ঢাকা ০৩:৩৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৯ জুলাই ২০২৬, ২৪ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
আর্থিক অনিয়মের অভিযোগে এফবিআইয়ের তদন্তে আর্জেন্টিনা ফুটবল সংস্থা বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে ফ্রান্স বনাম মরক্কো: প্রতিশোধের নেশায় মরিয়া মরক্কো কলকাতায় তৃণমূলের প্রতিবাদ মিছিলে বাধা, সংঘর্ষে আহত ১৫ জন উখিয়ায় পাহাড়ধসে ৮ জনের মৃত্যুতে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ ছাত্রশিবিরের আর্জেন্টিনাকে বাড়তি সুবিধা দেওয়া নিয়ে যা বললেন ফ্রান্সের কোচ নরসিংদীতে ভারি বৃষ্টিতে মাটির দেয়াল ধসে স্কুলছাত্রী নিহত শেয়ারবাজারের কারসাজিকারীদের বিচারের আওতায় আনা হবে: প্রধানমন্ত্রী ২০২৬ বিশ্বকাপ জয়ের দৌড়ে এগিয়ে ফ্রান্স, আর্জেন্টিনার সম্ভাবনা বাড়ল উখিয়ায় রোহিঙ্গা ক্যাম্পে পাহাড়ধস: শিক্ষার্থী নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৮ বাংলাদেশ-পাকিস্তান দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য বৃদ্ধির প্রত্যাশা হাইকমিশনারের

বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে ফ্রান্স বনাম মরক্কো: প্রতিশোধের নেশায় মরিয়া মরক্কো

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০২:৩৭:৪৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই ২০২৬ ৪ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি
print news

বিশ্ব ফুটবলের এক ঐতিহাসিক ও বিতর্কিত মহাকাব্যের সাক্ষী হতে চলেছে ফুটবল বিশ্ব। কাতার বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে মুখোমুখি হওয়ার পর এবার ফের লড়ছে বর্তমান বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী দল ফ্রান্স এবং চমক জাগানো মরক্কো। ফুটবল বিশ্লেষকদের মতে, এটি কেবল একটি ম্যাচ নয়, বরং ২০২২ সালের অসম্পূর্ণ রূপকথার এক নতুন অধ্যায়। ১৪ই ডিসেম্বর ২০২২ সালে আল বাইত স্টেডিয়ামে ফ্রান্স ২-০ গোলে মরক্কোকে হারিয়েছিল, যার ফলে সেবার মরক্কোর স্বপ্নভঙ্গ হয়েছিল।

ফ্রান্সের টানা তৃতীয়বার ফাইনালে খেলার জেদ এবং মরক্কোর বুকে জ্বলতে থাকা প্রতিশোধের আগুন এই লড়াইকে ভিন্ন মাত্রা দিয়েছে। রাউন্ড অব ষোলোতে ফ্রান্স প্যারাগুয়ের বিপক্ষে কষ্টার্জিত ১-০ গোলের জয় পেয়েছে, যেখানে কিলিয়ান এমবাপ্পে কড়া মার্কিংয়ের শিকার ছিলেন। অন্যদিকে, কানাডাকে ৩-০ গোলে উড়িয়ে দিয়ে মরক্কো প্রমাণ করেছে তাদের রক্ষণভাগ কতটা ইস্পাত কঠিন এবং আক্রমণভাগ কতটা গতিশীল। হাকিম জিয়েশ ও ইউসেফ এন নেসিরির মতো তারকারা এখন যেকোনো মুহূর্তে খেলার মোড় ঘুরিয়ে দিতে সক্ষম।

এই হাইভোল্টেজ ম্যাচ ঘিরে তৈরি হয়েছে নতুন বিতর্ক। ফিফা এই ম্যাচের জন্য সম্পূর্ণ আর্জেন্টাইন রেফারিং প্যানেল নিয়োগ করেছে, যার মূল দায়িত্বে আছেন ফাকুন্দো তেলো এবং তার দুই সহকারী হুয়ান পাবলো বেলাত্তি ও গ্যাব্রিয়েল। সোশ্যাল মিডিয়ায় এই সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক সমালোচনার ঝড় উঠেছে। ফ্রান্সের সমর্থকরা এটিকে ষড়যন্ত্র হিসেবে দেখছেন, কারণ কাতার বিশ্বকাপের ফাইনালে আর্জেন্টিনার কাছে হারের স্মৃতি এখনো তাজা। এছাড়াও আর্জেন্টিনা-মিশর ম্যাচের বিতর্কিত রেফারিং নিয়ে ফিফার ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে।

মাঠের লড়াইয়ে নজর থাকবে দুই পিএসজি সতীর্থ কিলিয়ান এমবাপ্পে এবং আশরাফ হাকিমির দিকে। এমবাপ্পে নিজেকে পেলে বা ম্যারাডোনার উচ্চতায় নিয়ে যেতে মরিয়া। অন্যদিকে, হাকিমি যদি এমবাপ্পেকে আটকাতে পারেন, তবেই মরক্কোর জয়ের সম্ভাবনা বাড়বে। গোলরক্ষক ইয়াসিন বুনুর পারফরম্যান্সও এই ম্যাচে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হতে যাচ্ছে। এটি কেবল ফুটবল নয়, বরং অভিবাসন, ইতিহাস এবং ঔপনিবেশিক শক্তির বিরুদ্ধে শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণের এক মঞ্চ। অন্যথায় নাটকীয় কিছু ঘটতে পারে। এটি নিছক ৯০ বা ১২০ মিনিটের ফুটবল নয়। ফ্রান্সের জয়ের অর্থ সোনালি প্রজন্মের আধিপত্য বজায় রাখা, আর মরক্কোর জয় মানে বিশ্ব ফুটবলের চিরাচরিত মেরুকরণ ভেঙে নতুন শক্তির উত্থান।

নিউজটি শেয়ার করুন

বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে ফ্রান্স বনাম মরক্কো: প্রতিশোধের নেশায় মরিয়া মরক্কো

আপডেট সময় : ০২:৩৭:৪৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই ২০২৬
print news

বিশ্ব ফুটবলের এক ঐতিহাসিক ও বিতর্কিত মহাকাব্যের সাক্ষী হতে চলেছে ফুটবল বিশ্ব। কাতার বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে মুখোমুখি হওয়ার পর এবার ফের লড়ছে বর্তমান বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী দল ফ্রান্স এবং চমক জাগানো মরক্কো। ফুটবল বিশ্লেষকদের মতে, এটি কেবল একটি ম্যাচ নয়, বরং ২০২২ সালের অসম্পূর্ণ রূপকথার এক নতুন অধ্যায়। ১৪ই ডিসেম্বর ২০২২ সালে আল বাইত স্টেডিয়ামে ফ্রান্স ২-০ গোলে মরক্কোকে হারিয়েছিল, যার ফলে সেবার মরক্কোর স্বপ্নভঙ্গ হয়েছিল।

ফ্রান্সের টানা তৃতীয়বার ফাইনালে খেলার জেদ এবং মরক্কোর বুকে জ্বলতে থাকা প্রতিশোধের আগুন এই লড়াইকে ভিন্ন মাত্রা দিয়েছে। রাউন্ড অব ষোলোতে ফ্রান্স প্যারাগুয়ের বিপক্ষে কষ্টার্জিত ১-০ গোলের জয় পেয়েছে, যেখানে কিলিয়ান এমবাপ্পে কড়া মার্কিংয়ের শিকার ছিলেন। অন্যদিকে, কানাডাকে ৩-০ গোলে উড়িয়ে দিয়ে মরক্কো প্রমাণ করেছে তাদের রক্ষণভাগ কতটা ইস্পাত কঠিন এবং আক্রমণভাগ কতটা গতিশীল। হাকিম জিয়েশ ও ইউসেফ এন নেসিরির মতো তারকারা এখন যেকোনো মুহূর্তে খেলার মোড় ঘুরিয়ে দিতে সক্ষম।

এই হাইভোল্টেজ ম্যাচ ঘিরে তৈরি হয়েছে নতুন বিতর্ক। ফিফা এই ম্যাচের জন্য সম্পূর্ণ আর্জেন্টাইন রেফারিং প্যানেল নিয়োগ করেছে, যার মূল দায়িত্বে আছেন ফাকুন্দো তেলো এবং তার দুই সহকারী হুয়ান পাবলো বেলাত্তি ও গ্যাব্রিয়েল। সোশ্যাল মিডিয়ায় এই সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক সমালোচনার ঝড় উঠেছে। ফ্রান্সের সমর্থকরা এটিকে ষড়যন্ত্র হিসেবে দেখছেন, কারণ কাতার বিশ্বকাপের ফাইনালে আর্জেন্টিনার কাছে হারের স্মৃতি এখনো তাজা। এছাড়াও আর্জেন্টিনা-মিশর ম্যাচের বিতর্কিত রেফারিং নিয়ে ফিফার ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে।

মাঠের লড়াইয়ে নজর থাকবে দুই পিএসজি সতীর্থ কিলিয়ান এমবাপ্পে এবং আশরাফ হাকিমির দিকে। এমবাপ্পে নিজেকে পেলে বা ম্যারাডোনার উচ্চতায় নিয়ে যেতে মরিয়া। অন্যদিকে, হাকিমি যদি এমবাপ্পেকে আটকাতে পারেন, তবেই মরক্কোর জয়ের সম্ভাবনা বাড়বে। গোলরক্ষক ইয়াসিন বুনুর পারফরম্যান্সও এই ম্যাচে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হতে যাচ্ছে। এটি কেবল ফুটবল নয়, বরং অভিবাসন, ইতিহাস এবং ঔপনিবেশিক শক্তির বিরুদ্ধে শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণের এক মঞ্চ। অন্যথায় নাটকীয় কিছু ঘটতে পারে। এটি নিছক ৯০ বা ১২০ মিনিটের ফুটবল নয়। ফ্রান্সের জয়ের অর্থ সোনালি প্রজন্মের আধিপত্য বজায় রাখা, আর মরক্কোর জয় মানে বিশ্ব ফুটবলের চিরাচরিত মেরুকরণ ভেঙে নতুন শক্তির উত্থান।