যৌতুকের জন্য স্ত্রীকে হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে হত্যায় স্বামীর যাবজ্জীবন
- আপডেট সময় : ০৬:৩৪:২৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬ ৬ বার পড়া হয়েছে

যৌতুকের দাবিতে স্ত্রীকে হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে হত্যার দায়ে ফরিদপুরের লালন মোল্যা (৫৪) নামে এক ব্যক্তিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। সোমবার দুপুর ২টায় ফরিদপুর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক শামীমা পারভীন এই রায় ঘোষণা করেন। রায়ে কারাদণ্ডের পাশাপাশি তাকে ২০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড এবং অনাদায়ে আরও এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করা হয়েছে। দণ্ডিত লালন মোল্যা মধুখালী উপজেলার কামারখালী গ্রামের আবুল হোসেন মোল্যার ছেলে। রায় ঘোষণার পর তাকে পুলিশি পাহারায় কারাগারে পাঠানো হয়।
ফরিদপুর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের সরকারি কৌঁসুলি গোলাম রব্বানী ভূইয়া রতন জানিয়েছেন, সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অপরাধ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় আদালত এই রায় দিয়েছেন। রায়ে উল্লেখ করা হয়েছে, আসামির কারাদণ্ডাদেশ তার আগের হাজতবাস থেকে গণ্য হবে।
আদালত সূত্রে জানা যায়, প্রায় ১৬ বছর আগে পারিবারিকভাবে লালন মোল্যা ও সাজেদা বেগমের (৪০) বিয়ে হয়। তারা ফরিদপুর শহরের আলীপুর এলাকায় একটি বাসায় থাকতেন এবং লালন সেখানে নিরাপত্তাকর্মী হিসেবে কাজ করতেন। বিয়ের পর থেকেই যৌতুকের জন্য সাজেদা বেগমকে প্রায়ই নির্যাতন করতেন লালন। এক পর্যায়ে ৫০ হাজার টাকা যৌতুক দাবি করেন তিনি। টাকা না দেওয়ায় ২০২২ সালের ২৩ আগস্ট ভোরে হাতুড়ি দিয়ে সাজেদা বেগমের মুখমণ্ডল ও শরীরে আঘাত করে তাকে হত্যা করা হয়।
তদন্তকারী কর্মকর্তা উপপরিদর্শক (এসআই) জগন্নাত দাস ২০২৪ সালের ১১ জানুয়ারি আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। অভিযোগপত্রে বলা হয়, ঘটনার দিন ভোররাতে লালন হাতুড়ি দিয়ে তার স্ত্রীর বাম গাল, চোখের ভ্রু, চোখ, নাক, কপাল ও কাঁধসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করে রক্তাক্ত অবস্থায় ফেলে রেখেছিলেন। হত্যাকাণ্ডের পর তিনি বাড়ির মালিককে ফোন করে জানান যে তিনি ঝামেলায় পড়েছেন। পরে বাড়ির ম্যানেজার ঘটনাস্থলে গিয়ে সাজেদা বেগমকে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। ঘটনার পর স্থানীয়রা লালনকে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেন। নিহতের বোন মাজেদা বেগম গত ২৬ আগস্ট কোতোয়ালি থানায় এই হত্যা মামলাটি দায়ের করেছিলেন।




























