একাত্তর আর চব্বিশ: বিভাজনের রাজনীতি ও নতুন বাস্তবতা
- আপডেট সময় : ০৮:২৬:৩১ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৬ অগাস্ট ২০২৬ ৩ বার পড়া হয়েছে

মোস্তফা সরয়ার ফারুকী একটি যৌক্তিক প্রশ্ন তুলেছেন। তিনি বলেছেন, মুক্তিযুদ্ধোত্তর সরকারের সময় যে অরাজকতা হয়েছিল, তার জন্য যদি মুক্তিযুদ্ধের ব্যর্থতার প্রশ্ন না ওঠে, তবে জুলাই-পরবর্তী সরকারের ব্যর্থতার জন্য জুলাইকে কেন ব্যর্থ বলা হবে। ফারুকীকে অনেকে প্রশ্নবিদ্ধ করেন, বিশেষ করে অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা হওয়ার পর থেকে তার বিরুদ্ধে সমালোচনার মাত্রা বেড়েছে। তবে জুলাইকে প্রামাণ্য করার ক্ষেত্রে তার কাজকে অস্বীকার করার উপায় নেই। সংস্কৃতি উপদেষ্টা হিসেবে তার সফলতার পাল্লাই ভারী। তবে জুলাই জাদুঘর থেকে বর্ডার কিলিংয়ের অনুষঙ্গ এবং ফেলানীর ভাস্কর্য সরিয়ে ফেলার বিষয়টি বর্তমানে আলোচনার জন্ম দিয়েছে এবং এর কারণ নিয়ে প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক।
বর্তমান সরকারের পররাষ্ট্রনীতি আধিপত্যবাদবিরোধী বলেই দৃশ্যমান। প্রধানমন্ত্রী ত্রিবেদীর সঙ্গে বৈঠকে তারেক রহমান শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ এবং শহীদ হাদির খুনিদের হস্তান্তরের দাবি সরাসরি তুলেছেন। পররাষ্ট্রমন্ত্রীও প্রেস ব্রিফিংয়ে স্পষ্ট করেছেন যে ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের বিষয়টি চব্বিশের ৫ আগস্ট থেকেই নির্ধারিত। ভারত থেকে নিম্নমানের চাল বাংলাদেশে ফিরিয়ে দেওয়ার ঘটনাটি ভারতের অভ্যন্তরীণ দুর্নীতিবাজ সিন্ডিকেটের ব্যর্থতারই বহিঃপ্রকাশ। গত ২০ বছর ধরে সেই সিন্ডিকেট বাংলাদেশের সঙ্গে পচা চাল, আলু, পেঁয়াজ ও মসলা নিয়ে ব্যবসা করেছে এবং তারা এখনো সক্রিয়।
ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক যে বিগত রেজিমের স্বামী-স্ত্রীর পর্যায়ে নেই, তা এখন বলার অপেক্ষা রাখে না। তবে এখনই কোনো চূড়ান্ত উপসংহারে পৌঁছানোর সময় আসেনি। দুদেশের সম্পর্ক আপাতত তিক্ত এবং এখন দরকষাকষির মৌসুম চলছে। এই মৌসুম শেষ হলেই প্রকৃত চিত্র পরিষ্কার হবে। ভারতের প্রভাবশালী কূটনীতিক রিভা গাঙ্গুলি ডয়চে ভেলেকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে স্পষ্ট করেছেন যে ভারত বেগম খালেদা জিয়াকে শত্রু এবং শেখ হাসিনাকে বন্ধু মনে করত। ভারত চিরকালই গোলামি করতে রাজি এমন নেতৃত্ব চেয়েছে। বর্তমান প্রেক্ষাপটে ভারত সম্ভবত শেখ হাসিনার বিকল্প খুঁজছে, আর যতক্ষণ তা না মিলছে, সম্পর্ক স্বাভাবিক হওয়ার সম্ভাবনা কম।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একাত্তর ও চব্বিশকে দাঁড়িপাল্লায় মেপে চব্বিশকে কালচে রঙে ব্যঙ্গ করার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। যারা একাত্তর ও চব্বিশকে মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে জাতিকে বিভক্ত করতে চাচ্ছে, তারা মূলত জুলাইয়ের বিরুদ্ধশক্তি এবং গণতন্ত্রের মুখোশে থাকা ফ্যাসিস্ট। তবে জেনারেশন জেড এবং আলফা জেনারেশন চব্বিশের পক্ষে থাকায় এই বিভাজনের রাজনীতি সফল হবে না। ভুল চিন্তা আর ক্ষমতার লোভই আমাদের বারবার বিভক্ত করছে, অথচ আমাদের মনে রাখা উচিত একাত্তর আমাদের ভিত এবং চব্বিশ আমাদের নিজস্ব অস্তিত্ব।




























