৪০ বছরের রাজনৈতিক জীবনের নানা অভিজ্ঞতার কথা শোনালেন হাফিজ উদ্দিন
- আপডেট সময় : ১১:৪৭:৪৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১১ বার পড়া হয়েছে

দীর্ঘ প্রায় ৪০ বছরের রাজনৈতিক জীবনে নানা উত্থান-পতন ও কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হওয়ার কথা জানিয়েছেন জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম। নিজের রাজনৈতিক জীবনের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে তিনি জানান, এর মধ্যে ৩৪ বছর তিনি সরাসরি বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। এই দীর্ঘ সময়ে তাকে পাঁচবার কারাবরণ করতে হয়েছে। এছাড়া পুলিশের হয়রানি ও মামলা থেকে বাঁচতে একসময় ঢাকার একটি বাসায় তাকে আড়াই মাস আত্মগোপনে থাকতে হয়েছিল, যে সময়টিতে তিনি বাসা থেকে বের হওয়ার সুযোগ পাননি।
রাজনীতিতে আসার শুরুতে বিশেষ আগ্রহ না থাকলেও পরবর্তী সময়ে দলের নানা কঠিন সময় ও উত্থান-পতন প্রত্যক্ষ করেছেন তিনি। বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সঙ্গে সম্পর্কের স্মৃতিচারণ করে স্পিকার বলেন, তিনি সবসময় খালেদা জিয়ার স্নেহ ও সহযোগিতা পেয়েছেন। দলের কঠিন সময়ে খালেদা জিয়া নেতাকর্মীদের সাহস জোগাতেন এবং তার প্রতি সবসময় সদয় ও ভালো ব্যবহারের পরিচয় দিতেন। তিনি ঈদের দিন সন্ধ্যায় সীমিত কিছু অতিথি নিয়ে নৈশভোজের আয়োজনের কথাও স্মরণ করেন, যেখানে খাবারের পাশাপাশি বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হতো।
মুক্তিযুদ্ধের সময় খালেদা জিয়ার গ্রেফতারের প্রসঙ্গ টেনে হাফিজ উদ্দিন বলেন, পাকিস্তানি বাহিনী তাকে খুঁজে বের করে ঢাকার এক স্বজনের বাসা থেকে গ্রেফতার করেছিল। তিনি মনে করেন, খালেদা জিয়া ভবিষ্যতে গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক নেতৃত্বে আসতে পারেন—এমনটি ভেবেই পাকিস্তানি কর্তৃপক্ষ হয়তো তাকে গ্রেফতার করেছিল। এছাড়া মুক্তিযুদ্ধের সময় জিয়াউর রহমানের অনুপ্রেরণা হওয়ার বিষয়টিও তার গ্রেফতারের পেছনে ভূমিকা রাখতে পারে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
সাক্ষাৎকারে তিনি ১৯৭১ সালের জুলাই মাসে জেড ফোর্স গঠনের একটি বিশেষ স্মৃতি তুলে ধরেন। তেলঢালায় প্রশিক্ষণ চলাকালে তিনি তৎকালীন কমান্ডার জিয়াউর রহমানের সঙ্গে দেখা করতে যান। সে সময় জিয়াউর রহমান পাকিস্তানি জেনারেল জামশেদের কাছে একটি চিঠি লিখছিলেন। সেই চিঠিতে জিয়া তার স্ত্রী খালেদা জিয়া পাকিস্তানি বাহিনীর হেফাজতে থাকায় তার সঙ্গে কোনো অসম্মানজনক আচরণ করা হলে কঠোর প্রতিক্রিয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন। একজন সেনা কর্মকর্তার মাধ্যমে চিঠিটি ডাকবাক্সে ফেলা হয় এবং পরে জেনারেল জামশেদের কাছে পৌঁছায়। চিঠির জবাবে জেনারেল জামশেদ জানিয়েছিলেন, একজন সেনা কর্মকর্তার স্ত্রীর সঙ্গে কীভাবে সম্মানজনক আচরণ করতে হয়, তা তারা জানেন।


























