ঝিনাইদহে শিক্ষার্থীদের চুল কাটালেন স্কুল সভাপতি, অভিভাবকদের সঙ্গে হাতাহাতি
- আপডেট সময় : ১০:২৯:০২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই ২০২৬ ৮ বার পড়া হয়েছে

ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলার মির্জাপুর ইউনিয়নের কিসমত আলী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের জোরপূর্বক চুল কেটে দেওয়ার মতো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার সকালে বিদ্যালয়টির পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি মামুনুর রশিদ শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থীদের ডেকে এনে বাইরে থেকে নাপিত ডেকে তাদের চুল কাটাতে বাধ্য করেন। এই ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে অভিভাবকরা ক্ষুব্ধ হয়ে বিদ্যালয়ে ছুটে আসেন। একপর্যায়ে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে অভিভাবকদের কথা-কাটাকাটি হয়, যা পরে হাতাহাতি ও হট্টগোলে রূপ নেয়।
ভুক্তভোগী অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী আফিন হোসেন ও সাকিন হোসেন জানায়, তাদের কয়েকজনকে শ্রেণিকক্ষে ডেকে নিয়ে জোরপূর্বক পাশের বাজার থেকে আনা নাপিতের মাধ্যমে চুল কেটে দেওয়া হয়েছে। ঘটনার শিকার এক শিক্ষার্থীর বাবা আব্দুল মালেক মোল্লা অভিযোগ করেন, সভাপতি অতি-কর্তৃত্ব দেখিয়ে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে এমন আচরণ করেছেন, যা কোনোভাবেই কাম্য নয়।
অভিযোগের বিষয়ে বিদ্যালয় পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি মামুনুর রশিদ জানান, বুধবার অভিভাবকদের নিয়ে একটি মিটিং করা হয়েছিল। সেখানে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল যে, যেসব শিক্ষার্থী এলোমেলো চুল রাখে তাদের চুল সুন্দর করে কেটে দেওয়া হবে এবং অসংগতিপূর্ণ ফেস মাস্ক পরা বন্ধ করা হবে। তিনি দাবি করেন, বিদ্যালয়ের ভালোর জন্যই তিনি এই উদ্যোগ নিয়েছিলেন এবং হাতাহাতির ঘটনাটি একজন অভিভাবকের অনাকাঙ্ক্ষিত আচরণের ফল।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জাহিদুজ্জামান বলেন, ঘটনাটি অনাকাঙ্ক্ষিত হলেও সভাপতি ভালো উদ্দেশ্য নিয়েই এটি করেছিলেন। বর্তমানে উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সবার সঙ্গে আলোচনা করে দ্রুত সমাধানের চেষ্টা চলছে। ঝিনাইদহ জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা লুৎফর রহমান জানান, তিনি বিষয়টি আগে জানতেন না, তবে তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, আইনগতভাবে শিক্ষার্থীদের জোর করে চুল কেটে দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই।




























