ঢাকা ০৯:১৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৯ অগাস্ট ২০২৬, ১৪ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
৯/১১-কে ‘সন্ত্রাসী হামলা’ না বলার নির্দেশ নিয়ে সিবিসির সমালোচনা ৭০ লাখ টাকায় নির্মিত অতিথিশালা, ১৪ বছরেও পর্যটকশূন্য হালান্ড ও চেরকির জোড়া গোল, ক্রিস্টাল প্যালেসকে ৪-১ ব্যবধানে ওড়াল ম্যানসিটি অপ্রাপ্তবয়স্কদের জন্য ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামে মেটার নতুন নিয়ম জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব নিলেন আইরিন খান মৌলভীবাজারের সবুজে সোনালি চন্দ্রপ্রভার হলুদ উৎসব সরকারি কলেজে শিক্ষক সংকট ও শিক্ষার মানোন্নয়নের চ্যালেঞ্জ উদ্বোধনের পরই অচল অন্তর্বর্তী সরকারের নাগরিক সেবাকেন্দ্র, ৪টিতেই তালা স্বাস্থ্য খাতের আমূল সংস্কারে স্বাস্থ্য কমিশন গঠনের প্রস্তাব ১১ অঞ্চলে ঝোড়ো হাওয়া ও বজ্রবৃষ্টির পূর্বাভাস, নদীবন্দরে সতর্ক সংকেত

রাজশাহীতে মোটর শ্রমিকদের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বে বাস চলাচল বন্ধ

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১১:৪৯:৩৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬ ৩৬ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

রাজশাহী জেলা মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের নির্বাচনকে কেন্দ্র করে শ্রমিকদের দুই পক্ষের মধ্যে সৃষ্ট তীব্র দ্বন্দ্বে রাজশাহী থেকে আন্তঃজেলা বাস চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। সোমবার রাত ৮টা থেকে এই অচলাবস্থা শুরু হয়। রাতে কেবল দূরপাল্লার বাসগুলো ছেড়ে যাওয়ার কথা থাকলেও, মঙ্গলবার সকাল থেকে সব রুটের বাস চলাচল বন্ধ রাখার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। যদিও শ্রমিকদের অপর একটি পক্ষ বাস চলাচল স্বাভাবিক রাখার পক্ষে অবস্থান নিয়েছে।

সংগঠনটির নির্বাচনকে কেন্দ্র করে শ্রমিকরা বেশ কয়েক মাস ধরেই দুইভাগে বিভক্ত। গত ২৩ এপ্রিল নির্বাচন দাবি করা শ্রমিকদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। সে সময় ইউনিয়নের তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক ও মহানগর শ্রমিক দলের আহ্বায়ক রফিকুল ইসলামের (পাখি) অনুসারীদের বিরুদ্ধে টার্মিনালে হাঙ্গামার অভিযোগ ওঠে। পরবর্তীতে সড়ক পরিবহন ফেডারেশন রফিকুল ইসলামকে সভাপতি করে নতুন কমিটি ঘোষণা করলে শ্রমিকরা তা প্রত্যাখ্যান করে মে মাসে কয়েক দফা ধর্মঘট পালন করেন। সে সময় জেলা প্রশাসক ঈদের পর নির্বাচনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সোমবার বিকেলে জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলাম নিজ কার্যালয়ে শ্রমিক নেতাদের নিয়ে এক বৈঠকে বসেন। সভায় রাজশাহী সড়ক পরিবহন গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলামও (হেলাল) উপস্থিত ছিলেন। সভায় জেলা প্রশাসক একটি নির্বাচনি কমিটি গঠনের প্রস্তাব দিলেও, বিরোধী পক্ষ তা প্রত্যাখ্যান করে সাধারণ সভার মাধ্যমে নির্বাচনি বোর্ড গঠনের দাবি জানায়।

জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলাম জানান, নির্বাচনি কমিটি না থাকায় সাধারণ সভার মাধ্যমে বোর্ড গঠন করা সম্ভব নয়। তিনি কোনো পক্ষের প্রতি পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, বিষয়টি সমাধানের উপায় খোঁজা হচ্ছে। তবে সভার পর শিরোইল বাস টার্মিনাল এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং এক পর্যায়ে নজরুল ইসলামের ব্যক্তিগত চেম্বারে ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে।

শ্রমিক নেতা মোমিনুল ইসলাম মোমিন অভিযোগ করেন, জেলা প্রশাসক একতরফাভাবে নজরুল ইসলামকে রেখে কমিটি গঠনের চেষ্টা করছেন, যা সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিপন্থী। এর প্রতিবাদেই শ্রমিকরা বাস চলাচল বন্ধের ঘোষণা দিয়েছেন। অন্যদিকে, পরিবহন গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম হেলাল পাল্টা অভিযোগ করে বলেন, আলোচনার টেবিলে কথা-কাটাকাটি হওয়া স্বাভাবিক, কিন্তু এর জেরে চেম্বারে হামলা ও বাস বন্ধ রাখা কোনোভাবেই কাম্য নয়। মালিকপক্ষ হিসেবে তারা বাস চলাচল সচল রাখার পক্ষে রয়েছেন।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Prothom Alo

নিউজটি শেয়ার করুন

রাজশাহীতে মোটর শ্রমিকদের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বে বাস চলাচল বন্ধ

আপডেট সময় : ১১:৪৯:৩৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬

রাজশাহী জেলা মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের নির্বাচনকে কেন্দ্র করে শ্রমিকদের দুই পক্ষের মধ্যে সৃষ্ট তীব্র দ্বন্দ্বে রাজশাহী থেকে আন্তঃজেলা বাস চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। সোমবার রাত ৮টা থেকে এই অচলাবস্থা শুরু হয়। রাতে কেবল দূরপাল্লার বাসগুলো ছেড়ে যাওয়ার কথা থাকলেও, মঙ্গলবার সকাল থেকে সব রুটের বাস চলাচল বন্ধ রাখার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। যদিও শ্রমিকদের অপর একটি পক্ষ বাস চলাচল স্বাভাবিক রাখার পক্ষে অবস্থান নিয়েছে।

সংগঠনটির নির্বাচনকে কেন্দ্র করে শ্রমিকরা বেশ কয়েক মাস ধরেই দুইভাগে বিভক্ত। গত ২৩ এপ্রিল নির্বাচন দাবি করা শ্রমিকদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। সে সময় ইউনিয়নের তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক ও মহানগর শ্রমিক দলের আহ্বায়ক রফিকুল ইসলামের (পাখি) অনুসারীদের বিরুদ্ধে টার্মিনালে হাঙ্গামার অভিযোগ ওঠে। পরবর্তীতে সড়ক পরিবহন ফেডারেশন রফিকুল ইসলামকে সভাপতি করে নতুন কমিটি ঘোষণা করলে শ্রমিকরা তা প্রত্যাখ্যান করে মে মাসে কয়েক দফা ধর্মঘট পালন করেন। সে সময় জেলা প্রশাসক ঈদের পর নির্বাচনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সোমবার বিকেলে জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলাম নিজ কার্যালয়ে শ্রমিক নেতাদের নিয়ে এক বৈঠকে বসেন। সভায় রাজশাহী সড়ক পরিবহন গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলামও (হেলাল) উপস্থিত ছিলেন। সভায় জেলা প্রশাসক একটি নির্বাচনি কমিটি গঠনের প্রস্তাব দিলেও, বিরোধী পক্ষ তা প্রত্যাখ্যান করে সাধারণ সভার মাধ্যমে নির্বাচনি বোর্ড গঠনের দাবি জানায়।

জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলাম জানান, নির্বাচনি কমিটি না থাকায় সাধারণ সভার মাধ্যমে বোর্ড গঠন করা সম্ভব নয়। তিনি কোনো পক্ষের প্রতি পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, বিষয়টি সমাধানের উপায় খোঁজা হচ্ছে। তবে সভার পর শিরোইল বাস টার্মিনাল এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং এক পর্যায়ে নজরুল ইসলামের ব্যক্তিগত চেম্বারে ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে।

শ্রমিক নেতা মোমিনুল ইসলাম মোমিন অভিযোগ করেন, জেলা প্রশাসক একতরফাভাবে নজরুল ইসলামকে রেখে কমিটি গঠনের চেষ্টা করছেন, যা সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিপন্থী। এর প্রতিবাদেই শ্রমিকরা বাস চলাচল বন্ধের ঘোষণা দিয়েছেন। অন্যদিকে, পরিবহন গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম হেলাল পাল্টা অভিযোগ করে বলেন, আলোচনার টেবিলে কথা-কাটাকাটি হওয়া স্বাভাবিক, কিন্তু এর জেরে চেম্বারে হামলা ও বাস বন্ধ রাখা কোনোভাবেই কাম্য নয়। মালিকপক্ষ হিসেবে তারা বাস চলাচল সচল রাখার পক্ষে রয়েছেন।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Prothom Alo