ঢাকা ০৭:৫১ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬, ২৯ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
চট্টগ্রামে পাহাড় ধস ও বন্যায় ১৩ জনের মৃত্যু বেস্ট এয়ারপোর্ট সার্ভিস অ্যাওয়ার্ড পেল ইসলামাবাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ৭২ দিনে সারা দেশে ১ লাখ ১৭ হাজার জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ সেতুর টোল মওকুফ না করার ইঙ্গিত দিলেন সড়কমন্ত্রী ২০৩০ সাল থেকে কি ৬৪ দলের বিশ্বকাপ শুরু হবে? যৌতুকের জন্য স্ত্রীকে হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে হত্যায় স্বামীর যাবজ্জীবন দেশের সাত জেলায় ভয়াবহ বন্যা: মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৫৪ ছাত্রশিবির ছাড়লেন ডাকসুর ভিপি সাদিক কায়েমসহ নয় কেন্দ্রীয় নেতা গৌরনদীতে ফ্যামিলি কার্ড উপকারভোগীদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর মতবিনিময় জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে বাড়ছে ডায়ালাইসিস বেড: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

যৌতুকের জন্য স্ত্রীকে হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে হত্যায় স্বামীর যাবজ্জীবন

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৬:৩৪:২৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬ ৬ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি
print news

যৌতুকের দাবিতে স্ত্রীকে হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে হত্যার দায়ে ফরিদপুরের লালন মোল্যা (৫৪) নামে এক ব্যক্তিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। সোমবার দুপুর ২টায় ফরিদপুর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক শামীমা পারভীন এই রায় ঘোষণা করেন। রায়ে কারাদণ্ডের পাশাপাশি তাকে ২০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড এবং অনাদায়ে আরও এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করা হয়েছে। দণ্ডিত লালন মোল্যা মধুখালী উপজেলার কামারখালী গ্রামের আবুল হোসেন মোল্যার ছেলে। রায় ঘোষণার পর তাকে পুলিশি পাহারায় কারাগারে পাঠানো হয়।

ফরিদপুর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের সরকারি কৌঁসুলি গোলাম রব্বানী ভূইয়া রতন জানিয়েছেন, সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অপরাধ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় আদালত এই রায় দিয়েছেন। রায়ে উল্লেখ করা হয়েছে, আসামির কারাদণ্ডাদেশ তার আগের হাজতবাস থেকে গণ্য হবে।

আদালত সূত্রে জানা যায়, প্রায় ১৬ বছর আগে পারিবারিকভাবে লালন মোল্যা ও সাজেদা বেগমের (৪০) বিয়ে হয়। তারা ফরিদপুর শহরের আলীপুর এলাকায় একটি বাসায় থাকতেন এবং লালন সেখানে নিরাপত্তাকর্মী হিসেবে কাজ করতেন। বিয়ের পর থেকেই যৌতুকের জন্য সাজেদা বেগমকে প্রায়ই নির্যাতন করতেন লালন। এক পর্যায়ে ৫০ হাজার টাকা যৌতুক দাবি করেন তিনি। টাকা না দেওয়ায় ২০২২ সালের ২৩ আগস্ট ভোরে হাতুড়ি দিয়ে সাজেদা বেগমের মুখমণ্ডল ও শরীরে আঘাত করে তাকে হত্যা করা হয়।

তদন্তকারী কর্মকর্তা উপপরিদর্শক (এসআই) জগন্নাত দাস ২০২৪ সালের ১১ জানুয়ারি আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। অভিযোগপত্রে বলা হয়, ঘটনার দিন ভোররাতে লালন হাতুড়ি দিয়ে তার স্ত্রীর বাম গাল, চোখের ভ্রু, চোখ, নাক, কপাল ও কাঁধসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করে রক্তাক্ত অবস্থায় ফেলে রেখেছিলেন। হত্যাকাণ্ডের পর তিনি বাড়ির মালিককে ফোন করে জানান যে তিনি ঝামেলায় পড়েছেন। পরে বাড়ির ম্যানেজার ঘটনাস্থলে গিয়ে সাজেদা বেগমকে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। ঘটনার পর স্থানীয়রা লালনকে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেন। নিহতের বোন মাজেদা বেগম গত ২৬ আগস্ট কোতোয়ালি থানায় এই হত্যা মামলাটি দায়ের করেছিলেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

যৌতুকের জন্য স্ত্রীকে হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে হত্যায় স্বামীর যাবজ্জীবন

আপডেট সময় : ০৬:৩৪:২৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬
print news

যৌতুকের দাবিতে স্ত্রীকে হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে হত্যার দায়ে ফরিদপুরের লালন মোল্যা (৫৪) নামে এক ব্যক্তিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। সোমবার দুপুর ২টায় ফরিদপুর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক শামীমা পারভীন এই রায় ঘোষণা করেন। রায়ে কারাদণ্ডের পাশাপাশি তাকে ২০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড এবং অনাদায়ে আরও এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করা হয়েছে। দণ্ডিত লালন মোল্যা মধুখালী উপজেলার কামারখালী গ্রামের আবুল হোসেন মোল্যার ছেলে। রায় ঘোষণার পর তাকে পুলিশি পাহারায় কারাগারে পাঠানো হয়।

ফরিদপুর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের সরকারি কৌঁসুলি গোলাম রব্বানী ভূইয়া রতন জানিয়েছেন, সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অপরাধ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় আদালত এই রায় দিয়েছেন। রায়ে উল্লেখ করা হয়েছে, আসামির কারাদণ্ডাদেশ তার আগের হাজতবাস থেকে গণ্য হবে।

আদালত সূত্রে জানা যায়, প্রায় ১৬ বছর আগে পারিবারিকভাবে লালন মোল্যা ও সাজেদা বেগমের (৪০) বিয়ে হয়। তারা ফরিদপুর শহরের আলীপুর এলাকায় একটি বাসায় থাকতেন এবং লালন সেখানে নিরাপত্তাকর্মী হিসেবে কাজ করতেন। বিয়ের পর থেকেই যৌতুকের জন্য সাজেদা বেগমকে প্রায়ই নির্যাতন করতেন লালন। এক পর্যায়ে ৫০ হাজার টাকা যৌতুক দাবি করেন তিনি। টাকা না দেওয়ায় ২০২২ সালের ২৩ আগস্ট ভোরে হাতুড়ি দিয়ে সাজেদা বেগমের মুখমণ্ডল ও শরীরে আঘাত করে তাকে হত্যা করা হয়।

তদন্তকারী কর্মকর্তা উপপরিদর্শক (এসআই) জগন্নাত দাস ২০২৪ সালের ১১ জানুয়ারি আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। অভিযোগপত্রে বলা হয়, ঘটনার দিন ভোররাতে লালন হাতুড়ি দিয়ে তার স্ত্রীর বাম গাল, চোখের ভ্রু, চোখ, নাক, কপাল ও কাঁধসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করে রক্তাক্ত অবস্থায় ফেলে রেখেছিলেন। হত্যাকাণ্ডের পর তিনি বাড়ির মালিককে ফোন করে জানান যে তিনি ঝামেলায় পড়েছেন। পরে বাড়ির ম্যানেজার ঘটনাস্থলে গিয়ে সাজেদা বেগমকে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। ঘটনার পর স্থানীয়রা লালনকে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেন। নিহতের বোন মাজেদা বেগম গত ২৬ আগস্ট কোতোয়ালি থানায় এই হত্যা মামলাটি দায়ের করেছিলেন।