ঢাকা ১০:১৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৬ অগাস্ট ২০২৬, ১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
বিশ্ব রোবটিক্স চ্যাম্পিয়নশিপ জয় করল সেন্ট যোসেফের তিন খুদে শিক্ষার্থী রাজনৈতিক তদবিরে এলএনজি আমদানিতে বিশৃঙ্খলা, সংকটের মুখে সরবরাহ মুখের চামড়া কুঁচকে যাওয়ার কারণ ও প্রতিকারের উপায় ভালোবাসা: প্রাপ্তির আনন্দ ও হারানোর বেদনার এক চিরন্তন দ্বন্দ্ব নতুন সপ্তাহের শুরুতে অর্থনীতির বিভিন্ন সূচকের সর্বশেষ পরিস্থিতি হরমুজ প্রণালিতে সামরিক পদক্ষেপ নিলে পরাজয় নিশ্চিত: ইরান ফ্রান্সের কর বিভাগে সাইবার হামলা, ৬ লাখের বেশি তথ্য চুরি সীতাকুণ্ডে খালেদা জিয়ার জন্মদিনে বিএনপির দোয়া মাহফিল ব্যস্ত শহরের যান্ত্রিকতায় শরতের আগমনী বার্তা ও প্রকৃতির রূপ বিচারিক স্বচ্ছতা ও সাংবাদিক: আদালতের এজলাসে প্রবেশাধিকার কেন অপরিহার্য

ঢাকার ১১০ কিমি নৌপথে বৈদ্যুতিক ওয়াটার বাস চালুর উদ্যোগ

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৯:০৪:৪৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৬ অগাস্ট ২০২৬ ২ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

রাজধানীর যানজট নিরসন এবং বিকল্প গণপরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তোলার লক্ষ্যে ঢাকার চারপাশের ১১০ কিলোমিটার নৌপথে বৈদ্যুতিক ওয়াটার বাস চালুর বড় উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। বুড়িগঙ্গা, তুরাগ, শীতলক্ষ্যা, বালু ও ধলেশ্বরী নদীকে ঘিরে থাকা এই সার্কুলার নৌপথে যাত্রী ও পর্যটন সেবা চালুর জন্য বর্তমানে একটি সমন্বিত পরিকল্পনা ও রোডম্যাপ তৈরির কাজ চলছে। গত ১ জুলাই প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে বিদ্যমান সার্কুলার নৌপথে এক মাসের মধ্যে বৈদ্যুতিক ওয়াটার বাস চালুর লক্ষ্যে সমন্বিত পদক্ষেপ নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়।

বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন করপোরেশনের (বিআইডব্লিউটিসি) চেয়ারম্যান এ টি এম আবদুল বারী দানী জানান, এই সেবা কীভাবে কার্যকর ও সুশৃঙ্খলভাবে পরিচালনা করা যায়, তা নিয়ে আলোচনা চলছে। বৈদ্যুতিক বা সৌরবিদ্যুৎচালিত নৌযান চালুর জন্য প্রয়োজনীয় বিদ্যুৎ সরবরাহ ও ইউটিলিটি সংক্রান্ত বিষয়গুলো বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন হওয়ায় সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে।

প্রস্তাবিত এই ১১০ কিলোমিটার নৌপথের মধ্যে ৬৩ কিলোমিটারের গভীরতা ১২ ফুট এবং বাকি ৪৭ কিলোমিটারের গভীরতা প্রায় ৮ ফুট। মোট ৪৫টি ওয়াটার বাস চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। এর আগে ২০১০ সালের ২৮ আগস্ট বাদামতলী-গাবতলী রুটে এবং ২০১৪ সালের ২২ নভেম্বর নারায়ণগঞ্জ-টঙ্গী রুটে ওয়াটার বাস সার্ভিস চালু করা হয়েছিল। তবে নানাবিধ সমস্যার কারণে ২০১৯ সালের সেপ্টেম্বরে প্রথম রুটটি এবং ২০২০ সালের মার্চে দ্বিতীয় রুটটির কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। বিআইডব্লিউটিসির তথ্য অনুযায়ী, ১২টি ওয়াটার বাস তৈরিতে ৯ কোটি ২০ লাখ টাকা ব্যয় হলেও আয় হয়েছিল মাত্র ২ কোটি ৫২ লাখ টাকা। বিপরীতে মোট ব্যয় হয়েছিল ৩৭ কোটি ৮৭ লাখ টাকা, ফলে লোকসানের পরিমাণ দাঁড়িয়েছিল ৩৫ কোটি ৩৫ লাখ টাকা।

এই ব্যর্থতার মূল কারণগুলোর মধ্যে ছিল সড়কপথে দ্রুত যাতায়াত, বুড়িগঙ্গার দূষণ, সদরঘাটের যানজট, দুর্বল ল্যান্ডিং সংযোগ এবং বালুবাহী নৌযানের কারণে কাঙ্ক্ষিত গতি না পাওয়া। বুয়েটের পরিবহন বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ড. মো. হাদিউজ্জামান বলেন, আগের উদ্যোগের সমস্যাগুলো সমাধান না করে নতুন করে ওয়াটার বাস চালু করলে কাঙ্ক্ষিত ফল মিলবে না। এজন্য নির্ভরযোগ্য ফিডার সার্ভিস, ব্যস্ত সময়ে পর্যাপ্ত নৌযান, ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ এবং পরিবেশ রক্ষার বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে। সেন্টার ফর ক্লাইমেট চেঞ্জ অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল রিসার্চের উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. আইনুন নিশাত পরামর্শ দেন, বড় প্রকল্পের চেয়ে নিয়মিত ড্রেজিং, নদীর বাঁক সোজা করা এবং রক্ষণাবেক্ষণের ওপর জোর দেওয়া উচিত। এছাড়া বিআইডব্লিউটিএর জরিপ অনুযায়ী, ঢাকার নদীগুলোতে তরল বর্জ্য ফেলার ৪২৪টি উৎস শনাক্ত হয়েছে, যা নতুন উদ্যোগের পথে বড় চ্যালেঞ্জ।

নৌপথ পুনরুজ্জীবনে সরকার বেসরকারি খাতকে সম্পৃক্ত করার উদ্যোগ নিয়েছে। গত ৯ ও ১৪ জুলাই নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠকে গাবতলী-সদরঘাট রুটে বাণিজ্যিক গণপরিবহন পরিচালনায় আগ্রহী উদ্যোক্তাদের সঙ্গে উচ্চগতির লঞ্চ, স্পিডবোট, ক্যাটামারান ও পর্যটন নৌযান চালুর বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। অবকাঠামোগত উন্নয়নে সার্কুলার নৌপথের ২০ কিলোমিটার এলাকায় ওয়াকওয়ের নির্মাণকাজ শেষ হয়েছে এবং আরও ৫২ কিলোমিটারের কাজ শেষের পথে। এছাড়া ২০০৯ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত হাজার হাজার অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করে প্রায় ৮৩৫ একর নদীতীরের জমি উদ্ধার করা হয়েছে।

এছাড়া বিআইডব্লিউটিএর জরিপ অনুযায়ী ঢাকার নদীগুলোতে তরল বর্জ্য ফেলার ৪২৪টি উৎস (যার ২৪৪টি বেসরকারি কারখানা) শনাক্ত হয়েছে, যা নতুন উদ্যোগের পথে বড় চ্যালেঞ্জ।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Bangladesh

নিউজটি শেয়ার করুন

ঢাকার ১১০ কিমি নৌপথে বৈদ্যুতিক ওয়াটার বাস চালুর উদ্যোগ

আপডেট সময় : ০৯:০৪:৪৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৬ অগাস্ট ২০২৬

রাজধানীর যানজট নিরসন এবং বিকল্প গণপরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তোলার লক্ষ্যে ঢাকার চারপাশের ১১০ কিলোমিটার নৌপথে বৈদ্যুতিক ওয়াটার বাস চালুর বড় উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। বুড়িগঙ্গা, তুরাগ, শীতলক্ষ্যা, বালু ও ধলেশ্বরী নদীকে ঘিরে থাকা এই সার্কুলার নৌপথে যাত্রী ও পর্যটন সেবা চালুর জন্য বর্তমানে একটি সমন্বিত পরিকল্পনা ও রোডম্যাপ তৈরির কাজ চলছে। গত ১ জুলাই প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে বিদ্যমান সার্কুলার নৌপথে এক মাসের মধ্যে বৈদ্যুতিক ওয়াটার বাস চালুর লক্ষ্যে সমন্বিত পদক্ষেপ নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়।

বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন করপোরেশনের (বিআইডব্লিউটিসি) চেয়ারম্যান এ টি এম আবদুল বারী দানী জানান, এই সেবা কীভাবে কার্যকর ও সুশৃঙ্খলভাবে পরিচালনা করা যায়, তা নিয়ে আলোচনা চলছে। বৈদ্যুতিক বা সৌরবিদ্যুৎচালিত নৌযান চালুর জন্য প্রয়োজনীয় বিদ্যুৎ সরবরাহ ও ইউটিলিটি সংক্রান্ত বিষয়গুলো বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন হওয়ায় সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে।

প্রস্তাবিত এই ১১০ কিলোমিটার নৌপথের মধ্যে ৬৩ কিলোমিটারের গভীরতা ১২ ফুট এবং বাকি ৪৭ কিলোমিটারের গভীরতা প্রায় ৮ ফুট। মোট ৪৫টি ওয়াটার বাস চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। এর আগে ২০১০ সালের ২৮ আগস্ট বাদামতলী-গাবতলী রুটে এবং ২০১৪ সালের ২২ নভেম্বর নারায়ণগঞ্জ-টঙ্গী রুটে ওয়াটার বাস সার্ভিস চালু করা হয়েছিল। তবে নানাবিধ সমস্যার কারণে ২০১৯ সালের সেপ্টেম্বরে প্রথম রুটটি এবং ২০২০ সালের মার্চে দ্বিতীয় রুটটির কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। বিআইডব্লিউটিসির তথ্য অনুযায়ী, ১২টি ওয়াটার বাস তৈরিতে ৯ কোটি ২০ লাখ টাকা ব্যয় হলেও আয় হয়েছিল মাত্র ২ কোটি ৫২ লাখ টাকা। বিপরীতে মোট ব্যয় হয়েছিল ৩৭ কোটি ৮৭ লাখ টাকা, ফলে লোকসানের পরিমাণ দাঁড়িয়েছিল ৩৫ কোটি ৩৫ লাখ টাকা।

এই ব্যর্থতার মূল কারণগুলোর মধ্যে ছিল সড়কপথে দ্রুত যাতায়াত, বুড়িগঙ্গার দূষণ, সদরঘাটের যানজট, দুর্বল ল্যান্ডিং সংযোগ এবং বালুবাহী নৌযানের কারণে কাঙ্ক্ষিত গতি না পাওয়া। বুয়েটের পরিবহন বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ড. মো. হাদিউজ্জামান বলেন, আগের উদ্যোগের সমস্যাগুলো সমাধান না করে নতুন করে ওয়াটার বাস চালু করলে কাঙ্ক্ষিত ফল মিলবে না। এজন্য নির্ভরযোগ্য ফিডার সার্ভিস, ব্যস্ত সময়ে পর্যাপ্ত নৌযান, ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ এবং পরিবেশ রক্ষার বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে। সেন্টার ফর ক্লাইমেট চেঞ্জ অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল রিসার্চের উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. আইনুন নিশাত পরামর্শ দেন, বড় প্রকল্পের চেয়ে নিয়মিত ড্রেজিং, নদীর বাঁক সোজা করা এবং রক্ষণাবেক্ষণের ওপর জোর দেওয়া উচিত। এছাড়া বিআইডব্লিউটিএর জরিপ অনুযায়ী, ঢাকার নদীগুলোতে তরল বর্জ্য ফেলার ৪২৪টি উৎস শনাক্ত হয়েছে, যা নতুন উদ্যোগের পথে বড় চ্যালেঞ্জ।

নৌপথ পুনরুজ্জীবনে সরকার বেসরকারি খাতকে সম্পৃক্ত করার উদ্যোগ নিয়েছে। গত ৯ ও ১৪ জুলাই নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠকে গাবতলী-সদরঘাট রুটে বাণিজ্যিক গণপরিবহন পরিচালনায় আগ্রহী উদ্যোক্তাদের সঙ্গে উচ্চগতির লঞ্চ, স্পিডবোট, ক্যাটামারান ও পর্যটন নৌযান চালুর বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। অবকাঠামোগত উন্নয়নে সার্কুলার নৌপথের ২০ কিলোমিটার এলাকায় ওয়াকওয়ের নির্মাণকাজ শেষ হয়েছে এবং আরও ৫২ কিলোমিটারের কাজ শেষের পথে। এছাড়া ২০০৯ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত হাজার হাজার অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করে প্রায় ৮৩৫ একর নদীতীরের জমি উদ্ধার করা হয়েছে।

এছাড়া বিআইডব্লিউটিএর জরিপ অনুযায়ী ঢাকার নদীগুলোতে তরল বর্জ্য ফেলার ৪২৪টি উৎস (যার ২৪৪টি বেসরকারি কারখানা) শনাক্ত হয়েছে, যা নতুন উদ্যোগের পথে বড় চ্যালেঞ্জ।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Bangladesh