ঢাকা ০৬:৩৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
জাতিসংঘ মহাসচিবের প্রাতরাশে অংশ নিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে ফ্রেশার্স ডে-নাইট ক্রিকেট টুর্নামেন্টের উদ্বোধন বৈশ্বিক সংকট মোকাবিলায় নতুন করে ভাবার আহ্বান গুতেরেসের অর্থনীতি ও বাণিজ্যে সহযোগিতা বাড়াতে তারেক রহমান ও এরদোয়ানের বৈঠক চট্টগ্রামে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাদ্য উৎপাদন, ৪ প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা মিশিগান ডেমোক্রেটিক পার্টির ইয়ুথ লিডারশিপ অ্যাওয়ার্ড পেলেন তাহমিদ চৌধুরী রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে আন্তর্জাতিক সহায়তার আহ্বান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আস্থা ফেরাতে কঠিন সত্য স্বীকারের আহ্বান জাতিসংঘ সভাপতির টেকনাফে রোহিঙ্গা বহনকারী নৌকাডুবি, নারী ও শিশুর মৃত্যু সিলেটের রায়নগরে ট্রিপল মার্ডার: তদন্তে নামল পিবিআই, বাবুল ২ দিনের রিমান্ডে

রবার্ট কিয়োসাকির ১২০ কোটি ডলার ঋণের আসল রহস্য কী

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ০৮:২৫:৩৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৯ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি



সাধারণত ঋণকে আর্থিক চাপ বা দুশ্চিন্তার কারণ হিসেবে দেখা হলেও, ‘রিচ ড্যাড পুওর ড্যাড’ বইয়ের লেখক রবার্ট কিয়োসাকি একে দেখেন সম্পদ তৈরির অন্যতম হাতিয়ার হিসেবে। সম্প্রতি তাঁর রিয়েল এস্টেট বিনিয়োগ গোষ্ঠীর প্রায় ১২০ কোটি ডলারের ঋণের বিষয়টি আলোচনায় এসেছে। তবে কিয়োসাকির সাবেক স্ত্রী ও দীর্ঘদিনের ব্যবসায়িক সহযোগী কিম কিয়োসাকি স্পষ্ট করেছেন যে, এটি কোনো ব্যক্তিগত ঋণ নয়। বরং তাঁদের মালিকানাধীন প্রায় দেড় হাজার অ্যাপার্টমেন্টের রিয়েল এস্টেট পোর্টফোলিও থেকেই এই বিপুল ঋণের হিসাবটি এসেছে।

কিয়োসাকির আর্থিক দর্শনের মূল ভিত্তি হলো ‘ভালো ঋণ’ ও ‘খারাপ ঋণ’-এর পার্থক্য। তাঁর মতে, নিয়মিত আয়ের উৎস তৈরি করে এমন সম্পদ কেনার জন্য নেওয়া ঋণই সম্পদ গড়ার চাবিকাঠি। তিনি ঋণ নিয়ে অ্যাপার্টমেন্ট বা আয়ের উৎস সৃষ্টিকারী সম্পদ কেনেন, যা থেকে আসা ভাড়া দিয়ে ঋণের কিস্তি ও সম্পত্তির খরচ মিটিয়ে ফেলা হয়। এতে মূলধন না থাকলেও বড় সম্পদ গড়ে তোলা সম্ভব। তবে এই পদ্ধতির ঝুঁকিও অনেক। সম্পত্তির ভাড়া কমে যাওয়া, সুদের হার বৃদ্ধি বা সম্পত্তির দাম পড়ে গেলে এই ঋণের বোঝা বড় ধরনের আর্থিক বিপত্তি ডেকে আনতে পারে।

কিয়োসাকি নিজেই জানিয়েছেন যে, তাঁর বার্ষিক আয় প্রায় ৩০ লাখ ডলার। ‘ভ্যানিটি ফেয়ার’-এর ধারণা অনুযায়ী, এই বিশাল রিয়েল এস্টেট পোর্টফোলিওতে তাঁর ব্যক্তিগত অংশ তিন থেকে ছয় কোটি ডলারের মধ্যে হতে পারে, যদিও এই হিসাব স্বাধীনভাবে নিশ্চিত নয়। বিনিয়োগের ক্ষেত্রে তিনি ‘লিমিটেড লায়াবিলিটি কোম্পানি’ বা এলএলসি ব্যবহারের ওপর গুরুত্ব দেন, যা তাঁর ভাষায় একটি ‘ফায়ারওয়াল’ হিসেবে কাজ করে। এর মাধ্যমে একটি বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠানের দায় ব্যক্তিগত সম্পদের ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলতে পারে না, যদিও ঋণের চুক্তি বা ব্যক্তিগত গ্যারান্টির ক্ষেত্রে পরিস্থিতি ভিন্ন হতে পারে।

রিয়েল এস্টেট বিশেষজ্ঞ ডেভিড এ পেরেজ মনে করেন, সম্পদের বিপরীতে ঋণ নিয়ে নগদ অর্থ বের করে আনা বিনিয়োগকারীদের একটি পরিচিত কৌশল। তবে জেপিটিডি পার্টনার্সের প্রতিষ্ঠাতা জন পুল সতর্ক করে বলেছেন, বাজার অনুকূলে থাকলে এই কৌশল দারুণ কার্যকর হলেও, পরিস্থিতি উল্টো দিকে গেলে তা বড় বিপর্যয়ের কারণ হতে পারে।

১৯৯৭ সালে প্রকাশিত এবং ৪ কোটি ৪০ লাখের বেশি কপি বিক্রি হওয়া ‘রিচ ড্যাড পুওর ড্যাড’ বইয়ের এই লেখকের ব্যবসায়িক পথ সব সময় মসৃণ ছিল না। ২০১২ সালে তাঁর ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত ‘রিচ গ্লোবাল এলএলসি’ আদালতের ২ কোটি ৩৭ লাখ ডলারের রায়ের পর দেউলিয়াত্বের আবেদন করেছিল, যা ছিল কোম্পানিটির নিজস্ব দেউলিয়াত্ব, কিয়োসাকির ব্যক্তিগত নয়। সবশেষে কিয়োসাকির পরামর্শ হলো, অন্যের আর্থিক কৌশল হুবহু অনুসরণ করার আগে নিজের আর্থিক জ্ঞান ও ঝুঁকি নেওয়ার সক্ষমতা যাচাই করা একান্ত জরুরি।

সম্পত্তি খালি পড়ে থাকলে, ভাড়া কমে গেলে, সুদের হার বেড়ে গেলে কিংবা সম্পত্তির দাম পড়ে গেলে বড় ঋণের বোঝা দ্রুতই সমস্যায় পরিণত হতে পারে।.কিয়োসাকির ‘রিচ ড্যাড পুওর ড্যাড’ থেকে শিখে নিন টাকা আয়ের ৬ কৌশল.না।

বইটি এখন পর্যন্ত ৪ কোটি ৪০ লাখের বেশি কপি বিক্রি হয়েছে এবং অনূদিত হয়েছে অন্তত ৪৩টি ভাষায়।তবে কিয়োসাকির ব্যবসায়িক জীবনও সব সময় মসৃণ ছিল না।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Prothom Alo

নিউজটি শেয়ার করুন

রবার্ট কিয়োসাকির ১২০ কোটি ডলার ঋণের আসল রহস্য কী

আপডেট সময় : ০৮:২৫:৩৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সাধারণত ঋণকে আর্থিক চাপ বা দুশ্চিন্তার কারণ হিসেবে দেখা হলেও, ‘রিচ ড্যাড পুওর ড্যাড’ বইয়ের লেখক রবার্ট কিয়োসাকি একে দেখেন সম্পদ তৈরির অন্যতম হাতিয়ার হিসেবে। সম্প্রতি তাঁর রিয়েল এস্টেট বিনিয়োগ গোষ্ঠীর প্রায় ১২০ কোটি ডলারের ঋণের বিষয়টি আলোচনায় এসেছে। তবে কিয়োসাকির সাবেক স্ত্রী ও দীর্ঘদিনের ব্যবসায়িক সহযোগী কিম কিয়োসাকি স্পষ্ট করেছেন যে, এটি কোনো ব্যক্তিগত ঋণ নয়। বরং তাঁদের মালিকানাধীন প্রায় দেড় হাজার অ্যাপার্টমেন্টের রিয়েল এস্টেট পোর্টফোলিও থেকেই এই বিপুল ঋণের হিসাবটি এসেছে।

কিয়োসাকির আর্থিক দর্শনের মূল ভিত্তি হলো ‘ভালো ঋণ’ ও ‘খারাপ ঋণ’-এর পার্থক্য। তাঁর মতে, নিয়মিত আয়ের উৎস তৈরি করে এমন সম্পদ কেনার জন্য নেওয়া ঋণই সম্পদ গড়ার চাবিকাঠি। তিনি ঋণ নিয়ে অ্যাপার্টমেন্ট বা আয়ের উৎস সৃষ্টিকারী সম্পদ কেনেন, যা থেকে আসা ভাড়া দিয়ে ঋণের কিস্তি ও সম্পত্তির খরচ মিটিয়ে ফেলা হয়। এতে মূলধন না থাকলেও বড় সম্পদ গড়ে তোলা সম্ভব। তবে এই পদ্ধতির ঝুঁকিও অনেক। সম্পত্তির ভাড়া কমে যাওয়া, সুদের হার বৃদ্ধি বা সম্পত্তির দাম পড়ে গেলে এই ঋণের বোঝা বড় ধরনের আর্থিক বিপত্তি ডেকে আনতে পারে।

কিয়োসাকি নিজেই জানিয়েছেন যে, তাঁর বার্ষিক আয় প্রায় ৩০ লাখ ডলার। ‘ভ্যানিটি ফেয়ার’-এর ধারণা অনুযায়ী, এই বিশাল রিয়েল এস্টেট পোর্টফোলিওতে তাঁর ব্যক্তিগত অংশ তিন থেকে ছয় কোটি ডলারের মধ্যে হতে পারে, যদিও এই হিসাব স্বাধীনভাবে নিশ্চিত নয়। বিনিয়োগের ক্ষেত্রে তিনি ‘লিমিটেড লায়াবিলিটি কোম্পানি’ বা এলএলসি ব্যবহারের ওপর গুরুত্ব দেন, যা তাঁর ভাষায় একটি ‘ফায়ারওয়াল’ হিসেবে কাজ করে। এর মাধ্যমে একটি বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠানের দায় ব্যক্তিগত সম্পদের ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলতে পারে না, যদিও ঋণের চুক্তি বা ব্যক্তিগত গ্যারান্টির ক্ষেত্রে পরিস্থিতি ভিন্ন হতে পারে।

রিয়েল এস্টেট বিশেষজ্ঞ ডেভিড এ পেরেজ মনে করেন, সম্পদের বিপরীতে ঋণ নিয়ে নগদ অর্থ বের করে আনা বিনিয়োগকারীদের একটি পরিচিত কৌশল। তবে জেপিটিডি পার্টনার্সের প্রতিষ্ঠাতা জন পুল সতর্ক করে বলেছেন, বাজার অনুকূলে থাকলে এই কৌশল দারুণ কার্যকর হলেও, পরিস্থিতি উল্টো দিকে গেলে তা বড় বিপর্যয়ের কারণ হতে পারে।

১৯৯৭ সালে প্রকাশিত এবং ৪ কোটি ৪০ লাখের বেশি কপি বিক্রি হওয়া ‘রিচ ড্যাড পুওর ড্যাড’ বইয়ের এই লেখকের ব্যবসায়িক পথ সব সময় মসৃণ ছিল না। ২০১২ সালে তাঁর ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত ‘রিচ গ্লোবাল এলএলসি’ আদালতের ২ কোটি ৩৭ লাখ ডলারের রায়ের পর দেউলিয়াত্বের আবেদন করেছিল, যা ছিল কোম্পানিটির নিজস্ব দেউলিয়াত্ব, কিয়োসাকির ব্যক্তিগত নয়। সবশেষে কিয়োসাকির পরামর্শ হলো, অন্যের আর্থিক কৌশল হুবহু অনুসরণ করার আগে নিজের আর্থিক জ্ঞান ও ঝুঁকি নেওয়ার সক্ষমতা যাচাই করা একান্ত জরুরি।

সম্পত্তি খালি পড়ে থাকলে, ভাড়া কমে গেলে, সুদের হার বেড়ে গেলে কিংবা সম্পত্তির দাম পড়ে গেলে বড় ঋণের বোঝা দ্রুতই সমস্যায় পরিণত হতে পারে।.কিয়োসাকির ‘রিচ ড্যাড পুওর ড্যাড’ থেকে শিখে নিন টাকা আয়ের ৬ কৌশল.না।

বইটি এখন পর্যন্ত ৪ কোটি ৪০ লাখের বেশি কপি বিক্রি হয়েছে এবং অনূদিত হয়েছে অন্তত ৪৩টি ভাষায়।তবে কিয়োসাকির ব্যবসায়িক জীবনও সব সময় মসৃণ ছিল না।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Prothom Alo