ঢাকা ০১:০৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০৯ অগাস্ট ২০২৬, ২৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
কে হচ্ছেন দেশের ২৩তম প্রেসিডেন্ট, সিদ্ধান্ত কেবল প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের হাতে স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে সিরাজুল ইসলাম আপসহীন ছিলেন: মির্জা ফখরুল বুদ্ধিজীবী ও স্বৈরাচারের সখ্য: ক্ষমতার মোহে সততার বিসর্জন জামায়াতের প্রদর্শনীতে মুজিব আছে কিন্তু জিয়া নেই, ব্যাখ্যায় বিতর্ক সাভারে বিএনপি নেতাকে কাফনের কাপড় ও গুলি পাঠিয়ে হত্যার হুমকি গাজীপুরে ১১ লাখ টাকার বিদেশি মদসহ আটক ২ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের মানবিকতার সঙ্গে সেবার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর ডিজিটাল পেমেন্টে জালনোটের ঝুঁকি কমবে, সাশ্রয় হবে অর্থ: গভর্নর সিএমএসএমই খাতে ঋণপ্রবাহে বড় ধস, বিপাকে ক্ষুদ্র উদ্যোক্তারা সন্তানের অভিভাবকত্ব পেতে আইনি লড়াইয়ের অভিজ্ঞতা শোনালেন চার মা

জামায়াতের প্রদর্শনীতে মুজিব আছে কিন্তু জিয়া নেই, ব্যাখ্যায় বিতর্ক

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১২:৫১:২৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৯ অগাস্ট ২০২৬ ১ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি
print news

জামায়াতে ইসলামীর আয়োজনে রাজধানীর মিন্টো রোডে বিরোধীদলীয় নেতার সরকারি বাসভবনে অনুষ্ঠিত ‘জুলাই এখনো শেষ হয়নি’ শীর্ষক স্থিরচিত্র প্রদর্শনীটি রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। ৫ আগস্ট শুরু হয়ে শনিবার শেষ হওয়া এই প্রদর্শনীতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৭ মার্চের ভাষণের ছবি স্থান পেলেও বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কোনো ছবি বা স্বাধীনতার ঘোষণার উল্লেখ না থাকায় বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে।

প্রদর্শনীতে ১৯৪৭ সালের দেশভাগ থেকে ২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থান পর্যন্ত ইতিহাসের বিভিন্ন পর্যায় তুলে ধরা হয়েছে। এর মধ্যে ‘আজাদী, অতঃপর স্বপ্নভঙ্গ’ অংশে আইয়ুব খান ও ইয়াহিয়া খানকে একনায়ক হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। ‘মুক্তিযুদ্ধ’ অংশে শেখ মুজিবুর রহমানের ছবির পাশাপাশি জেনারেল নিয়াজির রাজাকার ক্যাম্প পরিদর্শন এবং হানাদার বাহিনীর আক্রমণের চিত্র রয়েছে। আবার ‘একনায়কতন্ত্র’ অংশে শেখ মুজিবুর রহমানকে স্বৈরশাসক হিসেবে আখ্যা দিয়ে এতে তাঁর দেশে ফেরা, পারিবারিক ভোজ, ১৯৭২ সালে ভারতীয় বাহিনীর বিদায়ী প্যারেডে শেষ মুজিবের অংশগ্রহণ, ১৯৭৪ সালে রক্ষীবাহিনীর তাণ্ডব, একই বছরের দুর্ভিক্ষ, ১৯৭৫ সালে একদলীয় বাকশাল প্রতিষ্ঠা, শেখ মুজিবুর রহমানের নিহতের খবর এবং জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বে সিপাহি বিপ্লব সফল হওয়ার চিত্র দেখানো হয়েছে। চতুর্থ অংশের নাম দেওয়া হয়েছে ‘সামরিক স্বৈরশাসন’।

এই অংশে ২০০৬ সালে বিএনপির ক্ষমতা ছেড়ে দেওয়া পরবর্তী পরিস্থিতি, ২০০৯ সালে শেখ হাসিনার ক্ষমতা গ্রহণ থেকে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সরকার পতনের আগ পর্যন্ত বিভিন্ন ঘটনাপ্রবাহ উল্লেখ করা হয়েছে। ষষ্ঠ অংশের নাম ‘জুলাই গণ–অভ্যুত্থান’। প্রদর্শনীতে বেগম খালেদা জিয়া ও জামায়াতের নায়েবে আমির সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহেরের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের ছবি থাকলেও জিয়াউর রহমানের অনুপস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। শনিবার প্রদর্শনী পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে জামায়াত আমির শফিকুর রহমান বলেন, ‘কেউ কেউ প্রশ্ন তুলেছেন এখানে শেখ মুজিবের ৭ মার্চের ভাষণ আছে, জিয়াউর রহমান সাহেবের ২৬ মার্চের স্বাধীনতার ঘোষণা নেই কেন? উনি (জিয়াউর রহমান) তো অটোক্র্যাট শাসক ছিলেন না। তো ওনারটা এই জন্যই তো আমরা আনিনি।’ তিনি আরও বলেন, ‘যারা কর্তৃত্ববাদী ছিল, যারা আগ্রাসী ছিল, জুলুমবাজ ছিল, আমরা তাদের এখানে তুলে এনেছি। এখানে দেখবেন আইয়ুব খান, ইয়াহিয়া খান সবাই আছে; কিন্তু কেউ বাদ পড়েনি।’

জামায়াত আমিরের এই ব্যাখ্যার পরও প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে। কেউ কেউ বলছেন, জামায়াত প্রদর্শনীতে স্বাধীনতার আগে ও পরে শেখ মুজিবুর রহমানের ‘ইতিবাচক ও নেতিবাচক’—দুই ধরনের ভূমিকাই তুলে ধরেছে। যেমন শেখ মুজিবুর রহমানের ৭ মার্চের ভাষণের ছবির ওপরে জামায়াত লিখেছে, ‘৭ মার্চ ১৯৭১; রেসকোর্স ময়দানে ঐতিহাসিক ভাষণ দিচ্ছেন শেখ মুজিবুর রহমান’। প্রদর্শনীতে শেখ মুজিবুর রহমানকে যেমন স্বৈরশাসক হিসেবে দেখানো হয়েছে, তেমনি তাঁর ৭ মার্চের ভাষণের ছবিও রাখা হয়েছে। অন্যদিকে, স্বৈরশাসক না হওয়া সত্ত্বেও জিয়াউর রহমানের ছবি না থাকা নিয়ে বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে এক আলোচনা সভায় এটিকে ‘রহস্যজনক’ বলে মন্তব্য করেছেন।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Prothom Alo

নিউজটি শেয়ার করুন

জামায়াতের প্রদর্শনীতে মুজিব আছে কিন্তু জিয়া নেই, ব্যাখ্যায় বিতর্ক

আপডেট সময় : ১২:৫১:২৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৯ অগাস্ট ২০২৬
print news

জামায়াতে ইসলামীর আয়োজনে রাজধানীর মিন্টো রোডে বিরোধীদলীয় নেতার সরকারি বাসভবনে অনুষ্ঠিত ‘জুলাই এখনো শেষ হয়নি’ শীর্ষক স্থিরচিত্র প্রদর্শনীটি রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। ৫ আগস্ট শুরু হয়ে শনিবার শেষ হওয়া এই প্রদর্শনীতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৭ মার্চের ভাষণের ছবি স্থান পেলেও বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কোনো ছবি বা স্বাধীনতার ঘোষণার উল্লেখ না থাকায় বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে।

প্রদর্শনীতে ১৯৪৭ সালের দেশভাগ থেকে ২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থান পর্যন্ত ইতিহাসের বিভিন্ন পর্যায় তুলে ধরা হয়েছে। এর মধ্যে ‘আজাদী, অতঃপর স্বপ্নভঙ্গ’ অংশে আইয়ুব খান ও ইয়াহিয়া খানকে একনায়ক হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। ‘মুক্তিযুদ্ধ’ অংশে শেখ মুজিবুর রহমানের ছবির পাশাপাশি জেনারেল নিয়াজির রাজাকার ক্যাম্প পরিদর্শন এবং হানাদার বাহিনীর আক্রমণের চিত্র রয়েছে। আবার ‘একনায়কতন্ত্র’ অংশে শেখ মুজিবুর রহমানকে স্বৈরশাসক হিসেবে আখ্যা দিয়ে এতে তাঁর দেশে ফেরা, পারিবারিক ভোজ, ১৯৭২ সালে ভারতীয় বাহিনীর বিদায়ী প্যারেডে শেষ মুজিবের অংশগ্রহণ, ১৯৭৪ সালে রক্ষীবাহিনীর তাণ্ডব, একই বছরের দুর্ভিক্ষ, ১৯৭৫ সালে একদলীয় বাকশাল প্রতিষ্ঠা, শেখ মুজিবুর রহমানের নিহতের খবর এবং জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বে সিপাহি বিপ্লব সফল হওয়ার চিত্র দেখানো হয়েছে। চতুর্থ অংশের নাম দেওয়া হয়েছে ‘সামরিক স্বৈরশাসন’।

এই অংশে ২০০৬ সালে বিএনপির ক্ষমতা ছেড়ে দেওয়া পরবর্তী পরিস্থিতি, ২০০৯ সালে শেখ হাসিনার ক্ষমতা গ্রহণ থেকে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সরকার পতনের আগ পর্যন্ত বিভিন্ন ঘটনাপ্রবাহ উল্লেখ করা হয়েছে। ষষ্ঠ অংশের নাম ‘জুলাই গণ–অভ্যুত্থান’। প্রদর্শনীতে বেগম খালেদা জিয়া ও জামায়াতের নায়েবে আমির সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহেরের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের ছবি থাকলেও জিয়াউর রহমানের অনুপস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। শনিবার প্রদর্শনী পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে জামায়াত আমির শফিকুর রহমান বলেন, ‘কেউ কেউ প্রশ্ন তুলেছেন এখানে শেখ মুজিবের ৭ মার্চের ভাষণ আছে, জিয়াউর রহমান সাহেবের ২৬ মার্চের স্বাধীনতার ঘোষণা নেই কেন? উনি (জিয়াউর রহমান) তো অটোক্র্যাট শাসক ছিলেন না। তো ওনারটা এই জন্যই তো আমরা আনিনি।’ তিনি আরও বলেন, ‘যারা কর্তৃত্ববাদী ছিল, যারা আগ্রাসী ছিল, জুলুমবাজ ছিল, আমরা তাদের এখানে তুলে এনেছি। এখানে দেখবেন আইয়ুব খান, ইয়াহিয়া খান সবাই আছে; কিন্তু কেউ বাদ পড়েনি।’

জামায়াত আমিরের এই ব্যাখ্যার পরও প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে। কেউ কেউ বলছেন, জামায়াত প্রদর্শনীতে স্বাধীনতার আগে ও পরে শেখ মুজিবুর রহমানের ‘ইতিবাচক ও নেতিবাচক’—দুই ধরনের ভূমিকাই তুলে ধরেছে। যেমন শেখ মুজিবুর রহমানের ৭ মার্চের ভাষণের ছবির ওপরে জামায়াত লিখেছে, ‘৭ মার্চ ১৯৭১; রেসকোর্স ময়দানে ঐতিহাসিক ভাষণ দিচ্ছেন শেখ মুজিবুর রহমান’। প্রদর্শনীতে শেখ মুজিবুর রহমানকে যেমন স্বৈরশাসক হিসেবে দেখানো হয়েছে, তেমনি তাঁর ৭ মার্চের ভাষণের ছবিও রাখা হয়েছে। অন্যদিকে, স্বৈরশাসক না হওয়া সত্ত্বেও জিয়াউর রহমানের ছবি না থাকা নিয়ে বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে এক আলোচনা সভায় এটিকে ‘রহস্যজনক’ বলে মন্তব্য করেছেন।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Prothom Alo