বাংলার রূপ ও মাটির মায়া: এক অনন্য দেশ বাংলাদেশ
- আপডেট সময় : ১২:২৮:৪৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ২১ বার পড়া হয়েছে

একি অপরূপ রূপে মা তোমায় হেরিনু পল্লীজননী—বাংলার রূপ আসলেই অপূর্ব। অসংখ্য নদ-নদীবেষ্টিত আমাদের এই বদ্বীপ আদিকাল থেকেই বিদেশিদের কাছে ভূস্বর্গ হিসেবে পরিচিত। সবুজের সমারোহ, হরেক রকম গাছপালা, সবুজ ধানক্ষেত আর মাঝির কণ্ঠে ভাটিয়ালী সুর আমাদের চিরকালই মোহাবিষ্ট করে রাখে। বিখ্যাত পরিব্রাজক ইবনে বতুতাও বাংলার এই সৌন্দর্য উপভোগ করেছিলেন।
সময়ের সাথে সাথে আমাদের গ্রামগুলো আধুনিক হচ্ছে। একসময়ের টিনের একচালার পাঠশালা আজ প্রাইমারি স্কুলে রূপ নিয়েছে। প্রত্যন্ত অঞ্চলে এখন বিদ্যুৎ এবং প্রযুক্তির ছোঁয়া লেগেছে। একসময় বিদেশ থেকে টেলিভিশন আনলে তার সাথে সমান সাইজের ব্যাটারিও আনতে হতো, কিন্তু এখন সবকিছুর পরিবর্তন হয়েছে। রাস্তাঘাট পাকা হয়েছে এবং ছনের চালের বদলে এখন ইট-সুরকির বিল্ডিং তৈরি হচ্ছে। তবে গ্রামের মায়াবী পরিবেশ ও সৌন্দর্য আজও অপরিবর্তিত।
শাইখ সিরাজ তার টেলিভিশন অনুষ্ঠানের মাধ্যমে কৃষক সম্পর্কে আমাদের ধারণা বদলে দিয়েছেন। তিনি দেখিয়েছেন যে, কৃষক মানেই কাদামাটি মাখা মানুষ নয়, বরং তারা আমাদের জাতির বড় শক্তি। ধান চাষ, পশুপালন কিংবা ফুল-ফসলের চাষ—সবই কৃষিকাজের অন্তর্ভুক্ত। প্রবাসীদের মতো আমাদের কৃষকরাও যোদ্ধা, যারা কায়িক পরিশ্রম করে দেশকে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ করছেন।
বাংলাদেশের মাটি অত্যন্ত উর্বর। পৃথিবীর অনেক দেশের তুলনায় আমাদের প্রকৃতি অনেক বেশি উদার। এখানে একটি ফলের বিচি ফেলে দিলেই গাছ জন্মে যায়, ফুলের গাছে কলম করলেই ফুল ফুটে। হাজার বছরের পলি জমে আমাদের মাটি সোনা হয়ে উঠেছে। কবি যথার্থই বলেছেন, খাঁটি সোনা নয়, বরং বাংলাদেশের মাটিই সবচেয়ে খাঁটি।
আমাদের দেশের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য অপরিসীম। চারদিকে ঢেউ তোলা নদী, দক্ষিণে বঙ্গোপসাগর, দক্ষিণ-পশ্চিমে ম্যানগ্রোভ সুন্দরবন এবং পাহাড়ে ঘেরা পার্বত্য জেলা আমাদের গর্ব। মায়ের মতো আগলে রাখা এই দেশের প্রতিটি ধূলিকণায় মায়া জড়িয়ে আছে। তাই তো আমরা আপন মনে গেয়ে উঠি—‘এমন দেশটি কোথাও খুঁজে পাবে নাকো তুমি…’




























