ঢাকা ০৫:৫০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬, ২৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
আমার দেশে সংবাদের জের: মোংলায় স্কুল মাঠে মাটি কাটার সত্যতা মিশিগানে আবদুল এল-সাইয়েদের জয় কি মার্কিন রাজনীতিতে বড় বার্তা? পরিষ্কার দেখালেও অন্তর্বাস কি আবার পরা উচিত? জানুন সঠিক নিয়ম সৌদিতে অগ্নিকাণ্ডে নিহত নাটোরের ৩ প্রবাসীর পরিবারের পাশে বিএনপি টেকনাফ সীমান্তে ওপারে মিয়ানমারের রাখাইনে রাতভর গোলাগুলির শব্দ উখিয়ায় অপহৃত দুই মাদ্রাসা শিক্ষার্থীকে উদ্ধার করল পুলিশ গলাচিপার বিদ্যালয়ে ৬ শিক্ষক, ৫ পরীক্ষার্থী, পাস মাত্র একজন সাভারে চারতলা ভবনে সিটিটিসির অভিযান, জেএমবি সন্দেহে আটক ১ ১২ শিক্ষক থাকা সত্ত্বেও অকৃতকার্য মাদ্রাসার একমাত্র শিক্ষার্থী সফল অস্ত্রোপচার শেষে হাসপাতাল থেকে বাড়ি ফিরলেন মিঠুন চক্রবর্তী

মিশিগানে আবদুল এল-সাইয়েদের জয় কি মার্কিন রাজনীতিতে বড় বার্তা?

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৫:২৬:৫৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬ ১ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি
print news

মিশিগান অঙ্গরাজ্যের ডেমোক্র্যাটিক প্রাইমারিতে আবদুল এল-সাইয়েদের ঐতিহাসিক জয় মার্কিন রাজনীতিতে এক নতুন মাত্রা যোগ করেছে। মুসলিম অভিবাসী পরিবারের এই সন্তানের জয় শুধু তাঁর ব্যক্তিগত সাফল্য নয়, বরং এটি ডেমোক্র্যাটিক দলের মধ্যপন্থী ধারার আত্মতুষ্টিকে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে। এর আগে মধ্যপন্থীরা মনে করতেন প্রগতিশীলদের সাফল্য কেবল বড় শহরগুলোতেই সীমাবদ্ধ, যার উদাহরণ হিসেবে তারা জোহরান মামদানির মতো নেতাদের কথা বলতেন। কিন্তু প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ দোদুল্যমান অঙ্গরাজ্য মিশিগানে এল-সাইয়েদের এই জয় সেই ধারণাকে বদলে দিয়েছে।

এই নির্বাচনটি ডেমোক্র্যাটিক কংগ্রেস প্রাইমারির ইতিহাসে অন্যতম ব্যয়বহুল ছিল। এল-সাইয়েদের জয় ঠেকাতে প্রতিপক্ষ শিবিরে বিপুল অর্থ ঢালা হয়েছিল। তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী হেইলি স্টিভেন্স তাঁর চেয়ে প্রায় নয় গুণ বেশি অর্থ খরচ করেছিলেন। শেভরন ও ফিলিপ মরিসের মতো বড় করপোরেট প্রতিষ্ঠানগুলো স্টিভেন্সকে ৬ কোটি ডলারের বেশি অর্থ সহায়তা দেয়। এই তহবিলের প্রায় অর্ধেকই এসেছিল আমেরিকান ইসরায়েল পাবলিক অ্যাফেয়ার্স কমিটির (আইপ্যাক) সমর্থিত একটি সুপার প্যাক থেকে। এত বিপুল পরিমাণ করপোরেট ও বিশেষ স্বার্থগোষ্ঠীর অর্থবলকে পেছনে ফেলে এল-সাইয়েদের জয় প্রমাণ করে যে, ভোটাররা এখন নিজেদের গণতন্ত্রের ওপর করপোরেট নিয়ন্ত্রণ ভাঙতে শুরু করেছেন।

নির্বাচনে অন্যতম প্রধান একটি ইস্যু ছিল ইসরায়েল। তবে এল-সাইয়েদ এই আলোচনাকে ভিন্নভাবে উপস্থাপন করেন। তাঁর সমালোচকেরা যখন ইসরায়েলের অস্তিত্বের অধিকার নিয়ে প্রশ্ন তুলছিলেন, তখন এল-সাইয়েদ সাধারণ ভোটারদের সামনে প্রশ্ন রাখেন—কেন সেখানে মার্কিন নাগরিকদের করের অর্থ ব্যয় করা হবে। তাঁর এই স্পষ্ট অবস্থান সাধারণ ভোটারদের কাছে গ্রহণযোগ্যতা পায় এবং তাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে সক্ষম হয়।

তবে এই জয়ের পরও প্রগতিশীলদের সামনের পথ সহজ নয়। সাধারণ নির্বাচনে রিপাবলিকানদের বিরুদ্ধে প্রগতিশীল প্রার্থীরা একই ধরনের সাফল্য ধরে রাখতে পারবেন কি না, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। ডোনাল্ড ট্রাম্প ইতিমধ্যেই এই উদারপন্থীদের কড়া ভাষায় আক্রমণ করে বলেছেন যে, তারা দেশকে ধ্বংসের দিকে নিয়ে যাবে। অন্যদিকে, ডেমোক্র্যাটিক দলের মধ্যপন্থীরাও তাদের বিরুদ্ধে অবস্থান নিচ্ছেন। 'থার্ড ওয়ে' নামের একটি মধ্যপন্থী গোষ্ঠী প্রগতিশীলদের ঠেকাতে কোটি কোটি ডলার খরচের প্রস্তুতি নিচ্ছে। তাদের আশঙ্কা, প্রগতিশীল কেউ প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী হলে তিনি রিপাবলিকানদের কাছে হেরে যাবেন, যদিও অতীতে মধ্যপন্থী প্রার্থীরাও ট্রাম্পের কাছে পরাজিত হয়েছেন।

মার্কিন রাজনীতিতে প্রগতিশীলদের সহজেই চরমপন্থী হিসেবে চিহ্নিত করার প্রবণতা রয়েছে। এমনকি অনেকে ট্রাম্পকে কমলা হ্যারিস বা হিলারি ক্লিনটনের চেয়েও তুলনামূলক মাঝামাঝি অবস্থানের রাজনীতিক বলে মনে করেন। এই জটিল বাস্তবতার মধ্যেও এল-সাইয়েদ ও মামদানির মতো নেতারা নতুন এক ধারার রাজনীতি তুলে ধরছেন, যা অভিবাসী পটভূমি ও নতুন চিন্তাকে মার্কিন বাস্তবতার সঙ্গে যুক্ত করেছে। তারা নিজেদের অধিকার ও রাজনৈতিক অবস্থান স্পষ্ট করে দাবি করছেন। তবে ডেমোক্র্যাটিক দলের দুর্বল কাঠামো, ডানপন্থীদের তীব্র বিরোধিতা এবং করপোরেট প্রভাবের বিরুদ্ধে লড়াই করে এই প্রগতিশীল ভোটার ভিত্তি গড়ে তুলতে আরও সময়ের প্রয়োজন হবে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Prothom Alo

নিউজটি শেয়ার করুন

মিশিগানে আবদুল এল-সাইয়েদের জয় কি মার্কিন রাজনীতিতে বড় বার্তা?

আপডেট সময় : ০৫:২৬:৫৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬
print news

মিশিগান অঙ্গরাজ্যের ডেমোক্র্যাটিক প্রাইমারিতে আবদুল এল-সাইয়েদের ঐতিহাসিক জয় মার্কিন রাজনীতিতে এক নতুন মাত্রা যোগ করেছে। মুসলিম অভিবাসী পরিবারের এই সন্তানের জয় শুধু তাঁর ব্যক্তিগত সাফল্য নয়, বরং এটি ডেমোক্র্যাটিক দলের মধ্যপন্থী ধারার আত্মতুষ্টিকে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে। এর আগে মধ্যপন্থীরা মনে করতেন প্রগতিশীলদের সাফল্য কেবল বড় শহরগুলোতেই সীমাবদ্ধ, যার উদাহরণ হিসেবে তারা জোহরান মামদানির মতো নেতাদের কথা বলতেন। কিন্তু প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ দোদুল্যমান অঙ্গরাজ্য মিশিগানে এল-সাইয়েদের এই জয় সেই ধারণাকে বদলে দিয়েছে।

এই নির্বাচনটি ডেমোক্র্যাটিক কংগ্রেস প্রাইমারির ইতিহাসে অন্যতম ব্যয়বহুল ছিল। এল-সাইয়েদের জয় ঠেকাতে প্রতিপক্ষ শিবিরে বিপুল অর্থ ঢালা হয়েছিল। তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী হেইলি স্টিভেন্স তাঁর চেয়ে প্রায় নয় গুণ বেশি অর্থ খরচ করেছিলেন। শেভরন ও ফিলিপ মরিসের মতো বড় করপোরেট প্রতিষ্ঠানগুলো স্টিভেন্সকে ৬ কোটি ডলারের বেশি অর্থ সহায়তা দেয়। এই তহবিলের প্রায় অর্ধেকই এসেছিল আমেরিকান ইসরায়েল পাবলিক অ্যাফেয়ার্স কমিটির (আইপ্যাক) সমর্থিত একটি সুপার প্যাক থেকে। এত বিপুল পরিমাণ করপোরেট ও বিশেষ স্বার্থগোষ্ঠীর অর্থবলকে পেছনে ফেলে এল-সাইয়েদের জয় প্রমাণ করে যে, ভোটাররা এখন নিজেদের গণতন্ত্রের ওপর করপোরেট নিয়ন্ত্রণ ভাঙতে শুরু করেছেন।

নির্বাচনে অন্যতম প্রধান একটি ইস্যু ছিল ইসরায়েল। তবে এল-সাইয়েদ এই আলোচনাকে ভিন্নভাবে উপস্থাপন করেন। তাঁর সমালোচকেরা যখন ইসরায়েলের অস্তিত্বের অধিকার নিয়ে প্রশ্ন তুলছিলেন, তখন এল-সাইয়েদ সাধারণ ভোটারদের সামনে প্রশ্ন রাখেন—কেন সেখানে মার্কিন নাগরিকদের করের অর্থ ব্যয় করা হবে। তাঁর এই স্পষ্ট অবস্থান সাধারণ ভোটারদের কাছে গ্রহণযোগ্যতা পায় এবং তাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে সক্ষম হয়।

তবে এই জয়ের পরও প্রগতিশীলদের সামনের পথ সহজ নয়। সাধারণ নির্বাচনে রিপাবলিকানদের বিরুদ্ধে প্রগতিশীল প্রার্থীরা একই ধরনের সাফল্য ধরে রাখতে পারবেন কি না, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। ডোনাল্ড ট্রাম্প ইতিমধ্যেই এই উদারপন্থীদের কড়া ভাষায় আক্রমণ করে বলেছেন যে, তারা দেশকে ধ্বংসের দিকে নিয়ে যাবে। অন্যদিকে, ডেমোক্র্যাটিক দলের মধ্যপন্থীরাও তাদের বিরুদ্ধে অবস্থান নিচ্ছেন। 'থার্ড ওয়ে' নামের একটি মধ্যপন্থী গোষ্ঠী প্রগতিশীলদের ঠেকাতে কোটি কোটি ডলার খরচের প্রস্তুতি নিচ্ছে। তাদের আশঙ্কা, প্রগতিশীল কেউ প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী হলে তিনি রিপাবলিকানদের কাছে হেরে যাবেন, যদিও অতীতে মধ্যপন্থী প্রার্থীরাও ট্রাম্পের কাছে পরাজিত হয়েছেন।

মার্কিন রাজনীতিতে প্রগতিশীলদের সহজেই চরমপন্থী হিসেবে চিহ্নিত করার প্রবণতা রয়েছে। এমনকি অনেকে ট্রাম্পকে কমলা হ্যারিস বা হিলারি ক্লিনটনের চেয়েও তুলনামূলক মাঝামাঝি অবস্থানের রাজনীতিক বলে মনে করেন। এই জটিল বাস্তবতার মধ্যেও এল-সাইয়েদ ও মামদানির মতো নেতারা নতুন এক ধারার রাজনীতি তুলে ধরছেন, যা অভিবাসী পটভূমি ও নতুন চিন্তাকে মার্কিন বাস্তবতার সঙ্গে যুক্ত করেছে। তারা নিজেদের অধিকার ও রাজনৈতিক অবস্থান স্পষ্ট করে দাবি করছেন। তবে ডেমোক্র্যাটিক দলের দুর্বল কাঠামো, ডানপন্থীদের তীব্র বিরোধিতা এবং করপোরেট প্রভাবের বিরুদ্ধে লড়াই করে এই প্রগতিশীল ভোটার ভিত্তি গড়ে তুলতে আরও সময়ের প্রয়োজন হবে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Prothom Alo