ঢাকা ১২:৫১ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০৯ অগাস্ট ২০২৬, ২৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
জামায়াতের প্রদর্শনীতে মুজিব আছে কিন্তু জিয়া নেই, ব্যাখ্যায় বিতর্ক সাভারে বিএনপি নেতাকে কাফনের কাপড় ও গুলি পাঠিয়ে হত্যার হুমকি গাজীপুরে ১১ লাখ টাকার বিদেশি মদসহ আটক ২ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের মানবিকতার সঙ্গে সেবার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর ডিজিটাল পেমেন্টে জালনোটের ঝুঁকি কমবে, সাশ্রয় হবে অর্থ: গভর্নর সিএমএসএমই খাতে ঋণপ্রবাহে বড় ধস, বিপাকে ক্ষুদ্র উদ্যোক্তারা সন্তানের অভিভাবকত্ব পেতে আইনি লড়াইয়ের অভিজ্ঞতা শোনালেন চার মা মনোয়ারুলের মৃত্যু: পুলিশের বিরুদ্ধে হত্যার অভিযোগ, পীরগাছায় থানা ঘেরাও শরীরের বিভিন্ন অংশে ছড়িয়ে পড়েছে জো বাইডেনের ক্যানসার অস্ট্রেলিয়া সিরিজের আগে তাইজুলের চোট নিয়ে স্বস্তির বার্তা

তত্ত্বাবধায়ক সরকার: পঞ্চদশ সংশোধনীর আপিলের রায় ৯ জুলাই ধার্য

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৩:১৯:৫৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই ২০২৬ ৩৪ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি
print news

তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিলসহ সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীতে আনা কয়েকটি বিষয় অবৈধ ঘোষণা করে হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে আপিলের রায় ঘোষণার জন্য আগামী ৯ জুলাই দিন ধার্য করেছেন সুপ্রিম কোর্ট। আজ বুধবার (৮ জুলাই) প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর নেতৃত্বে গঠিত বেঞ্চ এই দিন ধার্য করেন।

আপিলের প্রথম দুই দিনে রিটকারী পক্ষের এবং তৃতীয় দিনে রাষ্ট্রপক্ষের শুনানি শেষ হয়েছে। শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষে অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল ও ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল অনীক আর হক উপস্থিত ছিলেন। অন্যদিকে, আপিলকারীদের পক্ষে আইনজীবী শরীফ ভূঁইয়া ও মোহাম্মদ শিশির মনির শুনানি করেন।

শুনানিতে অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল বলেন, পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল করা হয়েছিল। তিনি আপিলে পঞ্চদশ সংশোধনীর কিছু বিষয় সংসদের ওপর ছেড়ে দিতে বলেছেন এবং বিশ্বাস করেন যে বাকি অংশটুকু আদালত দেখবেন। তিনি আরও বলেন, আইন পুরোটা বাতিল না করে কিছু বিধান জাতীয় সংসদ আইন অনুসারে জনগণের মতামত নিয়ে সংশোধন, পরিমার্জন ও পরিবর্তনের বিষয়ে রাষ্ট্রপক্ষ বক্তব্য দিয়েছে।

রিটকারী সুজন সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদারের আইনজীবী শরীফ ভূঁইয়া শুনানিতে বলেন, ‘পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে সংবিধানের সঙ্গে প্রতারণা করা হয়েছে, সংবিধান ধ্বংস করা হয়েছে। এ সংশোধনী পুরোটা বাতিল হওয়া উচিত।’ তিনি আরও যোগ করেন, ‘এর মাধ্যমে সংবিধানের মৌলিক চরিত্র পরিবর্তন করা হয়েছে। এটি বাতিল হওয়া প্রয়োজন, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের জনবিরোধী সংশোধনী আর না হয় এবং জনগণের গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষা নস্যাৎ করা না যায়।’

অপরদিকে, জামায়াতের পক্ষের আইনজীবী শিশির মনির আদালতকে জানান যে, যদি পঞ্চদশ সংশোধনী পুরোটি বাতিল করা হয়, তবে ‘বাকশাল’ ফিরে আসবে। তিনি বলেন, এই সংশোধনীতে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থাসহ অনেক অন্যান্য বিষয় জড়িত রয়েছে, যার মধ্যে মূল বিষয় হলো তত্ত্বাবধায়ক সরকারের বিলুপ্তি। তাই হাইকোর্টের রায়ের যে অংশটুকু সংবিধান ও রাষ্ট্রের মৌলিক অধিকারের সাথে সাংঘর্ষিক তা বাতিল করে হাইকোর্টের রায় বহাল রাখা যেতে পারে। তিনি আরও যুক্তি দেন যে, বাকি রাজনৈতিক বিতর্কের অংশটুকু জাতীয় সংসদের ওপর ছেড়ে দেওয়া হোক, কেননা রাজনৈতিক বিষয়ে আদালত সিদ্ধান্ত দিলে তা প্রশ্নবিদ্ধ হতে পারে।

এর আগে, গত বছরের ১৩ নভেম্বর বহুল আলোচিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিলসহ সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীতে আনা কয়েকটি বিষয় অবৈধ ঘোষণা করে হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে আপিলের অনুমতি দেন সর্বোচ্চ আদালত। ওই দিন রিটকারী সুজন সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদারের পক্ষে আইনজীবী ড. শরীফ ভূঁইয়া পঞ্চদশ সংশোধনীর পুরোটা বাতিল চেয়ে লিভ টু আপিল দায়ের করেন।

২০২৪ সালের ১৭ ডিসেম্বর হাইকোর্ট তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিলসহ সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীতে আনা কয়েকটি বিষয় অবৈধ ঘোষণা করেন এবং সংবিধানে গণভোটের বিধান ফিরিয়ে আনেন। তবে এই রায়ে পঞ্চদশ সংশোধনী পুরোটা বাতিল করা হয়নি। বিচারপতি ফারাহ মাহবুব ও বিচারপতি দেবাশীষ রায় চৌধুরীর হাইকোর্ট বেঞ্চ এই রায় ঘোষণা করেন।

হাইকোর্ট রায়ের পর্যবেক্ষণে বলেছিলেন, গণতন্ত্র আমাদের সংবিধানের মৌলিক কাঠামোর অংশ, যা অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও প্রভাবমুক্ত নির্বাচনের মধ্য দিয়ে বিকশিত হয়। কিন্তু দলীয় সরকারের অধীনে বিগত তিনটি সংসদ নির্বাচনে জনগণের ইচ্ছার কোনো প্রতিফলন হয়নি এবং সুষ্ঠু নির্বাচনের আত্মবিশ্বাস জনগণের মধ্যে জন্মায়নি, যার ফলশ্রুতিতে জুলাই গণঅভ্যুত্থান হয়েছিল।

হাইকোর্ট তার রায়ে আরও বলেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা জনগণের অভিপ্রায় অনুযায়ী সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত হয়েছিল এবং এটি সংবিধানের মৌলিক কাঠামোর অংশে পরিণত হয়েছে। তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বিলুপ্তি–সংক্রান্ত পঞ্চদশ সংশোধনী আইনের ২০ ও ২১ অনুচ্ছেদ সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক ও বাতিল ঘোষণা করা হয়, কারণ এই অনুচ্ছেদ দুটি সংবিধানের মৌলিক কাঠামো তথা গণতন্ত্রকে ধ্বংস করেছে। একইসঙ্গে, পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে সংবিধানে যুক্ত ৭ক, ৭খ, ৪৪(২) অনুচ্ছেদও সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক ও বাতিল ঘোষণা করা হয়। পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে মোট ৫৪টি ক্ষেত্রে সংযোজন, পরিমার্জন ও প্রতিস্থাপন আনা হয়েছিল।

হাইকোর্ট রায়ে উল্লেখ করেন যে, পঞ্চদশ সংশোধনী আইন পুরোটা বাতিল করা হচ্ছে না। বাকি বিধানগুলোর বিষয়ে আগামী জাতীয় সংসদ আইন অনুসারে জনগণের মতামত নিয়ে সংশোধন, পরিমার্জন ও পরিবর্তন করতে পারবে। এর মধ্যে জাতির পিতার স্বীকৃতির বিষয় এবং ২৬ মার্চের ভাষণের বিষয়গুলো রয়েছে।

গণভোটের বিষয়ে হাইকোর্ট রায়ে বলেন, সংবিধানের ১৪২ অনুচ্ছেদের অংশ হিসেবে থাকা গণভোটের বিধান বিলুপ্ত করা হয়েছিল। এই বিধান বিলুপ্তি সংক্রান্ত পঞ্চদশ সংশোধনী আইনের ৪৭ ধারা সংবিধানের মৌলিক কাঠামোর সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ হওয়ায় বাতিল ঘোষণা করা হলো, ফলে দ্বাদশ সংশোধনীর ১৪২ অনুচ্ছেদ পুনর্বহাল করা হলো।

হাইকোর্টের রায়ে বাতিল হওয়া ৭ক অনুচ্ছেদে সংবিধান বাতিল, স্থগিতকরণ ইত্যাদি অপরাধ এবং ৭খ অনুচ্ছেদে সংবিধানের মৌলিক বিধানাবলি সংশোধন অযোগ্য করার কথা বলা ছিল। ৪৪(২) অনুচ্ছেদে বলা ছিল যে, সংবিধানের ১০২ অনুচ্ছেদের অধীন হাইকোর্ট বিভাগের ক্ষমতার হানি না ঘটিয়ে সংসদ আইনের দ্বারা অন্য কোনো আদালতকে তার এখতিয়ারের স্থানীয় সীমার মধ্যে ওইসব বা এর যে কোনো ক্ষমতা প্রয়োগের ক্ষমতা দান করতে পারবেন। বেঞ্চের জ্যেষ্ঠ বিচারপতি ফারাহ মাহবুব পৌনে দুই ঘণ্টাব্যাপী এই রায় ঘোষণা করেন।

২০২৪ সালের ১৯ আগস্ট সুজন সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদারসহ অন্যদের রিট আবেদনের শুনানি নিয়ে হাইকোর্ট তত্ত্বাবধায়ক সরকার বাতিল করে সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনী কেন অবৈধ হবে না তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেন। পরে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার রুলে পক্ষভুক্ত হন। এছাড়া ইনসানিয়াত বিপ্লব, গণফোরাম ও চার আবেদনকারী রুলে ইন্টারভেনর হিসেবে পক্ষভুক্ত হন।

উল্লেখ্য, ২০১১ সালের ৩০ জুন জাতীয় সংসদে পঞ্চদশ সংশোধনী পাস হয়। এই সংশোধনীর মাধ্যমে শেখ মুজিবুর রহমানকে জাতির জনক হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়, তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল করা হয় এবং জাতীয় সংসদে নারীদের জন্য সংরক্ষিত আসন সংখ্যা ৪৫ থেকে বাড়িয়ে ৫০ করা হয়। এছাড়াও বেশকিছু বিষয়ে সংশোধনী আনা হয়েছিল।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Dainik Ei Din

নিউজটি শেয়ার করুন

তত্ত্বাবধায়ক সরকার: পঞ্চদশ সংশোধনীর আপিলের রায় ৯ জুলাই ধার্য

আপডেট সময় : ০৩:১৯:৫৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই ২০২৬
print news

তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিলসহ সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীতে আনা কয়েকটি বিষয় অবৈধ ঘোষণা করে হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে আপিলের রায় ঘোষণার জন্য আগামী ৯ জুলাই দিন ধার্য করেছেন সুপ্রিম কোর্ট। আজ বুধবার (৮ জুলাই) প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর নেতৃত্বে গঠিত বেঞ্চ এই দিন ধার্য করেন।

আপিলের প্রথম দুই দিনে রিটকারী পক্ষের এবং তৃতীয় দিনে রাষ্ট্রপক্ষের শুনানি শেষ হয়েছে। শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষে অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল ও ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল অনীক আর হক উপস্থিত ছিলেন। অন্যদিকে, আপিলকারীদের পক্ষে আইনজীবী শরীফ ভূঁইয়া ও মোহাম্মদ শিশির মনির শুনানি করেন।

শুনানিতে অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল বলেন, পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল করা হয়েছিল। তিনি আপিলে পঞ্চদশ সংশোধনীর কিছু বিষয় সংসদের ওপর ছেড়ে দিতে বলেছেন এবং বিশ্বাস করেন যে বাকি অংশটুকু আদালত দেখবেন। তিনি আরও বলেন, আইন পুরোটা বাতিল না করে কিছু বিধান জাতীয় সংসদ আইন অনুসারে জনগণের মতামত নিয়ে সংশোধন, পরিমার্জন ও পরিবর্তনের বিষয়ে রাষ্ট্রপক্ষ বক্তব্য দিয়েছে।

রিটকারী সুজন সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদারের আইনজীবী শরীফ ভূঁইয়া শুনানিতে বলেন, ‘পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে সংবিধানের সঙ্গে প্রতারণা করা হয়েছে, সংবিধান ধ্বংস করা হয়েছে। এ সংশোধনী পুরোটা বাতিল হওয়া উচিত।’ তিনি আরও যোগ করেন, ‘এর মাধ্যমে সংবিধানের মৌলিক চরিত্র পরিবর্তন করা হয়েছে। এটি বাতিল হওয়া প্রয়োজন, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের জনবিরোধী সংশোধনী আর না হয় এবং জনগণের গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষা নস্যাৎ করা না যায়।’

অপরদিকে, জামায়াতের পক্ষের আইনজীবী শিশির মনির আদালতকে জানান যে, যদি পঞ্চদশ সংশোধনী পুরোটি বাতিল করা হয়, তবে ‘বাকশাল’ ফিরে আসবে। তিনি বলেন, এই সংশোধনীতে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থাসহ অনেক অন্যান্য বিষয় জড়িত রয়েছে, যার মধ্যে মূল বিষয় হলো তত্ত্বাবধায়ক সরকারের বিলুপ্তি। তাই হাইকোর্টের রায়ের যে অংশটুকু সংবিধান ও রাষ্ট্রের মৌলিক অধিকারের সাথে সাংঘর্ষিক তা বাতিল করে হাইকোর্টের রায় বহাল রাখা যেতে পারে। তিনি আরও যুক্তি দেন যে, বাকি রাজনৈতিক বিতর্কের অংশটুকু জাতীয় সংসদের ওপর ছেড়ে দেওয়া হোক, কেননা রাজনৈতিক বিষয়ে আদালত সিদ্ধান্ত দিলে তা প্রশ্নবিদ্ধ হতে পারে।

এর আগে, গত বছরের ১৩ নভেম্বর বহুল আলোচিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিলসহ সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীতে আনা কয়েকটি বিষয় অবৈধ ঘোষণা করে হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে আপিলের অনুমতি দেন সর্বোচ্চ আদালত। ওই দিন রিটকারী সুজন সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদারের পক্ষে আইনজীবী ড. শরীফ ভূঁইয়া পঞ্চদশ সংশোধনীর পুরোটা বাতিল চেয়ে লিভ টু আপিল দায়ের করেন।

২০২৪ সালের ১৭ ডিসেম্বর হাইকোর্ট তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিলসহ সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীতে আনা কয়েকটি বিষয় অবৈধ ঘোষণা করেন এবং সংবিধানে গণভোটের বিধান ফিরিয়ে আনেন। তবে এই রায়ে পঞ্চদশ সংশোধনী পুরোটা বাতিল করা হয়নি। বিচারপতি ফারাহ মাহবুব ও বিচারপতি দেবাশীষ রায় চৌধুরীর হাইকোর্ট বেঞ্চ এই রায় ঘোষণা করেন।

হাইকোর্ট রায়ের পর্যবেক্ষণে বলেছিলেন, গণতন্ত্র আমাদের সংবিধানের মৌলিক কাঠামোর অংশ, যা অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও প্রভাবমুক্ত নির্বাচনের মধ্য দিয়ে বিকশিত হয়। কিন্তু দলীয় সরকারের অধীনে বিগত তিনটি সংসদ নির্বাচনে জনগণের ইচ্ছার কোনো প্রতিফলন হয়নি এবং সুষ্ঠু নির্বাচনের আত্মবিশ্বাস জনগণের মধ্যে জন্মায়নি, যার ফলশ্রুতিতে জুলাই গণঅভ্যুত্থান হয়েছিল।

হাইকোর্ট তার রায়ে আরও বলেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা জনগণের অভিপ্রায় অনুযায়ী সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত হয়েছিল এবং এটি সংবিধানের মৌলিক কাঠামোর অংশে পরিণত হয়েছে। তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বিলুপ্তি–সংক্রান্ত পঞ্চদশ সংশোধনী আইনের ২০ ও ২১ অনুচ্ছেদ সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক ও বাতিল ঘোষণা করা হয়, কারণ এই অনুচ্ছেদ দুটি সংবিধানের মৌলিক কাঠামো তথা গণতন্ত্রকে ধ্বংস করেছে। একইসঙ্গে, পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে সংবিধানে যুক্ত ৭ক, ৭খ, ৪৪(২) অনুচ্ছেদও সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক ও বাতিল ঘোষণা করা হয়। পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে মোট ৫৪টি ক্ষেত্রে সংযোজন, পরিমার্জন ও প্রতিস্থাপন আনা হয়েছিল।

হাইকোর্ট রায়ে উল্লেখ করেন যে, পঞ্চদশ সংশোধনী আইন পুরোটা বাতিল করা হচ্ছে না। বাকি বিধানগুলোর বিষয়ে আগামী জাতীয় সংসদ আইন অনুসারে জনগণের মতামত নিয়ে সংশোধন, পরিমার্জন ও পরিবর্তন করতে পারবে। এর মধ্যে জাতির পিতার স্বীকৃতির বিষয় এবং ২৬ মার্চের ভাষণের বিষয়গুলো রয়েছে।

গণভোটের বিষয়ে হাইকোর্ট রায়ে বলেন, সংবিধানের ১৪২ অনুচ্ছেদের অংশ হিসেবে থাকা গণভোটের বিধান বিলুপ্ত করা হয়েছিল। এই বিধান বিলুপ্তি সংক্রান্ত পঞ্চদশ সংশোধনী আইনের ৪৭ ধারা সংবিধানের মৌলিক কাঠামোর সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ হওয়ায় বাতিল ঘোষণা করা হলো, ফলে দ্বাদশ সংশোধনীর ১৪২ অনুচ্ছেদ পুনর্বহাল করা হলো।

হাইকোর্টের রায়ে বাতিল হওয়া ৭ক অনুচ্ছেদে সংবিধান বাতিল, স্থগিতকরণ ইত্যাদি অপরাধ এবং ৭খ অনুচ্ছেদে সংবিধানের মৌলিক বিধানাবলি সংশোধন অযোগ্য করার কথা বলা ছিল। ৪৪(২) অনুচ্ছেদে বলা ছিল যে, সংবিধানের ১০২ অনুচ্ছেদের অধীন হাইকোর্ট বিভাগের ক্ষমতার হানি না ঘটিয়ে সংসদ আইনের দ্বারা অন্য কোনো আদালতকে তার এখতিয়ারের স্থানীয় সীমার মধ্যে ওইসব বা এর যে কোনো ক্ষমতা প্রয়োগের ক্ষমতা দান করতে পারবেন। বেঞ্চের জ্যেষ্ঠ বিচারপতি ফারাহ মাহবুব পৌনে দুই ঘণ্টাব্যাপী এই রায় ঘোষণা করেন।

২০২৪ সালের ১৯ আগস্ট সুজন সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদারসহ অন্যদের রিট আবেদনের শুনানি নিয়ে হাইকোর্ট তত্ত্বাবধায়ক সরকার বাতিল করে সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনী কেন অবৈধ হবে না তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেন। পরে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার রুলে পক্ষভুক্ত হন। এছাড়া ইনসানিয়াত বিপ্লব, গণফোরাম ও চার আবেদনকারী রুলে ইন্টারভেনর হিসেবে পক্ষভুক্ত হন।

উল্লেখ্য, ২০১১ সালের ৩০ জুন জাতীয় সংসদে পঞ্চদশ সংশোধনী পাস হয়। এই সংশোধনীর মাধ্যমে শেখ মুজিবুর রহমানকে জাতির জনক হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়, তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল করা হয় এবং জাতীয় সংসদে নারীদের জন্য সংরক্ষিত আসন সংখ্যা ৪৫ থেকে বাড়িয়ে ৫০ করা হয়। এছাড়াও বেশকিছু বিষয়ে সংশোধনী আনা হয়েছিল।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Dainik Ei Din