ঢাকা ০৯:২০ অপরাহ্ন, বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬, ২৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি গড়তে মার্কিন বিনিয়োগের আহ্বান শিল্পমন্ত্রীর ঘুষ না পেয়ে ঠিকাদারের হাত ভাঙার অভিযোগ সরকারি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে জুলাইয়ের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে কোনো আপস নয়: নুরুন্নিসা সিদ্দিকা ঘুমের ওষুধ খাইয়ে দুই সন্তানকে হাওরে ফেলে হত্যা, ঘাতক বাবা গ্রেপ্তার রাষ্ট্রপতি প্রার্থী চূড়ান্ত করতে বৃহস্পতিবার বৈঠকে বসছে বিএনপি ১২ বছরে ১১৭ কার্গো এলএনজি কেনার অনুমোদন পেল সরকার ফ্যাসিবাদের চূড়ান্ত বহিঃপ্রকাশে কোকোর মৃত্যু: রিজভী বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে শপিংমল ও দোকানপাট রাত ৮টার মধ্যে বন্ধের নির্দেশ ইনফিনিক্সের নতুন স্মার্টফোন হট ৭০ প্রো ৫জি বাজারে হাতিয়ায় উত্তাল সাগরে ৩ ট্রলারডুবি, জীবিত উদ্ধার ৪৮ জেলে

হরমুজ প্রণালি ঘিরে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাতের প্রস্তুতি হোয়াইট হাউসের

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১০:৪৫:১৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই ২০২৬ ৩৩ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি
print news

হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে কয়েক দিন থেকে শুরু করে কয়েক সপ্তাহ পর্যন্ত সামরিক সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় হোয়াইট হাউস জোর প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে জানিয়েছে অ্যাক্সিওস। কর্মকর্তাদের মতে, এই সংঘাতের ব্যাপ্তি ও তীব্রতা পুরোপুরি নির্ভর করছে ইরানের পরবর্তী পদক্ষেপের ওপর। যদিও অভিযানের প্রাথমিক লক্ষ্য ছিল ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা কমিয়ে আনা এবং পারমাণবিক কর্মসূচি ধ্বংস করা, তবে বর্তমানে সংঘাতের মূল কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন পথ হরমুজ প্রণালি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, চলমান উত্তেজনা এক বা দুই দিন, এক সপ্তাহ কিংবা এক মাস পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে। সবকিছুই নির্ভর করছে বাণিজ্যিক জাহাজে ইরানের হামলার ধরনের ওপর। তিনি আরও বলেন, ইরানকে এমনভাবে জবাব দেওয়া হবে যাতে তারা বুঝতে পারে যুক্তরাষ্ট্র কোনো ছাড় দিতে রাজি নয়।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বুধবার জানিয়েছেন, সমঝোতা স্মারকে উল্লিখিত ৬০ দিনের যুদ্ধবিরতি কার্যত শেষ হয়ে গেছে। তার অভিযোগ, বাণিজ্যিক জাহাজে ইরানের হামলার পর নতুন করে সংঘর্ষ শুরু হয়েছে। এর প্রতিক্রিয়ায় যুক্তরাষ্ট্র হরমুজ প্রণালির কাছে দ্বিতীয় দফা হামলা চালিয়েছে, যার মধ্যে কয়েক মাসের মধ্যে প্রথমবারের মতো ইরানের অভ্যন্তরে অবকাঠামোগত লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত করা হয়েছে। টানা তিন দিন ধরে উভয় দেশের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলা চলছে। ইরানও কুয়েত, বাহরাইন ও জর্ডানে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিতে পাল্টা হামলা অব্যাহত রেখেছে এবং হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ ছাড়বে না বলে ঘোষণা দিয়েছে।

ইরানের শীর্ষ আলোচক মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের অভিযোগ তুলেছেন। তিনি এক্স হ্যান্ডেলে লিখেছেন, হরমুজ প্রণালি কেবল ইরানের শর্তেই উন্মুক্ত হবে। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, হামলা করলে পাল্টা জবাব আসবে এবং প্রণালিটি ইরানের ব্যবস্থাপনায় চলবে।

ট্রাম্প প্রশাসনের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য এখন আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের স্বাভাবিক গতি বজায় রাখা এবং জ্বালানি বাজারের স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা। অন্যদিকে ইরান সমঝোতার শর্ত হিসেবে প্রণালির ওপর নিজেদের নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখতে চায়। ওমান উপকূলের দক্ষিণ দিকের রুট ব্যবহার করে তেহরানের অনুমতি ছাড়াই জাহাজ চলাচল করানোর মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র সমঝোতা লঙ্ঘন করেছে বলেও অভিযোগ ইরানের।

হোয়াইট হাউস মনে করছে, সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে শত শত তেলবাহী জাহাজ নিরাপদে প্রণালি অতিক্রম করায় সামরিক চাপ আরও বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে। তাদের ধারণা, নতুন করে সংঘাত শুরু হলেও বৈশ্বিক তেলের বাজারে তাৎক্ষণিকভাবে বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি হবে না। তবে ইরানের অভ্যন্তরীণ কট্টরপন্থী অংশ মনে করছে, বর্তমান সমঝোতা থেকে তেহরান কোনো সুবিধা পাচ্ছে না। নিষেধাজ্ঞা শিথিল হলেও ব্যাংক লেনদেন ও তেল বিক্রিতে জটিলতা রয়ে গেছে। ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স স্পষ্ট করেছেন, হরমুজ প্রণালি আন্তর্জাতিক নৌ চলাচলের জন্য উন্মুক্ত থাকতে হবে। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে, ইরান প্রণালি বন্ধের চেষ্টা করলে মার্কিন সামরিক বাহিনী তার জবাব দেবে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Manab Zamin

নিউজটি শেয়ার করুন

হরমুজ প্রণালি ঘিরে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাতের প্রস্তুতি হোয়াইট হাউসের

আপডেট সময় : ১০:৪৫:১৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই ২০২৬
print news

হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে কয়েক দিন থেকে শুরু করে কয়েক সপ্তাহ পর্যন্ত সামরিক সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় হোয়াইট হাউস জোর প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে জানিয়েছে অ্যাক্সিওস। কর্মকর্তাদের মতে, এই সংঘাতের ব্যাপ্তি ও তীব্রতা পুরোপুরি নির্ভর করছে ইরানের পরবর্তী পদক্ষেপের ওপর। যদিও অভিযানের প্রাথমিক লক্ষ্য ছিল ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা কমিয়ে আনা এবং পারমাণবিক কর্মসূচি ধ্বংস করা, তবে বর্তমানে সংঘাতের মূল কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন পথ হরমুজ প্রণালি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, চলমান উত্তেজনা এক বা দুই দিন, এক সপ্তাহ কিংবা এক মাস পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে। সবকিছুই নির্ভর করছে বাণিজ্যিক জাহাজে ইরানের হামলার ধরনের ওপর। তিনি আরও বলেন, ইরানকে এমনভাবে জবাব দেওয়া হবে যাতে তারা বুঝতে পারে যুক্তরাষ্ট্র কোনো ছাড় দিতে রাজি নয়।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বুধবার জানিয়েছেন, সমঝোতা স্মারকে উল্লিখিত ৬০ দিনের যুদ্ধবিরতি কার্যত শেষ হয়ে গেছে। তার অভিযোগ, বাণিজ্যিক জাহাজে ইরানের হামলার পর নতুন করে সংঘর্ষ শুরু হয়েছে। এর প্রতিক্রিয়ায় যুক্তরাষ্ট্র হরমুজ প্রণালির কাছে দ্বিতীয় দফা হামলা চালিয়েছে, যার মধ্যে কয়েক মাসের মধ্যে প্রথমবারের মতো ইরানের অভ্যন্তরে অবকাঠামোগত লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত করা হয়েছে। টানা তিন দিন ধরে উভয় দেশের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলা চলছে। ইরানও কুয়েত, বাহরাইন ও জর্ডানে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিতে পাল্টা হামলা অব্যাহত রেখেছে এবং হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ ছাড়বে না বলে ঘোষণা দিয়েছে।

ইরানের শীর্ষ আলোচক মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের অভিযোগ তুলেছেন। তিনি এক্স হ্যান্ডেলে লিখেছেন, হরমুজ প্রণালি কেবল ইরানের শর্তেই উন্মুক্ত হবে। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, হামলা করলে পাল্টা জবাব আসবে এবং প্রণালিটি ইরানের ব্যবস্থাপনায় চলবে।

ট্রাম্প প্রশাসনের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য এখন আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের স্বাভাবিক গতি বজায় রাখা এবং জ্বালানি বাজারের স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা। অন্যদিকে ইরান সমঝোতার শর্ত হিসেবে প্রণালির ওপর নিজেদের নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখতে চায়। ওমান উপকূলের দক্ষিণ দিকের রুট ব্যবহার করে তেহরানের অনুমতি ছাড়াই জাহাজ চলাচল করানোর মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র সমঝোতা লঙ্ঘন করেছে বলেও অভিযোগ ইরানের।

হোয়াইট হাউস মনে করছে, সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে শত শত তেলবাহী জাহাজ নিরাপদে প্রণালি অতিক্রম করায় সামরিক চাপ আরও বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে। তাদের ধারণা, নতুন করে সংঘাত শুরু হলেও বৈশ্বিক তেলের বাজারে তাৎক্ষণিকভাবে বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি হবে না। তবে ইরানের অভ্যন্তরীণ কট্টরপন্থী অংশ মনে করছে, বর্তমান সমঝোতা থেকে তেহরান কোনো সুবিধা পাচ্ছে না। নিষেধাজ্ঞা শিথিল হলেও ব্যাংক লেনদেন ও তেল বিক্রিতে জটিলতা রয়ে গেছে। ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স স্পষ্ট করেছেন, হরমুজ প্রণালি আন্তর্জাতিক নৌ চলাচলের জন্য উন্মুক্ত থাকতে হবে। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে, ইরান প্রণালি বন্ধের চেষ্টা করলে মার্কিন সামরিক বাহিনী তার জবাব দেবে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Manab Zamin