ঢাকা ০৯:১৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৬ অগাস্ট ২০২৬, ১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
আজকের খেলার সময়সূচি: ক্রিকেট ও ফুটবলের ম্যাচ তালিকা ঢাকার ১১০ কিমি নৌপথে বৈদ্যুতিক ওয়াটার বাস চালুর উদ্যোগ রাঙামাটিতে পিকআপ উল্টে নিহত ৩, আহত আরও ৩ উচ্চ মূল্যস্ফীতির জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে দায়ী করলেন ইরানের প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনিদের পানির উৎস দখল করছে ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীরা বেগম খালেদা জিয়া: সংগ্রাম ও মানুষের ভালোবাসায় এক জীবন মধ্যপ্রাচ্যে ৯ মাস আটকে চরম মানসিক ঝুঁকিতে ৫ হাজার মার্কিন সেনা একাত্তর আর চব্বিশ: বিভাজনের রাজনীতি ও নতুন বাস্তবতা ডারউইন টেস্টে মিরাজের ঘূর্ণিতে কোনঠাসা অস্ট্রেলিয়া, জয়ের পথে বাংলাদেশ মোদির ‘আলিঙ্গন কূটনীতি’ নিয়ে বিতর্ক, রাহুলকে পাল্টা নিশানা বিজেপির

মোদির ‘আলিঙ্গন কূটনীতি’ নিয়ে বিতর্ক, রাহুলকে পাল্টা নিশানা বিজেপির

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৮:২০:৪৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৬ অগাস্ট ২০২৬ ৩ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির পররাষ্ট্রনীতি ও বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রপ্রধানদের জড়িয়ে ধরার প্রবণতা নিয়ে কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীর মন্তব্যকে কেন্দ্র করে দেশটির রাজনৈতিক অঙ্গনে বিতর্ক তীব্র রূপ নিয়েছে। মোদির এই আচরণকে কটাক্ষ করে রাহুল মন্তব্য করেছিলেন যে, কেবল আলিঙ্গন করা কোনো দেশের পররাষ্ট্রনীতি হতে পারে না। এর জবাবে ক্ষমতাসীন দল বিজেপি সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর বিভিন্ন বিশ্বনেতার সঙ্গে আলিঙ্গন করার ছবি প্রকাশ করে পাল্টা আক্রমণ শানিয়েছে। একই সঙ্গে এই বিতর্কে ইতালির সঙ্গে ভারতের সম্পর্কের প্রসঙ্গটিও সামনে চলে এসেছে।

বিজেপি সাংসদ নিশিকান্ত দুবে শুক্রবার (১৪ আগস্ট) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর বিভিন্ন রাষ্ট্রনায়কের সঙ্গে আলিঙ্গনের বেশ কিছু ছবি প্রকাশ করেন। এর পাশাপাশি লোকসভায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে রাহুল গান্ধীর জড়িয়ে ধরার ছবিও পোস্ট করেন তিনি। এই ছবিগুলো শেয়ার করে কংগ্রেস নেতাকে লক্ষ্য করে কড়া ভাষায় আক্রমণাত্মক মন্তব্য করেন নিশিকান্ত দুবে।

এর আগে বৃহস্পতিবার নরেন্দ্র মোদির পররাষ্ট্রনীতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন রাহুল গান্ধী। কংগ্রেস নেতা সন্দীপ দীক্ষিতকে জড়িয়ে ধরে রাহুল বলেন, কোনো রাষ্ট্রনায়কের সঙ্গে দেখা হলেই তাকে জড়িয়ে ধরা কোনো কার্যকর পররাষ্ট্রনীতি হতে পারে না। এ সময় সন্দীপ দীক্ষিত রসিকতা করে ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনির প্রসঙ্গ টেনে আনলে রাহুল জানান, তিনি এতটা ভেবে কাউকে আলিঙ্গন করেননি। রাহুলের এই মন্তব্যের পর বিজেপির পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয় যে, পররাষ্ট্রনীতি নিয়ে সমালোচনা করতে গিয়ে রাহুল শালীনতার সীমা অতিক্রম করেছেন। বিজেপি নেতাদের দাবি, রাষ্ট্রনায়কদের সঙ্গে ব্যক্তিগত সৌহার্দ্য এবং আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক সম্পর্ককে গুলিয়ে ফেলা ঠিক নয়।

অবশ্য নিজের বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিয়ে রাহুল গান্ধী পরে জানান, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক কখনো ব্যক্তিগত বন্ধুত্বের ওপর নির্ভর করে গড়ে ওঠে না, বরং দুটি দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে নিজেদের জাতীয় স্বার্থই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। এই প্রসঙ্গে তিনি সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর একটি ঘটনার স্মৃতিচারণ করেন। রাহুল জানান, প্রধানমন্ত্রী থাকাকালে ইন্দিরা গান্ধী যখন সোনিয়া গান্ধীকে নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র সফরে গিয়েছিলেন, তখন একটি বৈঠক শেষে সোনিয়াকে বলেছিলেন যে মার্কিনীরা হয়তো তাকে বোকা ভাবছে। কারণ হিসেবে ইন্দিরা উল্লেখ করেছিলেন, তিনি যে রঙের শাড়ি পরেছিলেন, মার্কিন প্রেসিডেন্টের স্ত্রীও ঠিক একই রঙের পোশাক পরেছিলেন। রাহুলের যুক্তি ছিল, এ ধরনের আনুষ্ঠানিক ও বাহ্যিক সৌহার্দ্য দিয়ে কোনো দেশের সঙ্গে প্রকৃত কূটনৈতিক সম্পর্ক তৈরি হয় না।

রাহুলের এই বক্তব্যের পরই বিজেপি ইন্দিরা গান্ধীর বিভিন্ন আলিঙ্গনের ছবি সামনে এনে প্রশ্ন তোলে। কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী প্রহ্লাদ জোশীও সামাজিক মাধ্যমে রাহুলকে কটাক্ষ করে জানতে চান, তিনি কবে রাজনৈতিকভাবে পরিণত হবেন। অন্যদিকে ইতালির প্রধানমন্ত্রীর নাম জড়ানোয় কংগ্রেসও কিছুটা অস্বস্তিতে পড়েছে। তবে দলটির পক্ষ থেকে স্পষ্ট করা হয়েছে যে, রাহুল গান্ধী নিজে জর্জিয়া মেলোনির নাম নেননি, বরং নামটি তুলেছিলেন সন্দীপ দীক্ষিত।

এই আলিঙ্গন বিতর্কের মধ্যেই রাহুল গান্ধীর জন্য আরেকটি নতুন রাজনৈতিক অস্বস্তি তৈরি হয়েছে। লোকসভায় সরকারি পরীক্ষায় কারচুপি প্রতিরোধ সংশোধিত বিল নিয়ে আলোচনার সময় কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ সম্পর্কে অসংসদীয় ও অপমানজনক শব্দ ব্যবহারের অভিযোগে তাকে নোটিশ দিয়েছে সংসদের স্বাধিকার কমিটি। বিজেপি নেতা সঞ্জয় জয়সওয়ালের অভিযোগের ভিত্তিতে এই নোটিশ দেওয়া হয়েছে, যেখানে আগামী ২৮ আগস্টের মধ্যে রাহুলের বক্তব্য জানতে চাওয়া হয়েছে। সব মিলিয়ে একদিকে মোদির বিদেশনীতি নিয়ে মন্তব্যের জেরে বিজেপির পাল্টা আক্রমণ এবং অন্যদিকে সংসদে মন্তব্যের জন্য স্বাধিকার কমিটির নোটিশ—দুই দিক থেকেই চাপের মুখে পড়েছেন এই কংগ্রেস নেতা।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Jugantor

নিউজটি শেয়ার করুন

মোদির ‘আলিঙ্গন কূটনীতি’ নিয়ে বিতর্ক, রাহুলকে পাল্টা নিশানা বিজেপির

আপডেট সময় : ০৮:২০:৪৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৬ অগাস্ট ২০২৬

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির পররাষ্ট্রনীতি ও বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রপ্রধানদের জড়িয়ে ধরার প্রবণতা নিয়ে কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীর মন্তব্যকে কেন্দ্র করে দেশটির রাজনৈতিক অঙ্গনে বিতর্ক তীব্র রূপ নিয়েছে। মোদির এই আচরণকে কটাক্ষ করে রাহুল মন্তব্য করেছিলেন যে, কেবল আলিঙ্গন করা কোনো দেশের পররাষ্ট্রনীতি হতে পারে না। এর জবাবে ক্ষমতাসীন দল বিজেপি সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর বিভিন্ন বিশ্বনেতার সঙ্গে আলিঙ্গন করার ছবি প্রকাশ করে পাল্টা আক্রমণ শানিয়েছে। একই সঙ্গে এই বিতর্কে ইতালির সঙ্গে ভারতের সম্পর্কের প্রসঙ্গটিও সামনে চলে এসেছে।

বিজেপি সাংসদ নিশিকান্ত দুবে শুক্রবার (১৪ আগস্ট) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর বিভিন্ন রাষ্ট্রনায়কের সঙ্গে আলিঙ্গনের বেশ কিছু ছবি প্রকাশ করেন। এর পাশাপাশি লোকসভায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে রাহুল গান্ধীর জড়িয়ে ধরার ছবিও পোস্ট করেন তিনি। এই ছবিগুলো শেয়ার করে কংগ্রেস নেতাকে লক্ষ্য করে কড়া ভাষায় আক্রমণাত্মক মন্তব্য করেন নিশিকান্ত দুবে।

এর আগে বৃহস্পতিবার নরেন্দ্র মোদির পররাষ্ট্রনীতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন রাহুল গান্ধী। কংগ্রেস নেতা সন্দীপ দীক্ষিতকে জড়িয়ে ধরে রাহুল বলেন, কোনো রাষ্ট্রনায়কের সঙ্গে দেখা হলেই তাকে জড়িয়ে ধরা কোনো কার্যকর পররাষ্ট্রনীতি হতে পারে না। এ সময় সন্দীপ দীক্ষিত রসিকতা করে ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনির প্রসঙ্গ টেনে আনলে রাহুল জানান, তিনি এতটা ভেবে কাউকে আলিঙ্গন করেননি। রাহুলের এই মন্তব্যের পর বিজেপির পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয় যে, পররাষ্ট্রনীতি নিয়ে সমালোচনা করতে গিয়ে রাহুল শালীনতার সীমা অতিক্রম করেছেন। বিজেপি নেতাদের দাবি, রাষ্ট্রনায়কদের সঙ্গে ব্যক্তিগত সৌহার্দ্য এবং আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক সম্পর্ককে গুলিয়ে ফেলা ঠিক নয়।

অবশ্য নিজের বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিয়ে রাহুল গান্ধী পরে জানান, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক কখনো ব্যক্তিগত বন্ধুত্বের ওপর নির্ভর করে গড়ে ওঠে না, বরং দুটি দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে নিজেদের জাতীয় স্বার্থই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। এই প্রসঙ্গে তিনি সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর একটি ঘটনার স্মৃতিচারণ করেন। রাহুল জানান, প্রধানমন্ত্রী থাকাকালে ইন্দিরা গান্ধী যখন সোনিয়া গান্ধীকে নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র সফরে গিয়েছিলেন, তখন একটি বৈঠক শেষে সোনিয়াকে বলেছিলেন যে মার্কিনীরা হয়তো তাকে বোকা ভাবছে। কারণ হিসেবে ইন্দিরা উল্লেখ করেছিলেন, তিনি যে রঙের শাড়ি পরেছিলেন, মার্কিন প্রেসিডেন্টের স্ত্রীও ঠিক একই রঙের পোশাক পরেছিলেন। রাহুলের যুক্তি ছিল, এ ধরনের আনুষ্ঠানিক ও বাহ্যিক সৌহার্দ্য দিয়ে কোনো দেশের সঙ্গে প্রকৃত কূটনৈতিক সম্পর্ক তৈরি হয় না।

রাহুলের এই বক্তব্যের পরই বিজেপি ইন্দিরা গান্ধীর বিভিন্ন আলিঙ্গনের ছবি সামনে এনে প্রশ্ন তোলে। কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী প্রহ্লাদ জোশীও সামাজিক মাধ্যমে রাহুলকে কটাক্ষ করে জানতে চান, তিনি কবে রাজনৈতিকভাবে পরিণত হবেন। অন্যদিকে ইতালির প্রধানমন্ত্রীর নাম জড়ানোয় কংগ্রেসও কিছুটা অস্বস্তিতে পড়েছে। তবে দলটির পক্ষ থেকে স্পষ্ট করা হয়েছে যে, রাহুল গান্ধী নিজে জর্জিয়া মেলোনির নাম নেননি, বরং নামটি তুলেছিলেন সন্দীপ দীক্ষিত।

এই আলিঙ্গন বিতর্কের মধ্যেই রাহুল গান্ধীর জন্য আরেকটি নতুন রাজনৈতিক অস্বস্তি তৈরি হয়েছে। লোকসভায় সরকারি পরীক্ষায় কারচুপি প্রতিরোধ সংশোধিত বিল নিয়ে আলোচনার সময় কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ সম্পর্কে অসংসদীয় ও অপমানজনক শব্দ ব্যবহারের অভিযোগে তাকে নোটিশ দিয়েছে সংসদের স্বাধিকার কমিটি। বিজেপি নেতা সঞ্জয় জয়সওয়ালের অভিযোগের ভিত্তিতে এই নোটিশ দেওয়া হয়েছে, যেখানে আগামী ২৮ আগস্টের মধ্যে রাহুলের বক্তব্য জানতে চাওয়া হয়েছে। সব মিলিয়ে একদিকে মোদির বিদেশনীতি নিয়ে মন্তব্যের জেরে বিজেপির পাল্টা আক্রমণ এবং অন্যদিকে সংসদে মন্তব্যের জন্য স্বাধিকার কমিটির নোটিশ—দুই দিক থেকেই চাপের মুখে পড়েছেন এই কংগ্রেস নেতা।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Jugantor