ঢাকা ০৬:০৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সিলেটে সওজের সরকারি জমিতে গোরস্থান নির্মাণের চেষ্টা, কাজ বন্ধ সরকারের অনুমোদন: দেড় লাখ টন সার ও মসুর ডাল কেনা হবে কাউকে ভয় পেতে আসিনি, আসিয়ান কাপ নিয়ে আত্মবিশ্বাসী হামজা চৌধুরী ফুডপান্ডার এমডিসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি বেসিস নির্বাচন সামনে রেখে ৭ সদস্যের সহায়ক কমিটি গঠন স্টারলিংককে টেক্কা দিতে মহাকাশে অ্যামাজনের নতুন দৌড় নির্যাতন করে স্বীকারোক্তি আদায়ের পর আজমুলের মৃত্যুতে গ্রেফতার ১ বার্লিন বিমানবন্দরে ড্রোন দেখা যাওয়ায় ফ্লাইট চলাচল বন্ধ সরকারি হাসপাতালের ১ কিলোমিটারের মধ্যে নতুন ক্লিনিক স্থাপনে নিষেধাজ্ঞা গোলান মালভূমি সিরিয়ারই থাকবে, জাতিসংঘে আল-শারার ঘোষণা

আখাউড়ার দেবগ্রামে একক মেয়র প্রার্থী নির্ধারণে অভিনব ‘ভোটের আগে ভোট’

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ০৩:৪৯:১২ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৭ অগাস্ট ২০২৬ ১৯ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি



ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া পৌরসভার দেবগ্রামের বাসিন্দারা আগামী পৌরসভা নির্বাচনে নিজেদের একক মেয়র প্রার্থী চূড়ান্ত করতে এক অভিনব উদ্যোগ নিয়েছেন। স্থানীয় সরকার নির্বাচনের তফসিল এখনো ঘোষণা না হলেও, এই গ্রামে বইছে পুরোদস্তুর ভোটের হাওয়া। আগামী ১৫ই আগস্ট অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে এক বিশেষ নির্বাচন, যা মূলত ‘ভোটের আগে ভোট’ হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে। এই ভোটের মাধ্যমে যিনি বিজয়ী হবেন, তিনি আখাউড়া পৌরসভা নির্বাচনে দেবগ্রামের একমাত্র সমর্থিত প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন।

কাগজে-কলমে এই আয়োজনের নাম দেওয়া হয়েছে ‘দেবগ্রাম আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন পরিচালনা কমিটির সভাপতি নির্বাচন-২০২৬’। তবে গ্রামের মানুষের মূল লক্ষ্য হলো পৌরসভা নির্বাচনে নিজেদের গ্রামের শক্তি বজায় রাখা এবং একক প্রার্থী দিয়ে মেয়র পদে জয় নিশ্চিত করা। এর আগে ঐক্যবদ্ধ হয়ে এই গ্রামের বাসিন্দারা হাসান খান নামে একজনকে মেয়র পদে বিজয়ী করতে সক্ষম হয়েছিলেন। সেই সফলতার ধারাবাহিকতায় এবারও একই কৌশল বেছে নিয়েছে গ্রামবাসী। গোটা পৌরসভার মানুষের কাছেও এখন আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে এই নির্বাচন।

দেবগ্রামের প্রায় ২৬শ’ পুরুষ ভোটার এই নির্বাচনে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। সমসংখ্যক নারী ভোটার থাকলেও তাদের এই ভোট প্রক্রিয়ার বাইরে রাখা হয়েছে। ভোটগ্রহণের জন্য দেবগ্রাম হাই স্কুলে ৪টি বুথ প্রস্তুত করা হচ্ছে। নির্বাচন পরিচালনার জন্য একটি কমিশন গঠন করা হয়েছে, যেখানে একজন প্রধান নির্বাচন কমিশনার এবং ১০/১২ জন সহকারী নির্বাচন কমিশনার কাজ করছেন। তারা প্রিজাইডিং অফিসার, সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার ও পোলিং অফিসার নিয়োগের কাজ সম্পন্ন করছেন।

নির্বাচনে মোট ৩ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তারা হলেন— মোরগ প্রতীক নিয়ে শেখ মো. আমজাদ হোসেন বাবু, ছাতা প্রতীক নিয়ে বেলজিয়াম প্রবাসী রুহুল আমিন খান সুমন এবং ফুটবল প্রতীক নিয়ে আখাউড়া উপজেলা যুবদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ফয়েজ আহমেদ। শুরুতে ৪ জন প্রার্থী টাকা জমা দিলেও পরবর্তীতে একজন সরে দাঁড়ান।

নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে এবং পরবর্তীতে কেউ যেন বিদ্রোহী প্রার্থী হতে না পারেন, সেজন্য কঠোর নিয়ম করা হয়েছে। প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের প্রত্যেকের কাছ থেকে সাড়ে ৫ লাখ টাকা করে জমা নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ৫০ হাজার টাকা অফেরতযোগ্য, যা নির্বাচন পরিচালনার খরচ হিসেবে ব্যয় হবে। আর বাকি ৫ লাখ টাকা ফেরতযোগ্য জামানত। গ্রামের এই সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে যদি কেউ মূল পৌর নির্বাচনে বিদ্রোহী প্রার্থী হন, তবে তার জামানতের ৫ লাখ টাকা আর ফেরত দেওয়া হবে না। সেই অর্থ গ্রামের উন্নয়নমূলক কাজে ব্যয় করা হবে। এর আগে এক নির্বাচনে একজন বিদ্রোহী প্রার্থী হলেও জামানত না থাকায় তাকে আটকানো যায়নি। এবার সেই ফাঁক বন্ধ করতেই জামানতের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন নির্বাচন কমিশনার জানান, মূলত মেয়র নির্বাচনে প্রার্থী হতে প্রথমে ৬ জন আগ্রহ প্রকাশ করেছিলেন। কিন্তু তারা একমত হতে পারছিলেন না। পরে তাদের অনুরোধেই পুরুষ ভোটারদের ভোটের মাধ্যমে একক প্রার্থী বাছাইয়ের এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। গত কোরবানির ঈদের পর অর্থাৎ মে মাস থেকেই গ্রামের হাইস্কুল মাঠে দফায় দফায় বৈঠকের মাধ্যমে এই নির্বাচনের তোড়জোড় শুরু হয়। মনোনয়নপত্র কেনা, যাচাই-বাছাই, প্রত্যাহার এবং প্রতীক বরাদ্দের পর এখন চলছে শেষ মুহূর্তের প্রচারণা। ফেসবুকের পাশাপাশি প্রার্থীরা ভোটারদের দ্বারে দ্বারে গিয়ে ভোট প্রার্থনা করছেন।

আয়োজক কমিটির ওই কমিশনার বলেন, "কাগজে-কলমে আমরা নাম দিয়েছি— দেবগ্রাম আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন পরিচালনা কমিটির সভাপতি নির্বাচন-২০২৬। অর্থাৎ দেবগ্রামের যতো কাম-কাজ আছে, উন্নয়নমূলক কাজ, যেকোনো কাজে এই সভাপতি সভাপতিত্ব করবেন। এমনও আছে যদি মেম্বার বা চেয়ারম্যানে দাঁড়ায় আমরা তাকে আগাইয়া দিমু। এখন আমরা একটা সভাপতি বানামু। তারেই আমরা পরে মেয়র বা যেখানেই হোক পাঠামো।"

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Manab Zamin

নিউজটি শেয়ার করুন

আখাউড়ার দেবগ্রামে একক মেয়র প্রার্থী নির্ধারণে অভিনব ‘ভোটের আগে ভোট’

আপডেট সময় : ০৩:৪৯:১২ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৭ অগাস্ট ২০২৬

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া পৌরসভার দেবগ্রামের বাসিন্দারা আগামী পৌরসভা নির্বাচনে নিজেদের একক মেয়র প্রার্থী চূড়ান্ত করতে এক অভিনব উদ্যোগ নিয়েছেন। স্থানীয় সরকার নির্বাচনের তফসিল এখনো ঘোষণা না হলেও, এই গ্রামে বইছে পুরোদস্তুর ভোটের হাওয়া। আগামী ১৫ই আগস্ট অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে এক বিশেষ নির্বাচন, যা মূলত ‘ভোটের আগে ভোট’ হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে। এই ভোটের মাধ্যমে যিনি বিজয়ী হবেন, তিনি আখাউড়া পৌরসভা নির্বাচনে দেবগ্রামের একমাত্র সমর্থিত প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন।

কাগজে-কলমে এই আয়োজনের নাম দেওয়া হয়েছে ‘দেবগ্রাম আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন পরিচালনা কমিটির সভাপতি নির্বাচন-২০২৬’। তবে গ্রামের মানুষের মূল লক্ষ্য হলো পৌরসভা নির্বাচনে নিজেদের গ্রামের শক্তি বজায় রাখা এবং একক প্রার্থী দিয়ে মেয়র পদে জয় নিশ্চিত করা। এর আগে ঐক্যবদ্ধ হয়ে এই গ্রামের বাসিন্দারা হাসান খান নামে একজনকে মেয়র পদে বিজয়ী করতে সক্ষম হয়েছিলেন। সেই সফলতার ধারাবাহিকতায় এবারও একই কৌশল বেছে নিয়েছে গ্রামবাসী। গোটা পৌরসভার মানুষের কাছেও এখন আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে এই নির্বাচন।

দেবগ্রামের প্রায় ২৬শ’ পুরুষ ভোটার এই নির্বাচনে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। সমসংখ্যক নারী ভোটার থাকলেও তাদের এই ভোট প্রক্রিয়ার বাইরে রাখা হয়েছে। ভোটগ্রহণের জন্য দেবগ্রাম হাই স্কুলে ৪টি বুথ প্রস্তুত করা হচ্ছে। নির্বাচন পরিচালনার জন্য একটি কমিশন গঠন করা হয়েছে, যেখানে একজন প্রধান নির্বাচন কমিশনার এবং ১০/১২ জন সহকারী নির্বাচন কমিশনার কাজ করছেন। তারা প্রিজাইডিং অফিসার, সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার ও পোলিং অফিসার নিয়োগের কাজ সম্পন্ন করছেন।

নির্বাচনে মোট ৩ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তারা হলেন— মোরগ প্রতীক নিয়ে শেখ মো. আমজাদ হোসেন বাবু, ছাতা প্রতীক নিয়ে বেলজিয়াম প্রবাসী রুহুল আমিন খান সুমন এবং ফুটবল প্রতীক নিয়ে আখাউড়া উপজেলা যুবদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ফয়েজ আহমেদ। শুরুতে ৪ জন প্রার্থী টাকা জমা দিলেও পরবর্তীতে একজন সরে দাঁড়ান।

নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে এবং পরবর্তীতে কেউ যেন বিদ্রোহী প্রার্থী হতে না পারেন, সেজন্য কঠোর নিয়ম করা হয়েছে। প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের প্রত্যেকের কাছ থেকে সাড়ে ৫ লাখ টাকা করে জমা নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ৫০ হাজার টাকা অফেরতযোগ্য, যা নির্বাচন পরিচালনার খরচ হিসেবে ব্যয় হবে। আর বাকি ৫ লাখ টাকা ফেরতযোগ্য জামানত। গ্রামের এই সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে যদি কেউ মূল পৌর নির্বাচনে বিদ্রোহী প্রার্থী হন, তবে তার জামানতের ৫ লাখ টাকা আর ফেরত দেওয়া হবে না। সেই অর্থ গ্রামের উন্নয়নমূলক কাজে ব্যয় করা হবে। এর আগে এক নির্বাচনে একজন বিদ্রোহী প্রার্থী হলেও জামানত না থাকায় তাকে আটকানো যায়নি। এবার সেই ফাঁক বন্ধ করতেই জামানতের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন নির্বাচন কমিশনার জানান, মূলত মেয়র নির্বাচনে প্রার্থী হতে প্রথমে ৬ জন আগ্রহ প্রকাশ করেছিলেন। কিন্তু তারা একমত হতে পারছিলেন না। পরে তাদের অনুরোধেই পুরুষ ভোটারদের ভোটের মাধ্যমে একক প্রার্থী বাছাইয়ের এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। গত কোরবানির ঈদের পর অর্থাৎ মে মাস থেকেই গ্রামের হাইস্কুল মাঠে দফায় দফায় বৈঠকের মাধ্যমে এই নির্বাচনের তোড়জোড় শুরু হয়। মনোনয়নপত্র কেনা, যাচাই-বাছাই, প্রত্যাহার এবং প্রতীক বরাদ্দের পর এখন চলছে শেষ মুহূর্তের প্রচারণা। ফেসবুকের পাশাপাশি প্রার্থীরা ভোটারদের দ্বারে দ্বারে গিয়ে ভোট প্রার্থনা করছেন।

আয়োজক কমিটির ওই কমিশনার বলেন, "কাগজে-কলমে আমরা নাম দিয়েছি— দেবগ্রাম আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন পরিচালনা কমিটির সভাপতি নির্বাচন-২০২৬। অর্থাৎ দেবগ্রামের যতো কাম-কাজ আছে, উন্নয়নমূলক কাজ, যেকোনো কাজে এই সভাপতি সভাপতিত্ব করবেন। এমনও আছে যদি মেম্বার বা চেয়ারম্যানে দাঁড়ায় আমরা তাকে আগাইয়া দিমু। এখন আমরা একটা সভাপতি বানামু। তারেই আমরা পরে মেয়র বা যেখানেই হোক পাঠামো।"

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Manab Zamin