ঢাকা ০৪:২০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৭ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ভারত-জাপান ম্যাচে আম্পায়ারের সিদ্ধান্ত নিয়ে কেন তৈরি হলো বিতর্ক জ্বালানি তেলের দাম একলাফে ২০ টাকা বাড়ানোর বিকল্প যেখানে ছিল মহেশখালীতে ঘুরতে গিয়ে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রবাসী যুবক নিহত গাজী নজরুলের সংসদ সদস্য পদ বহাল থাকে কীভাবে: প্রশ্ন টিআইবির ভিয়েতনামি কালো ধানে বোচাগঞ্জে নতুন স্বপ্নের পথে রকিবুল বিশ্বশান্তি রক্ষায় বাংলাদেশের গৌরবোজ্জ্বল ভূমিকা তুলে ধরলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী উচ্চমূল্যের পোশাক রপ্তানিতে এখনো পিছিয়ে বাংলাদেশ শ্রীলঙ্কাকে উড়িয়ে এশিয়ান গেমসে আবারও সোনা জিতল ভারতের মেয়েরা রেফারি মন্তব্যে শাস্তি থেকে বাঁচলেন রিয়াল কোচ মরিনিও নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে বেশি নিলে রুট পারমিট বাতিল হবে: সড়কমন্ত্রী

তালাকের দোহাই দিয়ে সন্তানের ভরণপোষণ এড়ানো যাবে না: হাইকোর্ট

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ১০:১৭:২৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬ ৮৫ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি



আইন অনুযায়ী প্রমাণিত বা কার্যকর নয় এমন তালাকের অজুহাতে স্ত্রী ও নাবালক সন্তানের ভরণপোষণ কিংবা দেনমোহরের ডিক্রির বাস্তবায়ন বন্ধ করা যাবে না বলে স্পষ্ট রায় দিয়েছেন হাইকোর্ট। বিচারপতি আবদুর রহমানের একক বেঞ্চ সম্প্রতি এই রায় দেন, যা গত ১৬ জুলাই প্রকাশিত হয়। আদালত তার পর্যবেক্ষণে উল্লেখ করেন, নাবালক সন্তানের ভরণপোষণ মা-বাবার তালাকসংক্রান্ত বিরোধের ওপর নির্ভরশীল কোনো বিষয় নয়; এটি শিশুর একটি স্বাধীন ও স্বতন্ত্র আইনগত অধিকার।

মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০১১ সালে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হওয়া এক দম্পতির মধ্যে পরবর্তীতে দেনমোহর ও ভরণপোষণ নিয়ে বিরোধ সৃষ্টি হয়। স্ত্রী ও তাদের নাবালক কন্যার পক্ষে মামলা করা হলে স্বামী দাবি করেন তিনি স্ত্রীকে আগেই তালাক দিয়েছেন। তবে ফ্যামিলি কোর্টে তিনি সেই তালাক আইন অনুযায়ী প্রমাণ করতে ব্যর্থ হন। ফলে আদালত স্ত্রী ও সন্তানের পক্ষে দেনমোহরের ডিক্রি প্রদান করেন। পরবর্তীতে স্বামী নতুন করে ঘোষণামূলক মামলা দায়েরের মাধ্যমে তালাক কার্যকর হয়েছে দাবি করে ভরণপোষণের ডিক্রি স্থগিতের আবেদন করেন। নিম্ন আদালত সেই আবেদন খারিজ করলে বিষয়টি হাইকোর্টে গড়ায়।

হাইকোর্টের রায়ে বলা হয়েছে, শুধুমাত্র নতুন মামলা দায়েরের কারণে পূর্বে দেওয়া কোনো চূড়ান্ত ডিক্রির বাস্তবায়ন বন্ধ করা সম্ভব নয়। যতক্ষণ পর্যন্ত কোনো সক্ষম আদালত ডিক্রি স্থগিত না করবে, ততক্ষণ তা কার্যকর থাকবে এবং এক্সিকিউশন কোর্ট তা বাস্তবায়নে বাধ্য থাকবে। আদালত আরও বলেন, আইনত প্রমাণিত নয় এমন তালাকের কোনো আইনগত ভিত্তি নেই এবং এটি বৈবাহিক সম্পর্কের অবসান ঘটায় না। তাই এমন তালাকের অজুহাতে ভরণপোষণের ডিক্রি বাস্তবায়নে বাধা সৃষ্টি করার সুযোগ নেই।

আদালত স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, এক্সিকিউশন কোর্টের দায়িত্ব কেবল বিদ্যমান ডিক্রি বাস্তবায়ন করা, নতুন করে তালাকের বৈধতা বা বৈবাহিক সম্পর্কের অস্তিত্ব নিয়ে সিদ্ধান্ত দেওয়া তাদের এখতিয়ারভুক্ত নয়। এছাড়া পারিবারিক বিরোধ নিষ্পত্তির একচ্ছত্র এখতিয়ার ফ্যামিলি কোর্টের বলেও আদালত স্মরণ করিয়ে দেন। রুল খারিজ করে হাইকোর্ট নিম্ন আদালতের আদেশ বহাল রাখার পাশাপাশি স্বামীকে দেনমোহরের বকেয়া এবং স্ত্রী ও সন্তানের সব বকেয়া ভরণপোষণ পরিশোধের নির্দেশ দিয়েছেন। এই মামলায় স্বামীর পক্ষে আইনজীবী মো. শহিদুল ইসলাম এবং স্ত্রীর পক্ষে আইনজীবী ইশরাত হাসান শুনানি করেন, যাকে সহযোগিতা করেন তানজিলা রহমান ও ইফাত হাসান শাম্মি।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Dainik Ei Din

নিউজটি শেয়ার করুন

তালাকের দোহাই দিয়ে সন্তানের ভরণপোষণ এড়ানো যাবে না: হাইকোর্ট

আপডেট সময় : ১০:১৭:২৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬

আইন অনুযায়ী প্রমাণিত বা কার্যকর নয় এমন তালাকের অজুহাতে স্ত্রী ও নাবালক সন্তানের ভরণপোষণ কিংবা দেনমোহরের ডিক্রির বাস্তবায়ন বন্ধ করা যাবে না বলে স্পষ্ট রায় দিয়েছেন হাইকোর্ট। বিচারপতি আবদুর রহমানের একক বেঞ্চ সম্প্রতি এই রায় দেন, যা গত ১৬ জুলাই প্রকাশিত হয়। আদালত তার পর্যবেক্ষণে উল্লেখ করেন, নাবালক সন্তানের ভরণপোষণ মা-বাবার তালাকসংক্রান্ত বিরোধের ওপর নির্ভরশীল কোনো বিষয় নয়; এটি শিশুর একটি স্বাধীন ও স্বতন্ত্র আইনগত অধিকার।

মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০১১ সালে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হওয়া এক দম্পতির মধ্যে পরবর্তীতে দেনমোহর ও ভরণপোষণ নিয়ে বিরোধ সৃষ্টি হয়। স্ত্রী ও তাদের নাবালক কন্যার পক্ষে মামলা করা হলে স্বামী দাবি করেন তিনি স্ত্রীকে আগেই তালাক দিয়েছেন। তবে ফ্যামিলি কোর্টে তিনি সেই তালাক আইন অনুযায়ী প্রমাণ করতে ব্যর্থ হন। ফলে আদালত স্ত্রী ও সন্তানের পক্ষে দেনমোহরের ডিক্রি প্রদান করেন। পরবর্তীতে স্বামী নতুন করে ঘোষণামূলক মামলা দায়েরের মাধ্যমে তালাক কার্যকর হয়েছে দাবি করে ভরণপোষণের ডিক্রি স্থগিতের আবেদন করেন। নিম্ন আদালত সেই আবেদন খারিজ করলে বিষয়টি হাইকোর্টে গড়ায়।

হাইকোর্টের রায়ে বলা হয়েছে, শুধুমাত্র নতুন মামলা দায়েরের কারণে পূর্বে দেওয়া কোনো চূড়ান্ত ডিক্রির বাস্তবায়ন বন্ধ করা সম্ভব নয়। যতক্ষণ পর্যন্ত কোনো সক্ষম আদালত ডিক্রি স্থগিত না করবে, ততক্ষণ তা কার্যকর থাকবে এবং এক্সিকিউশন কোর্ট তা বাস্তবায়নে বাধ্য থাকবে। আদালত আরও বলেন, আইনত প্রমাণিত নয় এমন তালাকের কোনো আইনগত ভিত্তি নেই এবং এটি বৈবাহিক সম্পর্কের অবসান ঘটায় না। তাই এমন তালাকের অজুহাতে ভরণপোষণের ডিক্রি বাস্তবায়নে বাধা সৃষ্টি করার সুযোগ নেই।

আদালত স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, এক্সিকিউশন কোর্টের দায়িত্ব কেবল বিদ্যমান ডিক্রি বাস্তবায়ন করা, নতুন করে তালাকের বৈধতা বা বৈবাহিক সম্পর্কের অস্তিত্ব নিয়ে সিদ্ধান্ত দেওয়া তাদের এখতিয়ারভুক্ত নয়। এছাড়া পারিবারিক বিরোধ নিষ্পত্তির একচ্ছত্র এখতিয়ার ফ্যামিলি কোর্টের বলেও আদালত স্মরণ করিয়ে দেন। রুল খারিজ করে হাইকোর্ট নিম্ন আদালতের আদেশ বহাল রাখার পাশাপাশি স্বামীকে দেনমোহরের বকেয়া এবং স্ত্রী ও সন্তানের সব বকেয়া ভরণপোষণ পরিশোধের নির্দেশ দিয়েছেন। এই মামলায় স্বামীর পক্ষে আইনজীবী মো. শহিদুল ইসলাম এবং স্ত্রীর পক্ষে আইনজীবী ইশরাত হাসান শুনানি করেন, যাকে সহযোগিতা করেন তানজিলা রহমান ও ইফাত হাসান শাম্মি।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Dainik Ei Din