ঢাকা ০১:২১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ২৭ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
প্রেম কেন ‘তিক্তমধুর’? সাফোর দর্শনে অ্যান কারসনের ব্যাখ্যা কুড়িগ্রামে সার ডিলার নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ, বাতিলের দাবিতে বিএনপির বিক্ষোভ কারাগারে মায়ের সঙ্গে বন্দি তিন শতাধিক শিশু: সুরক্ষায় নতুন সুপারিশ ওসমানীনগরে দুই ভাইয়ের জমি বিরোধে বাড়িতে আদালতের লাল পতাকা টেস্ট জিততে বাংলাদেশের চাই ৭ উইকেট, আফগানদের ৩৪৭ রান উত্তর ইসরাইলে বিস্ফোরণে কিশোর নিহত, নেতানিয়াহুর সফর বাতিল নারায়ণগঞ্জে প্রতিপক্ষের গুলিতে শীর্ষ সন্ত্রাসী সাহেব আলী নিহত ২১ জানুয়ারি থেকে ৫ ধাপে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের ঘোষণা সৌরবিদ্যুৎ ও উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন নিয়ে মন্ত্রিসভার বৈঠক মদনে বর্ণাঢ্য আয়োজনে পালিত জাতীয় কন্যাশিশু দিবস

ইসলামি শরিয়তে মৃতদেহ দাফনের সময়সীমা ও করণীয়

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ১০:৫৯:০১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই ২০২৬ ৬৮ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি



ইসলামি শরিয়তে মৃত ব্যক্তির গোসল, কাফন, জানাজা ও দাফন যথাসম্ভব দ্রুত সম্পন্ন করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিভিন্ন হাদিসে দাফনের কাজে বিলম্ব করতে নিষেধ করা হয়েছে। সুনানে আবু দাউদের ৩১৫৯ নম্বর হাদিসে বর্ণিত আছে যে, হজরত মুহাম্মদ (সা.) তালহা ইবনে বারা (রা.)-কে দেখার পর বলেছিলেন, তার মৃত্যুর আলামত দেখা যাচ্ছে এবং মারা যাওয়ার পর যেন দ্রুত কাফন-দাফনের ব্যবস্থা করা হয়, কারণ কোনো মুসলমানের লাশ পরিবারের মাঝে আটকে রাখা উচিত নয়। এছাড়া তাবরানির আলমুজামুল কাবিরে (১৩৬১৩ নম্বর হাদিস) আবদুল্লাহ ইবনে ওমর (রা.) রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর বরাতে জানিয়েছেন যে, কেউ মারা গেলে তাকে আটকে না রেখে দ্রুত দাফন করে দিতে হবে।

জানাজা নামাজের পর লাশ দাফনের ক্ষেত্রেও দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ রয়েছে। সহিহ বুখারির ১৩১৫ নম্বর হাদিসে রাসুল (সা.) বলেছেন, জানাজাকে দ্রুত নিয়ে যেতে, কারণ মৃত ব্যক্তি যদি নেককার হয় তবে তাকে তার শুভ পরিণতির দিকে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে, আর যদি সে মন্দ লোক হয়, তবে তা ঘাড় থেকে আপদ সরিয়ে দেওয়ার শামিল। ইসলামি বিশেষজ্ঞরা মৃতের যাবতীয় কাজ দ্রুত সম্পন্ন করাকে উত্তম এবং অপ্রয়োজনে বিলম্ব করাকে মাকরুহ বা অপছন্দনীয় বলে অভিহিত করেছেন।

স্বাভাবিক পরিস্থিতিতে মৃতের অভিভাবক বা ওলি উপস্থিত থাকলে জানাজা পড়ে দ্রুত দাফন সম্পন্ন করবেন। কোনো আত্মীয় বা বিশেষ ব্যক্তির অপেক্ষায় দাফন বিলম্ব করা সমীচীন নয়। তবে ওলি দূরে থাকলে এবং তার উপস্থিতির জন্য অপেক্ষা করলে বিলম্বের অবকাশ থাকে, কিন্তু তা এমন পর্যায়ে হওয়া যাবে না যাতে মরদেহের বিকৃতি বা পরিবর্তনের শঙ্কা তৈরি হয়। ঢাকা থেকে প্রকাশিত মাসিক আল-কাউসারে প্রকাশিত এক ফতোয়া অনুযায়ী, লাশ হিমাগারে রাখা বা ফর্মালিন ব্যবহার করে পচন রোধ করা জায়েজ নয়, বরং স্বাভাবিক অবস্থা পরিবর্তন হওয়ার আগেই দাফন করা জরুরি। এর চেয়ে বেশি বিলম্ব করা গুনাহের কাজ।

আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) বলেছেন, ‘কোনো মুমিন ব্যক্তিকে তার মৃত্যুর পর কষ্ট দেওয়া তেমন, যেমন জীবিত অবস্থায় তাকে কষ্ট দেওয়া।’ (মুসান্নাফে ইবনে আবি শাইবা, হাদিস: ১১৯৯০)। এ সংক্রান্ত হাদিস ও আসারের ব্যাখ্যায় আল্লামা ইবনে হাজার (রহ.) বলেন, জীবিত ব্যক্তি যেসব বস্তু দিয়ে আরাম বোধ করে, মৃত ব্যক্তি তা দিয়ে আরাম বোধ করে। ইবনুল মালাক (রহ.) বলেন, ‘মৃত ব্যক্তি কষ্টদায়ক বস্তু দিয়ে কষ্ট পায়। (মিকাতুল মাফাতিহ, খণ্ড: ৪, পৃষ্ঠা: ১৭০)। মৃত ব্যক্তিকে হিমাগারে রাখা মূলত তাকে কষ্ট দেওয়ারই নামান্তর। এসব কাজ থেকে বিরত থাকা অপরিহার্য। ইসলামে দাফনের জন্য নির্দিষ্ট কোনো সময়সীমা নেই, বরং মূলনীতি হলো যত দ্রুত সম্ভব দাফন করা। তবে ময়নাতদন্ত, আইনি জটিলতা, নিকটাত্মীয়ের অপেক্ষা বা প্রাকৃতিক দুর্যোগের মতো অনিবার্য কারণে বিলম্বের অনুমতি রয়েছে, যদিও বিলম্ব না করাই উত্তম। দাফনের পর মৃতের জন্য দোয়া করা, কবর জিয়ারত করা এবং সওয়াব পাঠানো জীবিতদের কর্তব্য।

জানাজার নামাজে কিবলামুখী হয়ে চার তাকবিরের মাধ্যমে ইমামের পেছনে শরিক হতে হয়। প্রথম তাকবিরের পর সানা, দ্বিতীয় তাকবিরের পর দরুদ শরিফ, তৃতীয় তাকবিরের পর মৃত ব্যক্তির জন্য দোয়া এবং চতুর্থ তাকবিরের পর সালাম ফিরিয়ে নামাজ শেষ করতে হয়। প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য নির্দিষ্ট দোয়া রয়েছে এবং ছোট শিশুদের জন্য আলাদা দোয়া পাঠ করতে হয়। প্রতিটি তাকবিরে আল্লাহু আকবার বলতে হয়।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Alokito Bangladesh

নিউজটি শেয়ার করুন

ইসলামি শরিয়তে মৃতদেহ দাফনের সময়সীমা ও করণীয়

আপডেট সময় : ১০:৫৯:০১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই ২০২৬

ইসলামি শরিয়তে মৃত ব্যক্তির গোসল, কাফন, জানাজা ও দাফন যথাসম্ভব দ্রুত সম্পন্ন করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিভিন্ন হাদিসে দাফনের কাজে বিলম্ব করতে নিষেধ করা হয়েছে। সুনানে আবু দাউদের ৩১৫৯ নম্বর হাদিসে বর্ণিত আছে যে, হজরত মুহাম্মদ (সা.) তালহা ইবনে বারা (রা.)-কে দেখার পর বলেছিলেন, তার মৃত্যুর আলামত দেখা যাচ্ছে এবং মারা যাওয়ার পর যেন দ্রুত কাফন-দাফনের ব্যবস্থা করা হয়, কারণ কোনো মুসলমানের লাশ পরিবারের মাঝে আটকে রাখা উচিত নয়। এছাড়া তাবরানির আলমুজামুল কাবিরে (১৩৬১৩ নম্বর হাদিস) আবদুল্লাহ ইবনে ওমর (রা.) রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর বরাতে জানিয়েছেন যে, কেউ মারা গেলে তাকে আটকে না রেখে দ্রুত দাফন করে দিতে হবে।

জানাজা নামাজের পর লাশ দাফনের ক্ষেত্রেও দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ রয়েছে। সহিহ বুখারির ১৩১৫ নম্বর হাদিসে রাসুল (সা.) বলেছেন, জানাজাকে দ্রুত নিয়ে যেতে, কারণ মৃত ব্যক্তি যদি নেককার হয় তবে তাকে তার শুভ পরিণতির দিকে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে, আর যদি সে মন্দ লোক হয়, তবে তা ঘাড় থেকে আপদ সরিয়ে দেওয়ার শামিল। ইসলামি বিশেষজ্ঞরা মৃতের যাবতীয় কাজ দ্রুত সম্পন্ন করাকে উত্তম এবং অপ্রয়োজনে বিলম্ব করাকে মাকরুহ বা অপছন্দনীয় বলে অভিহিত করেছেন।

স্বাভাবিক পরিস্থিতিতে মৃতের অভিভাবক বা ওলি উপস্থিত থাকলে জানাজা পড়ে দ্রুত দাফন সম্পন্ন করবেন। কোনো আত্মীয় বা বিশেষ ব্যক্তির অপেক্ষায় দাফন বিলম্ব করা সমীচীন নয়। তবে ওলি দূরে থাকলে এবং তার উপস্থিতির জন্য অপেক্ষা করলে বিলম্বের অবকাশ থাকে, কিন্তু তা এমন পর্যায়ে হওয়া যাবে না যাতে মরদেহের বিকৃতি বা পরিবর্তনের শঙ্কা তৈরি হয়। ঢাকা থেকে প্রকাশিত মাসিক আল-কাউসারে প্রকাশিত এক ফতোয়া অনুযায়ী, লাশ হিমাগারে রাখা বা ফর্মালিন ব্যবহার করে পচন রোধ করা জায়েজ নয়, বরং স্বাভাবিক অবস্থা পরিবর্তন হওয়ার আগেই দাফন করা জরুরি। এর চেয়ে বেশি বিলম্ব করা গুনাহের কাজ।

আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) বলেছেন, ‘কোনো মুমিন ব্যক্তিকে তার মৃত্যুর পর কষ্ট দেওয়া তেমন, যেমন জীবিত অবস্থায় তাকে কষ্ট দেওয়া।’ (মুসান্নাফে ইবনে আবি শাইবা, হাদিস: ১১৯৯০)। এ সংক্রান্ত হাদিস ও আসারের ব্যাখ্যায় আল্লামা ইবনে হাজার (রহ.) বলেন, জীবিত ব্যক্তি যেসব বস্তু দিয়ে আরাম বোধ করে, মৃত ব্যক্তি তা দিয়ে আরাম বোধ করে। ইবনুল মালাক (রহ.) বলেন, ‘মৃত ব্যক্তি কষ্টদায়ক বস্তু দিয়ে কষ্ট পায়। (মিকাতুল মাফাতিহ, খণ্ড: ৪, পৃষ্ঠা: ১৭০)। মৃত ব্যক্তিকে হিমাগারে রাখা মূলত তাকে কষ্ট দেওয়ারই নামান্তর। এসব কাজ থেকে বিরত থাকা অপরিহার্য। ইসলামে দাফনের জন্য নির্দিষ্ট কোনো সময়সীমা নেই, বরং মূলনীতি হলো যত দ্রুত সম্ভব দাফন করা। তবে ময়নাতদন্ত, আইনি জটিলতা, নিকটাত্মীয়ের অপেক্ষা বা প্রাকৃতিক দুর্যোগের মতো অনিবার্য কারণে বিলম্বের অনুমতি রয়েছে, যদিও বিলম্ব না করাই উত্তম। দাফনের পর মৃতের জন্য দোয়া করা, কবর জিয়ারত করা এবং সওয়াব পাঠানো জীবিতদের কর্তব্য।

জানাজার নামাজে কিবলামুখী হয়ে চার তাকবিরের মাধ্যমে ইমামের পেছনে শরিক হতে হয়। প্রথম তাকবিরের পর সানা, দ্বিতীয় তাকবিরের পর দরুদ শরিফ, তৃতীয় তাকবিরের পর মৃত ব্যক্তির জন্য দোয়া এবং চতুর্থ তাকবিরের পর সালাম ফিরিয়ে নামাজ শেষ করতে হয়। প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য নির্দিষ্ট দোয়া রয়েছে এবং ছোট শিশুদের জন্য আলাদা দোয়া পাঠ করতে হয়। প্রতিটি তাকবিরে আল্লাহু আকবার বলতে হয়।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Alokito Bangladesh