ঢাকা ০৫:৫৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬, ২৪ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
চাপ অব্যাহত থাকলে মোদি সরকারের পতন নিশ্চিত: রাহুল গান্ধী ১১ বছর ধরে বন্ধ এমআরআই, দিনাজপুর মেডিকেলে ব্যাহত চিকিৎসাসেবা ২০২৬ সালের নোবেল শান্তি পুরস্কার পেলেন নাভি পিলাই শিক্ষাব্যবস্থা ধ্বংসের জন্য বিগত সরকারকে দায়ী করলেন রিজভী মাদারগঞ্জে আরও দুটি কূপ খননের উদ্যোগ নিয়েছে বাপেক্স শিক্ষকদের বেতন সংকটে বন্ধ লামার মিরিঞ্জা প্রাথমিক বিদ্যালয় সিরাজগঞ্জে তিন মাদক মামলায় পাঁচজনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড নিদাল হাসানের মৃত্যুদণ্ড সরাসরি সম্প্রচারের পরিকল্পনা ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রে তীব্র বিতর্ক মানচিত্রে ‘লিটল ইতালি’ বাদ, নিউইয়র্কের তহবিল বন্ধের হুমকি ট্রাম্পের বিশ্ব অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে রাশিয়ার জ্বালানি: পুতিন

বেলুচিস্তানে চার দিনের ভয়াবহ হামলায় নিহত ৯৬

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ০৪:১৩:৫৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই ২০২৬ ৪৮ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি



পাকিস্তানের বেলুচিস্তান প্রদেশে মাত্র চার দিনের ব্যবধানে তিনটি বড় ধরনের সশস্ত্র হামলার ঘটনা ঘটেছে। এসব হামলায় দেশটির অন্তত ৩৮ জন নিরাপত্তা সদস্য ও চারজন বেসামরিক নাগরিকসহ মোট ৯৬ জন প্রাণ হারিয়েছেন। এই ধারাবাহিক হামলার পরিপ্রেক্ষিতে পাকিস্তানের নিরাপত্তা বাহিনী পাল্টা অভিযান পরিচালনা করে। পাকিস্তানের আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) জানিয়েছে, জিয়ারত, বেলা-উইন্ডার, খারান ও দালবান্দিন এলাকায় চালানো পাল্টা অভিযানে মোট ৫৪ জন ‘সন্ত্রাসী’ নিহত হয়েছে। তবে বেলুচ বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলো সরকারি এই হিসাবের চেয়ে অনেক বেশি সংখ্যক নিরাপত্তা সদস্য নিহত হওয়ার দাবি করেছে।

হামলাগুলোর মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ ছিল জিয়ারত জেলার মাঙ্গি ড্যাম এলাকায় পুলিশ চৌকিতে হামলা। ৬ জুলাই গভীর রাতে তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান (টিটিপি) মাঙ্গি ড্যাম প্রকল্পের পাম্পিং স্টেশন-৩ সংলগ্ন পুলিশ চৌকিতে বহুমুখী হামলা চালায়। সেনাবাহিনীর ভাষ্যমতে, সন্ত্রাসীরা বিভিন্ন দিক থেকে একযোগে আক্রমণ করে পুলিশ চৌকির নিয়ন্ত্রণ নেয়। এতে দুই স্টেশন হাউস অফিসার (এসএইচও) এবং সন্ত্রাসবিরোধী বাহিনীর এক হেড কনস্টেবলসহ অন্তত নয়জন পুলিশ সদস্য নিহত হন। প্রাথমিক সংঘর্ষে পুলিশ ১৫ জন সন্ত্রাসীকে হত্যা করলেও অবশিষ্ট পুলিশ সদস্যদের জিম্মি করে পাহাড়ি এলাকায় নিয়ে যাওয়া হয়। জিম্মিদের উদ্ধারে সেনাবাহিনী ও ফ্রন্টিয়ার কোরের অভিযানে পরিস্থিতি জিম্মি সংকটে রূপ নেয়। আইএসপিআরের মহাপরিচালক লেফটেন্যান্ট জেনারেল আহমেদ শরিফ চৌধুরী জানান, জিম্মিদের জীবনের ঝুঁকির কারণে নিরাপত্তা বাহিনী ভারী অস্ত্র বা বিমান হামলা চালায়নি। তবে সন্ত্রাসীরা জিম্মি করা ১৮ জন পুলিশ সদস্যকেই হত্যা করে। এই উদ্ধার অভিযানে আরও ১১ জন সন্ত্রাসী নিহত হয়, ফলে জিয়ারত এলাকায় মোট ২৬ জন সন্ত্রাসী নিহতের দাবি করেছে সেনাবাহিনী। এই ঘটনার পর বেলুচিস্তান সরকার জিয়ারতের পুলিশ সুপারকে সাময়িক বরখাস্ত করে চার সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে।

জিয়ারতে অভিযান চলাকালেই লাসবেলা জেলার বেলা-উইন্ডার এলাকায় এন-২৫ মহাসড়কে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর একটি কনভয়ে হামলা চালায় বেলুচ লিবারেশন আর্মি (বিএলএ)। এতে একজন জুনিয়র কমিশন্ড অফিসারসহ ১১ জন সেনাসদস্য নিহত হন। সেনাবাহিনীর দাবি, পাল্টা অভিযানে ১৪ জন হামলাকারী নিহত হয়েছে। অন্যদিকে বিএলএ দাবি করেছে, তারা ১৭ জন সেনাকে হত্যা করেছে এবং সামরিক সরঞ্জাম জব্দ করেছে।

এক সংবাদ সম্মেলনে আইএসপিআর প্রধান আহমেদ শরিফ চৌধুরী জানান, হামলাকারীদের খুঁজে বের করার অঙ্গীকার করে তিনি সতর্ক করেছেন যে জঙ্গিদের বিরুদ্ধে অভিযানে “যুক্তিসঙ্গততা ও আনুপাতিকতার” প্রশ্ন থাকবে না। তিনি এসব হামলার জন্য ভারত ও আফগানিস্তানকে দায়ী করেছেন। তার দাবি, ভারতের সমর্থিত গোষ্ঠীগুলো এবং আফগানিস্তানের মাটি ব্যবহার করে টিটিপি এসব হামলা চালাচ্ছে। তবে ভারত ও আফগান তালেবান সরকার এই অভিযোগ নাকচ করেছে। বেলুচিস্তানে দীর্ঘদিনের বিচ্ছিন্নতাবাদী বিদ্রোহ, গুম ও রাজনৈতিক অস্থিরতার প্রেক্ষাপটে বিশ্লেষকরা মনে করছেন, কেবল সামরিক অভিযান নয়, বরং স্থানীয় জনগণের রাজনৈতিক বঞ্চনা ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের মতো মূল সমস্যাগুলোর সমাধান না হলে সহিংসতার চক্র ভাঙা কঠিন হবে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Manab Zamin

নিউজটি শেয়ার করুন

বেলুচিস্তানে চার দিনের ভয়াবহ হামলায় নিহত ৯৬

আপডেট সময় : ০৪:১৩:৫৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই ২০২৬

পাকিস্তানের বেলুচিস্তান প্রদেশে মাত্র চার দিনের ব্যবধানে তিনটি বড় ধরনের সশস্ত্র হামলার ঘটনা ঘটেছে। এসব হামলায় দেশটির অন্তত ৩৮ জন নিরাপত্তা সদস্য ও চারজন বেসামরিক নাগরিকসহ মোট ৯৬ জন প্রাণ হারিয়েছেন। এই ধারাবাহিক হামলার পরিপ্রেক্ষিতে পাকিস্তানের নিরাপত্তা বাহিনী পাল্টা অভিযান পরিচালনা করে। পাকিস্তানের আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) জানিয়েছে, জিয়ারত, বেলা-উইন্ডার, খারান ও দালবান্দিন এলাকায় চালানো পাল্টা অভিযানে মোট ৫৪ জন ‘সন্ত্রাসী’ নিহত হয়েছে। তবে বেলুচ বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলো সরকারি এই হিসাবের চেয়ে অনেক বেশি সংখ্যক নিরাপত্তা সদস্য নিহত হওয়ার দাবি করেছে।

হামলাগুলোর মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ ছিল জিয়ারত জেলার মাঙ্গি ড্যাম এলাকায় পুলিশ চৌকিতে হামলা। ৬ জুলাই গভীর রাতে তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান (টিটিপি) মাঙ্গি ড্যাম প্রকল্পের পাম্পিং স্টেশন-৩ সংলগ্ন পুলিশ চৌকিতে বহুমুখী হামলা চালায়। সেনাবাহিনীর ভাষ্যমতে, সন্ত্রাসীরা বিভিন্ন দিক থেকে একযোগে আক্রমণ করে পুলিশ চৌকির নিয়ন্ত্রণ নেয়। এতে দুই স্টেশন হাউস অফিসার (এসএইচও) এবং সন্ত্রাসবিরোধী বাহিনীর এক হেড কনস্টেবলসহ অন্তত নয়জন পুলিশ সদস্য নিহত হন। প্রাথমিক সংঘর্ষে পুলিশ ১৫ জন সন্ত্রাসীকে হত্যা করলেও অবশিষ্ট পুলিশ সদস্যদের জিম্মি করে পাহাড়ি এলাকায় নিয়ে যাওয়া হয়। জিম্মিদের উদ্ধারে সেনাবাহিনী ও ফ্রন্টিয়ার কোরের অভিযানে পরিস্থিতি জিম্মি সংকটে রূপ নেয়। আইএসপিআরের মহাপরিচালক লেফটেন্যান্ট জেনারেল আহমেদ শরিফ চৌধুরী জানান, জিম্মিদের জীবনের ঝুঁকির কারণে নিরাপত্তা বাহিনী ভারী অস্ত্র বা বিমান হামলা চালায়নি। তবে সন্ত্রাসীরা জিম্মি করা ১৮ জন পুলিশ সদস্যকেই হত্যা করে। এই উদ্ধার অভিযানে আরও ১১ জন সন্ত্রাসী নিহত হয়, ফলে জিয়ারত এলাকায় মোট ২৬ জন সন্ত্রাসী নিহতের দাবি করেছে সেনাবাহিনী। এই ঘটনার পর বেলুচিস্তান সরকার জিয়ারতের পুলিশ সুপারকে সাময়িক বরখাস্ত করে চার সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে।

জিয়ারতে অভিযান চলাকালেই লাসবেলা জেলার বেলা-উইন্ডার এলাকায় এন-২৫ মহাসড়কে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর একটি কনভয়ে হামলা চালায় বেলুচ লিবারেশন আর্মি (বিএলএ)। এতে একজন জুনিয়র কমিশন্ড অফিসারসহ ১১ জন সেনাসদস্য নিহত হন। সেনাবাহিনীর দাবি, পাল্টা অভিযানে ১৪ জন হামলাকারী নিহত হয়েছে। অন্যদিকে বিএলএ দাবি করেছে, তারা ১৭ জন সেনাকে হত্যা করেছে এবং সামরিক সরঞ্জাম জব্দ করেছে।

এক সংবাদ সম্মেলনে আইএসপিআর প্রধান আহমেদ শরিফ চৌধুরী জানান, হামলাকারীদের খুঁজে বের করার অঙ্গীকার করে তিনি সতর্ক করেছেন যে জঙ্গিদের বিরুদ্ধে অভিযানে “যুক্তিসঙ্গততা ও আনুপাতিকতার” প্রশ্ন থাকবে না। তিনি এসব হামলার জন্য ভারত ও আফগানিস্তানকে দায়ী করেছেন। তার দাবি, ভারতের সমর্থিত গোষ্ঠীগুলো এবং আফগানিস্তানের মাটি ব্যবহার করে টিটিপি এসব হামলা চালাচ্ছে। তবে ভারত ও আফগান তালেবান সরকার এই অভিযোগ নাকচ করেছে। বেলুচিস্তানে দীর্ঘদিনের বিচ্ছিন্নতাবাদী বিদ্রোহ, গুম ও রাজনৈতিক অস্থিরতার প্রেক্ষাপটে বিশ্লেষকরা মনে করছেন, কেবল সামরিক অভিযান নয়, বরং স্থানীয় জনগণের রাজনৈতিক বঞ্চনা ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের মতো মূল সমস্যাগুলোর সমাধান না হলে সহিংসতার চক্র ভাঙা কঠিন হবে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Manab Zamin