ঢাকা ০৪:০৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৬ অক্টোবর ২০২৬, ২০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সোনারগাঁয়ে মহাসড়কে ডাকাতির প্রস্তুতিকালে দেশীয় অস্ত্রসহ ৬ জন গ্রেপ্তার বিয়ের ১৪ দিন আগে ডেঙ্গুতে মৃত্যু, নিথর কপালে সিঁদুর পরালেন হবু বর মতিঝিলে রোগীর মৃত্যু ঘিরে হাসপাতালে হামলা ও ভাঙচুর মিরপুরে শিশুকে বেল্ট দিয়ে পেটানো সেই নিরাপত্তাকর্মী পুলিশ পাহারায় হাসপাতালে প্রবীণ অধিদপ্তর গঠনের দাবি: ২০৫০ সালে প্রবীণ সংখ্যা দাঁড়াবে ৫ কোটিতে রাবিতে হামলার ঘটনায় জামায়াতকে জড়ানো অনভিপ্রেত: মিয়া গোলাম পরওয়ার পিরোজপুরে আইনি ও আর্থিক সহায়তা নিয়ে ‘সেভ বাংলাদেশ’র যাত্রা হাসপাতালে ঠাঁই নেই ডেঙ্গু রোগীর, অক্টোবরে আরও অবনতির আশঙ্কা ১৪ মিনিটের ঝড়ে বেলজিয়ামকে উড়িয়ে দিল ফ্রান্স আধুনিক চিকিৎসাকেন্দ্র হিসেবে পুনর্নির্মাণ হবে ভুলতা উপস্বাস্থ্য কেন্দ্র

‘পিচ্চি রাজা’র পলায়ন: প্রিজন ভ্যান নয়, প্রাইভেটকারে তুলে দিয়েছিল পুলিশই

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ০৩:২৩:৫৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর ২০২৬ ১ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি



গাজীপুরে প্রিজন ভ্যান থেকে হাজতি আসামি রাজা বাদশা ওরফে পিচ্চি রাজা পালানোর ঘটনার তদন্তে নেমে এক চাঞ্চল্যকর তথ্য পেয়েছে পুলিশ। তদন্তকারী দলের দাবি, পিচ্চি রাজা প্রিজন ভ্যান থেকে পালিয়ে যায়নি, বরং পুলিশই তাকে একটি অপেক্ষমাণ প্রাইভেটকারে তুলে দিয়ে পালিয়ে যেতে সাহায্য করেছিল। এই ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে স্কট ইনচার্জ পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই), প্রিজন ভ্যানের চালক এবং পলাতক আসামির বোনকে গ্রেপ্তার করেছে গাজীপুর মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।

গতকাল সকালে গাজীপুর মহানগর পুলিশের (জিএমপি) সদর দপ্তরের কনফারেন্স রুমে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান জিএমপি কমিশনার ইসরাইল হাওলাদার। তিনি জানান, গত ২৭শে সেপ্টেম্বর রাতে ঢাকা জেলা জজ কোর্ট থেকে ২৯ জন হাজতি আসামিকে পুলিশি পাহারায় কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগারে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল।

পথিমধ্যে গাজীপুর মহানগরীর কোনাবাড়ী থানার বাইমাইল এলাকায় পৌঁছানোর পর পিচ্চি রাজা পালিয়ে গেছে দাবি করে প্রথমে থানায় একটি মামলা করা হয়। কোনাবাড়ী থানায় দণ্ডবিধির ২২৪ ধারায় মামলা দায়েরের দুই দিন পর ঘটনার তদন্তভার দেওয়া হয় জিএমপি ডিবি দক্ষিণ বিভাগকে। ডিবির পরিদর্শক সৈয়দ মিজানুর ইসলামের নেতৃত্বে একটি বিশেষ দল তদন্তে নামে। এই তদন্তকারী দলকে সহায়তা করেন সহকারী কমিশনার (এসি) আছাবুর রহমান, এসি জোসেফ মঞ্জুর চৌধুরী এবং পরিদর্শক নাহিদ হাসান সুমনসহ অন্যান্য কর্মকর্তারা।

তদন্তে পাওয়া তথ্যের বরাত দিয়ে পুলিশ জানায়, আদালত থেকে রওনা হওয়ার পর তাঁতীবাজারের কাছে প্রিজন ভ্যানটি থামানো হয়েছিল। সেখানে স্কট ইনচার্জ এসআই প্রবীর কুমার বিশ্বাস ও চালক নায়েক কামাল হোসেনের কাছ থেকে গাড়ির চাবি নেওয়া হয়। এরপর পিচ্চি রাজা এবং খাইরুল বাশার নামের আরেক হাজতি আসামিকে প্রিজন ভ্যান থেকে নামিয়ে সামনে আনা হয়। খাইরুল বাশারকে প্রিজন ভ্যানের চালকের পাশের আসনে বসানো হলেও পিচ্চি রাজা ও এসআই প্রবীর আর ভ্যানে ওঠেননি। সেখানে অপেক্ষমাণ একটি প্রাইভেটকারে করে পিচ্চি রাজা পালিয়ে যায়।

তদন্তকারীদের দাবি, পিচ্চি রাজা পালিয়ে যাওয়ার পর স্কট সদস্যরা মিলে এজাহারে বর্ণিত মিথ্যা গল্পটি সাজিয়েছিলেন। তদন্তে পাওয়া তথ্য, প্রমাণ ও অন্যান্য আলামতের ভিত্তিতে স্কট ইনচার্জ এসআই প্রবীর কুমার বিশ্বাস, প্রিজন ভ্যানের চালক নায়েক কামাল হোসেন এবং পলাতক আসামি পিচ্চি রাজার বোন তাসলিমাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

এ ঘটনায় আর কারা জড়িত রয়েছে এবং পলাতক পিচ্চি রাজা বর্তমানে কোথায় অবস্থান করছে, তা খুঁজে বের করতে ডিবির তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। শুরুতে আসামির পালিয়ে যাওয়ার ঘটনায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে বড় প্রশ্ন উঠলেও এখন পুলিশের সরাসরি সংশ্লিষ্টতা এবং মামলার এজাহারের সঙ্গে তদন্তের গরমিল পুরো ঘটনাকে ভিন্ন দিকে মোড় দিয়েছে। পলাতক আসামিকে গ্রেপ্তার এবং এই ঘটনার পেছনের সম্পূর্ণ রহস্য উন্মোচন করাই এখন তদন্তকারীদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Manab Zamin

নিউজটি শেয়ার করুন

‘পিচ্চি রাজা’র পলায়ন: প্রিজন ভ্যান নয়, প্রাইভেটকারে তুলে দিয়েছিল পুলিশই

আপডেট সময় : ০৩:২৩:৫৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর ২০২৬

গাজীপুরে প্রিজন ভ্যান থেকে হাজতি আসামি রাজা বাদশা ওরফে পিচ্চি রাজা পালানোর ঘটনার তদন্তে নেমে এক চাঞ্চল্যকর তথ্য পেয়েছে পুলিশ। তদন্তকারী দলের দাবি, পিচ্চি রাজা প্রিজন ভ্যান থেকে পালিয়ে যায়নি, বরং পুলিশই তাকে একটি অপেক্ষমাণ প্রাইভেটকারে তুলে দিয়ে পালিয়ে যেতে সাহায্য করেছিল। এই ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে স্কট ইনচার্জ পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই), প্রিজন ভ্যানের চালক এবং পলাতক আসামির বোনকে গ্রেপ্তার করেছে গাজীপুর মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।

গতকাল সকালে গাজীপুর মহানগর পুলিশের (জিএমপি) সদর দপ্তরের কনফারেন্স রুমে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান জিএমপি কমিশনার ইসরাইল হাওলাদার। তিনি জানান, গত ২৭শে সেপ্টেম্বর রাতে ঢাকা জেলা জজ কোর্ট থেকে ২৯ জন হাজতি আসামিকে পুলিশি পাহারায় কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগারে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল।

পথিমধ্যে গাজীপুর মহানগরীর কোনাবাড়ী থানার বাইমাইল এলাকায় পৌঁছানোর পর পিচ্চি রাজা পালিয়ে গেছে দাবি করে প্রথমে থানায় একটি মামলা করা হয়। কোনাবাড়ী থানায় দণ্ডবিধির ২২৪ ধারায় মামলা দায়েরের দুই দিন পর ঘটনার তদন্তভার দেওয়া হয় জিএমপি ডিবি দক্ষিণ বিভাগকে। ডিবির পরিদর্শক সৈয়দ মিজানুর ইসলামের নেতৃত্বে একটি বিশেষ দল তদন্তে নামে। এই তদন্তকারী দলকে সহায়তা করেন সহকারী কমিশনার (এসি) আছাবুর রহমান, এসি জোসেফ মঞ্জুর চৌধুরী এবং পরিদর্শক নাহিদ হাসান সুমনসহ অন্যান্য কর্মকর্তারা।

তদন্তে পাওয়া তথ্যের বরাত দিয়ে পুলিশ জানায়, আদালত থেকে রওনা হওয়ার পর তাঁতীবাজারের কাছে প্রিজন ভ্যানটি থামানো হয়েছিল। সেখানে স্কট ইনচার্জ এসআই প্রবীর কুমার বিশ্বাস ও চালক নায়েক কামাল হোসেনের কাছ থেকে গাড়ির চাবি নেওয়া হয়। এরপর পিচ্চি রাজা এবং খাইরুল বাশার নামের আরেক হাজতি আসামিকে প্রিজন ভ্যান থেকে নামিয়ে সামনে আনা হয়। খাইরুল বাশারকে প্রিজন ভ্যানের চালকের পাশের আসনে বসানো হলেও পিচ্চি রাজা ও এসআই প্রবীর আর ভ্যানে ওঠেননি। সেখানে অপেক্ষমাণ একটি প্রাইভেটকারে করে পিচ্চি রাজা পালিয়ে যায়।

তদন্তকারীদের দাবি, পিচ্চি রাজা পালিয়ে যাওয়ার পর স্কট সদস্যরা মিলে এজাহারে বর্ণিত মিথ্যা গল্পটি সাজিয়েছিলেন। তদন্তে পাওয়া তথ্য, প্রমাণ ও অন্যান্য আলামতের ভিত্তিতে স্কট ইনচার্জ এসআই প্রবীর কুমার বিশ্বাস, প্রিজন ভ্যানের চালক নায়েক কামাল হোসেন এবং পলাতক আসামি পিচ্চি রাজার বোন তাসলিমাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

এ ঘটনায় আর কারা জড়িত রয়েছে এবং পলাতক পিচ্চি রাজা বর্তমানে কোথায় অবস্থান করছে, তা খুঁজে বের করতে ডিবির তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। শুরুতে আসামির পালিয়ে যাওয়ার ঘটনায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে বড় প্রশ্ন উঠলেও এখন পুলিশের সরাসরি সংশ্লিষ্টতা এবং মামলার এজাহারের সঙ্গে তদন্তের গরমিল পুরো ঘটনাকে ভিন্ন দিকে মোড় দিয়েছে। পলাতক আসামিকে গ্রেপ্তার এবং এই ঘটনার পেছনের সম্পূর্ণ রহস্য উন্মোচন করাই এখন তদন্তকারীদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Manab Zamin