ঢাকা ০১:৪৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ২৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
জাজিরায় জেলেদের চাল বিতরণে অনিয়ম ও পোকা পাওয়ার অভিযোগ বাজারে বিক্রি হওয়া সব সয়াবিন তেল বিশুদ্ধ: শিল্পমন্ত্রী রিয়াদে মিসাইল আতঙ্কে নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছেন প্রবাসী বাংলাদেশিরা অস্ট্রেলিয়ার কাছে ধবলধোলাই বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দল ধানমন্ডিতে মারধরের ঘটনায় খালিদ হাসানের ১৫ দিনের কারাদণ্ড চিকিৎসা শেষে দেশে ফিরলেন মির্জা আব্বাস শিক্ষা, জনপ্রশাসনসহ তিন সচিব পেলেন সিনিয়র সচিব পদমর্যাদা মাদারগঞ্জে শসার বাম্পার ফলন, ২ হাজার টন উৎপাদনের সম্ভাবনা: কৃষকের মুখে হাসি মাদারগঞ্জে শসার বাম্পার ফলন, ২ হাজার টন উৎপাদনের সম্ভাবনা সৌদিতে হামলার প্রভাবে ঢাকা থেকে ১০০ ফ্লাইট বাতিল

জামায়াতের প্রদর্শনীতে মুজিব আছে কিন্তু জিয়া নেই, ব্যাখ্যায় বিতর্ক

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ১২:৫১:২৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৯ অগাস্ট ২০২৬ ২৫ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি



জামায়াতে ইসলামীর আয়োজনে রাজধানীর মিন্টো রোডে বিরোধীদলীয় নেতার সরকারি বাসভবনে অনুষ্ঠিত ‘জুলাই এখনো শেষ হয়নি’ শীর্ষক স্থিরচিত্র প্রদর্শনীটি রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। ৫ আগস্ট শুরু হয়ে শনিবার শেষ হওয়া এই প্রদর্শনীতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৭ মার্চের ভাষণের ছবি স্থান পেলেও বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কোনো ছবি বা স্বাধীনতার ঘোষণার উল্লেখ না থাকায় বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে।

প্রদর্শনীতে ১৯৪৭ সালের দেশভাগ থেকে ২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থান পর্যন্ত ইতিহাসের বিভিন্ন পর্যায় তুলে ধরা হয়েছে। এর মধ্যে ‘আজাদী, অতঃপর স্বপ্নভঙ্গ’ অংশে আইয়ুব খান ও ইয়াহিয়া খানকে একনায়ক হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। ‘মুক্তিযুদ্ধ’ অংশে শেখ মুজিবুর রহমানের ছবির পাশাপাশি জেনারেল নিয়াজির রাজাকার ক্যাম্প পরিদর্শন এবং হানাদার বাহিনীর আক্রমণের চিত্র রয়েছে। আবার ‘একনায়কতন্ত্র’ অংশে শেখ মুজিবুর রহমানকে স্বৈরশাসক হিসেবে আখ্যা দিয়ে এতে তাঁর দেশে ফেরা, পারিবারিক ভোজ, ১৯৭২ সালে ভারতীয় বাহিনীর বিদায়ী প্যারেডে শেষ মুজিবের অংশগ্রহণ, ১৯৭৪ সালে রক্ষীবাহিনীর তাণ্ডব, একই বছরের দুর্ভিক্ষ, ১৯৭৫ সালে একদলীয় বাকশাল প্রতিষ্ঠা, শেখ মুজিবুর রহমানের নিহতের খবর এবং জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বে সিপাহি বিপ্লব সফল হওয়ার চিত্র দেখানো হয়েছে। চতুর্থ অংশের নাম দেওয়া হয়েছে ‘সামরিক স্বৈরশাসন’।

এই অংশে ২০০৬ সালে বিএনপির ক্ষমতা ছেড়ে দেওয়া পরবর্তী পরিস্থিতি, ২০০৯ সালে শেখ হাসিনার ক্ষমতা গ্রহণ থেকে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সরকার পতনের আগ পর্যন্ত বিভিন্ন ঘটনাপ্রবাহ উল্লেখ করা হয়েছে। ষষ্ঠ অংশের নাম ‘জুলাই গণ–অভ্যুত্থান’। প্রদর্শনীতে বেগম খালেদা জিয়া ও জামায়াতের নায়েবে আমির সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহেরের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের ছবি থাকলেও জিয়াউর রহমানের অনুপস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। শনিবার প্রদর্শনী পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে জামায়াত আমির শফিকুর রহমান বলেন, ‘কেউ কেউ প্রশ্ন তুলেছেন এখানে শেখ মুজিবের ৭ মার্চের ভাষণ আছে, জিয়াউর রহমান সাহেবের ২৬ মার্চের স্বাধীনতার ঘোষণা নেই কেন? উনি (জিয়াউর রহমান) তো অটোক্র্যাট শাসক ছিলেন না। তো ওনারটা এই জন্যই তো আমরা আনিনি।’ তিনি আরও বলেন, ‘যারা কর্তৃত্ববাদী ছিল, যারা আগ্রাসী ছিল, জুলুমবাজ ছিল, আমরা তাদের এখানে তুলে এনেছি। এখানে দেখবেন আইয়ুব খান, ইয়াহিয়া খান সবাই আছে; কিন্তু কেউ বাদ পড়েনি।’

জামায়াত আমিরের এই ব্যাখ্যার পরও প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে। কেউ কেউ বলছেন, জামায়াত প্রদর্শনীতে স্বাধীনতার আগে ও পরে শেখ মুজিবুর রহমানের ‘ইতিবাচক ও নেতিবাচক’—দুই ধরনের ভূমিকাই তুলে ধরেছে। যেমন শেখ মুজিবুর রহমানের ৭ মার্চের ভাষণের ছবির ওপরে জামায়াত লিখেছে, ‘৭ মার্চ ১৯৭১; রেসকোর্স ময়দানে ঐতিহাসিক ভাষণ দিচ্ছেন শেখ মুজিবুর রহমান’। প্রদর্শনীতে শেখ মুজিবুর রহমানকে যেমন স্বৈরশাসক হিসেবে দেখানো হয়েছে, তেমনি তাঁর ৭ মার্চের ভাষণের ছবিও রাখা হয়েছে। অন্যদিকে, স্বৈরশাসক না হওয়া সত্ত্বেও জিয়াউর রহমানের ছবি না থাকা নিয়ে বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে এক আলোচনা সভায় এটিকে ‘রহস্যজনক’ বলে মন্তব্য করেছেন।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Prothom Alo

নিউজটি শেয়ার করুন

জামায়াতের প্রদর্শনীতে মুজিব আছে কিন্তু জিয়া নেই, ব্যাখ্যায় বিতর্ক

আপডেট সময় : ১২:৫১:২৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৯ অগাস্ট ২০২৬

জামায়াতে ইসলামীর আয়োজনে রাজধানীর মিন্টো রোডে বিরোধীদলীয় নেতার সরকারি বাসভবনে অনুষ্ঠিত ‘জুলাই এখনো শেষ হয়নি’ শীর্ষক স্থিরচিত্র প্রদর্শনীটি রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। ৫ আগস্ট শুরু হয়ে শনিবার শেষ হওয়া এই প্রদর্শনীতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৭ মার্চের ভাষণের ছবি স্থান পেলেও বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কোনো ছবি বা স্বাধীনতার ঘোষণার উল্লেখ না থাকায় বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে।

প্রদর্শনীতে ১৯৪৭ সালের দেশভাগ থেকে ২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থান পর্যন্ত ইতিহাসের বিভিন্ন পর্যায় তুলে ধরা হয়েছে। এর মধ্যে ‘আজাদী, অতঃপর স্বপ্নভঙ্গ’ অংশে আইয়ুব খান ও ইয়াহিয়া খানকে একনায়ক হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। ‘মুক্তিযুদ্ধ’ অংশে শেখ মুজিবুর রহমানের ছবির পাশাপাশি জেনারেল নিয়াজির রাজাকার ক্যাম্প পরিদর্শন এবং হানাদার বাহিনীর আক্রমণের চিত্র রয়েছে। আবার ‘একনায়কতন্ত্র’ অংশে শেখ মুজিবুর রহমানকে স্বৈরশাসক হিসেবে আখ্যা দিয়ে এতে তাঁর দেশে ফেরা, পারিবারিক ভোজ, ১৯৭২ সালে ভারতীয় বাহিনীর বিদায়ী প্যারেডে শেষ মুজিবের অংশগ্রহণ, ১৯৭৪ সালে রক্ষীবাহিনীর তাণ্ডব, একই বছরের দুর্ভিক্ষ, ১৯৭৫ সালে একদলীয় বাকশাল প্রতিষ্ঠা, শেখ মুজিবুর রহমানের নিহতের খবর এবং জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বে সিপাহি বিপ্লব সফল হওয়ার চিত্র দেখানো হয়েছে। চতুর্থ অংশের নাম দেওয়া হয়েছে ‘সামরিক স্বৈরশাসন’।

এই অংশে ২০০৬ সালে বিএনপির ক্ষমতা ছেড়ে দেওয়া পরবর্তী পরিস্থিতি, ২০০৯ সালে শেখ হাসিনার ক্ষমতা গ্রহণ থেকে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সরকার পতনের আগ পর্যন্ত বিভিন্ন ঘটনাপ্রবাহ উল্লেখ করা হয়েছে। ষষ্ঠ অংশের নাম ‘জুলাই গণ–অভ্যুত্থান’। প্রদর্শনীতে বেগম খালেদা জিয়া ও জামায়াতের নায়েবে আমির সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহেরের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের ছবি থাকলেও জিয়াউর রহমানের অনুপস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। শনিবার প্রদর্শনী পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে জামায়াত আমির শফিকুর রহমান বলেন, ‘কেউ কেউ প্রশ্ন তুলেছেন এখানে শেখ মুজিবের ৭ মার্চের ভাষণ আছে, জিয়াউর রহমান সাহেবের ২৬ মার্চের স্বাধীনতার ঘোষণা নেই কেন? উনি (জিয়াউর রহমান) তো অটোক্র্যাট শাসক ছিলেন না। তো ওনারটা এই জন্যই তো আমরা আনিনি।’ তিনি আরও বলেন, ‘যারা কর্তৃত্ববাদী ছিল, যারা আগ্রাসী ছিল, জুলুমবাজ ছিল, আমরা তাদের এখানে তুলে এনেছি। এখানে দেখবেন আইয়ুব খান, ইয়াহিয়া খান সবাই আছে; কিন্তু কেউ বাদ পড়েনি।’

জামায়াত আমিরের এই ব্যাখ্যার পরও প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে। কেউ কেউ বলছেন, জামায়াত প্রদর্শনীতে স্বাধীনতার আগে ও পরে শেখ মুজিবুর রহমানের ‘ইতিবাচক ও নেতিবাচক’—দুই ধরনের ভূমিকাই তুলে ধরেছে। যেমন শেখ মুজিবুর রহমানের ৭ মার্চের ভাষণের ছবির ওপরে জামায়াত লিখেছে, ‘৭ মার্চ ১৯৭১; রেসকোর্স ময়দানে ঐতিহাসিক ভাষণ দিচ্ছেন শেখ মুজিবুর রহমান’। প্রদর্শনীতে শেখ মুজিবুর রহমানকে যেমন স্বৈরশাসক হিসেবে দেখানো হয়েছে, তেমনি তাঁর ৭ মার্চের ভাষণের ছবিও রাখা হয়েছে। অন্যদিকে, স্বৈরশাসক না হওয়া সত্ত্বেও জিয়াউর রহমানের ছবি না থাকা নিয়ে বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে এক আলোচনা সভায় এটিকে ‘রহস্যজনক’ বলে মন্তব্য করেছেন।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Prothom Alo