ঢাকা ১০:৫২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৫ অগাস্ট ২০২৬, ৩১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
বায়ুদূষণের শীর্ষে জার্কাতা, তালিকায় ২২তম অবস্থানে ঢাকা নতুন অবকাঠামোর চেয়ে বিদ্যমান ক্রীড়া স্থাপনা পূর্ণাঙ্গ করার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর ভারত-ইতালি সম্পর্ক ‘গভীর ও শক্তিশালী’, জানাল পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় হরমুজ প্রণালি দখল করা যায় না, ট্রাম্পকে ইরানের কড়া হুঁশিয়ারি ২২৮ রানের লিড নিয়ে ডারউইন টেস্টে থামল বাংলাদেশ দেশের সাত অঞ্চলে ৬০ কিমি বেগে ঝোড়ো হাওয়ার সতর্কতা তরুণ প্রজন্মের কাছে খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক উত্তরাধিকার ও প্রেরণা বাংলাদেশ সফর নিয়ে ভারত সরকারের অনুমতির অপেক্ষায় বিসিসিআই দেশের ৭ অঞ্চলে ঝড়ের শঙ্কা, নদীবন্দরে সতর্কতা সংকেত বেগম খালেদা জিয়ার ৮২তম জন্মদিন: স্মরণ ও শ্রদ্ধায় বিশেষ কর্মসূচি

তরুণ প্রজন্মের কাছে খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক উত্তরাধিকার ও প্রেরণা

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৯:৪২:২৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৫ অগাস্ট ২০২৬ ৩ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

কিছু রাজনৈতিক নেতা ক্ষমতায় থাকেন, আবার কেউ কেউ মানুষের মনে স্থায়ী আসন করে নেন। বেগম খালেদা জিয়া সেই বিরল নেতাদের একজন, যিনি কেবল তিনবারের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন বলেই নয়, বরং একটি প্রজন্মের রাজনৈতিক কল্পনার অংশ হয়ে উঠেছেন। তার রাজনৈতিক জীবনের একটি বড় শক্তি ছিল তরুণদের সঙ্গে গভীর সংযোগ এবং নারীসমাজের কাছে তার বিশেষ গ্রহণযোগ্যতা। তরুণদের কাছে তিনি ছিলেন লড়াই করতে জানা এক অদম্য নেতার প্রতিচ্ছবি।

বাংলাদেশের রাজনীতিতে তার উত্থান ছিল অস্বাভাবিক। রাজনীতির পেশাদার পরিবার থেকে না এলেও, স্বামী রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের মৃত্যুর পর তিনি দ্রুত নিজের পরিচয় গড়ে তোলেন। আশির দশকে এরশাদবিরোধী আন্দোলনে তার আপসহীন ভূমিকা তাকে ‘আপসহীন নেত্রী’ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, তার এই দৃঢ়তা কেবল বক্তব্যে নয়, বরং সিদ্ধান্ত ও আচরণেও দৃশ্যমান ছিল। তরুণরা সাধারণত এমন নেতৃত্ব চায় যা চাপের মুখেও মাথা নত করে না এবং পরাজয়ের পরও ফিরে আসার সাহস রাখে। খালেদা জিয়ার জীবনে এই বৈশিষ্ট্যগুলো ছিল স্পষ্ট।

ম্যাক্স ওয়েবারের নেতৃত্ব তত্ত্ব অনুযায়ী, তার মধ্যে ক্যারিশমাটিক নেতৃত্বের গুণাবলি ছিল। তার জনপ্রিয়তা কেবল দলের সাংগঠনিক বিস্তারের ফল ছিল না, বরং তার ব্যক্তিত্ব ও সাহসের প্রতি অনুসারীদের অসাধারণ আস্থার প্রতিফলন ছিল। দেশপ্রেম ও জাতীয়তাবাদী রাজনীতির ভাষাকে তিনি তরুণদের কাছে মর্যাদার প্রতীক হিসেবে তুলে ধরেছিলেন। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তার অনেক সিদ্ধান্ত নিয়ে বিতর্ক বা সমালোচনা থাকলেও, প্রতিকূল সময়ে নিজের অবস্থান ধরে রাখার মানসিকতা তরুণদের কাছে তাকে প্রাসঙ্গিক করে তুলেছে।

হাসিনা সরকারের শাসনামলে মামলা, কারাবাস ও নিপীড়নের মুখেও তিনি রাজনৈতিক মাঠে অটল ছিলেন। তার এই লড়াকু মানসিকতা জুলাই বিপ্লবের তরুণদের কাছেও নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। যদিও দুই সময়ের বাস্তবতা ভিন্ন, কিন্তু ক্ষমতার কেন্দ্রে থাকা কর্তৃত্বের বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর সাহসের জায়গাটি তরুণদের কাছে অনুপ্রেরণার উৎস। নারীদের কাছেও তিনি একজন দৃঢ়চেতা নারী হিসেবে আলাদা সম্মানের পাত্র, যিনি সব বাধা পেরিয়ে নিজের অবস্থান তৈরি করেছেন।

ভোটের রাজনীতির প্রতি তার আস্থা ছিল অটুট। ১৯৯১ থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত পাঁচটি জাতীয় নির্বাচনে ২৩টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে প্রতিটিতেই জয় লাভ করা তার ব্যক্তিগত ভোট-আকর্ষণের একটি শক্তিশালী প্রমাণ। তিনি কেবল দলীয় নেত্রী নন, বরং রাজপথের আন্দোলন ও ব্যালটের লড়াইয়ে সমান সক্রিয় একজন নেতা হিসেবে নিজেকে প্রমাণ করেছেন।

আজ খালেদা জিয়ার জন্মদিনে প্রশ্ন উঠছে তার উত্তরাধিকার নিয়ে। নতুন প্রজন্ম তার কাছ থেকে কেবল দলীয় স্লোগান নেবে নাকি অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর সাহস ও গণতন্ত্রের প্রতি আস্থা অর্জন করবে, সেটিই বড় চ্যালেঞ্জ। ফুল, ব্যানার বা মিছিলের বাইরে তাকে নতুন করে পাঠ করার সময় এসেছে। যতদিন তার লড়াইয়ের গল্প নতুন প্রজন্মকে প্রশ্ন করতে এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়াতে অনুপ্রাণিত করবে, ততদিন বাংলাদেশের রাজনীতিতে তার নাম কেবল অতীতের অধ্যায় হয়ে থাকবে না।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Amar Desh

নিউজটি শেয়ার করুন

তরুণ প্রজন্মের কাছে খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক উত্তরাধিকার ও প্রেরণা

আপডেট সময় : ০৯:৪২:২৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৫ অগাস্ট ২০২৬

কিছু রাজনৈতিক নেতা ক্ষমতায় থাকেন, আবার কেউ কেউ মানুষের মনে স্থায়ী আসন করে নেন। বেগম খালেদা জিয়া সেই বিরল নেতাদের একজন, যিনি কেবল তিনবারের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন বলেই নয়, বরং একটি প্রজন্মের রাজনৈতিক কল্পনার অংশ হয়ে উঠেছেন। তার রাজনৈতিক জীবনের একটি বড় শক্তি ছিল তরুণদের সঙ্গে গভীর সংযোগ এবং নারীসমাজের কাছে তার বিশেষ গ্রহণযোগ্যতা। তরুণদের কাছে তিনি ছিলেন লড়াই করতে জানা এক অদম্য নেতার প্রতিচ্ছবি।

বাংলাদেশের রাজনীতিতে তার উত্থান ছিল অস্বাভাবিক। রাজনীতির পেশাদার পরিবার থেকে না এলেও, স্বামী রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের মৃত্যুর পর তিনি দ্রুত নিজের পরিচয় গড়ে তোলেন। আশির দশকে এরশাদবিরোধী আন্দোলনে তার আপসহীন ভূমিকা তাকে ‘আপসহীন নেত্রী’ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, তার এই দৃঢ়তা কেবল বক্তব্যে নয়, বরং সিদ্ধান্ত ও আচরণেও দৃশ্যমান ছিল। তরুণরা সাধারণত এমন নেতৃত্ব চায় যা চাপের মুখেও মাথা নত করে না এবং পরাজয়ের পরও ফিরে আসার সাহস রাখে। খালেদা জিয়ার জীবনে এই বৈশিষ্ট্যগুলো ছিল স্পষ্ট।

ম্যাক্স ওয়েবারের নেতৃত্ব তত্ত্ব অনুযায়ী, তার মধ্যে ক্যারিশমাটিক নেতৃত্বের গুণাবলি ছিল। তার জনপ্রিয়তা কেবল দলের সাংগঠনিক বিস্তারের ফল ছিল না, বরং তার ব্যক্তিত্ব ও সাহসের প্রতি অনুসারীদের অসাধারণ আস্থার প্রতিফলন ছিল। দেশপ্রেম ও জাতীয়তাবাদী রাজনীতির ভাষাকে তিনি তরুণদের কাছে মর্যাদার প্রতীক হিসেবে তুলে ধরেছিলেন। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তার অনেক সিদ্ধান্ত নিয়ে বিতর্ক বা সমালোচনা থাকলেও, প্রতিকূল সময়ে নিজের অবস্থান ধরে রাখার মানসিকতা তরুণদের কাছে তাকে প্রাসঙ্গিক করে তুলেছে।

হাসিনা সরকারের শাসনামলে মামলা, কারাবাস ও নিপীড়নের মুখেও তিনি রাজনৈতিক মাঠে অটল ছিলেন। তার এই লড়াকু মানসিকতা জুলাই বিপ্লবের তরুণদের কাছেও নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। যদিও দুই সময়ের বাস্তবতা ভিন্ন, কিন্তু ক্ষমতার কেন্দ্রে থাকা কর্তৃত্বের বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর সাহসের জায়গাটি তরুণদের কাছে অনুপ্রেরণার উৎস। নারীদের কাছেও তিনি একজন দৃঢ়চেতা নারী হিসেবে আলাদা সম্মানের পাত্র, যিনি সব বাধা পেরিয়ে নিজের অবস্থান তৈরি করেছেন।

ভোটের রাজনীতির প্রতি তার আস্থা ছিল অটুট। ১৯৯১ থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত পাঁচটি জাতীয় নির্বাচনে ২৩টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে প্রতিটিতেই জয় লাভ করা তার ব্যক্তিগত ভোট-আকর্ষণের একটি শক্তিশালী প্রমাণ। তিনি কেবল দলীয় নেত্রী নন, বরং রাজপথের আন্দোলন ও ব্যালটের লড়াইয়ে সমান সক্রিয় একজন নেতা হিসেবে নিজেকে প্রমাণ করেছেন।

আজ খালেদা জিয়ার জন্মদিনে প্রশ্ন উঠছে তার উত্তরাধিকার নিয়ে। নতুন প্রজন্ম তার কাছ থেকে কেবল দলীয় স্লোগান নেবে নাকি অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর সাহস ও গণতন্ত্রের প্রতি আস্থা অর্জন করবে, সেটিই বড় চ্যালেঞ্জ। ফুল, ব্যানার বা মিছিলের বাইরে তাকে নতুন করে পাঠ করার সময় এসেছে। যতদিন তার লড়াইয়ের গল্প নতুন প্রজন্মকে প্রশ্ন করতে এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়াতে অনুপ্রাণিত করবে, ততদিন বাংলাদেশের রাজনীতিতে তার নাম কেবল অতীতের অধ্যায় হয়ে থাকবে না।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Amar Desh