শিশুদের অনলাইন ঝুঁকি ঠেকাতে বৈশ্বিক সহযোগিতার আহ্বান আইসিটি মন্ত্রীর
- আপডেট সময় : ০১:১৮:৩৩ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৯ অক্টোবর ২০২৬ ১ বার পড়া হয়েছে

ডিজিটাল মাধ্যমে শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিশ্বজুড়ে অংশীজনদের যৌথ উদ্যোগ, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা এবং সর্বোত্তম বৈশ্বিক অনুশীলন বিনিময়ের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন বাংলাদেশের ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম। রাশিয়ার মস্কোয় অনুষ্ঠিত “ডিজিটাল চাইল্ডহুড উইদাউট বর্ডারস: বেস্ট ইন্টারন্যাশনাল প্র্যাকটিসেস ফর চাইল্ড সেফটি অনলাইন” শীর্ষক এক প্রাতরাশ বৈঠকে (বিজনেস আইটি ব্রেকফাস্ট) বাংলাদেশের পক্ষে বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি এই আহ্বান জানান।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রতিনিধিত্ব করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পক্ষ থেকে মন্ত্রী এমন একটি সময়োপযোগী উদ্যোগ গ্রহণের জন্য গ্লোবাল ডিজিটাল ফোরাম এবং অ্যালায়েন্স ফর দ্য প্রোটেকশন অব চিলড্রেন ইন দ্য ডিজিটাল এনভায়রনমেন্টকে ধন্যবাদ জানান।
বৈঠকে মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম উল্লেখ করেন, বাংলাদেশ বর্তমানে অত্যন্ত দ্রুতগতিতে ডিজিটাল রূপান্তরের মধ্য দিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে। এর ফলে দেশের শিশুরা শিক্ষা ও নিজস্ব বিকাশের জন্য অনলাইন জগতের নানাবিধ সুযোগ ব্যবহার করতে পারছে। তবে একই সাথে তারা প্রতিনিয়ত নিত্যনতুন ও পরিবর্তনশীল নানা অনলাইন ঝুঁকির মুখোমুখি হচ্ছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, শিশুদের জন্য একটি নিরাপদ ডিজিটাল পরিবেশ গড়ে তোলা কেবল অভিভাবক কিংবা শিক্ষকদের একার দায়িত্ব নয়; বরং সরকার, প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান, অনলাইন প্ল্যাটফর্ম এবং সুশীল সমাজসহ সব অংশীজনের এটি একটি সম্মিলিত দায়িত্ব।
আইনি পদক্ষেপের বিষয়ে আলোকপাত করে মন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দূরদর্শী নেতৃত্বে বাংলাদেশ শিশুদের তথ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করতে এবং অনলাইন শোষণ প্রতিরোধে সাইবার সিকিউরিটি আইনসহ সংশ্লিষ্ট আইনি কাঠামো শক্তিশালী করার লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে। তবে তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেন, কেবল জাতীয় পর্যায়ের আইন দিয়ে এই বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ পুরোপুরি মোকাবিলা করা সম্ভব নয়। এ ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা, সর্বাধুনিক প্রযুক্তিগত সমাধান এবং কার্যকর অনুশীলন বিনিময় করা অত্যন্ত জরুরি।
মস্কোর এই অনুষ্ঠানে গ্লোবাল অ্যালায়েন্স টু প্রটেক্ট চিলড্রেন ইন দ্য ডিজিটাল এনভায়রনমেন্ট-এর খসড়া যৌথ ঘোষণা (ড্রাফট জয়েন্ট স্টেটমেন্ট) এবং টিওআর (টার্মস অব রেফারেন্স) পর্যালোচনার কথা উল্লেখ করে রাশিয়াকে ধন্যবাদ জানান মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম। তিনি জানান, প্রস্তাবিত এই দলিলটি জাতিসংঘের শিশু অধিকার সনদের (সিআরসি) আলোকে শিশুদের অধিকারকে কেন্দ্র করে একটি সমন্বিত ও কার্যকর কাঠামো উপস্থাপন করেছে।
এই উদ্যোগের মূল তিনটি নীতির প্রতি বাংলাদেশের পূর্ণ সমর্থন ব্যক্ত করেন মন্ত্রী। নীতিগুলো হলো—শিশুর সার্বিক স্বার্থকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া, অংশীজনদের যৌথ দায়বদ্ধতা নিশ্চিত করা এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতার মাধ্যমে অভিজ্ঞতা বিনিময় করা। এ ছাড়া, এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলসহ সব ভৌগোলিক অঞ্চলের ন্যায্য প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করে একটি বহুপক্ষীয় কাঠামো তৈরির ওপর জোর দেন তিনি, যাতে বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশগুলোর বাস্তব চিত্র ও সুনির্দিষ্ট চ্যালেঞ্জগুলো বৈশ্বিক কৌশলে যথাযথভাবে প্রতিফলিত হয়। একই সঙ্গে, শিশুদের অনলাইন নিরাপত্তা সূচক (ডিজিটাল চাইল্ডহুড সেফটি ইনডেক্স) তৈরি এবং গবেষণার জন্য একটি বিশেষ প্ল্যাটফর্ম গঠনের প্রস্তাবকে স্বাগত জানায় বাংলাদেশ।
প্রযুক্তির দ্রুত বিকাশ এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) এই যুগে ডিজিটাল সাক্ষরতা বৃদ্ধির ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন মন্ত্রী। তিনি বলেন, শিশু, অভিভাবক ও শিক্ষকদের প্রয়োজনীয় জ্ঞান ও সচেতনতা বৃদ্ধি করা সম্ভব হলে অনলাইন সহিংসতার বিরুদ্ধে একটি কার্যকর প্রতিরোধ গড়ে তোলা যাবে। অনলাইন বুলিং, তথ্য চুরি এবং যৌন হয়রানি থেকে শিশুদের সুরক্ষায় এই জোটের সঙ্গে নিবিড়ভাবে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন ফকির মাহবুব আনাম। তিনি পুনর্ব্যক্ত করেন যে, জাতীয়তা নির্বিশেষে বিশ্বের প্রতিটি শিশু যাতে নিরাপদে ও নির্ভয়ে ডিজিটাল জগৎ অন্বেষণ করতে পারে, বাংলাদেশ সেই লক্ষ্য অর্জনে বৈশ্বিক অংশীজনদের সঙ্গে কাজ করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।



























