ঢাকা ০১:০৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৬ অক্টোবর ২০২৬, ২১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সাবরেজিস্ট্রার বদলিতে স্বচ্ছতা আনতে লটারি পদ্ধতি চালু করল মন্ত্রণালয় প্রধানমন্ত্রীর সম্ভাব্য ভারত সফর: প্রাপ্তি ও প্রত্যাশার সমীকরণ এলপিজির দাম সমন্বয়ে সরকার বাধ্য হয়েছে: উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান যুদ্ধাপরাধ আদালতের ক্ষমতা কমানোর উদ্যোগে কসোভোয় পুলিশ-বিক্ষোভকারী সংঘর্ষ তায়কোয়ানডো চ্যাম্পিয়নশিপে সাতক্ষীরার জয়জয়কার: ৩ স্বর্ণসহ ৪ পদক সরকারি কর্মকর্তাদের ৪২ ধরনের ভাতা করমুক্ত, করযোগ্য মাত্র ৩টি আয় পুরান ঢাকার ডিসি অফিসের ছাদে পাখিদের অভয়ারণ্য ‘আকাশনীড়’ ১৫ অক্টোবর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শোক দিবস, বন্ধ থাকবে ক্লাস ও অফিস ঢামেক হাসপাতালের জরুরি বিভাগ থেকে অজ্ঞাত বৃদ্ধের মরদেহ উদ্ধার ক্ষমতার দম্ভ ও দলীয় আনুগত্যই সুশাসন প্রতিষ্ঠার প্রধান অন্তরায়

পেশাদার ও রাজনীতিমুক্ত আমলাতন্ত্র ছাড়া সুশাসন অসম্ভব: গোলটেবিল সংলাপ

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ০২:৫৬:৫০ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৬ অগাস্ট ২০২৬ ৩০ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি



বাংলাদেশে সুশাসন প্রতিষ্ঠা ও সুষ্ঠু ধারার রাজনীতি বজায় রাখতে আমলাতন্ত্রকে সম্পূর্ণ পেশাদার, দক্ষ ও রাজনীতিমুক্ত করার দাবি জানিয়েছেন দেশের বিশিষ্টজনেরা। তারা সতর্ক করে বলেছেন, জনপ্রশাসনকে রাজনৈতিক দলের স্বার্থে ব্যবহার করা হলে তা রাষ্ট্রের জন্য বিপর্যয় ডেকে আনবে। শনিবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া মিলনায়তনে আয়োজিত এক গোলটেবিল সংলাপে বক্তারা এসব কথা বলেন।

‘রাষ্ট্র গঠন ও আমলাতন্ত্র: দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অভিজ্ঞতা ও বাংলাদেশের বাস্তবতা’ শীর্ষক এই সংলাপের আয়োজন করে সেন্টার ফর পলিসি অ্যানালাইসিস অ্যান্ড অ্যাডভোকেসি। সংগঠনটির প্রেসিডেন্ট ও সাবেক সচিব ড. মোহাম্মদ শরিফুল আলমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে সিভিল সার্ভিস বিশেষজ্ঞ ড. ইউসুফ جاریফের লেখা মূল প্রবন্ধটি উপস্থাপন করেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের লোকপ্রশাসন বিভাগের অধ্যাপক ড. শাফিউল ইসলাম।

উপস্থাপিত প্রবন্ধে জাপান, চীন, দক্ষিণ কোরিয়া ও সিঙ্গাপুরের মতো দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বিভিন্ন দেশের উদাহরণ দিয়ে বলা হয়, মেধার অবমূল্যায়ন করে কোনো কার্যকর আমলাতন্ত্র গড়ে তোলা সম্ভব নয়। ওইসব দেশে অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি ও সুশাসন নিশ্চিত করার পেছনে পেশাদার ও রাজনীতিমুক্ত আমলাতন্ত্রের ভূমিকা ছিল অপরিসীম।

মূল প্রবন্ধকার ড. ইউসুফ জারিফ তার প্রবন্ধে উল্লেখ করেন, স্বাধীনতার পর থেকেই বাংলাদেশে আমলাতন্ত্রকে আইনগতভাবে দুর্বল ও রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করা হয়েছে। প্রতিটি শাসকগোষ্ঠী নিজেদের স্বার্থে, নির্বাচনব্যবস্থা কুক্ষিগত করতে এবং রাষ্ট্রীয় নীতি নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রাখতে আমলাতন্ত্রের রাজনীতিকীকরণ করেছে। এমনকি ঐতিহাসিক জুলাই বিপ্লবের পরও মেধা উপেক্ষা ও রাজনীতিকীকরণের এই ধারা অব্যাহত রয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।

সংলাপে অংশ নেওয়া অন্যান্য আলোচকরা অভিযোগ করেন, বিগত সরকারগুলো আমলাতন্ত্রকে রাজনৈতিক দলের অঙ্গসংগঠনে রূপ দিয়েছিল। এর ফলে দেশ থেকে দেদারসে অর্থ পাচার হয়েছে এবং দেশের নির্বাচনব্যবস্থা সম্পূর্ণ ভেঙে পড়েছে। আমলাতন্ত্রকে জবাবদিহি, নৈতিক শক্তি ও পেশাগত দক্ষতায় সমৃদ্ধ করতে প্রয়োজনীয় সংস্কারের ওপর জোর দেন তারা।

সম্প্রতি বিভিন্ন সরকারি করপোরেশনে রাজনৈতিক নেতাদের নিয়োগ দেওয়ার সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করেন আলোচকরা। তারা বলেন, জনপ্রশাসনকে যদি সরকারি দলের কার্যালয়ে পরিণত করা হয়, তবে তা দেশের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর হবে। বর্তমান সরকারকে এই আত্মঘাতী প্রক্রিয়া থেকে দ্রুত সরে আসার আহ্বান জানান সংলাপে অংশ নেওয়া বক্তারা।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Amar Desh

নিউজটি শেয়ার করুন

পেশাদার ও রাজনীতিমুক্ত আমলাতন্ত্র ছাড়া সুশাসন অসম্ভব: গোলটেবিল সংলাপ

আপডেট সময় : ০২:৫৬:৫০ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৬ অগাস্ট ২০২৬

বাংলাদেশে সুশাসন প্রতিষ্ঠা ও সুষ্ঠু ধারার রাজনীতি বজায় রাখতে আমলাতন্ত্রকে সম্পূর্ণ পেশাদার, দক্ষ ও রাজনীতিমুক্ত করার দাবি জানিয়েছেন দেশের বিশিষ্টজনেরা। তারা সতর্ক করে বলেছেন, জনপ্রশাসনকে রাজনৈতিক দলের স্বার্থে ব্যবহার করা হলে তা রাষ্ট্রের জন্য বিপর্যয় ডেকে আনবে। শনিবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া মিলনায়তনে আয়োজিত এক গোলটেবিল সংলাপে বক্তারা এসব কথা বলেন।

‘রাষ্ট্র গঠন ও আমলাতন্ত্র: দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অভিজ্ঞতা ও বাংলাদেশের বাস্তবতা’ শীর্ষক এই সংলাপের আয়োজন করে সেন্টার ফর পলিসি অ্যানালাইসিস অ্যান্ড অ্যাডভোকেসি। সংগঠনটির প্রেসিডেন্ট ও সাবেক সচিব ড. মোহাম্মদ শরিফুল আলমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে সিভিল সার্ভিস বিশেষজ্ঞ ড. ইউসুফ جاریফের লেখা মূল প্রবন্ধটি উপস্থাপন করেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের লোকপ্রশাসন বিভাগের অধ্যাপক ড. শাফিউল ইসলাম।

উপস্থাপিত প্রবন্ধে জাপান, চীন, দক্ষিণ কোরিয়া ও সিঙ্গাপুরের মতো দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বিভিন্ন দেশের উদাহরণ দিয়ে বলা হয়, মেধার অবমূল্যায়ন করে কোনো কার্যকর আমলাতন্ত্র গড়ে তোলা সম্ভব নয়। ওইসব দেশে অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি ও সুশাসন নিশ্চিত করার পেছনে পেশাদার ও রাজনীতিমুক্ত আমলাতন্ত্রের ভূমিকা ছিল অপরিসীম।

মূল প্রবন্ধকার ড. ইউসুফ জারিফ তার প্রবন্ধে উল্লেখ করেন, স্বাধীনতার পর থেকেই বাংলাদেশে আমলাতন্ত্রকে আইনগতভাবে দুর্বল ও রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করা হয়েছে। প্রতিটি শাসকগোষ্ঠী নিজেদের স্বার্থে, নির্বাচনব্যবস্থা কুক্ষিগত করতে এবং রাষ্ট্রীয় নীতি নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রাখতে আমলাতন্ত্রের রাজনীতিকীকরণ করেছে। এমনকি ঐতিহাসিক জুলাই বিপ্লবের পরও মেধা উপেক্ষা ও রাজনীতিকীকরণের এই ধারা অব্যাহত রয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।

সংলাপে অংশ নেওয়া অন্যান্য আলোচকরা অভিযোগ করেন, বিগত সরকারগুলো আমলাতন্ত্রকে রাজনৈতিক দলের অঙ্গসংগঠনে রূপ দিয়েছিল। এর ফলে দেশ থেকে দেদারসে অর্থ পাচার হয়েছে এবং দেশের নির্বাচনব্যবস্থা সম্পূর্ণ ভেঙে পড়েছে। আমলাতন্ত্রকে জবাবদিহি, নৈতিক শক্তি ও পেশাগত দক্ষতায় সমৃদ্ধ করতে প্রয়োজনীয় সংস্কারের ওপর জোর দেন তারা।

সম্প্রতি বিভিন্ন সরকারি করপোরেশনে রাজনৈতিক নেতাদের নিয়োগ দেওয়ার সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করেন আলোচকরা। তারা বলেন, জনপ্রশাসনকে যদি সরকারি দলের কার্যালয়ে পরিণত করা হয়, তবে তা দেশের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর হবে। বর্তমান সরকারকে এই আত্মঘাতী প্রক্রিয়া থেকে দ্রুত সরে আসার আহ্বান জানান সংলাপে অংশ নেওয়া বক্তারা।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Amar Desh