শ্রাবণসন্ধ্যায় গীতিনাট্য শ্যামায় রবীন্দ্রনাথকে স্মরণ করল ছায়ানট
- আপডেট সময় : ০৩:৩৪:০০ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৭ অগাস্ট ২০২৬ ১৬ বার পড়া হয়েছে

বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের শ্রেষ্ঠ প্রতিভা বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ৮৫তম প্রয়াণবার্ষিকীতে তাঁর স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেছে সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান ছায়ানট। ২২ শ্রাবণ বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ধানমন্ডির ছায়ানট সংস্কৃতি-ভবন মিলনায়তনে কবির কালজয়ী গীতিনাট্য 'শ্যামা' পরিবেশনার মধ্য দিয়ে কবিগুরুকে স্মরণ করা হয়। অনুষ্ঠানের শুরুতেই বজ্রসেনের কণ্ঠে 'এসো, এসো, এসো প্রিয়ে/ মরণলোক হতে নূতন প্রাণ নিয়ে' আহ্বানের মাধ্যমে রবীন্দ্রনাথের অমর উপস্থিতিকে তুলে ধরা হয়।
১৮৬১ সালে জন্ম নেওয়া রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কবিতা, গান, গল্প, উপন্যাস, নাটক ও প্রবন্ধের মাধ্যমে বাংলা সাহিত্যকে বিশ্বদরবারে অনন্য পরিচয় দিয়েছেন। ১৯৪১ সালের ২২ শ্রাবণ মৃত্যুবরণ করলেও বাঙালির সাংস্কৃতিক পরিচয়ের ভিত্তি হিসেবে তাঁর সৃষ্টি আজও সমানভাবে প্রাসঙ্গিক। ছায়ানটের পরিবেশনায় গীতিনাট্যটির মানবিক আবেদন ও কবির গভীর জীবনবোধ দর্শকদের মুগ্ধ করেছে।
শ্যামা গীতিনাট্যটি প্রেম, ন্যায়বোধ, অপরাধবোধ ও আত্মত্যাগের এক অনন্য আখ্যান। নাটকের কেন্দ্রীয় চরিত্র রাজদরবারের নর্তকী শ্যামা বিদেশি বণিক বজ্রসেনকে ভালোবাসেন। মিথ্যা অভিযোগে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত বজ্রসেনকে বাঁচাতে শ্যামা নিরপরাধ যুবক উত্তীয়র আত্মত্যাগের পথ বেছে নেন। বজ্রসেন মুক্ত হওয়ার পর যখন এই আত্মত্যাগের কথা জানতে পারেন, তখন প্রেমের আনন্দ অপরাধবোধের ভারে ম্লান হয়ে যায়। এই নৈতিক দ্বন্দ্বই নৃত্যনাট্যটিকে গভীর মানবিক উচ্চতা দিয়েছে।
পরিবেশনায় 'মায়াবনবিহারিণী হরিণী', 'ন্যায় অন্যায় জানি নে, জানি নে', 'আমার জীবনপাত্র উচ্ছলিয়া মাধুরী করেছ দান' এবং 'হায়, এ কী সমাপন!'-এর মতো কালজয়ী গান ও সংলাপগুলো দর্শকদের গভীরভাবে স্পর্শ করেছে। শ্যামা চরিত্রে মণীষা সরকার, বজ্রসেনের ভূমিকায় দীপ্র নিশান্ত, উত্তীয়র ভূমিকায় সঞ্জয় বণিক, কোটাল অর্ণব বড়ুয়া ও বন্ধু ইনজামাম উল হোসাইন অভিনয় করেন। নেপথ্য কথনে ছিলেন তানিয়া মান্নান, সংগীত পরিচালনায় এ টি এম জাহাঙ্গীর এবং সার্বিক সজ্জা ও পরিকল্পনায় ছিলেন শর্মিলা বন্দ্যোপাধ্যায়।



























