ঢাকা ০১:৩৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬, ২৪ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
হাসপাতালে জামায়াত নেতা মুজিবুর রহমানকে দেখতে গেলেন গোলাম পরওয়ার ২০২৭ সালে তিস্তা মহাপরিকল্পনা শুরুর আশা ত্রাণমন্ত্রীর আশুলিয়ায় ৫ ঝুটের গুদাম ও বাড়িতে আগুন, নিয়ন্ত্রণে ৪ ইউনিট বিশ্ব মানসিক স্বাস্থ্য দিবসে ঢাবিতে দাবা প্রতিযোগিতার আয়োজন রোনালদোর সঙ্গে দ্বন্দ্ব: শাস্তির মুখে পড়তে পারেন পর্তুগাল কোচ জেসুস ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের আলোচনা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান বিদায়বেলায় সতীর্থ মুসোকে মজার বার্তা দিলেন লিওনেল মেসি বিদায় নিল মৌসুমি বায়ু, আবহাওয়ায় আসছে নতুন পরিবর্তনের হাওয়া নতুন ধারাবাহিক ‘ফিরে আসার গল্প’ নিয়ে দর্শকদের আগ্রহ তুঙ্গে বিজ্ঞাপন দিয়ে শিশু কেনাবেচা: সক্রিয় অসাধু চক্র ও হাসপাতালের কর্মচারী

দক্ষিণ কোরিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট ইউনের ৭ বছরের কারাদণ্ড বহাল রেখেছে আদালত

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ০৩:৪৩:৫৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই ২০২৬ ৪২ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি



২০২৪ সালে সামরিক আইন জারির ব্যর্থ চেষ্টা এবং এর পরবর্তী ঘটনাবলির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অপরাধের দায়ে দক্ষিণ কোরিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট ইউন সুক ইওলের সাত বছরের কারাদণ্ড বহাল রেখেছে দেশটির সর্বোচ্চ আদালত। বৃহস্পতিবার এই চূড়ান্ত রায় ঘোষণা করা হয়। আদালতের বিচারক টেলিভিশনে সম্প্রচারিত রায়ে বলেন, নিম্ন আদালতের রায়ে কোনো আইনি ত্রুটি না থাকায় সব আপিল খারিজ করা হলো।

মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২৪ সালে সামরিক আইন জারির আগে ইউন মন্ত্রিসভার স্বাভাবিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত করেন এবং প্রধানমন্ত্রীর জাল স্বাক্ষর ব্যবহার করেন। সংসদ সামরিক আইন বাতিল করার পর নিজের গ্রেফতার ঠেকাতে তিনি প্রেসিডেন্টের নিরাপত্তা কর্মকর্তাদেরও ব্যবহার করেছিলেন। এছাড়া তার বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রীর জাল স্বাক্ষরযুক্ত ভুয়া সামরিক আইনসংক্রান্ত আদেশ তৈরি ও ধ্বংস করা, বিদেশি গণমাধ্যমে বিভ্রান্তিকর সংবাদ বিজ্ঞপ্তি পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া এবং সেনাবাহিনীর এক কমান্ডারকে নিরাপদ সামরিক ফোনের তথ্য মুছে ফেলার নির্দেশ দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছিল।

গত জানুয়ারিতে নিম্ন আদালত পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছিলেন। এরপর এপ্রিল মাসে আপিল আদালত বিভ্রান্তিকর সংবাদ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের অভিযোগেও তাকে দোষী সাব্যস্ত করে সাজা বাড়িয়ে সাত বছর করে। রাষ্ট্রপক্ষ ইউনের ১০ বছরের কারাদণ্ড চেয়েছিল। উভয় পক্ষই সর্বোচ্চ আদালতে আপিল করেছিল, যার চূড়ান্ত রায় বৃহস্পতিবার এল। ইউনের আইনজীবীরা এই রায়ে গভীর দুঃখ প্রকাশ করেছেন এবং সাংবিধানিক ভিত্তিতে এটি চ্যালেঞ্জ করার ঘোষণা দিয়েছেন।

বর্তমানে কারাগারে থাকা এই সাবেক প্রেসিডেন্ট আরও বেশ কিছু মামলার মুখোমুখি হয়েছেন। সামরিক আইন জারির মাধ্যমে বিদ্রোহে নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য তাকে ইতিমধ্যে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে, যার বিরুদ্ধে তিনি আপিল করেছেন। এছাড়া উত্তর কোরিয়ায় ড্রোন পাঠানোর দায়ে তাকে পৃথক এক মামলায় ৩০ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। ইউন বরাবরই দাবি করে আসছেন, রাষ্ট্রবিরোধী শক্তি নির্মূল ও উত্তর কোরিয়ার হুমকি মোকাবিলার জন্য তিনি জনস্বার্থে সামরিক আইন জারির সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে তার এই পদক্ষেপের পর দেশজুড়ে ব্যাপক বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে এবং রাজনৈতিক সংকট সৃষ্টি হয়। আইনপ্রণেতাদের দ্রুত ভোটে সামরিক আইন ছয় ঘণ্টা পরেই বাতিল হয়ে যায়। এই ঘটনার জেরে ২০২৫ সালের এপ্রিলে তাকে ক্ষমতা থেকে অপসারণ করা হয় এবং পরবর্তী নির্বাচনে লি জে মিয়ং প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Amar Desh

নিউজটি শেয়ার করুন

দক্ষিণ কোরিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট ইউনের ৭ বছরের কারাদণ্ড বহাল রেখেছে আদালত

আপডেট সময় : ০৩:৪৩:৫৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই ২০২৬

২০২৪ সালে সামরিক আইন জারির ব্যর্থ চেষ্টা এবং এর পরবর্তী ঘটনাবলির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অপরাধের দায়ে দক্ষিণ কোরিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট ইউন সুক ইওলের সাত বছরের কারাদণ্ড বহাল রেখেছে দেশটির সর্বোচ্চ আদালত। বৃহস্পতিবার এই চূড়ান্ত রায় ঘোষণা করা হয়। আদালতের বিচারক টেলিভিশনে সম্প্রচারিত রায়ে বলেন, নিম্ন আদালতের রায়ে কোনো আইনি ত্রুটি না থাকায় সব আপিল খারিজ করা হলো।

মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২৪ সালে সামরিক আইন জারির আগে ইউন মন্ত্রিসভার স্বাভাবিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত করেন এবং প্রধানমন্ত্রীর জাল স্বাক্ষর ব্যবহার করেন। সংসদ সামরিক আইন বাতিল করার পর নিজের গ্রেফতার ঠেকাতে তিনি প্রেসিডেন্টের নিরাপত্তা কর্মকর্তাদেরও ব্যবহার করেছিলেন। এছাড়া তার বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রীর জাল স্বাক্ষরযুক্ত ভুয়া সামরিক আইনসংক্রান্ত আদেশ তৈরি ও ধ্বংস করা, বিদেশি গণমাধ্যমে বিভ্রান্তিকর সংবাদ বিজ্ঞপ্তি পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া এবং সেনাবাহিনীর এক কমান্ডারকে নিরাপদ সামরিক ফোনের তথ্য মুছে ফেলার নির্দেশ দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছিল।

গত জানুয়ারিতে নিম্ন আদালত পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছিলেন। এরপর এপ্রিল মাসে আপিল আদালত বিভ্রান্তিকর সংবাদ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের অভিযোগেও তাকে দোষী সাব্যস্ত করে সাজা বাড়িয়ে সাত বছর করে। রাষ্ট্রপক্ষ ইউনের ১০ বছরের কারাদণ্ড চেয়েছিল। উভয় পক্ষই সর্বোচ্চ আদালতে আপিল করেছিল, যার চূড়ান্ত রায় বৃহস্পতিবার এল। ইউনের আইনজীবীরা এই রায়ে গভীর দুঃখ প্রকাশ করেছেন এবং সাংবিধানিক ভিত্তিতে এটি চ্যালেঞ্জ করার ঘোষণা দিয়েছেন।

বর্তমানে কারাগারে থাকা এই সাবেক প্রেসিডেন্ট আরও বেশ কিছু মামলার মুখোমুখি হয়েছেন। সামরিক আইন জারির মাধ্যমে বিদ্রোহে নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য তাকে ইতিমধ্যে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে, যার বিরুদ্ধে তিনি আপিল করেছেন। এছাড়া উত্তর কোরিয়ায় ড্রোন পাঠানোর দায়ে তাকে পৃথক এক মামলায় ৩০ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। ইউন বরাবরই দাবি করে আসছেন, রাষ্ট্রবিরোধী শক্তি নির্মূল ও উত্তর কোরিয়ার হুমকি মোকাবিলার জন্য তিনি জনস্বার্থে সামরিক আইন জারির সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে তার এই পদক্ষেপের পর দেশজুড়ে ব্যাপক বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে এবং রাজনৈতিক সংকট সৃষ্টি হয়। আইনপ্রণেতাদের দ্রুত ভোটে সামরিক আইন ছয় ঘণ্টা পরেই বাতিল হয়ে যায়। এই ঘটনার জেরে ২০২৫ সালের এপ্রিলে তাকে ক্ষমতা থেকে অপসারণ করা হয় এবং পরবর্তী নির্বাচনে লি জে মিয়ং প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Amar Desh