ঢাকা ০২:০৬ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০৯ অক্টোবর ২০২৬, ২৩ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
মব সংস্কৃতি ও রাজনৈতিক দখলদারত্ব কি এখন স্বাভাবিক নিয়মে পরিণত হচ্ছে? বিশ্বসেরা ২ শতাংশ বিজ্ঞানীর তালিকায় ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকেরা দেশ থেকে বিদায় নিচ্ছে মৌসুমি বায়ু, শনিবারের পর কমবে বৃষ্টি চুম্বন ও বিকিনি দৃশ্যে আপত্তি, হলিউডের বড় সুযোগ ফেরালেন মালয়েশীয় অভিনেত্রী চরফ্যাশনে ৩৫ হাজার জেলের মাঝে ৮৯১ টন চাল বিতরণ শুরু চট্টগ্রাম বন্দরে ডিপি ওয়ার্ল্ড চুক্তি বাতিল ও অনশনের হুঁশিয়ারি জার্মানি থেকে ভারতে ধ্রুব রাঠি: মোদি সরকারের নতুন মাথাব্যথা? মধ্যপ্রাচ্য ও ব্রিটেন থেকে পিছু হটছে মার্কিন সামরিক বাহিনী আব্দুল্লাহপুর ফ্লাইওভারে মুমূর্ষু শিশু, উদ্ধার করে হাসপাতালে নিল পুলিশ চট্টগ্রামে দেশের প্রথম সাইকেল ট্র্যাক উদ্বোধন শুক্রবার

পীরগাছায় দিনে দলিল ফেরত, রাতে টাকার বিনিময়ে নিবন্ধনের অভিযোগ

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ১২:২৬:১২ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৯ অক্টোবর ২০২৬ ১ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি



রংপুরের পীরগাছা সাব-রেজিস্ট্রার কার্যালয়ে দলিল নিবন্ধন নিয়ে দীর্ঘদিনের অনিয়মের অভিযোগ নতুন করে সামনে এসেছে। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, দিনের বেলায় বিভিন্ন ত্রুটি বা তথ্যের অসঙ্গতির অজুহাতে দলিলগুলো ফেরত দেওয়া হলেও সন্ধ্যা নামার পর দৃশ্যপট বদলে যায়। অভিযোগ রয়েছে, দিনের বেলায় ত্রুটিপূর্ণ বলে ফেরত দেওয়া সেই দলিলই রাতে বাড়তি টাকার বিনিময়ে নিবন্ধন করে দেওয়া হচ্ছে।

বুধবার দুপুর থেকে পীরগাছা সাব-রেজিস্ট্রার কার্যালয়ে প্রায় ৫০টি দলিল ফেরত দেওয়া হয় বলে অভিযোগ উঠেছে। সংশ্লিষ্টদের জানানো হয়, এসব দলিলে বিভিন্ন ধরনের ত্রুটি রয়েছে, যার ফলে দিনের নির্ধারিত সময়ে সেগুলো নিবন্ধন করা সম্ভব নয়। অথচ সন্ধ্যা ঘনিয়ে আসার পর সেই দলিলগুলোর কয়েকটি আবার গ্রহণ করা হয় এবং রাত পর্যন্ত কার্যালয়ের কার্যক্রম চালিয়ে সেগুলো নিবন্ধন করে দেওয়া হয়।

ভুক্তভোগী সেবাগ্রহীতারা বলছেন, তারা সকাল ১০টা থেকে কার্যালয়ে অপেক্ষা করেও দিনের বেলা কাজ করতে পারেননি। অনন্তরাম উচাপাড়া গ্রামের স্বপন বসাক জানান, সারাদিন নানা অজুহাতে দলিল ফেরত দেওয়া হয়েছে, অথচ সন্ধ্যার পর সাব-রেজিস্ট্রার দলিলে স্বাক্ষর করেছেন। তিনি অভিযোগ করেন, এখন বাড়তি টাকা নেওয়া হচ্ছে এবং দলিল সম্পাদন করা হচ্ছে। তালুক ইশাদ দুধিয়াবাড়ি গ্রামের মিঠু মাস্টারও একই অভিযোগ করেন যে, সারাদিন অপেক্ষা করানোর পর সন্ধ্যার পর টাকা নিয়ে দলিল সম্পাদন করা হচ্ছে। একজন ভুক্তভোগী কৃষক জানান, দুই শতক জমির একটি দলিল নিবন্ধনের জন্য সারাদিন ঘুরেও কাজ পাননি, পরে টাকা দেওয়ার পর তাকে ডেকে এনে দলিলটি সম্পন্ন করে দেওয়া হয়।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের ৪ এপ্রিল ২০২৬ সালের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, ৫ এপ্রিল থেকে সরকারি ও বেসরকারি অফিসের সময় সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টা নির্ধারণ করা হয়েছে। ফলে নির্ধারিত সময়ের পর পীরগাছা সাব-রেজিস্ট্রার কার্যালয়ে দলিল নিবন্ধনের কার্যক্রম পরিচালিত হলে এর অনুমোদন ও বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এছাড়া, নিবন্ধন আইনের বিধান অনুযায়ী কোনো দলিল নিবন্ধনে অস্বীকৃতি জানালে সাব-রেজিস্ট্রারকে অস্বীকৃতির কারণ লিখিতভাবে লিপিবদ্ধ করার বিধান রয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি সেই কারণের অনুলিপি পাওয়ার অধিকার রাখেন। দিনের বেলায় ফেরত দেওয়া ৫০টি দলিলের ক্ষেত্রে কী লিখিত কারণ দেখানো হয়েছিল, তা খতিয়ে দেখার দাবি উঠেছে।

পীরগাছা সাব-রেজিস্ট্রার কার্যালয়ে এর আগে সাব-রেজিস্ট্রার বার্নার্ড মার্ডীর দায়িত্ব পালনকালেও দলিল নিবন্ধন নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ সংবাদে এসেছে। বর্তমানে নতুন দায়িত্ব পাওয়া সাব-রেজিস্ট্রার রিপন চন্দ্র মণ্ডলের বিরুদ্ধেও একই ধরনের অভিযোগ ওঠায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। এর আগে গঙ্গাচড়া সাব-রেজিস্ট্রার থাকাকালে রিপন চন্দ্র মণ্ডলের বিরুদ্ধে ঘুষ ও অনিয়মের অভিযোগ নিয়ে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছিল, যদিও তিনি তখন অভিযোগ অস্বীকার করে আইন মেনেই কাজ করার দাবি করেছিলেন।

ভুক্তভোগীরা বুধবার ফেরত দেওয়া দলিলগুলোর তালিকা, ফেরতের লিখিত কারণ, পরে নিবন্ধিত দলিলের তালিকা, নিবন্ধনের সময় এবং সরকারি ফি আদায়ের হিসাব যাচাই করে অভিযোগের সত্যতা বের করার দাবি জানিয়েছেন। তাদের দাবি, অভিযোগ সত্য হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হোক। এ বিষয়ে সাব-রেজিস্ট্রার রিপন চন্দ্র মণ্ডলের বক্তব্য জানতে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জায়িদ ইমরুল মোজাক্কিন বলেন, সাব-রেজিস্ট্রার অফিস তার অধীনস্থ দপ্তর নয়, তবে নাগরিকরা হয়রানির শিকার হচ্ছে মর্মে অভিযোগ পেলে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হবে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Amar Desh

নিউজটি শেয়ার করুন

পীরগাছায় দিনে দলিল ফেরত, রাতে টাকার বিনিময়ে নিবন্ধনের অভিযোগ

আপডেট সময় : ১২:২৬:১২ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৯ অক্টোবর ২০২৬

রংপুরের পীরগাছা সাব-রেজিস্ট্রার কার্যালয়ে দলিল নিবন্ধন নিয়ে দীর্ঘদিনের অনিয়মের অভিযোগ নতুন করে সামনে এসেছে। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, দিনের বেলায় বিভিন্ন ত্রুটি বা তথ্যের অসঙ্গতির অজুহাতে দলিলগুলো ফেরত দেওয়া হলেও সন্ধ্যা নামার পর দৃশ্যপট বদলে যায়। অভিযোগ রয়েছে, দিনের বেলায় ত্রুটিপূর্ণ বলে ফেরত দেওয়া সেই দলিলই রাতে বাড়তি টাকার বিনিময়ে নিবন্ধন করে দেওয়া হচ্ছে।

বুধবার দুপুর থেকে পীরগাছা সাব-রেজিস্ট্রার কার্যালয়ে প্রায় ৫০টি দলিল ফেরত দেওয়া হয় বলে অভিযোগ উঠেছে। সংশ্লিষ্টদের জানানো হয়, এসব দলিলে বিভিন্ন ধরনের ত্রুটি রয়েছে, যার ফলে দিনের নির্ধারিত সময়ে সেগুলো নিবন্ধন করা সম্ভব নয়। অথচ সন্ধ্যা ঘনিয়ে আসার পর সেই দলিলগুলোর কয়েকটি আবার গ্রহণ করা হয় এবং রাত পর্যন্ত কার্যালয়ের কার্যক্রম চালিয়ে সেগুলো নিবন্ধন করে দেওয়া হয়।

ভুক্তভোগী সেবাগ্রহীতারা বলছেন, তারা সকাল ১০টা থেকে কার্যালয়ে অপেক্ষা করেও দিনের বেলা কাজ করতে পারেননি। অনন্তরাম উচাপাড়া গ্রামের স্বপন বসাক জানান, সারাদিন নানা অজুহাতে দলিল ফেরত দেওয়া হয়েছে, অথচ সন্ধ্যার পর সাব-রেজিস্ট্রার দলিলে স্বাক্ষর করেছেন। তিনি অভিযোগ করেন, এখন বাড়তি টাকা নেওয়া হচ্ছে এবং দলিল সম্পাদন করা হচ্ছে। তালুক ইশাদ দুধিয়াবাড়ি গ্রামের মিঠু মাস্টারও একই অভিযোগ করেন যে, সারাদিন অপেক্ষা করানোর পর সন্ধ্যার পর টাকা নিয়ে দলিল সম্পাদন করা হচ্ছে। একজন ভুক্তভোগী কৃষক জানান, দুই শতক জমির একটি দলিল নিবন্ধনের জন্য সারাদিন ঘুরেও কাজ পাননি, পরে টাকা দেওয়ার পর তাকে ডেকে এনে দলিলটি সম্পন্ন করে দেওয়া হয়।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের ৪ এপ্রিল ২০২৬ সালের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, ৫ এপ্রিল থেকে সরকারি ও বেসরকারি অফিসের সময় সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টা নির্ধারণ করা হয়েছে। ফলে নির্ধারিত সময়ের পর পীরগাছা সাব-রেজিস্ট্রার কার্যালয়ে দলিল নিবন্ধনের কার্যক্রম পরিচালিত হলে এর অনুমোদন ও বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এছাড়া, নিবন্ধন আইনের বিধান অনুযায়ী কোনো দলিল নিবন্ধনে অস্বীকৃতি জানালে সাব-রেজিস্ট্রারকে অস্বীকৃতির কারণ লিখিতভাবে লিপিবদ্ধ করার বিধান রয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি সেই কারণের অনুলিপি পাওয়ার অধিকার রাখেন। দিনের বেলায় ফেরত দেওয়া ৫০টি দলিলের ক্ষেত্রে কী লিখিত কারণ দেখানো হয়েছিল, তা খতিয়ে দেখার দাবি উঠেছে।

পীরগাছা সাব-রেজিস্ট্রার কার্যালয়ে এর আগে সাব-রেজিস্ট্রার বার্নার্ড মার্ডীর দায়িত্ব পালনকালেও দলিল নিবন্ধন নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ সংবাদে এসেছে। বর্তমানে নতুন দায়িত্ব পাওয়া সাব-রেজিস্ট্রার রিপন চন্দ্র মণ্ডলের বিরুদ্ধেও একই ধরনের অভিযোগ ওঠায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। এর আগে গঙ্গাচড়া সাব-রেজিস্ট্রার থাকাকালে রিপন চন্দ্র মণ্ডলের বিরুদ্ধে ঘুষ ও অনিয়মের অভিযোগ নিয়ে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছিল, যদিও তিনি তখন অভিযোগ অস্বীকার করে আইন মেনেই কাজ করার দাবি করেছিলেন।

ভুক্তভোগীরা বুধবার ফেরত দেওয়া দলিলগুলোর তালিকা, ফেরতের লিখিত কারণ, পরে নিবন্ধিত দলিলের তালিকা, নিবন্ধনের সময় এবং সরকারি ফি আদায়ের হিসাব যাচাই করে অভিযোগের সত্যতা বের করার দাবি জানিয়েছেন। তাদের দাবি, অভিযোগ সত্য হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হোক। এ বিষয়ে সাব-রেজিস্ট্রার রিপন চন্দ্র মণ্ডলের বক্তব্য জানতে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জায়িদ ইমরুল মোজাক্কিন বলেন, সাব-রেজিস্ট্রার অফিস তার অধীনস্থ দপ্তর নয়, তবে নাগরিকরা হয়রানির শিকার হচ্ছে মর্মে অভিযোগ পেলে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হবে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Amar Desh