বাস-ট্রেন-বিমানসহ জনসমাগমস্থলে বাজুক নজরুলের গান, দাবি গবেষকদের
- আপডেট সময় : ০২:০৪:৩০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬ ৮ বার পড়া হয়েছে

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সৃষ্টিকর্মকে দেশ ও বিদেশে আরও বিস্তৃতভাবে ছড়িয়ে দেওয়ার লক্ষ্যে পাঠ্যপুস্তক, গবেষণা, প্রকাশনা এবং ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে তাঁর কাজের প্রসার বাড়ানোর জোরালো আহ্বান জানিয়েছেন দেশের বিশিষ্ট নজরুল–গবেষক, শিল্পী, কবি ও আবৃত্তিশিল্পীরা। রোববার বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির আয়োজনে জাতীয় চিত্রশালা মিলনায়তনে ‘নজরুল বর্ষ’ উপলক্ষে আয়োজিত এক শিল্পী সম্মিলন ও মতবিনিময় সভায় এই প্রস্তাবগুলো উঠে আসে। সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের পৃষ্ঠপোষকতায় আয়োজিত এই সভায় দেশের বিভিন্ন শিল্পমাধ্যমের প্রায় চার শ শিল্পী ও সংস্কৃতিকর্মী অংশ নেন।
সভায় বক্তারা পরামর্শ দেন যে, বাস, ট্রেন ও বিমানসহ বিভিন্ন জনসমাগমস্থলে নজরুলের গান ও সৃষ্টিকর্ম উপস্থাপনের উদ্যোগ নিলে তাঁর দর্শন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পরিসরে আরও কার্যকরভাবে ছড়িয়ে পড়বে। বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ‘নজরুল বর্ষ ২০২৬-২৭’ উপলক্ষে বছরব্যাপী নানা কর্মসূচি বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে। এই কর্মসূচিগুলোকে আরও জনমুখী ও কার্যকর করতে এই মতবিনিময়ের আয়োজন করা হয়।
আলোচনায় অংশ নিয়ে বক্তারা শুধু রাজধানীকেন্দ্রিক নয়, জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ে নজরুল প্রতিভা অন্বেষণ, কর্মশালা এবং গবেষণা কার্যক্রম বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন। পাশাপাশি বিদেশে ‘নজরুল কালচারাল সেন্টার’ প্রতিষ্ঠার পরামর্শ দেন তাঁরা। নজরুলচর্চাকে কেবল গান বা নাচের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে যন্ত্রসংগীত, সেমিনার ও প্রশিক্ষণের মাধ্যমে নতুন প্রজন্মের কাছে শুদ্ধ বাণী ও সুরে পৌঁছে দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়। এছাড়া নজরুলের সৃষ্টিকর্ম সংরক্ষণ, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে বিস্তার, জনসমাগমস্থলে স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ, নজরুল কালচারাল মিউজিয়াম প্রতিষ্ঠা এবং একটি থিম সং তৈরির প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছে।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী বলেন, মাদক, মৌলবাদ ও উগ্রবাদমুক্ত সমাজ গঠনে সাংস্কৃতিক শিক্ষা অপরিহার্য। তিনি নতুন প্রজন্মকে বাংলা সংস্কৃতির ধারার সঙ্গে পরিচিত করার পাশাপাশি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাঠ্যপুস্তকে নজরুলের গান ও কবিতা আরও অন্তর্ভুক্তির প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম। সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাসাসের আহ্বায়ক হেলাল খান। সভাপতিত্ব করেন সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের সচিব কানিজ মওলা এবং ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন শিল্পকলা একাডেমির সচিব মোহাম্মদ জাকির হোসেন।
শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক রেজাউদ্দিন স্টালিন জানান, অংশগ্রহণকারীদের সব পরামর্শ বিবেচনায় নিয়ে ‘নজরুল বর্ষ ২০২৬-২০২৭’ উদ্যাপনের কর্মসূচিগুলো বাস্তবায়ন করা হবে। আলোচনায় লুবনা মারিয়াম, ফেরদৌস আরা, খায়রুল আনাম শাকিল, কল্পনা আনাম, সাদিয়া আফরীন মল্লিক, ফাতেমা তুজ জোহরা, অধ্যাপক নাশিদ কামাল, ইয়াকুব আলী খান, গাজী আব্দুল হাকিম, সুজিত মোস্তফা, সীমা ইসলাম, এ এফ এম হায়াত উল্লাহ, সাজু আহমেদ ও প্রিয়াংকা গোপসহ বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ বক্তব্য রাখেন।




























