মাতৃত্বের পরিকল্পনা ও ক্যারিয়ারের ভারসাম্য রক্ষায় তারকাদের এগ ফ্রিজিং
- আপডেট সময় : ১১:৪৯:৩০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬ ৬ বার পড়া হয়েছে

বর্তমান সময়ে নারীর প্রজনন স্বাস্থ্য, মাতৃত্ব এবং ক্যারিয়ারের পরিকল্পনা নিয়ে নতুন করে সচেতনতা তৈরি হয়েছে। এর অন্যতম কারণ হলো ‘এগ ফ্রিজিং’ বা ডিম্বাণু সংরক্ষণ নিয়ে জনপ্রিয় তারকাদের খোলামেলা আলোচনা। ব্যক্তিগত জীবন ও কর্মজীবনের ভারসাম্য বজায় রাখতেই অনেক অভিনেত্রী এই পদ্ধতির সহায়তা নিচ্ছেন। চিকিৎসাবিজ্ঞানের এই পদ্ধতিতে সুস্থ ডিম্বাণু সংগ্রহ করে অত্যন্ত নিম্ন তাপমাত্রায় দীর্ঘ সময়ের জন্য সংরক্ষণ করা হয়, যা ভবিষ্যতে গর্ভধারণের সম্ভাবনা ধরে রাখতে সাহায্য করে। তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলছেন, এটি সন্তান জন্মের শতভাগ নিশ্চয়তা দেয় না, বরং মাতৃত্বের একটি অতিরিক্ত সুযোগ তৈরি করে মাত্র।
বলিউডের একাধিক তারকা তাদের এই অভিজ্ঞতার কথা প্রকাশ্যে জানিয়েছেন। প্রিয়াঙ্কা চোপড়া জোনাস তার মা ডা. মধু চোপড়ার পরামর্শে কম বয়সেই ডিম্বাণু সংরক্ষণ করেছিলেন, যা তাকে ক্যারিয়ার ও মাতৃত্বের চাপ কমাতে সাহায্য করেছে। কৃতি শ্যানন ‘মিমি’ ছবির শুটিংয়ের সময় এই সিদ্ধান্ত নেন এবং একে নিজের শরীরের প্রতি দায়িত্বশীল পদক্ষেপ বলে মনে করেন। রিচা চাড্ডা করোনা মহামারির সময়ে এই পদ্ধতি বেছে নেন। মোনা সিং ৩৪ বছর বয়সে এবং তানিশা মুখার্জি ৩৯ বছর বয়সে ডিম্বাণু সংরক্ষণের সিদ্ধান্ত নেন; তানিশার মতে, বিয়ে ও মাতৃত্বকে একসঙ্গে দেখার বাধ্যবাধকতা এখন আর নেই।
ঈশা গুপ্তা ভবিষ্যতের মাতৃত্বের সম্ভাবনা অক্ষুণ্ন রাখতে এই পথ বেছে নিয়েছেন। আকাঙ্ক্ষা রঞ্জন কাপুর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের শারীরিক ও মানসিক অভিজ্ঞতার কথা শেয়ার করে সচেতনতা বাড়িয়েছেন। এছাড়া জনপ্রিয় প্রযোজক একতা কাপুর ক্যারিয়ারের শুরুতেই ডিম্বাণু সংরক্ষণ করেছিলেন এবং পরবর্তীতে সারোগেসির মাধ্যমে মা হয়েছেন। রাখি সাওয়ান্ত এবং নেহা ধূপিয়াও (৩৪ বছর বয়সে) এই পদ্ধতির কথা প্রকাশ্যে জানিয়েছেন, যেখানে নেহা পরবর্তীতে স্বাভাবিকভাবেই দুই সন্তানের মা হয়েছেন। মৃণাল ঠাকুরও এই বিকল্পের বিষয়ে ইতিবাচক মত প্রকাশ করেছেন।
দক্ষিণী তারকা রাম চরণের স্ত্রী উপাসনা কামিনেনি কোনিডেলা ২৯ বছর বয়সে ডিম্বাণু সংরক্ষণের সিদ্ধান্ত নেন, যাকে তিনি ভবিষ্যতের জন্য ‘সেরা বিমা’ হিসেবে অভিহিত করেন এবং পরবর্তীতে তিনি মা হয়েছেন। চিকিৎসকদের মতে, কেবল তারকারাই নন, বরং বয়স, স্বাস্থ্যগত অবস্থা, ক্যানসারের চিকিৎসা বা ক্যারিয়ারের প্রয়োজনে অনেক নারীই এখন এই পদ্ধতির দিকে ঝুঁকছেন। তবে এটি সবার জন্য সমানভাবে প্রযোজ্য নয় বলে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।




























