ঢাকা ১১:৩২ অপরাহ্ন, রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৬, ২৬ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ব্যবসার প্রয়োজনে স্ত্রীর কাছে টাকা চাওয়া যৌতুক নয়, রাসেলকে খালাস হাইকোর্টের রিয়াদ বিমানবন্দরে আবারও হামলা, যাত্রী টার্মিনালে অগ্নিকাণ্ড রিয়াদ বিমানবন্দরে আবারও অজ্ঞাত বস্তুর আঘাত ও অগ্নিকাণ্ড হুতি হামলার জেরে রিয়াদে আতঙ্ক, বন্ধ বিমানবন্দর ও স্কুল ল্যাপটপের অবস্থান জেনেও উদ্ধার করতে পারছে না পুলিশ জ্বালানি তেল ও দুর্নীতির প্রতিবাদে এনসিপির সপ্তাহব্যাপী কর্মসূচি খাগড়াছড়িতে নারী ফুটবল একাডেমি প্রতিষ্ঠার ঘোষণা ওয়াদুদ ভূইয়ার দুমকিতে নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে অবাধে চলছে মা ইলিশ শিকার শেরেবাংলা নগরে সরছে সচিবালয়, ডিসেম্বরে উদ্বোধনের পরিকল্পনা চাঁপাইনবাবগঞ্জে সারের দাবিতে ডিলারের গোডাউনে কৃষকদের হামলা

উজানের পাহাড়ি ঢলে রংপুরে তিস্তা নদীর পানি বিপদসীমার উপরে কাটেনি আতঙ্ক

স্টাফ রিপোর্টার রংপুর:
  • আপডেট সময় : ০৩:২৬:২৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ৮ অক্টোবর ২০২৫ ২০৪ বার পড়া হয়েছে

উজানের পাহাড়ি ঢলে রংপুরে তিস্তা নদীর পানি বিপদসীমার উপরে কাটেনি আতঙ্ক

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি




স্টাফ রিপোর্টার রংপুর:

উজানের পাহাড়ি ঢলে রংপুরে তিস্তা নদীর পানি বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এতে করে জেলার ৩ উপজেলার প্রায় ৩ হাজার পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। বিভিন্ন এলাকায় দেখা দিয়েছে বিশুদ্ধ পানির সংকট। পানির তোড়ে ভেঙে যাচ্ছে তিস্তা সেতু রক্ষা বাঁধসহ রাস্তাঘাট। বন্যাদুর্গতের শুকনা খাবার বিতরণসহ বন্যা পরবর্তীতে ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তার আশ্বাস দিয়েছে উপজেলা প্রশাসন।

কাউনিয়ার টেপামধুপুর ইউনিয়নের মরিয়ম আক্তার বলেন, তিস্তার পানিত পুকুরের মাছ, আমনের ক্ষ্যাত ভাসি গেইছে। এ্যালা হামরা সারা বছর কেমন করি চলমো। সরকার যদি কিছু সহযোগিতা না করলে হামার ম্যালা দুঃখ আছে।

গঙ্গাচড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহমুদ হাসান মৃধা জানান, গঙ্গাচড়া উপজেলায় ৬টি ইউনিয়ন তিস্তা নদী বেষ্টিত। তিস্তার পানিতে ইউনিয়নবাসীরা পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। তাদের উদ্ধার, নিরাপদ স্থানে নিতে ইউনিয়ন চেয়ারম্যানদের বলা হয়েছে।

এ ছাড়া বন্যাদুর্গতদের সহযোগিতার জন্য উপজেলা প্রশাসন কাজ করছে। ইতিমধ্যে উপজেলা প্রশাসন থেকে পানিবন্দি মানুষদের জন্য ২০ টন চাল এবং ২ লাখ টাকা আর্থিক সহযোগিতা করা হয়েছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা যায়, ভারতের সিকিমসহ বিভিন্ন প্রদেশে ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টিপাতের কারণে রবিবার সকাল থেকে তিস্তা নদীর পানি বাড়তে থাকে। সন্ধ্যার পর ভারত থেকে রেকর্ড পরিমাণ পানি ধেয়ে আসে তিস্তায়। রাত ১০টায় তিস্তা নদীর ডালিয়া পয়েন্টে পানি বিপদসীমার ৩০ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। যা এ বছর তিস্তায় সর্বোচ্চ পানির উচ্চতা হিসেবে রেকর্ড করে পাউবো। এতে করে গঙ্গাচড়া উপজেলার নোহালী, আলমবিদিতর, কোলকোন্দ, লক্ষ্মীটারী, গজঘণ্টা ও মর্ণেয়া ইউনিয়ন, কাউনিয়া উপজেলার বালাপাড়া, টেপামধুপুর ইউনিয়ন এবং পীরগাছা উপজেলার ছাওলা ইউনিয়নে তিস্তার তীরবর্তী নিম্নাঞ্চল, চর, দ্বীপচরের প্রায় ৩ হাজার পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। এ ছাড়া এসব এলাকার আগাম আমন ধান, বাদাম, মরিচের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। হাঁস-মুরগি, গরু-ছাগলসহ গবাদিপশু-পাখি নিয়ে বিপাকে পড়েছেন চরের মানুষ।

এদিকে, গত আগস্ট মাস থেকে গঙ্গাচড়ার তিস্তা সেতু রক্ষা বাঁধে ভাঙন শুরু হয়। গত রবিবার থেকে পানির তীব্র স্রোতের কারণে সেই বাঁধের একটি বড় অংশ নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। তবে সোমবার দুপুর থেকে কমতে শুরু করে তিস্তার পানি। বিকাল ৩টায় কাউনিয়া পয়েন্টে তিস্তা নদীর পানি বিপদসীমার ২০ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে এবং ডালিয়া পয়েন্টে বিপদসীমার ২০ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে।

গঙ্গাচড়া উপজেলার লক্ষ্মীটারী ইউনিয়নের আমেনা ইসলাম বলেন, রাইতোত হঠাৎ করে নদীর পানি এক্কেবারে বাড়ি গেইল। বাড়ির ছাওয়া, গরু-ছাগল নিয়া হামরা বান্দোত আশ্রয় নিছি। দিনোত আসি দেকি বাড়ির উঠানোত একহাঁটু পানি উঠছে। এ্যালা কেমন করি খাওয়া-দাওয়া করমো, কোটে থাকমো সেই চিন্তায় বাঁচি না।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রবিউল ইসলাম জানান, বর্তমানে তিস্তা নদীর পানি কাউনিয়া পয়েন্টে বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে। তবে তিস্তার পানি দ্রুত সরে যাচ্ছে। এর ফলে গঙ্গাচড়ায় বন্যার অবস্থা উন্নতি হচ্ছে এবং ভাটি এলাকা কাউনিয়ার কিছু নিম্নাঞ্চল নতুন করে প্লাবিত হচ্ছে। আগামী ৯ই অক্টোবর পর্যন্ত দেশের অভ্যন্তরে ও উজানে ভারতের প্রদেশগুলোতে মাঝারি থেকে মাঝারি ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। এ তথ্য সংশ্লিষ্ট এলাকায় সরবরাহ করে স্থানীয়দের সতর্ক করা হয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

 

উজানের পাহাড়ি ঢলে রংপুরে তিস্তা নদীর পানি বিপদসীমার উপরে কাটেনি আতঙ্ক

আপডেট সময় : ০৩:২৬:২৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ৮ অক্টোবর ২০২৫

স্টাফ রিপোর্টার রংপুর:

উজানের পাহাড়ি ঢলে রংপুরে তিস্তা নদীর পানি বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এতে করে জেলার ৩ উপজেলার প্রায় ৩ হাজার পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। বিভিন্ন এলাকায় দেখা দিয়েছে বিশুদ্ধ পানির সংকট। পানির তোড়ে ভেঙে যাচ্ছে তিস্তা সেতু রক্ষা বাঁধসহ রাস্তাঘাট। বন্যাদুর্গতের শুকনা খাবার বিতরণসহ বন্যা পরবর্তীতে ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তার আশ্বাস দিয়েছে উপজেলা প্রশাসন।

কাউনিয়ার টেপামধুপুর ইউনিয়নের মরিয়ম আক্তার বলেন, তিস্তার পানিত পুকুরের মাছ, আমনের ক্ষ্যাত ভাসি গেইছে। এ্যালা হামরা সারা বছর কেমন করি চলমো। সরকার যদি কিছু সহযোগিতা না করলে হামার ম্যালা দুঃখ আছে।

গঙ্গাচড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহমুদ হাসান মৃধা জানান, গঙ্গাচড়া উপজেলায় ৬টি ইউনিয়ন তিস্তা নদী বেষ্টিত। তিস্তার পানিতে ইউনিয়নবাসীরা পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। তাদের উদ্ধার, নিরাপদ স্থানে নিতে ইউনিয়ন চেয়ারম্যানদের বলা হয়েছে।

এ ছাড়া বন্যাদুর্গতদের সহযোগিতার জন্য উপজেলা প্রশাসন কাজ করছে। ইতিমধ্যে উপজেলা প্রশাসন থেকে পানিবন্দি মানুষদের জন্য ২০ টন চাল এবং ২ লাখ টাকা আর্থিক সহযোগিতা করা হয়েছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা যায়, ভারতের সিকিমসহ বিভিন্ন প্রদেশে ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টিপাতের কারণে রবিবার সকাল থেকে তিস্তা নদীর পানি বাড়তে থাকে। সন্ধ্যার পর ভারত থেকে রেকর্ড পরিমাণ পানি ধেয়ে আসে তিস্তায়। রাত ১০টায় তিস্তা নদীর ডালিয়া পয়েন্টে পানি বিপদসীমার ৩০ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। যা এ বছর তিস্তায় সর্বোচ্চ পানির উচ্চতা হিসেবে রেকর্ড করে পাউবো। এতে করে গঙ্গাচড়া উপজেলার নোহালী, আলমবিদিতর, কোলকোন্দ, লক্ষ্মীটারী, গজঘণ্টা ও মর্ণেয়া ইউনিয়ন, কাউনিয়া উপজেলার বালাপাড়া, টেপামধুপুর ইউনিয়ন এবং পীরগাছা উপজেলার ছাওলা ইউনিয়নে তিস্তার তীরবর্তী নিম্নাঞ্চল, চর, দ্বীপচরের প্রায় ৩ হাজার পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। এ ছাড়া এসব এলাকার আগাম আমন ধান, বাদাম, মরিচের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। হাঁস-মুরগি, গরু-ছাগলসহ গবাদিপশু-পাখি নিয়ে বিপাকে পড়েছেন চরের মানুষ।

এদিকে, গত আগস্ট মাস থেকে গঙ্গাচড়ার তিস্তা সেতু রক্ষা বাঁধে ভাঙন শুরু হয়। গত রবিবার থেকে পানির তীব্র স্রোতের কারণে সেই বাঁধের একটি বড় অংশ নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। তবে সোমবার দুপুর থেকে কমতে শুরু করে তিস্তার পানি। বিকাল ৩টায় কাউনিয়া পয়েন্টে তিস্তা নদীর পানি বিপদসীমার ২০ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে এবং ডালিয়া পয়েন্টে বিপদসীমার ২০ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে।

গঙ্গাচড়া উপজেলার লক্ষ্মীটারী ইউনিয়নের আমেনা ইসলাম বলেন, রাইতোত হঠাৎ করে নদীর পানি এক্কেবারে বাড়ি গেইল। বাড়ির ছাওয়া, গরু-ছাগল নিয়া হামরা বান্দোত আশ্রয় নিছি। দিনোত আসি দেকি বাড়ির উঠানোত একহাঁটু পানি উঠছে। এ্যালা কেমন করি খাওয়া-দাওয়া করমো, কোটে থাকমো সেই চিন্তায় বাঁচি না।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রবিউল ইসলাম জানান, বর্তমানে তিস্তা নদীর পানি কাউনিয়া পয়েন্টে বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে। তবে তিস্তার পানি দ্রুত সরে যাচ্ছে। এর ফলে গঙ্গাচড়ায় বন্যার অবস্থা উন্নতি হচ্ছে এবং ভাটি এলাকা কাউনিয়ার কিছু নিম্নাঞ্চল নতুন করে প্লাবিত হচ্ছে। আগামী ৯ই অক্টোবর পর্যন্ত দেশের অভ্যন্তরে ও উজানে ভারতের প্রদেশগুলোতে মাঝারি থেকে মাঝারি ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। এ তথ্য সংশ্লিষ্ট এলাকায় সরবরাহ করে স্থানীয়দের সতর্ক করা হয়েছে।