মৃত্যুর আগেই নিজের শোকবার্তা লিখে গেলেন ওয়াশিংটনের মাইকেল
- আপডেট সময় : ১০:২৮:০৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৯ অগাস্ট ২০২৬ ১৯ বার পড়া হয়েছে

সাধারণত প্রিয়জনদের বিদায়ে শোকবার্তা লিখে থাকেন স্বজন বা বন্ধুরা। তবে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটনের অলিম্পিয়ার বাসিন্দা ৫১ বছর বয়সী মাইকেল ডি সিমোন নিজের শেষ বিদায়ের বার্তা নিজেই লিখে রেখে গেছেন। সাবেক এই সেনাসদস্য এবং দুই সন্তানের বাবা গত ২১ আগস্ট হৃদ্যন্ত্রজনিত সমস্যায় মৃত্যুবরণ করেন। বছরের শুরুতে তিনি স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়েছিলেন এবং সম্প্রতি হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন। মৃত্যুর আগে লেখা তার এই শোকবার্তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে।
ডি সিমোন তার শোকবার্তার শুরুতেই রসিকতা করে লিখেছিলেন, তিনি দুঃখের সঙ্গে জানাচ্ছেন যে তিনি আর জীবিত নেই। নিজের মৃত্যুকে নিয়ে তিনি আরও লিখেছেন, এটি তার পরিকল্পনা ছিল না। তিনি আরও কিছু সময় বেঁচে থাকার আশা করেছিলেন, কিন্তু শেষ পর্যন্ত তার শরীর ও মনের মতবিরোধে শরীরের যুক্তিই জয়ী হয়েছে। নিজের শেষ মুহূর্ত নিয়েও তিনি লিখেছেন, পৃথিবীতে আসার সময় যেমন খাবার খেতে খেতে এসেছিলেন, বিদায় নেওয়ার সময়ও পিজ্জা খেতে খেতে পৃথিবী ছেড়েছেন।
বয়স নিয়ে রসিকতা করতে গিয়ে তিনি লিখেছেন, ৫১ বছর বয়স মানুষের জন্য কম মনে হলেও কুকুরের জন্য বেশ ভালো বয়স। এই ভেবে তিনি শান্তি পেয়েছেন যে, অনেক কুকুরের চেয়ে তিনি বেশিদিন বেঁচে ছিলেন। ভ্রমণপিপাসু ডি সিমোন তার কর্মজীবনে অ্যান্টার্কটিকা ছাড়া বিশ্বের প্রায় সব মহাদেশ ঘুরেছেন। রসিকতা করে তিনি নিজেকে ১২ শতকের অভিজাত ব্যক্তির সঙ্গে তুলনা করে লিখেছেন, কোনো রাজার সন্তান না হয়েও তিনি পুরো পৃথিবী দেখার সুযোগ পেয়েছেন।
শোকবার্তার আবেগপূর্ণ অংশে তিনি স্ত্রী ডেইজি এবং দুই মেয়ে জোহানা ও ডানির কথা স্মরণ করেছেন। হাইস্কুলে পরিচয় থেকে শুরু করে সেনাবাহিনীতে একসঙ্গে থাকা এবং নানু-নানি হওয়ার পর্যায় পর্যন্ত তাদের সম্পর্কের কথা তুলে ধরে স্ত্রীকে ‘প্রিয়তমা’ বলে সম্বোধন করেছেন। মেয়েদের প্রতি ভালোবাসার গভীরতা বোঝাতে গিয়ে তিনি লিখেছেন, তাদের জন্য তার ভালোবাসা সৃষ্টির চেয়েও বড়। তবে প্রিয়জনদের কাছ থেকে দূরে চলে যাওয়ার কষ্টও তিনি স্পষ্ট করে লিখেছেন।
সবশেষে নিজের মৃত্যুসংবাদ নিজেকেই দিতে হওয়া নিয়ে তিনি কিছুটা রসিকতা করে দুঃখ প্রকাশ করেছেন যে, এই খবর দেওয়াটা খুব একটা আনন্দের কাজ নয়। দ্য সেন্ট্রালিয়া ক্রনিকল শোকবার্তাটি প্রকাশের পর এটি ইন্টারনেটে ব্যাপক প্রশংসিত হয়েছে। অনেকে মন্তব্য করেছেন, এই লেখাটি পড়ে মানুষটিকে না চিনেও যেন তার জীবন ও রসবোধ সম্পর্কে অনেক কিছু জানা গেছে। শুক্রবার ওয়াশিংটনের সেন্ট্রালিয়ায় তার শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়েছে।





























