গাইবান্ধায় ইসলামী ব্যাংক এজেন্ট শাখায় সোয়া ২ কোটি টাকা আত্মসাৎ

- আপডেট সময় : ০৭:২৮:১৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬ ২ বার পড়া হয়েছে

গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলার ধাপেরহাট ইসলামী ব্যাংক এজেন্ট আউটলেট শাখায় ৪৪ জন গ্রাহকের জমাকৃত প্রায় সোয়া দুই কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। অভিযুক্ত শাখার ক্যাশিয়ার ও পিয়নের বিরুদ্ধে দুর্নীতির সত্যতা মেলার পর তারা আগামী ১৫ দিনের মধ্যে টাকা ফেরত দেওয়ার লিখিত অঙ্গীকার করেছেন। এদিকে এই ঘটনার পর থেকে নিজেদের আমানত নিয়ে চরম উৎকণ্ঠায় রয়েছেন সাধারণ গ্রাহকরা।
গত রোববার বিকেলে গ্রাহকরা প্রথম এই জালিয়াতির বিষয়টি জানতে পারেন। এরপর সোমবার সকাল থেকেই ধাপেরহাট শাখায় ভিড় করতে শুরু করেন ভুক্তভোগী ও অন্যান্য আমানতকারীরা। কোটি কোটি টাকার হদিস না পেয়ে গ্রাহকদের মধ্যে চরম ক্ষোভ ও উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। অনেক গ্রাহক তাদের ব্যাংক হিসাবে পর্যাপ্ত টাকা না দেখে হতবাক হয়ে যান।
ওমর ফারুকসহ কয়েকজন ভুক্তভোগী অভিযোগ করে জানান, তাদের কাছে টাকা জমা দেওয়ার রসিদ থাকলেও হিসাব বিবরণীতে (স্টেটমেন্ট) সেই জমার কোনো তথ্য নেই। এর ফলে প্রায় অর্ধশত গ্রাহকের কয়েক কোটি টাকার আমানত এখন চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। এই পরিস্থিতিতে ভুক্তভোগীরা বাংলাদেশ ব্যাংক, সংশ্লিষ্ট ব্যাংক কর্তৃপক্ষ এবং স্থানীয় প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে দায়ীদের আইনের আওতায় আনার পাশাপাশি দ্রুত টাকা ফেরতের দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে ধাপেরহাট ইসলামী ব্যাংক এজেন্ট আউটলেট শাখার ব্যবস্থাপক অলিউর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, শাখার ক্যাশিয়ার ও পিয়ন মিলে এই দুর্নীতির আশ্রয় নিয়েছেন। তাদের কাছ থেকে নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে টাকা ফেরতের অঙ্গীকারনামা নেওয়া হয়েছে, যেখানে তারা আগামী ১৫ দিনের মধ্যে গ্রাহকদের অর্থ বুঝিয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
অন্যদিকে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। প্রকৃত হিসাব যাচাই-বাছাই শেষে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা করা হবে। স্থানীয় বাসিন্দারাও দ্রুত তদন্ত শেষ করে ক্ষতিগ্রস্তদের অর্থ ফেরত দেওয়ার জোর দাবি জানিয়েছেন।



























