ঢাকা ০৭:১৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ২৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
আজ ৫৭তম বিশ্ব মান দিবস: সাশ্রয়ী ও পরিবেশবান্ধব জ্বালানিতে জোর ময়মনসিংহে স্কুলে শিক্ষক-শিক্ষিকার মারামারির ভিডিও ভাইরাল দুর্যোগ মোকাবিলায় তালতলীতে ৬০ স্বেচ্ছাসেবককে বিশেষ প্রশিক্ষণ বিশ্বব্যাংকের কাছ থেকে ১০ বিলিয়ন ডলার সহায়তা পেতে আলোচনা চলছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইএমএলে ১২টি ভাষা শেখার সুযোগ ৩৬ বছর বয়সে না ফেরার দেশে জিম্বাবুয়ের আম্পায়ার সারাহ বিএনপিকেও শেখ হাসিনার ভূতে ধরেছে: মামুনুল হক মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতায় বাংলাদেশের শ্রমবাজার ও রেমিট্যান্স নিয়ে শঙ্কা নোয়াখালীতে খুঁটিতে বেঁধে যুবককে পিটিয়ে হত্যার ভিডিও ভাইরাল তৈরি পোশাক রপ্তানিতে নন-কটন পণ্যের সক্ষমতা বাড়াচ্ছে বাংলাদেশ

বিশ্বকাপে কেন শেষ মুহূর্তে হেরে যাচ্ছে আফ্রিকান দলগুলো

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ১১:৩৯:৪০ অপরাহ্ন, বুধবার, ৮ জুলাই ২০২৬ ৬৫ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি



গত নভেম্বরে ইতালির তৎকালীন কোচ জেন্নারো গাত্তুসো বিশ্বকাপে আফ্রিকা মহাদেশের কোটা বৃদ্ধি নিয়ে বেশ ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন। তিনি বলেছিলেন, একসময় আফ্রিকা থেকে মাত্র দুটি দল বিশ্বকাপে খেলত, অথচ এবার খেলছে ৯টি দল। বাছাইপর্বে রানার্সআপ হয়েও ইতালিকে প্লে-অফ খেলতে হয়েছে, কিন্তু আফ্রিকান দলগুলো সরাসরি টিকিট পাওয়ায় তিনি কিছুটা অসন্তোষই প্রকাশ করেছিলেন। শেষ পর্যন্ত ইতালি বিশ্বকাপে জায়গা না পেলেও, আফ্রিকান দলগুলো তাদের পারফরম্যান্স দিয়ে দারুণ চমক দেখিয়েছে।

এবারের বিশ্বকাপে অংশগ্রহণকারী দলের সংখ্যা ১৬টি বেড়ে যাওয়ায় আফ্রিকা থেকে ১০টি দল সুযোগ পেয়েছিল। তিউনিসিয়া বাদে বাকি সব আফ্রিকান দল গ্রুপ পর্বের বাধা টপকালেও, নকআউট পর্বে এসে তাদের ছন্দপতন ঘটে। শেষ পর্যন্ত কোয়ার্টার ফাইনাল নিশ্চিত করতে পেরেছে কেবল মরক্কো। বাদ পড়া দলগুলোর বেশিরভাগই বিদায় নিয়েছে ম্যাচের শেষ মুহূর্তে গোল হজম করে।

মিসরের কথাই ধরা যাক, আর্জেন্টিনার বিপক্ষে তারা ২-০ গোলে এগিয়ে থেকেও শেষ ১৩ মিনিটের জাদুতে জয় হাতছাড়া করে। লিওনেল মেসির পেনাল্টি মিসের পরও ৭৮ মিনিটের পর থেকে মিসর খেই হারিয়ে ফেলে। একই ভাগ্য বরণ করতে হয়েছে কেপ ভার্দেকেও। আর্জেন্টিনার বিপক্ষে ৯০ মিনিট পর্যন্ত ১-১ এবং অতিরিক্ত সময়ে ২-২ সমতা থাকলেও ১১১ মিনিটে দিনেই বোর্হেসের আত্মঘাতী গোল তাদের বিদায় নিশ্চিত করে।

আফ্রিকান দেশগুলোর মধ্যে সেনেগালের গল্পটি সবচেয়ে করুণ। বেলজিয়ামের বিপক্ষে ৮৫ মিনিট পর্যন্ত আধিপত্য বিস্তার করেও শেষ ৫ মিনিটে সমতা এবং অতিরিক্ত সময়ের শেষ মিনিটে পেনাল্টি থেকে গোল হজম করে তাদের বিশ্বকাপ যাত্রা শেষ হয়। দক্ষিণ আফ্রিকা ৯১ মিনিটে কানাডার বিপক্ষে গোল খেয়ে, আইভরিকোস্ট ৮৬ মিনিটে নরওয়ের বিপক্ষে দ্বিতীয় গোল খেয়ে এবং ডিআর কঙ্গো ৭৫ মিনিটের পর হ্যারি কেইনের একক নৈপুণ্যের কাছে হেরে বিদায় নেয়।

প্রতিটি ম্যাচের চিত্র প্রায় একই। আফ্রিকান দলগুলো ম্যাচের শুরু থেকে নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখলেও শেষ মুহূর্তের চাপ সামলাতে গিয়ে তালগোল পাকিয়ে ফেলে। স্নায়ুর চাপ ধরে রাখতে না পারায় রক্ষণের শৃঙ্খলা হারিয়ে তারা প্রতিপক্ষকে গোল করার সুযোগ করে দিচ্ছে। চাপের মুখে এই মানসিক দুর্বলতাই শেষ পর্যন্ত তাদের জন্য কাল হয়ে দাঁড়িয়েছে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Prothom Alo

নিউজটি শেয়ার করুন

বিশ্বকাপে কেন শেষ মুহূর্তে হেরে যাচ্ছে আফ্রিকান দলগুলো

আপডেট সময় : ১১:৩৯:৪০ অপরাহ্ন, বুধবার, ৮ জুলাই ২০২৬

গত নভেম্বরে ইতালির তৎকালীন কোচ জেন্নারো গাত্তুসো বিশ্বকাপে আফ্রিকা মহাদেশের কোটা বৃদ্ধি নিয়ে বেশ ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন। তিনি বলেছিলেন, একসময় আফ্রিকা থেকে মাত্র দুটি দল বিশ্বকাপে খেলত, অথচ এবার খেলছে ৯টি দল। বাছাইপর্বে রানার্সআপ হয়েও ইতালিকে প্লে-অফ খেলতে হয়েছে, কিন্তু আফ্রিকান দলগুলো সরাসরি টিকিট পাওয়ায় তিনি কিছুটা অসন্তোষই প্রকাশ করেছিলেন। শেষ পর্যন্ত ইতালি বিশ্বকাপে জায়গা না পেলেও, আফ্রিকান দলগুলো তাদের পারফরম্যান্স দিয়ে দারুণ চমক দেখিয়েছে।

এবারের বিশ্বকাপে অংশগ্রহণকারী দলের সংখ্যা ১৬টি বেড়ে যাওয়ায় আফ্রিকা থেকে ১০টি দল সুযোগ পেয়েছিল। তিউনিসিয়া বাদে বাকি সব আফ্রিকান দল গ্রুপ পর্বের বাধা টপকালেও, নকআউট পর্বে এসে তাদের ছন্দপতন ঘটে। শেষ পর্যন্ত কোয়ার্টার ফাইনাল নিশ্চিত করতে পেরেছে কেবল মরক্কো। বাদ পড়া দলগুলোর বেশিরভাগই বিদায় নিয়েছে ম্যাচের শেষ মুহূর্তে গোল হজম করে।

মিসরের কথাই ধরা যাক, আর্জেন্টিনার বিপক্ষে তারা ২-০ গোলে এগিয়ে থেকেও শেষ ১৩ মিনিটের জাদুতে জয় হাতছাড়া করে। লিওনেল মেসির পেনাল্টি মিসের পরও ৭৮ মিনিটের পর থেকে মিসর খেই হারিয়ে ফেলে। একই ভাগ্য বরণ করতে হয়েছে কেপ ভার্দেকেও। আর্জেন্টিনার বিপক্ষে ৯০ মিনিট পর্যন্ত ১-১ এবং অতিরিক্ত সময়ে ২-২ সমতা থাকলেও ১১১ মিনিটে দিনেই বোর্হেসের আত্মঘাতী গোল তাদের বিদায় নিশ্চিত করে।

আফ্রিকান দেশগুলোর মধ্যে সেনেগালের গল্পটি সবচেয়ে করুণ। বেলজিয়ামের বিপক্ষে ৮৫ মিনিট পর্যন্ত আধিপত্য বিস্তার করেও শেষ ৫ মিনিটে সমতা এবং অতিরিক্ত সময়ের শেষ মিনিটে পেনাল্টি থেকে গোল হজম করে তাদের বিশ্বকাপ যাত্রা শেষ হয়। দক্ষিণ আফ্রিকা ৯১ মিনিটে কানাডার বিপক্ষে গোল খেয়ে, আইভরিকোস্ট ৮৬ মিনিটে নরওয়ের বিপক্ষে দ্বিতীয় গোল খেয়ে এবং ডিআর কঙ্গো ৭৫ মিনিটের পর হ্যারি কেইনের একক নৈপুণ্যের কাছে হেরে বিদায় নেয়।

প্রতিটি ম্যাচের চিত্র প্রায় একই। আফ্রিকান দলগুলো ম্যাচের শুরু থেকে নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখলেও শেষ মুহূর্তের চাপ সামলাতে গিয়ে তালগোল পাকিয়ে ফেলে। স্নায়ুর চাপ ধরে রাখতে না পারায় রক্ষণের শৃঙ্খলা হারিয়ে তারা প্রতিপক্ষকে গোল করার সুযোগ করে দিচ্ছে। চাপের মুখে এই মানসিক দুর্বলতাই শেষ পর্যন্ত তাদের জন্য কাল হয়ে দাঁড়িয়েছে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Prothom Alo