ঢাকা ০৬:৩৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
জাতিসংঘ মহাসচিবের প্রাতরাশে অংশ নিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে ফ্রেশার্স ডে-নাইট ক্রিকেট টুর্নামেন্টের উদ্বোধন বৈশ্বিক সংকট মোকাবিলায় নতুন করে ভাবার আহ্বান গুতেরেসের অর্থনীতি ও বাণিজ্যে সহযোগিতা বাড়াতে তারেক রহমান ও এরদোয়ানের বৈঠক চট্টগ্রামে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাদ্য উৎপাদন, ৪ প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা মিশিগান ডেমোক্রেটিক পার্টির ইয়ুথ লিডারশিপ অ্যাওয়ার্ড পেলেন তাহমিদ চৌধুরী রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে আন্তর্জাতিক সহায়তার আহ্বান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আস্থা ফেরাতে কঠিন সত্য স্বীকারের আহ্বান জাতিসংঘ সভাপতির টেকনাফে রোহিঙ্গা বহনকারী নৌকাডুবি, নারী ও শিশুর মৃত্যু সিলেটের রায়নগরে ট্রিপল মার্ডার: তদন্তে নামল পিবিআই, বাবুল ২ দিনের রিমান্ডে

চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ঘুমের ওষুধ সেবন কেন বিপজ্জনক

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ১০:০২:২০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৭ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি



অনেকেই রাতে ঘুম না এলে ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়াই দোকান থেকে ঘুমের ওষুধ কিনে সেবন করেন। বর্তমানে হাজার হাজার মানুষ এই ঘুমের ওষুধে আসক্ত হয়ে পড়েছেন। সাময়িকভাবে আরাম দিলেও দীর্ঘ মেয়াদে ঘুমের ওষুধ স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত বিপজ্জনক।

ঘুমের ওষুধের সবচেয়ে বড় ক্ষতি হলো এর প্রতি শারীরিক ও মানসিক আসক্তি। কিছুদিন খাওয়ার পর ওই নির্দিষ্ট ডোজে আর ঘুম আসে না, তখন ডোজ বাড়াতে হয়। এভাবে চলতে থাকলে একসময় ওষুধ ছাড়া ঘুমানোটাই অসম্ভব হয়ে পড়ে।

এই ওষুধগুলো সরাসরি কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রকে অবশ করে কৃত্রিমভাবে ঘুম পাড়িয়ে দেয়। ফলে প্রাকৃতিক ‘ডিপ স্লিপ’ বা গভীর ঘুমের উপকারিতা থেকে শরীর বঞ্চিত হয়। এর ফলে পরবর্তী সময়ে তীব্র স্মৃতিভ্রম, মনোযোগের অভাব এবং মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা কমে যাওয়ার মতো সমস্যা দেখা দেয়।

প্রাতঃকালীন ক্লান্তিও ঘুমের ওষুধের একটি বড় সমস্যা। ওষুধ খাওয়ার পর সকালে ঘুম ভাঙলেও শরীর একধরনের ঘোরের মধ্যে থাকে। ঝিমঝিম ভাব এবং চরম অবসাদ লেগেই থাকে, যা সারা দিনের কাজে ব্যাঘাত ঘটায়। এছাড়া কিছু ঘুমের ওষুধ গলার পেশি শিথিল করে দেয়, যা থেকে ‘স্লিপ অ্যাপনিয়া’ বা ঘুমের মধ্যে শ্বাস বন্ধ হয়ে যাওয়ার মতো মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। পাশাপাশি লিভার ও কিডনির ওপরও এর অত্যন্ত ক্ষতিকর প্রভাব পড়ে।

ঘুম কোনো বিলাসিতা নয়, এটি মানুষের মৌলিক জৈবিক চাহিদার একটি। ওষুধের ওপর নির্ভর করে ঘুমকে দীর্ঘস্থায়ী করা যায় না, বরং তা শরীরের ক্ষতি করে। তবে চিকিৎসকের পরামর্শে নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত প্রয়োজনে ঘুমের ওষুধ খাওয়া যাবে। কিন্তু এটাকে অভ্যাসে পরিণত করা যাবে না। বরং জীবনযাত্রায় পরিবর্তন এনে, সঠিক ‘স্লিপ হাইজিন’ মেনে, ডিজিটাল স্ক্রিন পরিহার ও মানসিক চাপ কমানোর মাধ্যমে স্বাস্থ্যকর ঘুমের অভ্যাস করুন।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Prothom Alo

নিউজটি শেয়ার করুন

চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ঘুমের ওষুধ সেবন কেন বিপজ্জনক

আপডেট সময় : ১০:০২:২০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

অনেকেই রাতে ঘুম না এলে ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়াই দোকান থেকে ঘুমের ওষুধ কিনে সেবন করেন। বর্তমানে হাজার হাজার মানুষ এই ঘুমের ওষুধে আসক্ত হয়ে পড়েছেন। সাময়িকভাবে আরাম দিলেও দীর্ঘ মেয়াদে ঘুমের ওষুধ স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত বিপজ্জনক।

ঘুমের ওষুধের সবচেয়ে বড় ক্ষতি হলো এর প্রতি শারীরিক ও মানসিক আসক্তি। কিছুদিন খাওয়ার পর ওই নির্দিষ্ট ডোজে আর ঘুম আসে না, তখন ডোজ বাড়াতে হয়। এভাবে চলতে থাকলে একসময় ওষুধ ছাড়া ঘুমানোটাই অসম্ভব হয়ে পড়ে।

এই ওষুধগুলো সরাসরি কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রকে অবশ করে কৃত্রিমভাবে ঘুম পাড়িয়ে দেয়। ফলে প্রাকৃতিক ‘ডিপ স্লিপ’ বা গভীর ঘুমের উপকারিতা থেকে শরীর বঞ্চিত হয়। এর ফলে পরবর্তী সময়ে তীব্র স্মৃতিভ্রম, মনোযোগের অভাব এবং মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা কমে যাওয়ার মতো সমস্যা দেখা দেয়।

প্রাতঃকালীন ক্লান্তিও ঘুমের ওষুধের একটি বড় সমস্যা। ওষুধ খাওয়ার পর সকালে ঘুম ভাঙলেও শরীর একধরনের ঘোরের মধ্যে থাকে। ঝিমঝিম ভাব এবং চরম অবসাদ লেগেই থাকে, যা সারা দিনের কাজে ব্যাঘাত ঘটায়। এছাড়া কিছু ঘুমের ওষুধ গলার পেশি শিথিল করে দেয়, যা থেকে ‘স্লিপ অ্যাপনিয়া’ বা ঘুমের মধ্যে শ্বাস বন্ধ হয়ে যাওয়ার মতো মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। পাশাপাশি লিভার ও কিডনির ওপরও এর অত্যন্ত ক্ষতিকর প্রভাব পড়ে।

ঘুম কোনো বিলাসিতা নয়, এটি মানুষের মৌলিক জৈবিক চাহিদার একটি। ওষুধের ওপর নির্ভর করে ঘুমকে দীর্ঘস্থায়ী করা যায় না, বরং তা শরীরের ক্ষতি করে। তবে চিকিৎসকের পরামর্শে নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত প্রয়োজনে ঘুমের ওষুধ খাওয়া যাবে। কিন্তু এটাকে অভ্যাসে পরিণত করা যাবে না। বরং জীবনযাত্রায় পরিবর্তন এনে, সঠিক ‘স্লিপ হাইজিন’ মেনে, ডিজিটাল স্ক্রিন পরিহার ও মানসিক চাপ কমানোর মাধ্যমে স্বাস্থ্যকর ঘুমের অভ্যাস করুন।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Prothom Alo