ঢাকা ০৪:২৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০৫ অক্টোবর ২০২৬, ১৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
রোনালদোই পর্তুগাল ফুটবলের সবচেয়ে বড় প্রতীক: ব্রুনো ফার্নান্দেজ নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ওপর হামলা: নাহিদের হুঁশিয়ারি এশিয়ান গেমসে ব্যর্থতার কারণ খুঁজতে মূল্যায়ন কমিটি গঠনের নির্দেশ শান্তিগঞ্জে মাহবুবা ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে মেধাবী সংবর্ধনা রোনালদোকে ছাড়াই কোয়ার্টার ফাইনালে পর্তুগাল হুথিদের হটাতে বড় সামরিক অভিযানের ঘোষণা ইয়েমেন সরকারের গণপরিবহনে বিশেষ ভাড়ার সুবিধা পাবেন জাতীয় ক্রীড়া কার্ডধারীরা এমপি পদের পর এবার বিএনপি থেকেও পদত্যাগের নির্দেশ মিষ্টিকে সংরক্ষিত আসন ছাড়ার পর এবার বিএনপি থেকেও পদত্যাগের নির্দেশ মিষ্টিকে ইসলামপুরে ৪ কেজি গাঁজাসহ দুই মাদক কারবারি আটক

দাম্পত্যে পারস্পরিক সম্মান ও বুদ্ধিমত্তাই সুখী সংসারের আসল চাবিকাঠি

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ০১:৫০:০১ অপরাহ্ন, রবিবার, ৪ অক্টোবর ২০২৬ ৪ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি



দাম্পত্য জীবনে ক্ষমতার লড়াই এড়িয়ে পারস্পরিক ভালোবাসা ও সম্মানের সম্পর্ক গড়ে তোলার একটি সুন্দর রূপক হলো স্বামীকে ‘রাজা’ বানিয়ে নিজে ‘রাণী’ হওয়া। এটি কোনো অন্ধ আনুগত্য বা নিজের অধিকার ছেড়ে দেওয়া নয়, বরং স্বামীর ইতিবাচক গুণগুলোকে সামনে এনে সংসারে তাঁর ভূমিকা বাড়িয়ে তোলা। একজন বিচক্ষণ স্ত্রী স্বামীর সাফল্যে ঈর্ষান্বিত হন না, বরং তাঁর অর্জনকে পরিবারের সাফল্য হিসেবে দেখেন। একইভাবে, একজন ভালো স্বামীও যখন স্ত্রীর স্বপ্ন, মতামত, পরিশ্রম ও আত্মসম্মানকে মূল্যায়ন করেন, তখন সম্পর্কটি একতরফা থাকে না, বরং তা দুজনের যৌথ শক্তিতে রূপান্তরিত হয়।

মানসিকভাবে একে অপরকে শক্তি দেওয়া দীর্ঘমেয়াদি দাম্পত্য সম্পর্কের জন্য কতটা গুরুত্বপূর্ণ, তা বিভিন্ন বৈজ্ঞানিক গবেষণায় উঠে এসেছে। ২০০৮ সালে প্রকাশিত একটি লংগিটিউডিনাল (longitudinal) গবেষণায় গবেষক রেবেকা এল. ব্রক (Rebecca L. Brock), এরিকা লরেন্স (Erika Lawrence) এবং তাঁদের সহকর্মীরা ১০১টি নবদম্পতিকে তিন বছর ধরে চার দফায় পর্যবেক্ষণ করেন। তাঁদের গবেষণায় দেখা যায়, পর্যাপ্ত দাম্পত্য সহায়তা, বিশেষ করে স্ত্রীর কাছ থেকে পাওয়া সমর্থন দাম্পত্য সন্তুষ্টি ধরে রাখতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

দাম্পত্য জীবনে শুধু সাহায্য করাই যথেষ্ট নয়, বরং কখন কীভাবে পাশে দাঁড়াতে হবে তা বুঝতে পারাই আসল বুদ্ধিমত্তা। ২০০৮ সালে যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব আইওয়া-এর (University of Iowa) এরিকা লরেন্স ও তাঁর সহযোগীরা ২৭৫টি বিবাহিত দম্পতিকে নিয়ে একটি গবেষণা পরিচালনা করেন। ‘পার্সোনাল রিলেশনশিপস’ (Personal Relationships) জার্নালে প্রকাশিত এই গবেষণায় দেখা যায়, সঙ্গীকে ঠিক কতখানি সহায়তা দেওয়া হচ্ছে তার চেয়ে সেই সহায়তা কতটা উপযুক্ত এবং প্রয়োজনমাফিক ছিল, তা দাম্পত্য সন্তুষ্টির সঙ্গে বেশি সম্পর্কিত। অর্থাৎ, সঠিক সময়ে সঠিক পাশে দাঁড়ানোই সম্পর্কের গভীরতা বাড়ায়।

একজন বুদ্ধিমতী নারী স্বামীর প্রতিটি সিদ্ধান্তে অন্ধভাবে মাথা নত করেন না। তিনি ভুল সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে শান্তভাবে নিজের আপত্তি জানান এবং ভালো সিদ্ধান্তের সময় আন্তরিকভাবে পাশে থাকেন। ২০১৪ সালে জেফরি বি. জ্যাকসন (Jeffrey B. Jackson) ও তাঁর সহকর্মীরা ২২৬টি স্বাধীন নমুনা এবং মোট ১,০১,১১০ জন অংশগ্রহণকারী নিয়ে একটি মেটা-অ্যানালাইসিস (meta-analysis) সম্পন্ন করেন। ‘জার্নাল অব ম্যারেজ অ্যান্ড ফ্যামিলি’ (Journal of Marriage and Family)-তে প্রকাশিত এই গবেষণায় দেখা যায়, সামগ্রিকভাবে স্বামী ও স্ত্রীর দাম্পত্য সন্তুষ্টির পার্থক্য খুবই সামান্য। এর অর্থ হলো, দাম্পত্য সুখ কেবল কোনো একজন অংশীদারের একক আচরণের ওপর নির্ভর করে না, বরং এটি একটি যৌথ প্রক্রিয়া।

সংসার পরিচালনায় বুদ্ধিমত্তার পরিচয় দেওয়া অত্যন্ত জরুরি। স্বামীর ভুল নিয়ে আত্মীয়স্বজনের কাছে অভিযোগ করা, সবার সামনে তাঁকে ছোট করা কিংবা অন্যের সঙ্গে তুলনা করা সম্পর্কের ভিত্তি দুর্বল করে দেয়। ২০১৫ সালে জনস হপকিন্স ইউনিভার্সিটি স্কুল অব নার্সিং-এর (Johns Hopkins University School of Nursing) নোয়েল এম. সেন্ট ভিল (Noelle M. St. Vil) ‘জার্নাল অব ফ্যামিলি সোশ্যাল ওয়ার্ক’ (Journal of Family Social Work)-এ একটি গবেষণা প্রকাশ করেন। এই গবেষণায় পারস্পরিক সহায়তা, আবেগগত সমর্থন এবং দাম্পত্য সন্তুষ্টির সম্পর্ক বিশ্লেষণের পাশাপাশি স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্কের ক্ষেত্রে সামাজিক ও পারিবারিক সহায়তার গুরুত্ব তুলে ধরা হয়। তবে দাম্পত্য বুদ্ধিমত্তা মানে কোনো অন্যায়, নির্যাতন বা অসম্মানকে মুখ বুজে সহ্য করা নয়। প্রকৃত বুদ্ধিমত্তা হলো কোথায় স্বামীকে উৎসাহ দিতে হবে, কোথায় নিজের মত দৃঢ়ভাবে প্রকাশ করতে হবে এবং কোথায় দুজনে মিলে সিদ্ধান্ত নিতে হবে তা সঠিকভাবে বুঝতে পারা।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Bangladesh

নিউজটি শেয়ার করুন

দাম্পত্যে পারস্পরিক সম্মান ও বুদ্ধিমত্তাই সুখী সংসারের আসল চাবিকাঠি

আপডেট সময় : ০১:৫০:০১ অপরাহ্ন, রবিবার, ৪ অক্টোবর ২০২৬

দাম্পত্য জীবনে ক্ষমতার লড়াই এড়িয়ে পারস্পরিক ভালোবাসা ও সম্মানের সম্পর্ক গড়ে তোলার একটি সুন্দর রূপক হলো স্বামীকে ‘রাজা’ বানিয়ে নিজে ‘রাণী’ হওয়া। এটি কোনো অন্ধ আনুগত্য বা নিজের অধিকার ছেড়ে দেওয়া নয়, বরং স্বামীর ইতিবাচক গুণগুলোকে সামনে এনে সংসারে তাঁর ভূমিকা বাড়িয়ে তোলা। একজন বিচক্ষণ স্ত্রী স্বামীর সাফল্যে ঈর্ষান্বিত হন না, বরং তাঁর অর্জনকে পরিবারের সাফল্য হিসেবে দেখেন। একইভাবে, একজন ভালো স্বামীও যখন স্ত্রীর স্বপ্ন, মতামত, পরিশ্রম ও আত্মসম্মানকে মূল্যায়ন করেন, তখন সম্পর্কটি একতরফা থাকে না, বরং তা দুজনের যৌথ শক্তিতে রূপান্তরিত হয়।

মানসিকভাবে একে অপরকে শক্তি দেওয়া দীর্ঘমেয়াদি দাম্পত্য সম্পর্কের জন্য কতটা গুরুত্বপূর্ণ, তা বিভিন্ন বৈজ্ঞানিক গবেষণায় উঠে এসেছে। ২০০৮ সালে প্রকাশিত একটি লংগিটিউডিনাল (longitudinal) গবেষণায় গবেষক রেবেকা এল. ব্রক (Rebecca L. Brock), এরিকা লরেন্স (Erika Lawrence) এবং তাঁদের সহকর্মীরা ১০১টি নবদম্পতিকে তিন বছর ধরে চার দফায় পর্যবেক্ষণ করেন। তাঁদের গবেষণায় দেখা যায়, পর্যাপ্ত দাম্পত্য সহায়তা, বিশেষ করে স্ত্রীর কাছ থেকে পাওয়া সমর্থন দাম্পত্য সন্তুষ্টি ধরে রাখতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

দাম্পত্য জীবনে শুধু সাহায্য করাই যথেষ্ট নয়, বরং কখন কীভাবে পাশে দাঁড়াতে হবে তা বুঝতে পারাই আসল বুদ্ধিমত্তা। ২০০৮ সালে যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব আইওয়া-এর (University of Iowa) এরিকা লরেন্স ও তাঁর সহযোগীরা ২৭৫টি বিবাহিত দম্পতিকে নিয়ে একটি গবেষণা পরিচালনা করেন। ‘পার্সোনাল রিলেশনশিপস’ (Personal Relationships) জার্নালে প্রকাশিত এই গবেষণায় দেখা যায়, সঙ্গীকে ঠিক কতখানি সহায়তা দেওয়া হচ্ছে তার চেয়ে সেই সহায়তা কতটা উপযুক্ত এবং প্রয়োজনমাফিক ছিল, তা দাম্পত্য সন্তুষ্টির সঙ্গে বেশি সম্পর্কিত। অর্থাৎ, সঠিক সময়ে সঠিক পাশে দাঁড়ানোই সম্পর্কের গভীরতা বাড়ায়।

একজন বুদ্ধিমতী নারী স্বামীর প্রতিটি সিদ্ধান্তে অন্ধভাবে মাথা নত করেন না। তিনি ভুল সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে শান্তভাবে নিজের আপত্তি জানান এবং ভালো সিদ্ধান্তের সময় আন্তরিকভাবে পাশে থাকেন। ২০১৪ সালে জেফরি বি. জ্যাকসন (Jeffrey B. Jackson) ও তাঁর সহকর্মীরা ২২৬টি স্বাধীন নমুনা এবং মোট ১,০১,১১০ জন অংশগ্রহণকারী নিয়ে একটি মেটা-অ্যানালাইসিস (meta-analysis) সম্পন্ন করেন। ‘জার্নাল অব ম্যারেজ অ্যান্ড ফ্যামিলি’ (Journal of Marriage and Family)-তে প্রকাশিত এই গবেষণায় দেখা যায়, সামগ্রিকভাবে স্বামী ও স্ত্রীর দাম্পত্য সন্তুষ্টির পার্থক্য খুবই সামান্য। এর অর্থ হলো, দাম্পত্য সুখ কেবল কোনো একজন অংশীদারের একক আচরণের ওপর নির্ভর করে না, বরং এটি একটি যৌথ প্রক্রিয়া।

সংসার পরিচালনায় বুদ্ধিমত্তার পরিচয় দেওয়া অত্যন্ত জরুরি। স্বামীর ভুল নিয়ে আত্মীয়স্বজনের কাছে অভিযোগ করা, সবার সামনে তাঁকে ছোট করা কিংবা অন্যের সঙ্গে তুলনা করা সম্পর্কের ভিত্তি দুর্বল করে দেয়। ২০১৫ সালে জনস হপকিন্স ইউনিভার্সিটি স্কুল অব নার্সিং-এর (Johns Hopkins University School of Nursing) নোয়েল এম. সেন্ট ভিল (Noelle M. St. Vil) ‘জার্নাল অব ফ্যামিলি সোশ্যাল ওয়ার্ক’ (Journal of Family Social Work)-এ একটি গবেষণা প্রকাশ করেন। এই গবেষণায় পারস্পরিক সহায়তা, আবেগগত সমর্থন এবং দাম্পত্য সন্তুষ্টির সম্পর্ক বিশ্লেষণের পাশাপাশি স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্কের ক্ষেত্রে সামাজিক ও পারিবারিক সহায়তার গুরুত্ব তুলে ধরা হয়। তবে দাম্পত্য বুদ্ধিমত্তা মানে কোনো অন্যায়, নির্যাতন বা অসম্মানকে মুখ বুজে সহ্য করা নয়। প্রকৃত বুদ্ধিমত্তা হলো কোথায় স্বামীকে উৎসাহ দিতে হবে, কোথায় নিজের মত দৃঢ়ভাবে প্রকাশ করতে হবে এবং কোথায় দুজনে মিলে সিদ্ধান্ত নিতে হবে তা সঠিকভাবে বুঝতে পারা।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Bangladesh