প্রবীণ অধিদপ্তর গঠনের দাবি: ২০৫০ সালে প্রবীণ সংখ্যা দাঁড়াবে ৫ কোটিতে
- আপডেট সময় : ০৩:৪৫:৫৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর ২০২৬ ০ বার পড়া হয়েছে

বাংলাদেশে ২০৫০ সাল নাগাদ ষাটোর্ধ্ব প্রবীণ নাগরিকের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াবে প্রায় ৫ কোটিতে, যা মোট জনসংখ্যার ২০ শতাংশেরও বেশি। বর্তমানে এই সংখ্যা ১ কোটি ৬০ লাখ বা মোট জনসংখ্যার এক-দশমাংশ। একই সময়ে গত ২৫ বছরে দেশে গড় আয়ু সবচেয়ে বেশি বৃদ্ধি পেয়ে বর্তমানের ৭৪.৯ বছর থেকে প্রায় ৮০ বছরে পৌঁছাবে। এই বিপুল সংখ্যক প্রবীণ জনগোষ্ঠীকে কেবল বয়সের মাপকাঠিতে না দেখে তাদের স্বাস্থ্যবান, নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ সামাজিক সম্পদে রূপান্তরের আহ্বান জানানো হয়েছে।
সোমবার (৫ অক্টোবর) আন্তর্জাতিক প্রবীণ দিবস উপলক্ষে আয়োজিত মানববন্ধন, শোভাযাত্রা, নাগরিক সমাজ ও অংশীজনদের পরামর্শ সভা এবং ঐতিহ্যবাহী পট গানের আসরে এই আহ্বান জানানো হয়। রিসোর্স ইন্টিগ্রেশন সেন্টার (রিক) এবং ফোরাম ফর দ্য রাইটস অব দ্য এল্ডারলি, বাংলাদেশ (এফআরইবি) যৌথভাবে এই কর্মসূচির আয়োজন করে। সকালে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে নবীন ও প্রবীণদের অংশগ্রহণে এক মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। পরে সেখান থেকে একটি শোভাযাত্রা বের হয়ে সিরডাপ মিলনায়তনে গিয়ে শেষ হয়।
সিরডাপ মিলনায়তনে আয়োজিত পরামর্শ সভায় সভাপতিত্ব করেন রিকের নির্বাহী পরিচালক আবুল হাসিব খান। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী মো. জোনায়েদ আবদুর রহিম সাকি। বিশেষ অতিথি ছিলেন স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত সচিব মো. সাঈদুর রহমান এবং নারী প্রজনন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ও নারী অধিকার কর্মী ডা. হালিদা হানুম আখতার। প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেন এফআরইবি-র সভাপতি মেজর জেনারেল (অব.) জীবন কানাই দাস।
সভায় আলোচকরা প্রবীণদের জন্য একটি পৃথক ‘প্রবীণ অধিদপ্তর’ গঠনের দাবি জানান। তারা বলেন, প্রবীণদের জন্য বিদ্যমান সামাজিক ও প্রাতিষ্ঠানিক কাজের সুযোগ, আয়, স্বাস্থ্যসেবা, সামাজিক সুরক্ষা, দৈনন্দিন পরিচর্যা, বাসস্থান ও সামাজিক অংশগ্রহণের ব্যবস্থাকে নতুন করে সাজানো প্রয়োজন। বিশেষ করে প্রবীণ নারীরা চরম বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন। মোট সম্পদের মাত্র ৭ শতাংশের মালিকানা থাকা এই নারীদের দীর্ঘ জীবন অত্যন্ত কষ্টদায়ক ও যন্ত্রণাময় হয়ে উঠছে। তাই নারীসহ সব প্রবীণের জন্য নতুন শিক্ষা, কর্মসংস্থান, আবাসন ও খাদ্য বরাদ্দের দাবি জানান বক্তারা।
এছাড়া প্রবীণদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় প্রবীণবান্ধব হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা, সরকারি-বেসরকারি ভবন, মেট্রোরেল, ট্রেন, গণপরিবহন ও বিমানবন্দরে বিশেষ সুবিধা নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়। পাশাপাশি সম্পত্তি হস্তান্তর আইনসহ প্রবীণদের কল্যাণে তৈরি সব আইন ও কর্মকৌশলের যথাযথ প্রয়োগের আহ্বান জানানো হয়। প্রবীণদের প্রতি অবহেলা ও সহিংসতা রোধে রাষ্ট্রীয়, পারিবারিক ও সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে পাড়া-মহল্লায় সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলার ওপর জোর দেন অংশীজনরা।
দাবিগুলোর জবাবে পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ সাকি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সরকার ‘সবার জন্য বাংলাদেশ’ গড়ে তুলতে কাজ করছে। এ লক্ষ্যে নবজাতক থেকে শুরু করে প্রবীণদের জন্য একটি গণতান্ত্রিক, মানবিক ও সমষ্টিকেন্দ্রিক সমাজ বিনির্মাণে বাজেট ও কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। সম্পত্তি হস্তান্তর আইন কার্যকর করা, ষাটোর্ধ্ব কর্মক্ষম ব্যক্তিদের পুনরায় সরকারি কাজে যুক্ত করা, গৃহস্থালি বা অস্বীকৃত শ্রমের মূল্যায়ন, জাতীয় পেনশন স্কিম এবং প্রবীণদের জন্য বিশেষ সঞ্চয় প্রকল্পসহ সরকারের বিভিন্ন কল্যাণমুখী উদ্যোগের কথা তুলে ধরেন তিনি। তবে সরকারের একার পক্ষে সব লক্ষ্য অর্জন সম্ভব নয় উল্লেখ করে তিনি সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি সামাজিক প্রচেষ্টা ও নবীন-প্রবীণদের মধ্যে সংযোগ বাড়ানোর আহ্বান জানান।
পরামর্শ সভায় আরও অংশ নেন নারী উন্নয়ন শক্তির নির্বাহী পরিচালক ড. আফরোজা পারভীন, বীর মুক্তিযোদ্ধা কে এম সিদ্দিক আলী, ঢাকা আহসানিয়া মিশনের ড. এম জাহাঙ্গীর আলম, সমাজকর্মী মাহফুজুর রহমান ময়না, খালেদুল ইসলাম, ফেরদৌসি বেগম গীতালি, অসীম সাহা, খন্দকার রিয়াজ হোসেন, মো. মুখলেছুর রহমান, তাসলিমা আহমেদ, আনিছুর রহমান, এ কে এম মাকসুদ, কামরুজ্জামান ফরিদ, শাওলি ঝর্না, আজমান, শেখ জেসমিন নাহার, গাজী শামসুল আলম, হাবিবা এবং জুয়েনা। এতে এফআরইবি, রিকের নবীন-প্রবীণ আন্তঃপ্রজন্ম স্বনির্ভর ক্লাব (আইএসএসসি), বাংলাদেশ প্রবীণ হিতৈষী সংঘ ও জরা বিজ্ঞান প্রতিষ্ঠান (বাইগাম), নেটওয়ার্ক অব হেল্পএইজ পার্টনারস ইন বাংলাদেশ (এনএইচপিবি), নাগরিক অধিকার সংরক্ষণ ফোরাম (নাসফ) সহ বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধি ও শিক্ষার্থীরা অংশ নেন। অনুষ্ঠান শেষে প্রবীণদের প্রতি সহিংসতা, অবহেলা ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে সচেতনতা বাড়াতে খুলনার রূপান্তর থিয়েটারের শিল্পীরা ঐতিহ্যবাহী পটগান পরিবেশন করেন।


























