ইয়েমেনে সরকারি বাহিনীর হামলায় ৭ শতাধিক হুথি যোদ্ধা নিহত
- আপডেট সময় : ০২:০৩:১৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ৪ অক্টোবর ২০২৬ ৫ বার পড়া হয়েছে

ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারি বাহিনী দাবি করেছে যে, গত কয়েক দিনে চালানো বিভিন্ন অভিযানে ৭ শতাধিক হুথি যোদ্ধা নিহত হয়েছে। দেশটির বিভিন্ন অঞ্চলে নতুন করে সংঘাত তীব্র হওয়ার মধ্যে এই জোরালো দাবি সামনে এলো।
সরকারি বাহিনীর মুখপাত্র কর্নেল মাজেদ আবদুল্লাহ আল-নাজিলি গত শনিবার জানান, সাম্প্রতিক দিনগুলোতে হুথিদের অবস্থান, সামরিক তৎপরতা ও সক্ষমতা লক্ষ্য করে মোট ২৫৭টি সুনির্দিষ্ট অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। এসব অভিযানে যুদ্ধবিমান, ড্রোন, কামান, ক্ষেপণাস্ত্র এবং রকেট লঞ্চার ব্যবহার করা হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। তবে এই লড়াইয়ে সরকারি বাহিনীর কতজন সদস্য হতাহত হয়েছেন, সে বিষয়ে মুখপাত্র কোনো তথ্য দেননি। হুথিদের পক্ষ থেকেও এই হতাহতের সংখ্যা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা হয়নি।
আল-নাজিলি জানান, ইয়েমেনের সানা, মিদি ও বাকিমসহ আল-জাওফ, মারিব, আল-বায়দা এবং লাহিজের বিভিন্ন ফ্রন্টে এই সামরিক অভিযান চালানো হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে তীব্র লড়াই চলছে তাইজ এলাকায়। এর মাত্র একদিন আগে সরকারি বাহিনীর পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছিল, ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে প্রায় ৫০০টি অভিযানে ১ হাজার ৫৪০ জন হুথি যোদ্ধা নিহত বা আহত হয়েছে।
নতুন করে সংঘাত শুরুর পর থেকে তাইজ অঞ্চলটি যুদ্ধের প্রধান কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, শহরের আশপাশে সরকারি বাহিনী ও হুথি যোদ্ধাদের মধ্যে ব্যাপক গোলাবর্ষণ ও সংঘর্ষ চলছে। এই সংঘাতের ফলে বেসামরিক মানুষেরও প্রাণহানি ঘটছে। ধুবাব এলাকার একটি আবাসিক এলাকায় গোলার আঘাতে ছড়িয়ে পড়া ধাতব টুকরার আঘাতে একটি শিশুর মৃত্যু হয়েছে। তীব্র লড়াইয়ের পর তাইজের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে অবস্থিত কৌশলগত সামা দুর্গের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার দাবি করেছে সরকারি বাহিনী।
এদিকে, উদ্ভূত পরিস্থিতির কারণে নিরাপত্তার স্বার্থে তাইজের গুরুত্বপূর্ণ আল-হুবান ক্রসিং বন্ধ করে দিয়েছে ইয়েমেনি কর্তৃপক্ষ। এই সড়কটি হুথি নিয়ন্ত্রিত আল-হুবান এলাকার সঙ্গে সরকারি বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে থাকা তাইজ শহরকে যুক্ত করেছে। সরকারি কর্মকর্তাদের মতে, তাইজে হুথিদের প্রবেশের চেষ্টা এবং ওই এলাকায় আকস্মিক হামলা ও সামরিক তৎপরতা বেড়ে যাওয়ার কারণেই ক্রসিংটি বন্ধের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। উল্লেখ্য, মানবিক কারণে ২০২৪ সালে বেসামরিক নাগরিকদের জন্য উন্মুক্ত করার আগে এই ক্রসিংটি টানা নয় বছর বন্ধ ছিল।




























