার প্রভাব পড়ে অনেক বেশি, যা অস্ট্রেলিয়ার মতো পরাশক্তিকে হারানোর মতো বড় ফলাফলে ভূমিকা রাখে।
নিজের দীর্ঘ ক্যারিয়ারের অভিজ্ঞতা টেনে মুশফিক বলেন, ১০, ১৫ বা ২০ বছর আগে খেলোয়াড়েরা কেবল নিজেদের ওপরই বিশ্বাস রাখতেন, পুরো দলের ওপর নয়। কিন্তু বর্তমানের এই ১৫-১৬ জনের দলে অন্তত ৮ থেকে ৯ জন ম্যাচ জেতানোর মতো খেলোয়াড় রয়েছে, যা একজন অধিনায়কের জন্য সবচেয়ে বড় পাওয়া। তবে এই জয় পাওয়ার চেয়ে ধারাবাহিকতা বজায় রাখাই আসল চাবিকাঠি বলে উল্লেখ করেন তিনি। মুশফিক মনে করেন, উন্নতির কোনো শেষ নেই। এই আনন্দ উদযাপনের পর তাদের পরবর্তী কাজ হলো কীভাবে এই পারফরম্যান্সের পুনরাবৃত্তি করা যায়। আর এর জন্য দিন-রাত কঠোর পরিশ্রমের কোনো বিকল্প নেই।
টেস্ট ক্রিকেটের কঠিন বাস্তবতার কথা মনে করিয়ে দিয়ে মুশফিক বলেন, মাঠের ভেতরে ও বাইরে টানা সাড়ে তিন থেকে চার দিনের হাড়ভাঙা খাটুনির পর কেমন অনুভূতি হয়, তা এখন সবাই বুঝতে পারছে। টেস্ট আসলে এভাবেই খেলতে হয়। এখানে জয়-পরাজয় বড় কথা নয়, বরং মাঠের ভেতরের ও বাইরের ইতিবাচক মনোভাবটাই আসল। সাবেক অধিনায়ক মুমিনুল হকের উদাহরণ টেনে তিনি মাউন্ট মঙ্গানুইয়ের ঐতিহাসিক টেস্ট জয়ের স্মৃতি মনে করিয়ে দেন। তিনি বলেন, সেখানে তাদের একটাই লক্ষ্য ছিল—প্রতিটি সেশন জেতা। ওয়ানডে ম্যাচের মতো করে ৩টি সেশনের মধ্যে অন্তত দুটি বা তিনটি জেতার লক্ষ্য নিয়ে তারা মাঠের পরিস্থিতি অনুযায়ী খেলাটিকে ছোট ছোট অংশে ভাগ করে নিয়েছিলেন।
প্রতিপক্ষ ক্রিকেটারদের নিয়ে মুশফিক বলেন, ওরাও মানুষ, শুধু এই সহজ কথাটা মাথায় রাখতে হবে। সঠিক প্রক্রিয়া মেনে ও ওপরওয়ালার ওপর বিশ্বাস রাখলে ফলাফল এমনিতেই আসবে। দিন শেষে আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে যেন নিজেদের শতভাগ দেওয়ার তৃপ্তি পাওয়া যায়। প্রথম ইনিংসে শূন্য রানে আউট হওয়া লিটন দাসের উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, লিটন কত রান করল তা নিয়ে এখন সে ভাবছে না, দলের জয়েই সে সবচেয়ে বেশি খুশি। সবাই প্রতিদিন রান বা উইকেট পাবে না, কিন্তু দলের প্রতি অবদান রাখাটাই আসল। কেউ ভালো করলে সেই আনন্দ ভাগ করে নেওয়া এবং কেউ খারাপ করলে তাকে সান্ত্বনা ও সাহস দেওয়া—এভাবেই একটি দলের সুন্দর সংস্কৃতি গড়ে ওঠে। মুশফিকের কাছে ব্যক্তিগত অর্জনের চেয়ে দলগত অর্জনই সবসময় বড়।
এদিকে বাংলাদেশের এই জাদুকরী পারফরম্যান্সের প্রভাবে ক্রিকেটপ্রেমীদের মাঝে ব্যাপক উন্মাদনা তৈরি হয়েছে। ডারউইনে বাংলাদেশের এই ‘ধাক্কা’র পর ম্যাকাইয়ে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া পরবর্তী টেস্টের প্রথম দিনের সব টিকিট ইতিমধ্যেই বিক্রি হয়ে গেছে।




























