আইসিএও অডিটের আগে বিমানবন্দরগুলোতে নিরাপত্তা জোরদারের নির্দেশ
- আপডেট সময় : ০২:৩৪:৩৩ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৭ অগাস্ট ২০২৬ ৩ বার পড়া হয়েছে

আন্তর্জাতিক বেসামরিক বিমান চলাচল সংস্থার (আইসিএও) আসন্ন নিরাপত্তা অডিটকে সামনে রেখে দেশের বিমানবন্দরগুলোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করার নির্দেশ দিয়েছে সরকার। একই সঙ্গে ভিআইপি ও সিআইপিসহ সবার জন্য অভিন্ন নিরাপত্তা প্রোটোকল অনুসরণ এবং বিমানবন্দর এলাকায় অননুমোদিত ড্রোন উড্ডয়ন ঠেকাতে অ্যান্টি-ড্রোন সিস্টেম স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানানো হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) রাজধানীতে বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) সদর দপ্তরে পুনর্গঠিত জাতীয় বেসামরিক বিমান চলাচল নিরাপত্তা কমিটির (এনসিএএসসি) প্রথম সভায় এসব নির্দেশনা দেওয়া হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী আফরোজা খানম। এতে সহসভাপতি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রতিমন্ত্রী এম. রশিদুজ্জামান মিল্লাত।
সভায় বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী আফরোজা খানম বলেন, জাতীয় বেসামরিক বিমান চলাচল নিরাপত্তা কমিটির আগের সভার সিদ্ধান্তগুলো দ্রুত বাস্তবায়ন করতে হবে। খুব শিগগিরই আইসিএওর নিরাপত্তা অডিট অনুষ্ঠিত হবে এবং এই অডিটের ফলাফলের সঙ্গে দেশের ভাবমূর্তি জড়িত। তাই যেসব বিষয়ে আইসিএওর পর্যবেক্ষণ আসতে পারে, সেসব ক্ষেত্রে পূর্ণ প্রস্তুতি এবং মানদণ্ড অনুসরণ নিশ্চিত করতে হবে।
নিরাপত্তার ক্ষেত্রে কোনো আপস করা হবে না উল্লেখ করে মন্ত্রী আরও বলেন, ভিআইপি, সিআইপি বা সাধারণ যাত্রী—সবার জন্য একই নিয়ম প্রযোজ্য হবে। একই সঙ্গে প্রবাসী যাত্রীদের উন্নত সেবা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সব সংস্থাকে সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
সভায় প্রতিমন্ত্রী এম. রশিদুজ্জামান মিল্লাত বলেন, বিমানবন্দর এলাকায় অননুমোদিত ড্রোন উড্ডয়ন রোধে অ্যান্টি-ড্রোন সিস্টেম স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হবে। প্রায় তিন বছর পর এই কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হলো উল্লেখ করে তিনি বলেন, এখন সভার সিদ্ধান্তগুলো বাস্তবায়ন নিশ্চিত করাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ। এছাড়া নিরাপত্তা সরঞ্জাম ও স্ক্যানারের পর্যাপ্ত মজুত রাখার ওপরও তিনি গুরুত্বারোপ করেন।
দেশের বেসামরিক বিমান চলাচল নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও কার্যকর করতে সভায় বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার মধ্যে তথ্য বিনিময় ও সমন্বয় বাড়ানো, জাতীয় নিরাপত্তা কর্মসূচির বাস্তবায়ন, আইসিএওর নিরাপত্তা মানদণ্ড অনুসরণ, আধুনিক নিরাপত্তা প্রযুক্তি সংযোজন এবং ভবিষ্যতের নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় করণীয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
এর পাশাপাশি হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের প্রবেশপথের নিরাপত্তা আরও জোরদার করা, আন্ডার ভেহিকল স্ক্যানিং সিস্টেমের (ইউভিএসএস) কার্যকারিতা বৃদ্ধি এবং দেশের সব বেসামরিক বিমানবন্দরে জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মধ্যে সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সইয়ের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
একই সঙ্গে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ল্যান্ডসাইড এলাকায় যানজট, অনিয়ন্ত্রিত লোকসমাগম, ভিক্ষুকের উপদ্রব এবং অবৈধ লাগেজ র্যাপিং কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণে বেবিচক, এপিবিএন, পুলিশ, আনসার ও বিমানবন্দর ম্যাজিস্ট্রেটসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে আরও সক্রিয় হওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। যাত্রীসেবা ও বিমানবন্দরের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশও করা হয় এই সভা থেকে।



























