ল্যাপটপের অবস্থান জেনেও উদ্ধার করতে পারছে না পুলিশ
- আপডেট সময় : ১০:৪৪:৫৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৬ ২ বার পড়া হয়েছে

বাংলাদেশে ভ্রমণ করতে এসে ল্যাপটপ ও ক্যামেরা হারিয়ে বিপাকে পড়েছেন জার্মান পর্যটক ক্রিল ল্যান্ডার। তিনি তাঁর চুরি যাওয়া ল্যাপটপটির অবস্থানসংক্রান্ত সংকেত রাজশাহীতে পেয়েছেন এবং তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশকে বিষয়টি জানিয়েছেন। তবে ল্যাপটপের অবস্থান শনাক্তকারী ডিভাইসে সংকেত পাওয়ার পরেও সন্ধ্যা পর্যন্ত সেটি উদ্ধারের কোনো সুখবর পাননি বলে জানিয়েছেন তিনি। ল্যাপটপটিতে তাঁর গত ছয় মাসের কাজের ফাইল সংরক্ষিত থাকায় তিনি সেগুলো হারানোর শঙ্কায় আছেন।
ক্রিল ল্যান্ডার জানান, ল্যাপটপে থাকা ট্র্যাকিং সুবিধার মাধ্যমে কেউ এটি চালু করার চেষ্টা করলে তিনি সংকেত পান। আজ রোববার সকালে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়-সংলগ্ন তালাইমারি এলাকায় ল্যাপটপটির অবস্থান শনাক্ত করেন তিনি। এ বিষয়ে রাজশাহী মহানগর পুলিশের (আরএমপি) কমিশনার মোহাম্মদ ফয়েজুল কবির জানান, নাটোর সদর থানায় দায়ের করা জিডির ভিত্তিতে রেলওয়ে পুলিশ প্রযুক্তিগত সহায়তা দিচ্ছে এবং অন্যান্য ইউনিটও মালামাল উদ্ধারের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
তবে ল্যাপটপের সুনির্দিষ্ট অবস্থান চিহ্নিত করা নিয়ে জটিলতার কথা জানিয়েছেন রাজশাহী রেলওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাফিজুর রহমান। তিনি বলেন, সিম ব্যবহার করা হয় এমন ডিভাইস হলে শনাক্ত করা সহজ হতো, কিন্তু বর্তমানে সংকেত পাওয়া গেলেও ল্যাপটপটি ঠিক কোন জায়গায় আছে তা নিশ্চিত হওয়া যাচ্ছে না। এদিকে পুলিশের সক্ষমতা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভূমিকা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনা তৈরি হয়েছে।
গত বুধবার বিকেলে নাটোর রেলওয়ে স্টেশনে ট্রেনের টিকিট কেনার জন্য এটিএম বুথে যাওয়ার সময় ক্রিল ল্যান্ডার তাঁর ব্যাগটি এক ব্যক্তির কাছে রেখেছিলেন, যিনি নিজেকে রেলওয়ের কর্মী পরিচয় দিয়েছিলেন। ফিরে এসে তিনি ওই ব্যক্তি ও ব্যাগটি আর পাননি। সিসিটিভি ফুটেজে এক ব্যক্তিকে ব্যাগ নিয়ে যেতে দেখা গেছে, যাঁকে পুলিশ এখনো খুঁজছে।
এই ঘটনার পর থেকে ক্রিল ল্যান্ডার তাঁর ছয় মাসের কাজের তথ্য হারানোর আশঙ্কায় আছেন। আইক্লাউড থেকে কিছু তথ্য উদ্ধার করতে পারলেও অধিকাংশ আলোকচিত্র ও থ্রিডি নকশার কাজ হারানোর ভয় পাচ্ছেন তিনি। এদিকে, গত শনিবার ঢাকার ব্যবসায়ী মুক্তি মাহমুদ তাঁকে একটি নতুন ম্যাকবুক উপহার দিয়েছেন। তবে মডেলের ভিন্নতার কারণে উপহার পাওয়া ম্যাকবুকটিতে তিনি তাঁর প্রয়োজনীয় থ্রিডি সফটওয়্যার চালাতে পারছেন না। বাংলাদেশে আড়াই সপ্তাহ কাটানো এই জার্মান পর্যটক এখন ল্যাপটপ হারিয়ে নিজের ভ্রমণ সংক্ষিপ্ত করার কথা ভাবছেন।


























