ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর উন্নয়নে সরকার কাজ করছে: ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল

- আপডেট সময় : ০২:৪৬:৩৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬ ৭ বার পড়া হয়েছে

জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ও নেত্রকোণা-১ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেছেন, ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর মানুষ এ দেশের সমান অধিকারসম্পন্ন নাগরিক। তাদের প্রতি দয়া বা অনুগ্রহ নয়, বরং সাংবিধানিক অধিকার নিশ্চিত করাই বর্তমান সরকারের মূল লক্ষ্য। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় নেত্রকোনার কলমাকান্দা উপজেলা পরিষদ হলরুমে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের বাস্তবায়নাধীন ‘বিশেষ এলাকার জন্য উন্নয়ন সহায়তা’ প্রকল্পের আওতায় আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে উপকারভোগীদের মাঝে ২৮টি সেলাই মেশিন ও ৪২টি বাইসাইকেল বিতরণ করা হয়। এছাড়া ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর ২৮৩ জন শিক্ষার্থীকে শিক্ষাবৃত্তির অর্থ প্রদান করা হয়েছে। ডেপুটি স্পিকার বলেন, যেসব সহায়তা দেওয়া হচ্ছে তা প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের উদ্যোগে বাস্তবায়িত হয়েছে। তিনি উপকারভোগীদের উদ্দেশে আরও বলেন, এই প্রণোদনা কারও দয়া বা সাহায্য নয়, বরং এ দেশের নাগরিক হিসেবে এটি আপনাদের অধিকার। প্রধানমন্ত্রী আপনাদের স্বাবলম্বী করার লক্ষ্যেই এই উপহার দিয়েছেন।
ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান সর্বপ্রথম হিন্দু, মুসলমান, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান ও গারোসহ সব সম্প্রদায়কে একই কাতারে এনেছিলেন। তিনি সবাইকে শিখিয়েছেন যে আমরা সবাই বাংলাদেশি নাগরিক, তাই কাউকে পাহাড়ি, হাজং বা গারো বলে দূরে সরিয়ে দেওয়ার সুযোগ নেই। তিনি বলেন, আমি চাই না কলমাকান্দা-দুর্গাপুরে ‘অনগ্রসর জনগোষ্ঠী’ শব্দটি ব্যবহৃত হোক; আমি চাই আপনারা সমান মর্যাদায় এগিয়ে যান।
হাজং ভাষার বিষয়ে তিনি বলেন, হাজংদের নিজস্ব ভাষা থাকলেও এর কোনো স্বীকৃত বর্ণমালা বা পাঠ্যবই নেই। নতুন প্রজন্ম যাতে মাতৃভাষা ভুলে না যায়, সেজন্য আমি হাজং ভাষার একটি বই প্রকাশের উদ্যোগ নিয়েছি, যা খুব দ্রুতই প্রকাশিত হবে। এছাড়া মাদক প্রতিরোধে সামাজিক সচেতনতা ও ধর্মীয় মূল্যবোধের ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, প্রত্যেক ধর্মই মানুষকে সৎ কাজের শিক্ষা দেয়। এজন্য তিনি মন্দিরভিত্তিক হাজং ভাষা শিক্ষা প্রকল্প হাতে নিয়েছেন।
বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, সরকার যে উপবৃত্তি দিচ্ছে তা পড়াশোনার পুরো ব্যয় বহনের জন্য যথেষ্ট না হলেও এটি একটি অনুপ্রেরণা। অভিভাবকদের প্রতি তার আহ্বান, সন্তানদের নিয়মিত বিদ্যালয়ে পাঠাতে হবে এবং সুশিক্ষিত হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। অনুষ্ঠানে নেত্রকোনার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) সুখময় সরকার, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার দায়িত্বে থাকা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. শামছুজ্জামান আসিফসহ স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তা এবং জনপ্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।



























