ঢাকা ০৬:১২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর ২০২৬, ২৩ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
রূপপুর বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটে উৎপাদনের চূড়ান্ত অনুমোদন সাহিত্যে ২০২৬ সালের নোবেল পেলেন কানাডীয় লেখিকা অ্যান কারসন কর্মকর্তাদের কর্তৃত্ববাদী না হয়ে সেবক হওয়ার আহ্বান জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রীর রূপগঞ্জে শিক্ষার্থীদের সড়ক অবরোধ ও বাস ভাঙচুর, যান চলাচল স্বাভাবিক দৌলতখানের ৭৩ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নেই প্রধান শিক্ষক, ব্যাহত হচ্ছে পাঠদান খামেনিকে হত্যার পর ইরানের সামনে বড় সুযোগ: আবদুল্লাহ গুল সাহিত্যে নোবেল পেলেন কানাডীয় কবি অ্যান কারসন গোয়াইনঘাটে গুরুত্বপূর্ণ দুটি সড়ক পরিদর্শনে এলজিইডির ডিজাইন টিম প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের মর্যাদা ও সঠিক ইতিহাস সংরক্ষণ করতে হবে: রাষ্ট্রপতি ঈশ্বরদীতে জেলি মেশানো ১০ কেজি চিংড়ি জব্দ, ব্যবসায়ীকে জরিমানা

ডারউইন টেস্টে অসামান্য হাসান মাহমুদ, মনে রাখার মতো এক জয়

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ০৯:০০:১৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৮ অগাস্ট ২০২৬ ১৭ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি



সময়টা ১০ বছর বা তার বেশি পিছিয়ে নিয়ে স্মৃতি হাতড়ালে ডারউইন টেস্টের চিত্রটি ভেসে ওঠে। সেই ম্যাচে মেহেদী হাসান মিরাজের স্টিভ স্মিথের ক্যাচ নেওয়া, তানজিদ হাসানের সেঞ্চুরির পর উচ্ছ্বাস কিংবা মুমিনুল হকের চার মেরে ম্যাচ জেতানোর মুহূর্তটি অনেকের মনেই গেঁথে আছে। তবে এই ম্যাচটির কথা মনে পড়লে সবার আগে যাঁর নাম আসে, তিনি হাসান মাহমুদ। কারণ, স্কোরকার্ডে ম্যাচসেরা হিসেবে তাঁর নামই জ্বলজ্বল করছে। ম্যাচটি যারা দেখেছেন, তাদের নিশ্চয়ই মনে আছে দুই হাত তুলে হাসানের আকাশের দিকে তাকিয়ে থাকার সেই দৃশ্য।

অস্ট্রেলিয়ায় প্রথমবার ৫ উইকেট পাওয়ার পর হাসানের স্বপ্ন ছিল টেস্টে চার শ থেকে পাঁচ শ উইকেট নেওয়ার। বাংলাদেশের কোনো পেসার এখনো এক শ উইকেট পাননি বলে অনেকে হয়তো একে অতিরঞ্জিত বা ঔদ্ধত্য মনে করতে পারেন, কিন্তু হাসান এটি বলেছেন মনপ্রাণ থেকেই। তিনি হেঁয়ালি করার মতো মানুষ নন। বরং তিনি যথেষ্ট মৃদুভাষী, অল্প কথা বলেন এবং গুছিয়ে বলতে পারেন। ব্যাটসম্যানদের মন খারাপ হবে বলে অনেক সময় তিনি উদযাপনের চেয়েও নিজের স্বাভাবিকতা বজায় রাখতেই পছন্দ করেন।

হাসানের ক্যারিয়ারের গতিপথও তাঁর স্বভাবের মতোই ধীরলয়ে এগোনো। ২০২০ সালে টি-টোয়েন্টি দিয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে পথচলা শুরু, এরপর ওয়ানডে। শুরুর দিকে গতি ও ইয়র্কারের পাশাপাশি চোটের শঙ্কা থাকলেও সময়ের সঙ্গে তিনি নিজেকে তৈরি করেছেন। রঙিন পোশাকে অভিষেকের চার বছর পর টেস্টে সুযোগ পান। এখন লাল বলের ক্রিকেটই তাঁর প্রধান মনোযোগ। দুই দিকে সুইং করানো এবং লেংথের মারপ্যাঁচ বুঝে নেওয়া—সব মিলিয়ে লাল বলের ক্রিকেটে তিনি এখন দারুণ কার্যকর, যার প্রমাণ পাওয়া গেছে ইংল্যান্ডের কাউন্টিতেও।

পাকিস্তান ও ভারতের মাটিতে ৫ উইকেট পাওয়ার পর থেকেই হাসানের সামর্থ্য নিয়ে আলোচনা শুরু হয়, যা অস্ট্রেলিয়ান ব্যাটসম্যানদের ড্রেসিংরুমের পথ দেখিয়ে আরও জোরালো হয়েছে। হাসানের এই গল্প কোথায় গিয়ে থামবে তা ভবিষ্যৎই বলে দেবে। তবে ডারউইন টেস্টের পর এটুকু নিশ্চিত করে বলা যায়, সবাই ভুলে গেলেও স্কোরকার্ডে লেখা থাকবে—অস্ট্রেলিয়াকে বাংলাদেশ যখন প্রথমবার হারিয়েছে, তখন ম্যাচসেরা ছিলেন হাসান মাহমুদ।

না পাওয়ার সম্ভাবনার বাজির দরই হয়তো ৯৯ বনাম ১।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Prothom Alo

নিউজটি শেয়ার করুন

ডারউইন টেস্টে অসামান্য হাসান মাহমুদ, মনে রাখার মতো এক জয়

আপডেট সময় : ০৯:০০:১৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৮ অগাস্ট ২০২৬

সময়টা ১০ বছর বা তার বেশি পিছিয়ে নিয়ে স্মৃতি হাতড়ালে ডারউইন টেস্টের চিত্রটি ভেসে ওঠে। সেই ম্যাচে মেহেদী হাসান মিরাজের স্টিভ স্মিথের ক্যাচ নেওয়া, তানজিদ হাসানের সেঞ্চুরির পর উচ্ছ্বাস কিংবা মুমিনুল হকের চার মেরে ম্যাচ জেতানোর মুহূর্তটি অনেকের মনেই গেঁথে আছে। তবে এই ম্যাচটির কথা মনে পড়লে সবার আগে যাঁর নাম আসে, তিনি হাসান মাহমুদ। কারণ, স্কোরকার্ডে ম্যাচসেরা হিসেবে তাঁর নামই জ্বলজ্বল করছে। ম্যাচটি যারা দেখেছেন, তাদের নিশ্চয়ই মনে আছে দুই হাত তুলে হাসানের আকাশের দিকে তাকিয়ে থাকার সেই দৃশ্য।

অস্ট্রেলিয়ায় প্রথমবার ৫ উইকেট পাওয়ার পর হাসানের স্বপ্ন ছিল টেস্টে চার শ থেকে পাঁচ শ উইকেট নেওয়ার। বাংলাদেশের কোনো পেসার এখনো এক শ উইকেট পাননি বলে অনেকে হয়তো একে অতিরঞ্জিত বা ঔদ্ধত্য মনে করতে পারেন, কিন্তু হাসান এটি বলেছেন মনপ্রাণ থেকেই। তিনি হেঁয়ালি করার মতো মানুষ নন। বরং তিনি যথেষ্ট মৃদুভাষী, অল্প কথা বলেন এবং গুছিয়ে বলতে পারেন। ব্যাটসম্যানদের মন খারাপ হবে বলে অনেক সময় তিনি উদযাপনের চেয়েও নিজের স্বাভাবিকতা বজায় রাখতেই পছন্দ করেন।

হাসানের ক্যারিয়ারের গতিপথও তাঁর স্বভাবের মতোই ধীরলয়ে এগোনো। ২০২০ সালে টি-টোয়েন্টি দিয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে পথচলা শুরু, এরপর ওয়ানডে। শুরুর দিকে গতি ও ইয়র্কারের পাশাপাশি চোটের শঙ্কা থাকলেও সময়ের সঙ্গে তিনি নিজেকে তৈরি করেছেন। রঙিন পোশাকে অভিষেকের চার বছর পর টেস্টে সুযোগ পান। এখন লাল বলের ক্রিকেটই তাঁর প্রধান মনোযোগ। দুই দিকে সুইং করানো এবং লেংথের মারপ্যাঁচ বুঝে নেওয়া—সব মিলিয়ে লাল বলের ক্রিকেটে তিনি এখন দারুণ কার্যকর, যার প্রমাণ পাওয়া গেছে ইংল্যান্ডের কাউন্টিতেও।

পাকিস্তান ও ভারতের মাটিতে ৫ উইকেট পাওয়ার পর থেকেই হাসানের সামর্থ্য নিয়ে আলোচনা শুরু হয়, যা অস্ট্রেলিয়ান ব্যাটসম্যানদের ড্রেসিংরুমের পথ দেখিয়ে আরও জোরালো হয়েছে। হাসানের এই গল্প কোথায় গিয়ে থামবে তা ভবিষ্যৎই বলে দেবে। তবে ডারউইন টেস্টের পর এটুকু নিশ্চিত করে বলা যায়, সবাই ভুলে গেলেও স্কোরকার্ডে লেখা থাকবে—অস্ট্রেলিয়াকে বাংলাদেশ যখন প্রথমবার হারিয়েছে, তখন ম্যাচসেরা ছিলেন হাসান মাহমুদ।

না পাওয়ার সম্ভাবনার বাজির দরই হয়তো ৯৯ বনাম ১।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Prothom Alo