জেন-জি থেকে প্রবীণদের শেখার আছে অনেক কিছু
- আপডেট সময় : ০৪:৫৪:৩৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৪ অগাস্ট ২০২৬ ২২ বার পড়া হয়েছে

বর্তমান সময়ে জেন-জি বা তরুণ প্রজন্ম ভারতসহ বিভিন্ন প্রজন্মের মানুষকে তাদের কথা শুনতে বাধ্য করেছে। তাদের আন্দোলনের শুরু হয়েছিল এমন একটি দাবি দিয়ে, যার জন্য পরিণত গণতন্ত্রে জাতীয় আন্দোলনের প্রয়োজন হওয়ার কথা ছিল না। তরুণরা প্রতিবাদের রাজনৈতিক ভাষাই বদলে দিয়েছেন। অপমানের বিরুদ্ধে মর্যাদা পুনরুদ্ধারের দাবিটি তারা টিকে থাকা, সম্মিলিত শক্তি ও সংহতির পরিচয়ে রূপান্তর করেছেন। তাঁদের ছোট করার জন্য ব্যবহৃত নামটিকে তারা দৃঢ়তা ও সংহতির প্রতীকে পরিণত করেছেন। ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতাকে সম্মিলিত পরিচয়ের সঙ্গে যুক্ত করে তারা অপমানকে আশায় রূপান্তর করেছেন। বিচ্ছিন্ন হতাশার সময়ে তারা সংহতিকে হাতিয়ার করেছেন এবং হাস্যরসকে ব্যবহার করেছেন ভয়কে ভোঁতা করতে। এই হাস্যরস ক্ষমতাবানদের নীরবতা ভাঙতে এবং তাদের অহংকার প্রকাশ করতে সাহায্য করেছে।
প্রচলিত গণমাধ্যম যখন যথাযথভাবে ঘটনাগুলো তুলে ধরতে ব্যর্থ হয়েছে, তখন আন্দোলনকারীরা নিজেরাই নিজেদের কথা প্রচার করেছেন। মুঠোফোন হয়ে উঠেছে ক্যামেরা, সংবাদকক্ষের প্রয়োজনীয়তা ফুরিয়েছে। তারা পাল্টা নজরদারি ও জবাবদিহি দাবি করেছেন। অনেকে তাদের পদ্ধতিকে অশালীন বললেও, তারা আসলে হাস্যরসের রাজনৈতিক শক্তিকে বুঝতে পারেননি। তরুণদের এই আন্দোলন একটি মৌলিক গণতান্ত্রিক নীতিকে সামনে এনেছে: নির্বাচনী ম্যান্ডেট কোনো সরকারকে মধ্যবর্তী সময়ে জবাবদিহি থেকে মুক্ত করে না। গণতন্ত্র কেবল সংসদ বা নির্বাচনে সীমাবদ্ধ নয়; তা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, নাগরিক সংগঠন ও শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের মধ্যেও বেঁচে থাকে।
একজন মন্ত্রীর পদত্যাগ বা সরকারের প্রতিশ্রুতিগুলো গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য হলেও, এই আন্দোলনের মূল তাৎপর্য হলো—সংগঠিত নাগরিকেরা এখনো শক্তিশালী সরকারকে জবাবদিহির আওতায় আনতে পারেন, এই বিশ্বাস ফিরিয়ে দেওয়া। এই আত্মবিশ্বাস অংশগ্রহণকারী, স্বেচ্ছাসেবক, আইনি সহায়তাকারী ও দূর থেকে সমর্থনকারীদের। এখন দায়িত্ব হলো ভয়ভীতি বা গ্রেপ্তারের মুখে তাদের পাশে থাকা। তরুণদের এই নতুন যোগাযোগপদ্ধতি ও সাংস্কৃতিক ভাষার প্রতি সম্মান জানানো প্রয়োজন। প্রবীণ প্রজন্মের কাছে থাকা দীর্ঘ সংগ্রামের স্মৃতির সঙ্গে তরুণদের উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া সীমাবদ্ধতা না মানার মানসিকতা যুক্ত হলে গণতন্ত্র আরও শক্তিশালী হবে।
আন্তপ্রজন্ম সংহতির অর্থ তরুণদের অপেক্ষা করিয়ে রেখে প্রবীণদের রাজনীতির দিক নির্ধারণ করা নয়, বরং ক্ষমতার কাঠামোয় থাকা মানুষদের তরুণদের কথা শুনতে হবে। আন্দোলনটি ভবিষ্যতে কী রূপ নেবে তা নিয়ে তাদের মধ্যে গণতান্ত্রিক আলোচনা প্রয়োজন। ১৯৬৮ সালের মে মাসে প্যারিসের শিক্ষার্থীদের সেই আহ্বান আজও প্রাসঙ্গিক: 'বাস্তববাদী হও, অসম্ভব দাবি করো।'





























