ঢাকা ১০:১৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৪ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
রাজশাহীতে হত্যা মামলায় পান দোকানিকে ফাঁসানোর অভিযোগ, পরিবারের সংবাদ সম্মেলন উয়েফার বিরুদ্ধে ‘অপপ্রচার ও হয়রানির’ অভিযোগ আনল ফিফা ক্যালিফোর্নিয়ার সরকারি ছুটির তালিকায় যুক্ত হলো দুই ঈদ মনপুরায় ১০০ ইয়াবাসহ দুই যুবক আটক রণবীরের জন্মদিনে আলিয়ার বিশেষ পোস্ট, নেটদুনিয়ায় মুগ্ধতা ঠাকুরগাঁও-১ উপনির্বাচন: ৬ প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা সংসার সাজানোর আগেই ডেঙ্গুতে প্রাণ হারালেন চিকিৎসক আঁচল রায় জয়পুরহাটে স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের দায়ে এক ব্যক্তির যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ধ্বংসস্তূপের মাঝেও টিকে আছে গাজার মানুষের জীবন ও স্বপ্ন উগান্ডায় নতুন রাজা হিসেবে অভিষিক্ত হচ্ছেন সাংবাদিক এডওয়ার্ড রুকিদি

১৯৭১ ইস্যুতে ক্ষমা চাওয়া নিয়ে জামায়াতের দ্বন্দ্ব ও ব্যারিস্টার রাজ্জাকের স্মৃতিকথা

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ০৮:৫৬:০৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১৩ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি



বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সাবেক অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি জেনারেল ব্যারিস্টার আবদুর রাজ্জাকের মরণোত্তর প্রকাশিত স্মৃতিকথা ‘বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী: ইটস হিস্ট্রি অ্যান্ড পলিটিকস’ দলটির অভ্যন্তরীণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া এবং নীতিগত দ্বন্দ্বের এক বিরল দলিল। ৩৩ বছর জামায়াতের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকা এই নেতার অকপট স্মৃতিকথা নিয়ে লিখেছেন সাংবাদিক ডেভিড বার্গম্যান। বইটিতে রাজ্জাক স্পষ্ট ভাষায় লিখেছেন, জামায়াত নেতৃত্ব বেশ কয়েকটি মারাত্মক ভুল সিদ্ধান্ত নিয়েছিল, যার ফলে দলটি অস্তিত্বের সংকটে পড়েছিল।

সম্ভবত ২০২৪ সালের জুলাইয়ের গণ-অভ্যুত্থানের আগে এই মূল্যায়ন করেছিলেন আবদুর রাজ্জাক। ওই অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর জামায়াতের রাজনৈতিক পুনরুত্থান ঘটে। ২০২৫ সালের মে মাসে ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে মারা যান রাজ্জাক। ফলে ২০২৬ সালের জাতীয় নির্বাচনে জামায়াতের অভূতপূর্ব সাফল্য তিনি দেখে যেতে পারেননি, যেখানে দলটি ৩২ শতাংশ ভোট পেয়ে সংসদে ৬৮টি আসন লাভ করে। এটি ছিল দলটির ইতিহাসের সবচেয়ে বড় নির্বাচনী সাফল্য। তবে রাজনৈতিকভাবে অস্তিত্বের সংকট কেটে গেলেও রাজ্জাকের চিহ্নিত করা ‘ভুলগুলো’ জামায়াতের জন্য এখনো বড় প্রশ্ন হয়ে রয়েছে।

আবদুর রাজ্জাক প্রধানত তিনটি ভুলের কথা উল্লেখ করেছেন। প্রথমটি হলো ১৯৬৬ সালে শেখ মুজিবুর রহমানের ছয় দফার স্বায়ত্তশাসনের দাবিতে সমর্থন না দেওয়া। এ বিষয়ে রাজ্জাক বলেন, জামায়াত নেতৃত্ব সে সময় পূর্ব পাকিস্তানের জনগণের মনোভাব বুঝতে ব্যর্থ হয়েছিল। তাঁর ভাষায়, ‘জামায়াত ছয় দফার বিরুদ্ধে দৃঢ় অবস্থান নেওয়ার পরপরই বাঙালির স্বার্থবিরোধী এবং পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর স্বার্থের পক্ষে থাকা একটি শক্তি হিসেবে চিহ্নিত হয়ে যায়।’ ১৯৭০ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের জয়ের পর যখন জুলফিকার আলী ভুট্টো সংসদ বর্জনের ঘোষণা দেন, তখন জামায়াত প্রথম দিকে জনগণের পক্ষে অবস্থান নিয়েছিল। তৎকালীন দলীয় নেতা গোলাম আযম নির্বাচিত প্রতিনিধিদের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তরের আহ্বান জানিয়ে নিবন্ধও লিখেছিলেন। কিন্তু ২৬ মার্চ সামরিক অভিযান শুরু হতেই জামায়াত অবস্থান বদলে সামরিক বাহিনীকে সমর্থন দেয়। রাজ্জাকের মতে, এটি দলটির নিজস্ব শুরার সিদ্ধান্তের পরিপন্থী ছিল, যেখানে সিদ্ধান্ত হয়েছিল কোনো পক্ষকেই সমর্থন না দেওয়ার।

দ্বিতীয় ভুল হিসেবে ১৯৭১ সালে পাকিস্তানি সামরিক বাহিনীকে সমর্থন দেওয়ার কঠোর সমালোচনা করেছেন আবদুর রাজ্জাক। পাকিস্তানি বাহিনী বাঙালির ওপর যে নৃশংসতা চালিয়েছিল, তা উল্লেখ করে রাজ্জাক লিখেছেন, সেনাবাহিনী থেকে নিজেদের আলাদা করতে না পারা ছিল ‘অনৈতিক ও ইসলামবিরোধী’। তিনি আরও যোগ করেন, ‘পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর সদস্যরা যে ধর্ষণ করেছে, তার কোনোভাবেই সাফাই দেওয়া সম্ভব নয়। শুধু এই একটি বিষয় বিবেচনা করলেও জামায়াতের উচিত ছিল সেনাবাহিনীর প্রতি সমর্থন প্রত্যাহার করে নেওয়া।’

তৃতীয় ভুলটি ছিল স্বাধীনতার পর নিজেদের অপরাধের মুখোমুখি না হওয়া এবং ক্ষমা না চাওয়া। বইটিতে রাজ্জাক বিস্তারিত লিখেছেন কীভাবে তিনি নেতৃত্বকে ক্ষমা চাওয়ার ব্যাপারে রাজি করানোর চেষ্টা করেছিলেন। প্রথম উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল ১৯৯৪ সালের জুনে, গোলাম আযমের নাগরিকত্ব সুপ্রিম কোর্ট কর্তৃক বহাল রাখার পর। কিন্তু গোলাম আযম কেবল বলেছিলেন, ‘অতীতে আমি যদি কোনো ভুল করে থাকি, তাহলে আমাকে ক্ষমা করবেন।’ রাজ্জাক এটিকে দায়িত্বজ্ঞানহীন ও দায়সারা প্রচেষ্টা বলে অভিহিত করেছেন।

দ্বিতীয় সুযোগ আসে ২০০১ সালের নির্বাচনে বিএনপি-জামায়াত জোটের বিজয়ের পর। রাজ্জাক একটি খসড়া বিবৃতি তৈরি করেছিলেন যেখানে ১৯৭১ সালে একক পাকিস্তানের পক্ষে অবস্থানের কারণ ব্যাখ্যা করে জাতির কাছে ক্ষমা চাওয়ার প্রস্তাব ছিল। এই প্রস্তাবটি আলী আহসান মোহাম্মাদ মুজাহিদ, মুহাম্মদ কামারুজ্জামান ও আবদুল কাদের মোল্লা সমর্থন করেছিলেন, যাঁদের পরবর্তীতে ট্রাইব্যুনালের রায়ে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। কিন্তু তৎকালীন দলপ্রধান মাওলানা নিজামী অবস্থান পরিবর্তন করায় তা আর আলোর মুখ দেখেনি। এরপর ২০০৫ সালের অক্টোবরে ওয়ার্কিং কমিটিতে বিষয়টি উঠলে ভোটে তা নাকচ হয়ে যায়। বিরোধিতাকারীদের যুক্তি ছিল—পাকিস্তানের অখণ্ডতা রক্ষা করা ভুল ছিল না, ভারতের আধিপত্যের আশঙ্কা যৌক্তিক ছিল এবং আওয়ামী লীগ কখনোই তাদের ক্ষমা প্রার্থনা মেনে নেবে না।

আবদুর রাজ্জাক মনে করতেন, জামায়াত যদি ১৯৭১ সালের অতীতের মুখোমুখি হতো এবং ক্ষমা চাইত, তবে আওয়ামী লীগ হয়তো ২০১০ সালে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল গঠন করত না এবং তৎকালীন শীর্ষ নেতাদের মৃত্যুদণ্ড এড়ানো যেত। ১৯৭১ সালের বিষয়টি মোকাবিলায় ব্যর্থতা এবং দলে নারীদের সম্পৃক্ত না করার মতো সংস্কারে অনীহার কারণে ২০১৯ সালে রাজ্জাক জামায়াত থেকে পদত্যাগ করেন। গ্রেপ্তার এড়াতে তিনি আগেই লন্ডনে চলে গিয়েছিলেন। পরে তিনি ‘আমার বাংলাদেশ পার্টি’ (এবি পার্টি) গঠনে ভূমিকা রাখেন, যাতে একটি গণতান্ত্রিক কল্যাণ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করা যায়। তবে ২০২৪ সালের আগস্টে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর তিনি এবি পার্টির প্রধান উপদেষ্টার পদ থেকেও পদত্যাগ করেন, কারণ তাঁর মতে দলটির কর্মসূচিতে ইসলামি মূল্যবোধ যথেষ্টভাবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি।

ইউপিএল প্রকাশিত আবদুর রাজ্জাকের লেখা ‘বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী: ইটস হিস্ট্রি অ্যান্ড পলিটিকস’ বইটির প্রকাশনা অনুষ্ঠান আগামী ১৮ সেপ্টেম্বর সকাল ১০টায় লেকশোর গ্র্যান্ডে অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে একাধিক বক্তা উপস্থিত থাকবেন। জামায়াত এখন সংসদে আনুষ্ঠানিক বিরোধী দল হিসেবে শক্তিশালী অবস্থানে থাকলেও, কোনো ঐতিহাসিক ভুলের দায় স্বীকার না করে অতীতের বোঝা থেকে মুক্ত হতে পারবে কি না, তা এখনো অনিশ্চিত রয়ে গেছে।

এর সঙ্গে নিঃসন্দেহে তাঁর নিজের ভূমিকারও সম্পর্ক রয়েছে।স্মৃতিকথায় তিনি লিখেছেন, ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর প্রতিষ্ঠিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে তিনি জামায়াতের আইনজীবী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এবং গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে অভিযুক্ত দলের কয়েকজন নেতার পক্ষে আইনজীবী ছিলেন।.# ‘পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর সদস্যরা যে ধর্ষণ করেছে, কোনোভাবেই তার সাফাই দেওয়া সম্ভব নয়।

অনুষ্ঠানে একাধিক বক্তা অংশ নেবেন।)ডেভিড বার্গম্যান সাংবাদিক ফেসবুক অ্যাকাউন্ট: david.bergman.77377ইংরেজি থেকে অনূদিত*মতামত লেখকের নিজস্ব

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Prothom Alo

নিউজটি শেয়ার করুন

১৯৭১ ইস্যুতে ক্ষমা চাওয়া নিয়ে জামায়াতের দ্বন্দ্ব ও ব্যারিস্টার রাজ্জাকের স্মৃতিকথা

আপডেট সময় : ০৮:৫৬:০৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সাবেক অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি জেনারেল ব্যারিস্টার আবদুর রাজ্জাকের মরণোত্তর প্রকাশিত স্মৃতিকথা ‘বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী: ইটস হিস্ট্রি অ্যান্ড পলিটিকস’ দলটির অভ্যন্তরীণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া এবং নীতিগত দ্বন্দ্বের এক বিরল দলিল। ৩৩ বছর জামায়াতের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকা এই নেতার অকপট স্মৃতিকথা নিয়ে লিখেছেন সাংবাদিক ডেভিড বার্গম্যান। বইটিতে রাজ্জাক স্পষ্ট ভাষায় লিখেছেন, জামায়াত নেতৃত্ব বেশ কয়েকটি মারাত্মক ভুল সিদ্ধান্ত নিয়েছিল, যার ফলে দলটি অস্তিত্বের সংকটে পড়েছিল।

সম্ভবত ২০২৪ সালের জুলাইয়ের গণ-অভ্যুত্থানের আগে এই মূল্যায়ন করেছিলেন আবদুর রাজ্জাক। ওই অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর জামায়াতের রাজনৈতিক পুনরুত্থান ঘটে। ২০২৫ সালের মে মাসে ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে মারা যান রাজ্জাক। ফলে ২০২৬ সালের জাতীয় নির্বাচনে জামায়াতের অভূতপূর্ব সাফল্য তিনি দেখে যেতে পারেননি, যেখানে দলটি ৩২ শতাংশ ভোট পেয়ে সংসদে ৬৮টি আসন লাভ করে। এটি ছিল দলটির ইতিহাসের সবচেয়ে বড় নির্বাচনী সাফল্য। তবে রাজনৈতিকভাবে অস্তিত্বের সংকট কেটে গেলেও রাজ্জাকের চিহ্নিত করা ‘ভুলগুলো’ জামায়াতের জন্য এখনো বড় প্রশ্ন হয়ে রয়েছে।

আবদুর রাজ্জাক প্রধানত তিনটি ভুলের কথা উল্লেখ করেছেন। প্রথমটি হলো ১৯৬৬ সালে শেখ মুজিবুর রহমানের ছয় দফার স্বায়ত্তশাসনের দাবিতে সমর্থন না দেওয়া। এ বিষয়ে রাজ্জাক বলেন, জামায়াত নেতৃত্ব সে সময় পূর্ব পাকিস্তানের জনগণের মনোভাব বুঝতে ব্যর্থ হয়েছিল। তাঁর ভাষায়, ‘জামায়াত ছয় দফার বিরুদ্ধে দৃঢ় অবস্থান নেওয়ার পরপরই বাঙালির স্বার্থবিরোধী এবং পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর স্বার্থের পক্ষে থাকা একটি শক্তি হিসেবে চিহ্নিত হয়ে যায়।’ ১৯৭০ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের জয়ের পর যখন জুলফিকার আলী ভুট্টো সংসদ বর্জনের ঘোষণা দেন, তখন জামায়াত প্রথম দিকে জনগণের পক্ষে অবস্থান নিয়েছিল। তৎকালীন দলীয় নেতা গোলাম আযম নির্বাচিত প্রতিনিধিদের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তরের আহ্বান জানিয়ে নিবন্ধও লিখেছিলেন। কিন্তু ২৬ মার্চ সামরিক অভিযান শুরু হতেই জামায়াত অবস্থান বদলে সামরিক বাহিনীকে সমর্থন দেয়। রাজ্জাকের মতে, এটি দলটির নিজস্ব শুরার সিদ্ধান্তের পরিপন্থী ছিল, যেখানে সিদ্ধান্ত হয়েছিল কোনো পক্ষকেই সমর্থন না দেওয়ার।

দ্বিতীয় ভুল হিসেবে ১৯৭১ সালে পাকিস্তানি সামরিক বাহিনীকে সমর্থন দেওয়ার কঠোর সমালোচনা করেছেন আবদুর রাজ্জাক। পাকিস্তানি বাহিনী বাঙালির ওপর যে নৃশংসতা চালিয়েছিল, তা উল্লেখ করে রাজ্জাক লিখেছেন, সেনাবাহিনী থেকে নিজেদের আলাদা করতে না পারা ছিল ‘অনৈতিক ও ইসলামবিরোধী’। তিনি আরও যোগ করেন, ‘পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর সদস্যরা যে ধর্ষণ করেছে, তার কোনোভাবেই সাফাই দেওয়া সম্ভব নয়। শুধু এই একটি বিষয় বিবেচনা করলেও জামায়াতের উচিত ছিল সেনাবাহিনীর প্রতি সমর্থন প্রত্যাহার করে নেওয়া।’

তৃতীয় ভুলটি ছিল স্বাধীনতার পর নিজেদের অপরাধের মুখোমুখি না হওয়া এবং ক্ষমা না চাওয়া। বইটিতে রাজ্জাক বিস্তারিত লিখেছেন কীভাবে তিনি নেতৃত্বকে ক্ষমা চাওয়ার ব্যাপারে রাজি করানোর চেষ্টা করেছিলেন। প্রথম উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল ১৯৯৪ সালের জুনে, গোলাম আযমের নাগরিকত্ব সুপ্রিম কোর্ট কর্তৃক বহাল রাখার পর। কিন্তু গোলাম আযম কেবল বলেছিলেন, ‘অতীতে আমি যদি কোনো ভুল করে থাকি, তাহলে আমাকে ক্ষমা করবেন।’ রাজ্জাক এটিকে দায়িত্বজ্ঞানহীন ও দায়সারা প্রচেষ্টা বলে অভিহিত করেছেন।

দ্বিতীয় সুযোগ আসে ২০০১ সালের নির্বাচনে বিএনপি-জামায়াত জোটের বিজয়ের পর। রাজ্জাক একটি খসড়া বিবৃতি তৈরি করেছিলেন যেখানে ১৯৭১ সালে একক পাকিস্তানের পক্ষে অবস্থানের কারণ ব্যাখ্যা করে জাতির কাছে ক্ষমা চাওয়ার প্রস্তাব ছিল। এই প্রস্তাবটি আলী আহসান মোহাম্মাদ মুজাহিদ, মুহাম্মদ কামারুজ্জামান ও আবদুল কাদের মোল্লা সমর্থন করেছিলেন, যাঁদের পরবর্তীতে ট্রাইব্যুনালের রায়ে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। কিন্তু তৎকালীন দলপ্রধান মাওলানা নিজামী অবস্থান পরিবর্তন করায় তা আর আলোর মুখ দেখেনি। এরপর ২০০৫ সালের অক্টোবরে ওয়ার্কিং কমিটিতে বিষয়টি উঠলে ভোটে তা নাকচ হয়ে যায়। বিরোধিতাকারীদের যুক্তি ছিল—পাকিস্তানের অখণ্ডতা রক্ষা করা ভুল ছিল না, ভারতের আধিপত্যের আশঙ্কা যৌক্তিক ছিল এবং আওয়ামী লীগ কখনোই তাদের ক্ষমা প্রার্থনা মেনে নেবে না।

আবদুর রাজ্জাক মনে করতেন, জামায়াত যদি ১৯৭১ সালের অতীতের মুখোমুখি হতো এবং ক্ষমা চাইত, তবে আওয়ামী লীগ হয়তো ২০১০ সালে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল গঠন করত না এবং তৎকালীন শীর্ষ নেতাদের মৃত্যুদণ্ড এড়ানো যেত। ১৯৭১ সালের বিষয়টি মোকাবিলায় ব্যর্থতা এবং দলে নারীদের সম্পৃক্ত না করার মতো সংস্কারে অনীহার কারণে ২০১৯ সালে রাজ্জাক জামায়াত থেকে পদত্যাগ করেন। গ্রেপ্তার এড়াতে তিনি আগেই লন্ডনে চলে গিয়েছিলেন। পরে তিনি ‘আমার বাংলাদেশ পার্টি’ (এবি পার্টি) গঠনে ভূমিকা রাখেন, যাতে একটি গণতান্ত্রিক কল্যাণ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করা যায়। তবে ২০২৪ সালের আগস্টে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর তিনি এবি পার্টির প্রধান উপদেষ্টার পদ থেকেও পদত্যাগ করেন, কারণ তাঁর মতে দলটির কর্মসূচিতে ইসলামি মূল্যবোধ যথেষ্টভাবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি।

ইউপিএল প্রকাশিত আবদুর রাজ্জাকের লেখা ‘বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী: ইটস হিস্ট্রি অ্যান্ড পলিটিকস’ বইটির প্রকাশনা অনুষ্ঠান আগামী ১৮ সেপ্টেম্বর সকাল ১০টায় লেকশোর গ্র্যান্ডে অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে একাধিক বক্তা উপস্থিত থাকবেন। জামায়াত এখন সংসদে আনুষ্ঠানিক বিরোধী দল হিসেবে শক্তিশালী অবস্থানে থাকলেও, কোনো ঐতিহাসিক ভুলের দায় স্বীকার না করে অতীতের বোঝা থেকে মুক্ত হতে পারবে কি না, তা এখনো অনিশ্চিত রয়ে গেছে।

এর সঙ্গে নিঃসন্দেহে তাঁর নিজের ভূমিকারও সম্পর্ক রয়েছে।স্মৃতিকথায় তিনি লিখেছেন, ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর প্রতিষ্ঠিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে তিনি জামায়াতের আইনজীবী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এবং গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে অভিযুক্ত দলের কয়েকজন নেতার পক্ষে আইনজীবী ছিলেন।.# ‘পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর সদস্যরা যে ধর্ষণ করেছে, কোনোভাবেই তার সাফাই দেওয়া সম্ভব নয়।

অনুষ্ঠানে একাধিক বক্তা অংশ নেবেন।)ডেভিড বার্গম্যান সাংবাদিক ফেসবুক অ্যাকাউন্ট: david.bergman.77377ইংরেজি থেকে অনূদিত*মতামত লেখকের নিজস্ব

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Prothom Alo