ঢাকা ০২:৩১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৬, ২৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
এনটিআরসিএ-এর মাধ্যমেই হবে প্রতিষ্ঠান প্রধান নিয়োগ, আশ্বস্ত শিক্ষক নেতারা বাংলাদেশ-অস্ট্রেলিয়া টেস্ট সরাসরি দেখবেন যেভাবে বিএনপি অলিগার্ক তোষণের পথে হাঁটছে, অভিযোগ নাহিদ ইসলামের গাজীপুর সাফারি পার্কে দুই হাতির মৃত্যু ১১ অক্টোবর সিডনিতে বসছে চট্টগ্রাম ক্লাবের স্প্রিং ফেয়ার ২০২৬ সাংবাদিক নুর মোহাম্মদকে হত্যার হুমকি, ইরাব ও বিএসআরএফের তীব্র নিন্দা ব্রেন ক্যানসারে আক্রান্ত শিশু নূরের চিকিৎসায় সাহায্যের আকুল আবেদন বরিশালে আদালত প্রাঙ্গণে বিস্ফোরণ, সাভারে জেএমবি আস্তানায় অভিযান বোয়ালমারীতে আওয়ামী লীগ নেতা এস এম ফারুক গ্রেপ্তার আনসার ও ভিডিপির ফ্রিল্যান্সিং কোর্সের প্রশিক্ষণার্থী বাছাই সম্পন্ন

হরমুজ প্রণালিতে অবরুদ্ধ থাকার পর দেশে ফিরলেন ‘বাংলার জয়যাত্রা’র ১৭ নাবিক

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৬:০৭:১৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬ ২৪ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

হরমুজ প্রণালিতে দীর্ঘ প্রায় চার মাস অবরুদ্ধ দশা কাটিয়ে অবশেষে দেশে ফিরেছেন বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের (বিএসসি) জাহাজ ‘এমভি বাংলার জয়যাত্রা’র ১৭ বাংলাদেশি নাবিক। দক্ষিণ আফ্রিকার ডারবান থেকে এমিরেটস এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইটে দুবাই হয়ে মঙ্গলবার (২১ জুলাই) বিকেল ৫টা ৪২ মিনিটে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান তারা। বাকি ১৪ নাবিক আরও কিছুদিন পর মালয়েশিয়া হয়ে দেশে ফিরবেন বলে নিশ্চিত করেছেন বিএসসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক কমডোর মাহমুদুল মালেক।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যে হরমুজ প্রণালিতে আটকা পড়েছিল বাংলাদেশের পতাকাবাহী এই জাহাজটি। দীর্ঘ ৩ মাস ২৫ দিন অবরুদ্ধ থাকার পর গত ২৩ জুন রাতে জাহাজটি হরমুজ প্রণালি পার হতে সক্ষম হয়। বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর সন্ধ্যায় এক সংবাদ সম্মেলনে জাহাজের ক্যাপ্টেন মো. শফিকুল ইসলাম সেই রুদ্ধশ্বাস দিনগুলোর বিবরণ তুলে ধরেন।

সংবাদ সম্মেলনে ক্যাপ্টেন শফিকুল ইসলাম কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, ‘আলহামদুলিল্লাহ, আমরা দ্বিতীয় জীবন পেলাম। দেশবাসী যাঁরা আমাদের জন্য দোয়া করেছেন, মানসিক সমর্থন দিয়েছেন এবং প্রতিনিয়ত খোঁজখবর নিয়েছেন, তাঁদের সবার কাছে আমরা কৃতজ্ঞ।’ তিনি আরও জানান, বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষের সময়োপযোগী সিদ্ধান্তের কারণেই তাঁরা রাষ্ট্রীয় সম্পদ অক্ষত রেখে নিরাপদে দেশে ফিরে আসতে পেরেছেন।

যুদ্ধকালীন ভয়াবহ পরিস্থিতির বর্ণনা দিয়ে ক্যাপ্টেন শফিকুল বলেন, যুদ্ধের সময় যখন জাহাজের ওপর দিয়ে ক্ষেপণাস্ত্র উড়ে যাচ্ছিল এবং পাশে অন্যান্য জাহাজ ডুবে যাচ্ছিল, তখন সরকারের পক্ষ থেকে তাঁদের বারবার জাহাজ ছেড়ে হোটেলে নিরাপদ আশ্রয়ে চলে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু রাষ্ট্রীয় সম্পদ রক্ষা করার তাগিদে তাঁরা জাহাজ ছেড়ে যাননি। জেবেল আলী বন্দরে অবস্থানকালীন এক রাতের অভিজ্ঞতার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, তাঁদের পাশের বার্থে একটি ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় একটি তেল ট্যাংকারে আগুন ধরে যায়। ছয়টি টাগবোট দিয়েও সেই আগুন নেভানো যাচ্ছিল না। ওই ট্যাংকারের ৪০টি ট্যাংকের যেকোনো একটি বিস্ফোরিত হলে সেই আগুন তাঁদের জাহাজেও ছড়িয়ে পড়তে পারত।

জাহাজের তৎকালীন কমান্ডিং অফিসার প্রণয় কৃষ্ণ সেন সংবাদ সম্মেলনে জানান, প্রতিকূল পরিস্থিতিতে তাঁদের স্যাটেলাইট নেভিগেশন ব্যবস্থা অকার্যকর হয়ে পড়েছিল। ফলে সম্পূর্ণ ম্যানুয়াল নেভিগেশনের মাধ্যমে তাঁদের জাহাজ চালাতে হয়েছে। ওই এলাকায় মাইন বিছানো থাকায় সামান্যতম ভুল বা বিচ্যুতিতেও বড় ধরনের বিস্ফোরণের চরম ঝুঁকি ছিল।

বিমানবন্দরে নাবিকেরা এসে পৌঁছালে বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের কর্মকর্তারা তাঁদের ফুল দিয়ে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান। টার্মিনালের বাইরে দীর্ঘ সময় ধরে অপেক্ষায় ছিলেন নাবিকদের স্বজনেরা। সংবাদ সম্মেলন শেষে নাবিকেরা বাইরে বের হওয়া মাত্রই স্বজনেরা তাঁদের জড়িয়ে ধরেন এবং বিমানবন্দরে এক আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Alokito Bangladesh

নিউজটি শেয়ার করুন

হরমুজ প্রণালিতে অবরুদ্ধ থাকার পর দেশে ফিরলেন ‘বাংলার জয়যাত্রা’র ১৭ নাবিক

আপডেট সময় : ০৬:০৭:১৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬

হরমুজ প্রণালিতে দীর্ঘ প্রায় চার মাস অবরুদ্ধ দশা কাটিয়ে অবশেষে দেশে ফিরেছেন বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের (বিএসসি) জাহাজ ‘এমভি বাংলার জয়যাত্রা’র ১৭ বাংলাদেশি নাবিক। দক্ষিণ আফ্রিকার ডারবান থেকে এমিরেটস এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইটে দুবাই হয়ে মঙ্গলবার (২১ জুলাই) বিকেল ৫টা ৪২ মিনিটে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান তারা। বাকি ১৪ নাবিক আরও কিছুদিন পর মালয়েশিয়া হয়ে দেশে ফিরবেন বলে নিশ্চিত করেছেন বিএসসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক কমডোর মাহমুদুল মালেক।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যে হরমুজ প্রণালিতে আটকা পড়েছিল বাংলাদেশের পতাকাবাহী এই জাহাজটি। দীর্ঘ ৩ মাস ২৫ দিন অবরুদ্ধ থাকার পর গত ২৩ জুন রাতে জাহাজটি হরমুজ প্রণালি পার হতে সক্ষম হয়। বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর সন্ধ্যায় এক সংবাদ সম্মেলনে জাহাজের ক্যাপ্টেন মো. শফিকুল ইসলাম সেই রুদ্ধশ্বাস দিনগুলোর বিবরণ তুলে ধরেন।

সংবাদ সম্মেলনে ক্যাপ্টেন শফিকুল ইসলাম কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, ‘আলহামদুলিল্লাহ, আমরা দ্বিতীয় জীবন পেলাম। দেশবাসী যাঁরা আমাদের জন্য দোয়া করেছেন, মানসিক সমর্থন দিয়েছেন এবং প্রতিনিয়ত খোঁজখবর নিয়েছেন, তাঁদের সবার কাছে আমরা কৃতজ্ঞ।’ তিনি আরও জানান, বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষের সময়োপযোগী সিদ্ধান্তের কারণেই তাঁরা রাষ্ট্রীয় সম্পদ অক্ষত রেখে নিরাপদে দেশে ফিরে আসতে পেরেছেন।

যুদ্ধকালীন ভয়াবহ পরিস্থিতির বর্ণনা দিয়ে ক্যাপ্টেন শফিকুল বলেন, যুদ্ধের সময় যখন জাহাজের ওপর দিয়ে ক্ষেপণাস্ত্র উড়ে যাচ্ছিল এবং পাশে অন্যান্য জাহাজ ডুবে যাচ্ছিল, তখন সরকারের পক্ষ থেকে তাঁদের বারবার জাহাজ ছেড়ে হোটেলে নিরাপদ আশ্রয়ে চলে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু রাষ্ট্রীয় সম্পদ রক্ষা করার তাগিদে তাঁরা জাহাজ ছেড়ে যাননি। জেবেল আলী বন্দরে অবস্থানকালীন এক রাতের অভিজ্ঞতার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, তাঁদের পাশের বার্থে একটি ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় একটি তেল ট্যাংকারে আগুন ধরে যায়। ছয়টি টাগবোট দিয়েও সেই আগুন নেভানো যাচ্ছিল না। ওই ট্যাংকারের ৪০টি ট্যাংকের যেকোনো একটি বিস্ফোরিত হলে সেই আগুন তাঁদের জাহাজেও ছড়িয়ে পড়তে পারত।

জাহাজের তৎকালীন কমান্ডিং অফিসার প্রণয় কৃষ্ণ সেন সংবাদ সম্মেলনে জানান, প্রতিকূল পরিস্থিতিতে তাঁদের স্যাটেলাইট নেভিগেশন ব্যবস্থা অকার্যকর হয়ে পড়েছিল। ফলে সম্পূর্ণ ম্যানুয়াল নেভিগেশনের মাধ্যমে তাঁদের জাহাজ চালাতে হয়েছে। ওই এলাকায় মাইন বিছানো থাকায় সামান্যতম ভুল বা বিচ্যুতিতেও বড় ধরনের বিস্ফোরণের চরম ঝুঁকি ছিল।

বিমানবন্দরে নাবিকেরা এসে পৌঁছালে বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের কর্মকর্তারা তাঁদের ফুল দিয়ে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান। টার্মিনালের বাইরে দীর্ঘ সময় ধরে অপেক্ষায় ছিলেন নাবিকদের স্বজনেরা। সংবাদ সম্মেলন শেষে নাবিকেরা বাইরে বের হওয়া মাত্রই স্বজনেরা তাঁদের জড়িয়ে ধরেন এবং বিমানবন্দরে এক আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Alokito Bangladesh