পাঠাওয়ের ১ কোটি ৯০ লাখ ব্যবহারকারীর তথ্য ফাঁসের দাবি
- আপডেট সময় : ১২:১৯:২৬ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৯ অক্টোবর ২০২৬ ১ বার পড়া হয়েছে

ডিজিটাল প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান পাঠাওয়ের প্রায় ১ কোটি ৯০ লাখ ব্যবহারকারীর ব্যক্তিগত তথ্য নিজেদের কাছে থাকার দাবি করেছে একটি হ্যাকার চক্র। চক্রটি দাবি করেছে, তাদের কাছে ব্যবহারকারীদের মুঠোফোন নম্বর, ই-মেইল, জাতীয় পরিচয়পত্রের নম্বর, ড্রাইভিং লাইসেন্স, ফেসবুক পরিচিতি, বর্তমান অবস্থান ও বাসার ঠিকানা রয়েছে। এসব তথ্য প্রকাশ না করার বিনিময়ে পাঠাওয়ের কাছে ৪ লাখ মার্কিন ডলার মুক্তিপণ দাবি করা হয়েছে। সাইবার নিরাপত্তাবিষয়ক প্ল্যাটফর্ম ডেইলি ডার্ক ওয়েব সামাজিক মাধ্যম এক্সে বিষয়টি সামনে এনেছে এবং ডার্ক ওয়েবের ওই পোস্টের একটি স্ক্রিনশট প্রকাশ করেছে। তবে এই দাবির সত্যতা এখনো স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
বিষয়টি নিয়ে পাঠাওয়ের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ফাহিম আহমেদের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁকে পাওয়া যায়নি। তবে গত বুধবার পাঠাও তাদের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে একটি বিবৃতিতে জানিয়েছে, গত ৪ অক্টোবর সাইবার নিরাপত্তাজনিত একটি ঘটনা শনাক্ত হওয়ার পর সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে তাদের কিছু গুরুত্বপূর্ণ সিস্টেম সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছিল। এতে প্ল্যাটফর্মটির বিভিন্ন সেবা সাময়িকভাবে বিঘ্নিত হয়। কোম্পানিটি স্বীকার করেছে যে, ঘটনার সময় নাম, ই-মেইল ঠিকানা ও ফোন নম্বরসহ কিছু ব্যক্তিগত তথ্য দুর্বৃত্তদের হাতে পৌঁছেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে তারা তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে এবং নিরাপত্তা জোরদারে সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের সম্পৃক্ত করা হয়েছে।
ডার্ক ওয়েবের ওই পোস্টে দাবি করা হয়েছে, তাদের কাছে পাঠাওয়ের প্রায় ১৩৩ গিগাবাইট তথ্য রয়েছে, যার মধ্যে ২৫ কোটি রেকর্ড ও ৫৯১টি তথ্যভান্ডার অন্তর্ভুক্ত। এর মধ্যে সবচেয়ে বড় তথ্যভান্ডারে ১ কোটি ৯০ লাখ ৬৩ হাজার ৯১৮টি হিসাবের তথ্য রয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। হ্যাকারদের দাবি অনুযায়ী, তাদের কাছে ১ কোটি ৯০ লাখের বেশি এনআইডি নম্বর, ড্রাইভিং লাইসেন্স, ব্যবহারকারীর ছবি এবং প্রায় ৫৭ লাখ বাসার ঠিকানা রয়েছে।
এ ছাড়া পাঠাওয়ের অভ্যন্তরীণ ও ব্যবসায়িক তথ্যও নিজেদের কাছে থাকার দাবি করেছে ওই গোষ্ঠী। এর মধ্যে কর্মীদের তথ্য, প্রশাসনিক প্রবেশাধিকারের নথি, ব্যবসায়ীদের ব্যাংক হিসাব ও ব্যাংকের শাখা শনাক্তকরণ নম্বর, অর্থ লেনদেনের তথ্য, পণ্য সরবরাহের অবস্থান এবং চালকদের যাত্রার নথি থাকার কথা বলা হয়েছে। অর্থ পরিশোধ না করলে এনআইডি, ব্যাংক ও প্রশাসনিক তথ্য প্রকাশের হুমকি দিয়েছে চক্রটি।
এ বিষয়ে সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ তানভীর হাসান জোহা পরামর্শ দিয়েছেন যে, সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের উচিত অবিলম্বে একটি স্বাধীন ডিজিটাল ফরেনসিক তদন্তের ব্যবস্থা করা। পাশাপাশি প্রাসঙ্গিক সার্ভার ও অ্যাক্সেস লগসহ সব ডিজিটাল আলামত সংরক্ষণ করে আইন অনুযায়ী নিয়ন্ত্রক ও আইন প্রয়োগকারী কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা প্রয়োজন।



























