মার্কেন্টাইল ব্যাংকের ডিএমডির বিরুদ্ধে ১২০০ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ
- আপডেট সময় : ১২:১০:২৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৮ বার পড়া হয়েছে

মার্কেন্টাইল ব্যাংক পিএলসির ডেপুটি ম্যানেজিং ডিরেক্টর (ডিএমডি) ও প্রধান আর্থিক কর্মকর্তা (সিএফও) তাপস চন্দ্র পালের বিরুদ্ধে অনিয়ম ও জালিয়াতির মাধ্যমে প্রায় ১২০০ কোটি টাকা আত্মসাতের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনায় ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মতিউল হাসানসহ কয়েকজন পরিচালক ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার সম্পৃক্ততার অভিযোগ পাওয়া গেছে। অভিযোগের বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর বরাবর লিখিত নথিপত্র জমা দেওয়া হয়েছে এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংক বিষয়টি খতিয়ে দেখছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
অভিযোগে বলা হয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে ব্যাংকের ফিন্যান্সিয়াল অ্যাডমিনিস্ট্রেশন ডিভিশন (এফডিএ) ও সিএফও কার্যালয়ের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থাকা তাপস চন্দ্র পাল তার পদকে কাজে লাগিয়ে ব্যাংকের আর্থিক হিসাব ও ব্যয়ের ওপর প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। এমডি মতিউল হাসান ও কয়েকজন পরিচালকের যোগসাজশে ব্যাংকের সাসপেন্স ও ব্যয় হিসাব ব্যবহার করে এই বিশাল অংকের অর্থ সরানো হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের বিশেষ পরিদর্শনে ব্যাংকের প্রভিডেন্ট ফান্ড, গ্র্যাচুইটি, করপোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতা (সিএসআর), ল্যাপটপ ও সফটওয়্যার কেনাকাটা, আসবাবপত্র সংগ্রহ এবং বিদেশ ভ্রমণের খরচসহ বিভিন্ন খাতে গুরুতর অনিয়মের তথ্য উঠে এসেছে।
তাপস চন্দ্র পালের স্ত্রীর সিঙ্গাপুরে দীর্ঘমেয়াদী চিকিৎসার ব্যয় ব্যাংকের সাসপেন্স হিসাব থেকে বহন করার অভিযোগও তোলা হয়েছে। এমনকি তার স্ত্রীর মৃত্যুর পর মরদেহ দেশে আনার খরচ এবং চিকিৎসার সময় ব্যাংকের কর্মকর্তাদের সিঙ্গাপুরে থাকা-খাওয়ার ব্যয়ও ব্যাংক থেকে পরিশোধ করা হয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ রয়েছে। এছাড়া ল্যাপটপ ও সফটওয়্যার কেনাকাটা এবং সিএসআর ব্যয়ের ক্ষেত্রে দরপত্র প্রক্রিয়া ও পণ্যের প্রকৃত মূল্য নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছে।
অভিযোগের নথিতে তাপস চন্দ্র পালের দ্রুত পদোন্নতির পেছনে কয়েকজন পরিচালকের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ও তাদের বিভিন্ন সুবিধা দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। ২০১৮ সালে ভিপি থেকে শুরু করে ২০২১ সালে এসভিপি, ২০২২ সালে ইভিপি, ২০২৪ সালে এসইভিপি এবং সবশেষে ২০২৬ সালে ডিএমডি পদে পদোন্নতি পান তিনি। সিএ, এসিসিএ বা এফসিএর মতো পেশাগত সনদ না থাকার পরও ব্যাংকের গুরুত্বপূর্ণ আর্থিক ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে থেকে আর্থিক বিবরণীতে কারসাজি করার অভিযোগও এতে রয়েছে।
নিজের বিরুদ্ধে ওঠা এসব অভিযোগ অস্বীকার করে তাপস চন্দ্র পাল বলেন, এটি একটি আর্থিক প্রতিষ্ঠান এবং যথাযথ অনুমোদন ছাড়া কোনো অর্থ সরানোর সুযোগ নেই। তিনি জানান, এ ধরনের কোনো প্রশ্ন এখন পর্যন্ত তার কাছে আসেনি। তিনি আরও বলেন, উইদাউট অ্যানি ডকুমেন্টস, উইদাউট অ্যানি প্রোপার অ্যাপ্রুভাল এক পয়সাও এদিক থেকে ওদিকে যাওয়ার কোনো ক্ষমতা নেই। অন্যদিকে, বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান জানিয়েছেন, অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে ব্যাংক ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার কাছে জবাব চাওয়া হবে এবং নিয়ম অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ব্যাংকটির এমডি মো: মতিউল হাসানকে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।



























