বাজেটে ব্যবসা ও কর্মসংস্থানবান্ধব নীতির প্রতিফলন: মাহ্দী আমিন
- আপডেট সময় : ১১:৪৮:৩১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬ ২১ বার পড়া হয়েছে

সম্প্রতি ঘোষিত বাজেটে ব্যবসা, বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানবান্ধব নীতি প্রণয়নের প্রতিফলন ঘটেছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও তার কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহ্দী আমিন। মঙ্গলবার বিকেলে ঢাকার রেডিসন ব্লু ওয়াটার গার্ডেন হোটেলে 'বেইলা ফিউচার সামিট-২০২৬' এর সমাপনী অধিবেশনে তিনি এ কথা বলেন। বাংলাদেশ অ্যাপারেল ইয়ুথ লিডার্স অ্যালায়েন্সের (বেইলা) আয়োজনে দুই দিনব্যাপী এই সম্মেলনে প্রায় দেড় হাজার অংশগ্রহণকারী, পাঁচ শতাধিক শীর্ষ নির্বাহী কর্মকর্তা (সিএক্সও), পোশাক খাতের উদ্যোক্তা, শিল্পনেতা এবং দেশি-বিদেশি অতিথি অংশ নেন।
মাহ্দী আমিন বলেন, তরুণ প্রজন্মের স্বপ্ন ও আকাঙ্ক্ষা পূরণে শাসনব্যবস্থার নীতি ও পরিকল্পনাগুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তরুণ প্রজন্ম এমন একটি পরিবেশ প্রত্যাশা করে যেখানে তাদের মেধা ও উদ্ভাবনী শক্তি বিকশিত হতে পারে। সরকার কর্মসংস্থান সৃষ্টিকে বাজেটে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়েছে। তিনি নতুন উদ্যোক্তাদের উদ্দেশ্যে বলেন, বন্ডেড সুবিধার প্রক্রিয়া সহজতর করা, আমলাতান্ত্রিক জটিলতা হ্রাস এবং ব্যবসা পরিচালনায় সহজলভ্যতা বৃদ্ধির পাশাপাশি পরিচালন ব্যয় কমানোর প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে নতুন সরকার। তিনি স্বীকার করেন যে, বিগত বহু বছর ধরে উদ্যোক্তারা এসব সুবিধা থেকে বঞ্চিত ছিলেন, তবে বর্তমান সরকার এই ইতিবাচক পরিবর্তনে বদ্ধপরিকর।
স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার ওপর গুরুত্বারোপ করে প্রধানমন্ত্রীর এই উপদেষ্টা বলেন, সরকার এমন উন্নয়ন চায় যা সার্বজনীন ও অন্তর্ভুক্তিমূলক। মেগা প্রকল্পের অন্তরালে মেগা দুর্নীতির সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে এসে সরকার অবকাঠামোর বদলে তরুণ মানবসম্পদের পেছনে বিনিয়োগকে মূল লক্ষ্য হিসেবে নির্ধারণ করেছে। শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও সক্ষমতা বৃদ্ধিকে বাজেটে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতার বাজারে টিকে থাকতে কর্মীদের দক্ষতা বৃদ্ধি ও উৎপাদনশীলতা বাড়ানো জরুরি। বর্তমান সরকার ধাপে ধাপে ব্যবসা পরিচালনার ব্যয় ও আমলাতান্ত্রিক জটিলতা কমিয়ে আনার চেষ্টা করবে।
প্রযুক্তি গ্রহণের ক্ষেত্রে ভারসাম্য বজায় রাখার ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, চতুর্থ শিল্প বিপ্লব, রোবোটিক্স এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার যুগে আমাদের প্রসেস ও পণ্যের উদ্ভাবনে প্রযুক্তিগত সংযুক্তি অপরিহার্য। তবে প্রযুক্তি ব্যবহারের ফলে যেন বেকারত্ব সৃষ্টি না হয়, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। সরকার বন্ডেড ওয়্যারহাউজের নবায়ন জটিলতা দূর করা এবং প্রণোদনা দ্রুততম সময়ে পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করছে। তিনি আরও বলেন, সরকার বন্ধ হয়ে যাওয়া কারখানাগুলো পুনরায় চালুর উদ্যোগ নিচ্ছে এবং সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বকে গুরুত্ব দিচ্ছে।
মাহ্দী আমিন বলেন, বাংলাদেশের বিশাল তরুণ জনগোষ্ঠী, অভ্যন্তরীণ বাজার এবং গণতান্ত্রিক পরিবেশকে কাজে লাগিয়ে জ্বালানি নিরাপত্তা ও বন্দর ব্যবস্থাপনার আধুনিকায়নে সরকার কাজ করছে। বিদ্যুৎ ও গ্যাসের সংকট নিরসনে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে কাজ চলছে। তিনি বলেন, সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে যেতে তরুণ প্রজন্মের আকাঙ্ক্ষা রাষ্ট্র পরিচালনায় প্রতিফলিত হবে এবং সরকার একটি সর্বজনীন, ন্যায্যতা ও ন্যায়বিচারপূর্ণ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

























